ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

স্বপ্নের পৃথিবী

শয়তানও হার মানে। এরই মাঝে অনেকে আল্লাহর নাম নিয়ে বেঁচে থাকে। চাঁদ আল্লাহর হুকুমে জ্যোস্না বিলিয়ে দেয়। শহরের যান্ত্রিক মানুষের কাছে তার কয়জনের মূল্য আছে। রাস্তায় পড়ে থাকা দরীদ্র মানুষগুলো চাঁদনী রাতে কবিতা বা গানের চেয়ে তাদের কাছে দুষ্প্রাপ্য রুটি বলেমনে হয়। বাড়বর গেইটের কুকুরের জন্য রোজ তিন চার হাজার টাকা মাংশের পেছনে খরচ করতে পারে। কিন্তু অভুক্তকে ৫০ টাকার একপ্লেট খাবার দিতে পারে না । প্রতিদিন খাবার নষ্ট করে ডাষ্টবিনে ফেলতে পারবে কিন্তু বাসার কাজের লোককে দিতে পারবে না। আশরাফুল ইসলাস প্রতিদিন নামাজ পড়তে মসজিদে আসেন। প্রত্যেক ফজর রাতে ডাষ্টবিনের পাশ দিয়ে আসতে হয়। এসময় তিনি বিভিন্ন ধরণের খাবার দেখেন অনেকে ফেলেছে। পাশে একটি ক্লাব রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিদিনই বড় বড় মোরগের মাংশ, অথবা গরুর মাংশের টুকরা বা বিভিন্ন রকম খাবার ফেলা হয়। যা দেখে উনার অনেক কষ্ট হয়। এসকল ফেলে রাখা খাবার দরীদ্রপরিবার, রাস্তার টোকাই, বা ছিন্নমূল শিশুরা খেয়ে নেয়। আবার অনেকে আছে বিভিন্ন সেন্টার থেকে বিয়ে বাড়ির উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করে বিরিয়ানি বলে দরীদ্র মানুষগুলোর কাছে বিক্রি করে । দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে অতি দরীদ্ররা এগুরো নিয়ে যায়। খেয়ে কি তপ্তি পায় তা তাহার বোধগম্য নয়। এগুলো আল্লাহ ভাল জানেন বলে মনে মনে ভাবেন। নামাজ পরে যাবার বেলা তিনি এসকর দৃশ্য দেখেন আর ভাবেন। আশরাফ সাহেব নামাজ পড়ে বাসায় ফিরলেন। ফাতেমা নামাজ পড়ে কোরআন পড়ছেন। মা সালমা ইসলাম ও কোরআন পড়ছেন। কলিং বেলের শব্দ শুনে জান্নাত দরজার সামনে গিয়ে সালাম করলেন। আশরাফ সালামের জবাব দিলেন। আবার তিনি ও সালাম করলেন। ফাতেমা দরজা খুলে দিলেন। আশরাফ প্রবেশ করার পর ফাতেমা দরজা লাগিয়ে দিলেন। তিনি কথা না বলে কোরআন পড়তে বসে পড়লেন। সবাই কোরআন পড়ছেন। উনাদের পড়ার সুর শুনে আজকাল পাশেন বাসার কয়েক পরিবার কোরআন তেলাওয়াত করা শুরু করেছেন। প্রতিদিন ঘুম থেকে দেরী করে উঠতেন। কিছুদিন যাবৎ উনারা ফাতেমাদের ফলো করতে করতে তাদের ও অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তেলাওয়াতের সুর আশরাফ সাহেবের কানে ভেসে আসে। আশরাফ সালমা ইসলাম কে জিজ্ঞেস করলেন কে পড়ছেন সালমা? পাশের বাসার রফিক সাহেব, উনার স্ত্রী আর উনার মেয়ে। সুবাহান আল্লাহ। খুব সুন্দর পড়ার সুর। তারপর তিনি আবার পড়তে শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পড়ার পর সালমা কোরআন শরীফকে চুমু খেয়ে সম্মান করে রেখে উঠলেন। উদ্দেশ্য সবার জন্য নাস্তা তৈরি করবেন। কিছুক্ষণ পর ফাতেমা উঠে পড়তে বসলেন। আর আশরাফ উঠে সালমা