ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

সেন্টিমিটার, মিটার ও কিলোমিটার বিড়ম্বনা


আমার প্রায়ই মনে হয়, আমি কেন লিখি? বিশেষ করে যখন ফেব্রুয়ারী কাছাকাছি চলে আসে, মুখোমুখি হয় বইমেলা, তখন। সে সময়ে শুরু হয় প্রকাশকের চাপাচাপি; ফোন করে খোঁজ নেওয়া, একটা বোতল নিয়ে লেখক ডেরায় গিয়ে আড্ডা জমানো, অফিসে হাজির হয়ে কথাচ্ছলে জিজ্ঞেস করা, ‘স্যার পান্ডুলিপির কতোদূর’।

পেটের ধান্দায় যে খুদ-কুড়ানো মার্কা চাকুরী করে খাই, তার চাপতো আর ডিসেম্বর জানুয়ারীতে কম থাকে না। সারা বছর একই গতিতে চলে। ফলে, সময়টা পাবো কোথায় যে, পান্ডুলিপির পিছনে আলাদা করে সময় দেব! নিজের উপরে খুব বিরক্তি আসে। কেন লিখি? এই ছাই-পাশ না লিখলে কি হয়? আমার লেখা, না হয় সাহিত্য, না হয় কুড়ি-কুষ্টি জাতীয় অন্য কিছু। লেখাতো না, শুধু আজাইরা কামে সময় নষ্ট। আমারে ল্যাপটপে বসা দেখলেই আমার বউ ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করবে, আবার বসলে নাকি? কথার ঝাঁজ টের পাই। কি আর করা, সমীহ করে আমতা আমতা করে বলি, এই একটুখানি।

আমি সত্য কথা সোজা করে লিখি। জীবনে কল্পনা থেকে কোন সৃষ্টিই আমি করতে পারিনি। সে গল্পই হোক, কবিতাই হোক, উপন্যাসই হোক বা অন্য কিছু হোক। সত্য থেকে উপজীব্য নিয়ে কায়দা করে প্রকাশটাই শুধু করি। কায়দাতো আর হয় না, হয় বেকায়দা। এই রকম ফাউল লেখা কি কোন গুণের মধ্যে পড়ে? এই ফাও প্যাঁচালের লেখা-লেখিতেতো আমার কোন আর্থিক লাভও হয় না। দিনের পর দিন শুধু ফাও ফাও সময়ই নষ্ট করা। পুরাই আজাইরা কাম।  

আইজও সেই রকম কিছু সত্য কথা বলব ভাবছি। আমি তখন মেডিকেল কলেজে ফার্ষ্ট ইয়ারে পড়ি। এনাটমীর আইটেম পরীক্ষা। এখানে শুধু ভাইভা হয়। এরকম পরীক্ষা মেডিকেলে প্রতি সপ্তাহে কয়েকটা থাকে। তাই বলে এর গুরুত্ব কম না। পাস করা লাগে। এনাটমীর ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি আইটেম মিলে হয় একটা কার্ড। সবগুলি আইটেমে পাস করলে তবে কার্ড পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা অর্জন হয়। এভাবে অনেকগুলি কার্ডের সবগুলি সাফল্যজনকভাবে পাস করার পরে ফাইনাল বা প্রফেশনাল পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। প্রক্রিয়াটা খুব জটিল। এ জন্য মেডিকেলের ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে, ফেল করার জন্যও আগে পাস করার যোগ্যতা লাগে।  

নির্মল স্যার আইটেম নিচ্ছেন। সাধারণত একজন একজন করে ভাইভা নেওয়ার নিয়ম প্রচলিত থাকলেও স্যারদের চয়েসের উপরে নির্ভর করে এটি ভিন্নভাবেও হয়। কখনও একাধিক জনকে একসাথে বসিয়ে, কখনওবা গ্রুপেও ভাইভা নেওয়া হয়।