ইসলামের সামনে গেলেন। সালমা বললেন রুমে গিয়ে রেষ্ট নাও। এলাম তোমাকে হেল্প করতে। বলছো রেষ্ট নেবো। ওমা আমাকে সাহায্যে করতে হবে কেন? আমার কি হয়েছে ? আশরাফ গিয়ে পেছন থেকে উনাকে জড়িয়ে ধরলেন। এতে সালমা বললেন করছো কি তুমি? কেন? তোমাকে জড়িয়ে ধরেছি। ভালবাসার বন্ধনে রেখেছি। বয়সটা বাড়ছে না কমছে। বয়স বাড়ছে। কিন্তু মনের দিকে এখনো কাঁচা। একেবারে গ্রীন। রাখো তোমার গ্রীন। মেয়ে এসে পড়বে ছাড়ো আমাকে। কেন আমি কি পুরনো। ভিমরতি করো নাতো। ঐ দেখো মেয়ে এসে গেছে। আশরাফ সাহেব মেয়ে আসার কথা শুনে ছেড়ে দিলেন। কেননা মেয়ের সামনে তিনি লজ্জা পেতে চান না। সালমা উনাকে দেখে হাসলেন। আশরাফ বললেন আমায় ঠকিয়েছো । না। নাস্তা বানাবো । মেয়ে পড়তে বসেছে। তুমি দোকানে যাবে। সময় কম হলো নাকি। ঠিক আছে। তুমি বেলে দাও আমি সেকে দিচ্ছি। দুজনে মিলে তিন সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের নাস্তা তৈরি করলেন। নাস্তা শীতর পাটি মেঝেতে বিছিয়ে তাতে বসে পড়লেন। ফাতেমাকে ডাক দিলেন আশরাফ। বললেন আম্মু নাস্তা করবে এসো । আসছি বাবা। ফাতেমা বই বন্ধ করে আসলেন। তিনজন মেঝেতে বসে পড়লেন। খাবার শুরু করলেন। সকলে বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করলেন। নাস্তা শেষ করে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করলেন। ফাতেমা বললেন বাবা কিয়ামতে কি আমাদের খাবারের হিসাব নেয়া হবে। অবশ্যই মা। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের খাবারের ও হিসাব নেবেন। বিসমিল্লাহ বলে খাবার শুরু করা আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হরো মোমিন বান্দার হক। কেননা বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান খেয়ে নেয় তাতে পেঠ ভরে না । আর শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নিয়ামতের শুকুর আদায় করা হয়। এতে করে হিসেব শেষ হয়ে যায়।আর রিযেক বৃদ্ধি পায়। সর্বাবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত কিন্তু যারা শুকরিয়া আদায় করে না তাদেরকে গরম লেহার কড়াইয়ে দাড় করিয়ে সেই খাবারের হিসাব নেয়া হবে। বাবা অনেকে তো এখানে আটক হয়ে যাবে। শুধু তাই নয় মা। প্রায় প্রতিদিন দেখা যায় অনেকে খাবার নষ্ট। ডাষ্টবিনে খাবার ফেলে দেয়। যারা এমন কাজ করছে তারা সরাসরি শয়তানের ভাই। এদের হিসাব আরো কঠিন হবে। নষ্ট করার কারণে এদের রিযিক কমে যায়। আল্লাহ খুব রাগান্বিত হন। এবং এদের খুব কঠিন আযাব দেন। কেননা এসকল খাবারে অন্যের হক আছে । আর সে হক আমরা সঠিকবাবে পালন করি না। তারমানে প্রতিবেশীর হক আছে। আমরা নামে মুসলমান। আমরা কি সবার হক আদায় করছি। আমরা প্রতিবেশীর হক আদায় করতে পারছি না। সে কি খেলো না খেলো, কেমন আছে, সমস্যা আছে কিনা আমরা খবর নেই না। কিন্তু এসকল দায়িত্ব অবহেলকর কারণে আমরা অনেকেি জাহান্নামে চলে যাবো । তুমি পেট ভরে খাচ্ছ কিন্তু তোমার প্রতিবেশি উপোষ দিন কাটাচ্ছে তাহলে তুমি প্রকৃত মুসলমান নও। আমাদের ও উচিত আমাদের প্রতিবেশীদের খবরা খবর নেয়া। হ্যাঁ মা। তোমার পরীক্ষা কবে। পড়শুদিন। আমার সকর পরীক্ষায় তোমাকে যেতে হবে বাবা। যাও যাও। আমি কে? মাকে জড়িয়ে ধরে মায়ের গালে আদর করে বললেন মা তুমি আমার সেরা মা। তুমি রাগ কররে হবে। শোন সালমা আমাদের মেয়েকে আমরা দুজনে নিয়ে যাবো। না না। দুজন গেলে হবে না। তুমি নিয়ে যাবে। আমি তোমাদের খাবার দাবার তৈরি করবো। নইলে উপোস থাকতে হবে। কেন মা একদিন কষ্ট করলে কি হবে। হোটেলে খেয়ে নেব। অযথা টাকা নষ্ট করবো কেন। এটা অপচয়। অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আচ্ছা বাবা পড়তে গেলাম। ঠিক আছে মা। ফাতেমা চলে গেলেন পড়ার টেবিলে। আশরাফ সালমা ইসলামকে বললেন চলো রুমে চলো। এগুলো তোমার নানা সামলাবে নাকি। মানে। কিছু না। তুমি যাও। আমি আসছি। আমিও সাহায্যে করি। লাগবে না। চলো আমাদের নবীও ঘরের কাছে উনার স্ত্রীদের সহায়তা করেছেন। সবকিছু তুলে পরিষ্কার করে নিজেদের রুমে গেলেন। ফাতেমার মোবাইলে রিং হচ্ছে । এতো সকারে কে ফোন করলো ভাবছেন ফাতেমা। নাম্বার দেখে চিনতে পারলেন। তার বান্ধবীর ফোন। ফাতেমা ফোন ধরে সালাম করলেন। ওপাশ থেকে সালামের জবাব আসে। ফাতেমা বললেন কিরে এতো সকালে ফোন। একটা খবর পেলাম তাি তোকে বলার জন্য ফোন দিসি। বল। প্রশ্ন নাকি আউট হয়ে গিয়েছে । কে বলল তোকে? আমাদের স্কুলের একজন মেয়ে বলল। মানে কি? আর স্যার নাকি তাদের কে প্রশ্ন দিচ্ছেন। শোন এসবের কথায় কান দিস না। যা পড়েছিস তাই পড়ার চেষ্টা কর। গুজবে কান দিলে পরীক্ষা নষ্ট করবি । আরে না গতবছর আউট হয়েছে । জানি । বিনিময়ে কি হয়েছে। সময় নষ্ট হয়েছে। হ্যাঁ কিছু কিচু ক্ষেত্রে তা ঠিক আছে । তবে বেশির বাগ মিলে যায়। আমাদের সমস্যা এটাই। আমি রাখছি তুই টেনশন না করে পড়তে থাক। ফাতেমা ফোন রেখে দিলেন। নিজের পড়ায় মন দিল। আশরাফ ইসলাম রুমে ঢুকে সালমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তাকে কিস করলেন। লিপ কিস। সালমা বললেন সাধ কি মেটে না? কি করে মিঠবে বলো। সত্বী নারীর ভালবাসার সাধ কখনো মিটে না। মেয়ে বড় হয়েছে কিন্তু ভালবাসা ফুরোয় নি। হুম। জানি। তুমিও কোন অসৎ নারীর তাছে যাও নি। তাই আমার প্রতি তোমার ভারবাসার কোন কমতি নেই। কিন্তু তুমি যদি নষ্ট নারীতে আসক্ত থাকত। তাহলে সংসার সংসার থাকতো না। তুমি তোমারর মতো আর আমি আমার মতো থাকতাম। এলোমেলো সংসার। আশরাফ সাহেব কথা বলতে বলতে খাটে শুয়ে পড়লেন। সালমা ইসলামকে বসিয়ে তাহার কপালে চুমু একে দিলেন। সালমা বললেন স্বামী স্ত্রীর এই ভালোবাসা আল্লাহ পছন্দ করেন। হ্যাঁ। বিয়ের পর মানুষের জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখন কি করেছো না করেছো তার সম্পূর্ণ হিসাব দিতে হবে । স্ত্রী থাকাকালীন আমি পর নারী আসক্ত হলে যেমন েরর বিচার হবে তেমনি তুমি যদি আমার মতো অপরাধ করো তারও হিসেব দিতে হবে। আল্লাহ মাফ করুন আমাদের। তা আমাকে ভালবাসলে খাবার ব্যবস্থা হবে না কারবারে যাবে। আরে বউ যাবো তো। সবকিছু জীবনের একটি অংশ। একটু জড়িয়ে ধরে ঘুমাই না দুজনে। মেয়ে। আমাদের মেয়ে হুট করে আমাদের রুমে আসবে না। আসার আগে সালাম দেবে। অনুমতি নেবে। তারপর আসবে। তা জানি । আল্লাহ রহমতে পরীক্ষাগুলো শেষ হয়ে যাক। তুমি ভয় করছো নাকি। পরীক্ষা আসলে আন্দোলন শুরু হয়। এই একটা সমস্যা। রাজনীতি। রাজনীতি মানে এখন ক্ষমতা দখল করা। নিজেদের নিয়ে চিন্তা করা। ভালই বোঝ দেখছি। এরপর আশরাফ সাহেব শুয়ে পড়েন। ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নেন। সালমাও ঘুমিয়ে পড়েন। ফাতেমকর ডাকে ঘুম থেকে উঠেন। ফ্রেস হয়ে আশরাফ দোতানে চলে যান। ফাতেমা মাকে বলে কিছুকরষণ নিজের রুমে শুয়ে পড়েন। আশরাফ দোকানে চলে গেলেন। আজ একটু দেরি হয়ে গেছে। পাশের দোকানদার বললেন কি আশরাফ ভাই? আজ বুঝি ভাবী ছাড়ে নাই। নাড়ে ভাই। সকালে নামাজ পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে , নাস্তা করে শুয়ে পড়েছিলাম। ঘুম চলে আসে বুঝতে পারি নি। ভাবী কি ঘুমিয়েছিল। বেচারী ক্লান্ত ছিল। তাই। হয় ভাই। মানুষ তো। যন্ত্র না। কথা বলতে বলতে তিনি দেকাস খোলেন। ব্যবসায় বসে পড়েন। কাষ্টমার আসবে। কখন নেবে কখন নেবে না তা তিনি ভাবেন না। কখনো সকালে বিক্রি হয় াববার কখনো বসতে বসতে অনেক দেরিতে বিক্রি শুরু হয়। যাদের ব্যবসা ভাল হয় তারাও শুকরিয়া আদায় করে না আর যাদের হয় না তারাও শুকরিয়া আদায় করেন না ।আশরাফ সাহেবের একজনের ব্যবসা ভাল হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করায় বললেন ভাল হয় নি। আশরাফ বললেন শুকরিয়া আদায় করো। নইলে আল্লাহ নারাজ হবেন। হয নি বললাম। আল্লাহকে খুশি রাখো মিথ্যে বলো না। এতে আল্লাহ তোমকর রিযিত কমিয়ে দেবেন। আলহামদুলিল্লাহ বলো। লোকটি শুকরিয়া আদায় করলেন। আশরাফ বললেন সবসময় আললাহর শুকরিয়া আদায় করবেন। এতে আল্লাহ খুশি হন। আর বান্দার রিযেক বাড়িয়ে দেন। বুঝেছি। আশরাফ সাহেব ব্যবসা হোক বা নাহোক সবসময় আল্লাহর শুতরিয়া আদায় করেন। নিরব রাত্রিতে জ্যোস্না খেলা করছে তার আপন মনেতে। বাঁশ বাগানের পাতার ফাঁকে ফাঁকে যেন লুকুচুড়ি খেলা চলছে। থেমে থেমে শেয়ালের হুক্কা হুয়া ডাক বহুদুর হতে আসছে। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে যেন কাছের শেয়ালগুলো তেমন করে সুর তুলেছে। একসময় নিজেরা ক্লান্ত হয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে। মাঝে মাঝে ঝি ঝি পোকার ডাক শোনা যায়। রাত ১২ থেকে ২টার মধ্যে কর্মজীবিরা ফিরতে শুরু করে। অনেকে এশার নামাজের পর শুয়ে থাকে। সময়ের পরিক্রমায় অনেক গ্রামে বিদ্যুৎ গিয়েছে। তারপর গ্রামের সকলের হাতে একটি করে টর্চ লাইট রয়েছে। অনেক কিছুর ভয় থাকলেও একটি লাইট অনেক উপকারে আসে। উপরি বা ভুতের ভয় অনেকের আছে। লাইট থাকরে তা জ্বালিয়ে এলে অন্ধকারে এরা আক্রমন করার সাহস পায় না। তাছাড়া যত গভীর রাত হোক বল প্রয়োগে বা শক্ত করে তিনটা হাততালি দিলে যতদুর পর্যন্ত শব্দ যাবে এরা সরে যাবে। এদের ধারণা হলো আদম আসছে তাই সরে যেতে হবে। রাতের নিরবতায় জ্যোস্না গায়ে মেখে রোজ রাতে বাড়ি ফেরেন সোহরাব হোসেন। প্রতিদিনেন অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তবে বেশি রাত করেন না। ১১ টার মধ্যে তিনি চলে আসেন। টর্চ লাইটের আলো আর আধার জোনাক পোতার আলোয় খেলা করে করে বাসায় ফিরা হয় সবার। সোহরাব হোসেন দরজার সামনে এসে নক করলেন। শায়লা বেগম সালাম করলেন। তিনি সালামের জবাব দিলেন। আবার সালাম করলেন। আবার জবাব দিলেন। আবার সালাম করলেন। আবার জবাব দিলেন। তিনি দরজা খুলে দিলেন। সোহরাব হোসেন ভেতরে প্রবেশ করলেন। শায়েলা জড়িয়ে ধরলেন। বিয়ের পর থেকে শায়েলা বেগমের এমন অভ্যাস। সোহরাব হোসেন যখন বাড়ি ফিরতেন তখন তিনি জড়িয়ে ধরতেন। সোহরাব বলেন কি হয়েছে আমার প্রিয়তমা? একা একা ভয় করে। আর তোমাকে নিয়ে ভয়ে থাকি। বিয়ে হলো মাত্র কয়দিন। এক্ষুনি এতো ভালবাসা এলো কোথা থেকে। জানি না। ভালবাসা আল্লাহর দান। আর আমাদের ভালবাসা খোদকর কাছে বিরাট রহমত। কেননা বিয়ের আগে যারা প্রেম করে তা শয়তান তাদের মাঝে কাজ করে। সোহরাব শায়েলার কপালে চুমু খেলেন। বললেন জ্বী জনাবা। সত্যি বলতে এই ভালবাসা শেষ হবার নয়। বৈদ ভালবাসায় সরাসরি আল্লাহর রহমত বর্ষন হয়। তুমি আমাকে সত্যি ভালবাস। সন্দেহ করো। কথা বলতে বলতে দুজনে রুমে যান। বিছানায় বসে শায়েলা বেগমকে মুখোমুখি করে হাত ধরে বসেন। বলেন মনে আছে প্রথম যখন বাসর ঘরে এই হাত ধরেছিলাম তুমি কেপে উঠেছিলে। এই প্রথম কোন পুরুষের ছোঁয়া পেলাম। তবে হাতটা যখন ধরেছিলে তখন অন্যরকম সুখ পেয়েছিলাম। কেমন? একটা বিশ্বাসের, একটা ভরসার, একটা ভালবাসার হাত। আমারর কাছে তাই মনে হয়েছ। কেন মনে হয়েছে জানো। কেন? কলিমা পড়েছি আমরা। সকলের বিয়েতে কলিমা পড়ে হয়। কিন্তু আমরা সবাই কলিমার শক্তিকে অবহেলা করি। হাদীসে একপাল্লায় কলিমা আর এক পাল্লায় দুই জাহান তুললেও কলিমার সমান হবে না। এই কলিমার শক্তিতে আমাদের উপলব্ধির কারণে আমাদের ভালবাসার বন্ধন দৃঢ়। কখনো ছেড়ে যেও না। আরে বোকা আমাদের এই বন্ধনের আরোও একটা বিরাট বিষয় কাজ করেছে। দেনমোহর। হ্যাঁ। দেনমোহর নিয়ে বাবা আলোচনা করছিলেন। আমি উনাদেরকে বলেছিলাম দেনমোহর সেটা আল্লাহর কাছে গ্রহনিয় তা হলো যে দেনমোহর পরিশোধযোগ্য। সেদিন বিয়ের আলোচনায় তোমার কথা হয়েছিলো। দেনমোহর নিয়ে তোমার কথা শুনে আমরা সবাই