নির্মল স্যার কিছু মনে রাখতে পারতেন না। পড়ানোর সময়ে একটানা মুখস্ত বলে যেতেন। বলার মধ্যে কন্ঠের কোন আপ-ডাউনও হতো না। মাঝে মাঝে আমরা ইচ্ছে করেই স্যারের বলার মাঝে প্রশ্ন করে বসতাম। স্যার তখন হচকচিয়ে গিয়ে, ধমক দিয়ে বলতেন, ভুলে যাবোতো, আগে বলে নেই। মূলত স্যারের এ কথা শোনার জন্যেই প্রশ্ন করতাম। পড়ানো শেষ হলে আমরা প্রশ্ন করার সুযোগ নিতাম। যদিও বলা শেষ করার সাথে সাথেই স্যার নিজেই বোধ হয় সবকিছু ভুলে যেতেন। খাদ্য গিলে উগরে দেবারমতো স্যার পড়া গিলে উগরে দিতেন। প্রশ্ন করলে স্যার তখন আরেক জনকে বলতেন, এই, তুমি এর উত্তর বলো। এর মানে, স্যারের মনে নেই। অন্য কেউ উত্তর বলে দিলে স্যার বেঁচে যান। অনেক সময়ে প্রশ্ন করলে স্যার বলতেন তোমরা বসো, আমি আসছি। আমরা দেখতাম স্যার দ্রুত লাইব্রেরীর দিকে যাচ্ছেন। ভুলে গেছেন, বই দেখার জন্য দৌড়াচ্ছেন। এমনও হয়েছে, লাইব্রেরী থেকে দেখে এসে আবার তা ভুলে গেছেন। প্রশ্ন করলে, চোখ বন্ধ করে মাথা ঝাঁকাতেন। মনে করতে ব্যর্থ হয়ে চ্যাপ্টারের নাম বলে বলতেন, হোষ্টেলে গিয়ে পড়ে নেবে।

সেই নির্মল স্যার আইটেম নিচ্ছেন। আমি আর মিঠু পরীক্ষা দিচ্ছি। স্যার আমাকে একটা প্রশ্ন করলেন, আমি বললাম, স্যার, পারিনা। স্যার মিঠুকে সেই প্রশ্নটি করলেন, তুমি বল? মিঠু বলল, স্যার, পারিনা। সাহস করে মিঠু স্যারকে উল্টো প্রশ্ন করল, স্যার উত্তরটা কি হবে, আপনি বলে দেন স্যার। স্যার বললেন, আমিও পারিনা। সবাই মুচকি হাসল। শব্দ করা যাবেনা। সরকারী মেডিকেল কলেজ, স্যারদের চোখে পড়লে পাস করা মুশকিল।

ফিজিওলজির সিষ্টেম ফাইনাল পরীক্ষার ভাইভা চলছে। এনাটমীতে যেমন অনেকগুলো আইটেম মিলে একটা কার্ড হয়, ফিজিওলজিতে তেমনি অনেকগুলো আইটেম মিলে হয় একটা সিষ্টেম। রিটেনে পাস করার পরে ভাইভা হয়। রিটেন ও ভাইভাতে পৃথকভাবে পাস করা লাগে। সবগুলো আইটেম পাস করার পরে সিষ্টেম পরীক্ষা দেবার সুযোগ পাওয়া যায়। সবগুলো সিষ্টেমে পাস করার পরে প্রফেশনাল পরীক্ষা দেবার যোগ্যতা অর্জন করা হয়। ভাইভা পরীক্ষার বোর্ডে অনেকগুলো স্যার ও ম্যাডাম। ডিপার্টমেন্টাল হেড, আতিয়া ম্যাডামও আছেন। আতিয়া ম্যাডাম পরচুলা পরতেন। কড়া করে লিপস্টিক মাখাতেন, যা কোন দিনও তার পোশাকের রঙের সাথে মিলতো না। খুবই বিশ্রী দেখাতো।       

ব্রেনের ঠিক নীচেয় একটা যায়গা আছে যেটিকে বলে পঞ্চ। এখানে ব্রেন থেকে নেমে আসা নার্ভগুলি ক্রস করে অর্থাৎ ডানেরটা বামে যায় এবং বামেরটা ডানে যায়। আপনারা জানেন যে, ব্রেনের যে দিকটা এ্যাফেকটেড হয় শরীরের উল্টোদিকে তার ইফেক্ট পড়ে। পরীক্ষায় পাসের জন্য পঞ্চ এর ক্রস সেকশনটা খুবই ইমপর্টেন্ট।যেখানে নার্ভগুলি ক্রস করে ঠিক তার উপরের ক্রস সেকশন, ক্রসিং লেভেলের ক্রস সেকশন এবং ক্রসিং লেভেলের ঠিক নীচের ক্রস সেকশন এর ছবি লেবেল করে বইতে দেওয়া আছে। সেটি দেখে দেখে মেমোরাইজ করতে হয়, যেন কোন ভুল না হয়।পঞ্চের ক্রস সেকশনের সামনের দিকে, পিছনের দিকে, ডানে, বামে এবং মধ্যের কোন অংশ দিয়ে কি পাস করে সেটি নির্ভুলভাবে বলতে হয়। এখানের কোন প্রশ্ন সামান্য একটু আটকে গেলেও ভাইভাতে পাস করানো হয়না।