খুশি হয়েছি। এ ভালবাসা শেষ হবার নয়। তুমি রোজ এভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরবে বাসায় ফেরার পর। তারপর থেকে শায়েলা এমন করেন। আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি। সোহরাব হোসেন মাথা তুলে চুমু খেলেন। দরজা লাগিয়ে নিজেদের রুমে চলে গেলেন। আজও পামাপাশি মুখ করে দুজনে দুজনার হাত ধরে বসে কথা বলছেন। সোহরাব বললেন বিয়ের এতোবছর পর আজো কথা রেখে চলেছো। তুমি আমার কি তা জানো। কি? সঙ্গী। যাকে বলে অমর সঙ্গী। আমাদের ভালবাসা যুগ জনমের বাধন। আমার আল্লাহর কাছে একটা চাওয়া থাকে। নামাজ পড়ে সবসময় চাই। কি? আমাদের নবীজী সবসময় দোয়া করেন তাহার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী হযরত খাদিজা( রা) তিনি পরকালের জীবনে পেতে চান বলে খোদার দরবারে সবসময় প্রার্থনা করতেন। আমি তেমন করে তোমার জন্য প্রার্থনা করি। এমন ভালবাসা আমার জীবনে আসবে আমি কখনো ভাবিনি গো। চোখের জল বেরিয়ে পড়েছে। সোহরাব চুমু খেয়ে চোখের জল মুছে দিলেন। বললেন কাদছো কেন? এ আমার সুখের কান্না। আম্মা আম্মা। আবুবক্কর ডাকছে গলা ছেড়ে। শায়েলা বললেন তোমার ছাগলের ডাক শুরু হলো। আসছি । কি হলো তোর। বের হয়ে এসে বললেন কি হয়েছে এখনো ম্যা ম্যা করছিস কেন? আমি ছাগল নাকি ম্যা ম্যা করবো। ক্ষুধা লেগেছে। আব্বা সেই কখন এলেন এখনো খা্বারের নাম নেই। দিচ্ছি। শায়েলা বেগম গেলেন খাবার বাড়তে। সোহরাব হোসেন ফ্রেস হয়ে এসে মেঝেতে মাধুরি বিছালেন। শায়েলা বেগমের সাথে তিনি সহযোগিতা করছেন। খাবার গুলো এগিয়ে নিয়ে তিনি রাখছেন। তবে খাবার বেশি কিছু নয়। এা তরকারী রান্না করেছেন। সবাই এসে বসলেন। আবুবক্কর এক তরকারী দেখে বললেন রোজ রোজ এক তরকারী ভাল লাগে না। সোহরাব বললেন এক তরকারী দিয়ে ভাত খাওয়ার মানে কি জানো। কি? তোমার মতো আমিও দু তিন প্রকার তরকারী না হলে খেতাম না। যখন জানতে পারলাম আমাদের নবী এক তরকারী ছাড়া তিনি কখনো খান নি। কখনো দাওয়াতে গেলে তিন চার প্রকারের তরকারী হলে তিনি ছেকে দেখতেন শুধু হযরত ওমর ( রাঃ) বর্ননা অনুযায়ী। তুমি সুন্নতের কথা বলছো বাবা। জ্বী আব্বাজা । সুন্নতের কথা বলছি। কিন্তু বাবা এখানে কিন্তু বিশাল একটা জিনিস বোঝানে হয়েছে। তবে আগে খাবার খেয়ে নেই। তারপর বরলো। কেননা রিযিক সামনে রেখে কথা বললে রিযেকের অসম্মান করা হয়। ঠিক খেয়ে নেই। সবাই হাত ধৌত করে খেতে বসলেন। খাবার খাওয়া দোয়া বিসমিল্লাহ আলা বারকাতি বলে সবাই খাওয়া শুরু করলেন। খাবার সবাই নিশ্চুপ হয়ে খেলেন। কোন কথা বললেন না। খাবার শেষ করে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া আদায় করলেন। কেননা সকলেি জানেন সর্বাবস্থায় শুকরিয়া আদায় করলে রিযিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সোহরাব হোসেন বললেন শোন বাবা। খাবার সমসময় কম খাবে। পেট