কারো প্রিপারেশন খারাপ থাকলেও সে পরীক্ষা দিতে বসে যায়। কারণ, প্রথমবার পরীক্ষা না দিলে দ্বিতীয়বারে স্যাররা পাস করান না। চার মাস পরপর পরীক্ষা হওয়াতে অনেকে প্রথমবার ভালভাবে পরীক্ষা না দিতে পারলেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে পাসের সুযোগটি নেয়। আর এ জন্যই প্রথমবার অনেকে ভালভাবে প্রিপারেশন না নিয়েও পরীক্ষায় এ্যটেন্ড করে। পরীক্ষায় ডিপার্টমেন্টাল হেড উপস্থিত থাকলে ভাইভাতে ছাত্রদের স্বাভাবিক উত্তরও বেঁধে তালগোল পাঁকিয়ে যায়। তো, এরকম এক ভাইভাতে আতিয়া ম্যাডাম সাহাবুদ্দিনকে প্রশ্ন করলেন-

- বলো, পঞ্চের ক্রসিং লেভেলে ক্রস সেশন করলে কি দেখা যায়?

- সাহাবুদ্দিন উত্তর দিল, ম্যাডম পঞ্চ দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়।

এমন অদ্ভুতুড়ে উত্তরে সারা বোর্ড স্তম্বিত। এমন অদ্ভুত উত্তর কেউ স্বপ্নেও কখনও কল্পনা করে না। ম্যাডাম অন্য স্যারদেরকে বললেন, এই ছেলেতো দেখছি আমার মাথা খারাপ করে দেবে! এরপর ধৈর্য ধরে ম্যাডাম দ্বিতীয় প্রশ্ন করলেন-

- আচ্ছা তারপর কি হয়?

- সাহাবুদ্দিনের উত্তর, ম্যাডাম রক্ত পড়ে।

ম্যাডাম বোর্ডে উপস্থিত স্যারদেরকে বললেন, এই ছেলে দেখছি সত্যিই আমার মাথা খারাপ করে ফেলেছে। ম্যাডাম নিজের অজান্তেই নিজের মাথায় হাত দিয়ে মাথা কচলালেন। ম্যাডামের পরচুলা খুলে হাতের মধ্যে চলে এলো। আমাদের মধ্যে সাহাবুদ্দিন ছাড়া কেউ কখনও ম্যাডামের টাক দেখেনি।

প্রফেশনাল পরীক্ষার ভাইভাগুলো বেশ কঠিন। অনেকগুলো বোর্ড। সাথে অনেক লেখা-জোখা। মাথা ঠিক রাখা কঠিন, ঠিক থাকেও না।পরীক্ষার্থীর অজান্তেই অনেক হাস্যকর ঘটনা ঘটে যায়, যা সে টেরও পায়না। টেনশনের কারণেই এটি হয়।

ভ্যাজাইনা বা যোনীর সামনের ওয়ালের নরমাল লেন্থ ৪.৫ সেন্টিমিটার। ইলাস্টিসিটি থাকার কারণে প্রেসারে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সেক্সুয়াল গ্রাটিফিকেশনের গ্রন্থিগুলি ভ্যাজাইনার মুখের দিকের ২.৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে অবস্থান করে এবং কলাপসড অবস্থায় থাকে। ফলে পেনিসের সাইজ যা-ই হোক না কেন সেটাই ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই যৌনতৃপ্তি পাবার জন্য যথেষ্ট। ইরেক্ট বা খাঁড়া অবস্থায় কারো পেনিস যদি দু ইঞ্চিও লম্বা হয়, তাহলেও পুরুষ ও নারী দু’জনেই পূর্ণ যৌনতৃপ্তি পেতে পারে। উভয়ের যৌনতৃপ্তির জন্য পুরুষ লিঙ্গের এতোটুকু দৈর্ঘই যথেষ্ট। পেনিসের সাইজের উপরে ছেলে বা মেয়ে কারোরই যৌনতৃপ্তি নির্ভর করে না। এমনকি ভ্যাজাইনার ভিতরে পেনিস না ঢুকিয়ে ভ্যাজাইনার মুখের দিকে রতি করলেও যৌনতৃপ্তি পূর্ণ হয়ে যায়। এমনকি তা আঙ্গুল দিয়ে হলেও। এর কারণ, সেক্সুয়াল গ্রাটিফিকেশনের গ্রন্থিগুলির অবস্থান ভ্যাজাইনার দ্বারে।