বরে খাবে না। কেন বাবা? পেটের চারভাগের তিনভাগ খাবে। একভাগ খালি রাখবে। কেননা হয়তো তোমাকে কোন মেহমানদারী গ্রহন করতে হতে পারে। পুরু পেট ভরে খেলে কি হতে পারে? আমাদের নবী কখনো পুরু পেট ভরে খেতেন না। তিনি জায়গা খালি রাখতেন। কেননা এতে করে বদহজম হতে পারে, শারিরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে ইত্যাদি। এবার বলো এক তরকারীর বিশার কি ব্যাপার তুমি খেয়াল করলে। বাবা সামাজিকভাবে তুমি চিন্তা করে দেখো আমাদের মতো পরিবারে অনেকে দু বা তিন প্রকারের তরকারী রান্না করছে। আবার উচ্চবিত্ত পরিবারে এর চেয়ে বেশি রান্না হচ্ছে। একটু চিন্তা করলে দেখা যায় যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রান্না করা হচ্ছে। কিন্তু এতে করে সমস্যায় পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এই যে প্রয়োজনেন তুলনায় এতো রান্না হচ্ছে দেখা যায় সবাই একটি তরকারী দিয়ে খেয়ে নিচ্ছে। বাদবাকি নষ্ট করছে। ফলে অন্য একজনের রিযিক নষ্ট করা হলো সাথে বাজার মূল্য বৃদ্ধি পেল। কেননা প্রয়েজনের তুলনায় অতিরিক্ত বাজারের কারণে চাহিদা বাড়ছে। ফলে দাম বেড়েছে। নবীর সুন্নত পালন করে এক তরকারী দিয়ে খাবার খেলে বাজারের তরকারীর চাহিদা ঘাটতি হতো না। সরবরাহ বেশি থাকতো। দাম বৃদ্ধি না পেয়ে কম থাকতো। দারুন কথা বলেছো তুমি। সামাজিকবাবে বোঝতে পারলে সমাজের অনেক উপকারে আসতো। হ্যাঁ বাবা। আমাদের ইসলামের প্রত্যেক কাজে সামাজিকভাবে চিন্তা করার অনেক অবকাশ রয়েছে। তোমাকে বোঝতে হবে। গভীর ভাবে তা ভাবতে হবে। তা তোমার পরীক্ষা কবে। পড়শু বাবা । পিপারেশন কেমন? মাশা আল্লাহ অনেক ভাল। মনোযোগ দিয়ে পড়। এখন পড়বে না ঘুমিয়ে পড়বে। এখন ঘুমাবো বাবা। সকালে উঠে পড়তে বসবো। আবুবক্কর বলে চলে গেলেন নিজের রুমে। গিয়ে ওযু করে এসে শুয়ে পড়লেন। সোহরাব হোসেন আর শায়েলা বেগম উনাদের রুমে চলে গেলেন। বিছানায় বসে শায়েলাকে জড়িয়ে ধরে বললেন বাগানের ফুলটা ভাল সুরভী ছড়াচ্ছে । ছড়াবেনা কেন? এযে ভালবাসার বাগানের ফুল। বিয়ের আগে পরিচয় থাকলে অনেক মজা হতো। হতো না। কারণ তোমার সামনে আসতাম না। বিয়ের কারণে আমাকে পেয়েছো। হ্যাঁ । বাগানের সুন্দর ফুলটি পেয়েছিলাম।যে ফুলে ভ্রমর বসতে পারে নি। ফুলটা আগুনের ছিলো বলে ভ্রমরা কাছে আসতে পারে নি। আমি যে এলাম। এসেছো সত্যিকারের ভ্রমর হয়ে যার ছোঁয়ায় রয়েছে ভালবাসার পরশ। পরম বন্ধন। সোহরাব হোসেন শায়েলা বেগমকে লিপ কিস করলেন। কিস করার পর তিনি সোহরাব হোসেনকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন সারাজীবন ধরে রেখো। ভুল বোঝ না কখনো । এভাবে আমরা দুজন দুজনার হয়ে থাকবো দুনিয়া ও আখিরাতে।

ছবি
সেকশনঃ সাহিত্য
লিখেছেনঃ Md Enamul Huq তারিখঃ 17/04/2020
সর্বমোট 385 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