এনাটমির ভাইভাতে দুটো বিগ বোর্ড থাকে। একটা বোর্ড হার্ড পার্ট এর জন্য, অন্যটা সফট পার্ট এর জন্য। এরমধ্যে আরো ছোট ছোট অনেক ভাগ-যোগ আছে। হার্ড পার্টে থাকে হাড়-গোড় সংক্রান্ত বিষয়াদি। সফট পার্টে থাকে ভিসেরা বা কর্তিত অঙ্গসমুহ। সবই ট্রেতে সাজানো থাকে। স্যার ম্যাডামেরা যেটা ধরতে বলে সেটা এ্যনাটমিক্যাল পজিশনে ধরতে হয়। এ্যনাটমিক্যাল পজিশন হলো, একটা মানুষ দাড়িয়ে থাকলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যে পজিশনে থাকে সেই পজিশনে ধরা।

একবার সফট পার্টের ভাইভাতে শিখা ম্যাডাম ও মানবেন্দ্র স্যার বোর্ডে ছিলেন। ম্যাডাম আর স্যার ছিলেন হাজবেন্ড ওয়াইফ। দুজনই আমাদের এ্যনাটমি পড়াতেন। মানবেন্দ্র স্যারকে বলা হতো খাইষ্টে স্যার। দেখতে যেমন কুৎসিত তেমনি দুনিয়ার এমন কোন বাজে শব্দ নাই যা স্যারের মুখে আটকাতো। দুনিয়ার যতো পচা কথা আছে তা অনায়াসে, অনর্গলভাবে বলতে পারতো। কথা বলতেন বরিশালের ভাষায়। তো, সফট পার্টের ভাইভাতে শফিককে ভ্যাজাইনার ভিসেরা ধরানো হলো। শিখা ম্যাডাম প্রশ্ন করলেন-

- এটা কি?

- শফিক বলল, ম্যাডাম আপনার ভ্যাজাইনা।

- মানবেন্দ্র স্যার রসিকতা করে বললেন, তুমি কি সিওর এইডা তোমাগো ম্যাডামেরই ভ্যাজাইনা?

- শফিক, স্যার স্যার স্যার। (ফেলের ভয়ে সে পুরো আউলায় গেছে।)

- মানবেন্দ্র স্যার আবার রসিকতা করে বললেন, তুমিতো বাবা আমারে বেকায়দায় ফালাইলা। এহনতো দেখছি তোমাগো ম্যাডামের যায়গামতো সব ঠিকঠাক আছে কিনা সেইডা পরীক্ষা কইরা দেহন লাগে।

- শফিক, স্যার স্যার। (তার চোখ মুখ ফ্যকাসে হয়ে গেছে।)

- মানবেন্দ্র স্যার বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, এইবারে কও, ভ্যাজাইনার এন্টিরিয়র ওয়ালের লেন্থ কতো?

- শফিক উত্তর দিল, ফোর পয়েন্ট ফাইভ মিটার স্যার । (ভাইভা বোর্ডে একবার আউলায় গেলে আউলাইতেই থাকে। শফিকেরও তাই হয়েছে। সে ভয়ে সেন্টিমিটার না বলে, মিটার বলে ফেলেছে অথচ বিষয়টি খেয়ালই করতে পারে নাই।)

- মানবেন্দ্র স্যার বললেন, বাবা ঠিক করে বল, এটা মিটার, নাকি কিলোমিটার। (স্যার তারে আরো আউলানোর জন্য মজা করছে। সেন্টিমিটার থেকে তাকে মিটারে নিয়ে যাচ্ছে।)

- শফিক উত্তর দিল, স্যার, কিলোমিটার। (পুরা আউলায় গেছে, সেন্টিমিটারের যায়গায় মিটার বলে ফেলেছে, তার সেন্স একেবারেই কাজ করছে না।)

- শ্যামল স্যার বললেন, তইলে এইটার মইদ্যে কি ট্রেন যায়?

- শফিক, স্যার স্যার। (ততক্ষেণে শফিকের সেন্স একটু ফিরে এসেছে। সর্বনাশা উত্তর দেবার বিষয়টা তার মাথায় ক্লিক করেছে।)

- বাবা, তুমি যা কইলা, হ্যতেতো মোরে ক্রেন দিয়া বাইন্দা এ্যকশনে নামাইতে অইবে। নইলেতো একসের হরায়য়া যামু। এহন কও, চাইর কিলোমিটার লম্বা ক্রেন কুনহানে পাই।

- শফিক, স্যার স্যার।(শফিক কাঁপছে। সে বুঝছে তার ফেল নিশ্চিত হয়ে গেছে।)

পরিশিষ্টঃ বিএমএ ও স্বাচিপ নেতা ডা. শফিককে চাঁদাবাজ, গেজেল ও হেরোইনচিরা চাঁদা না পেয়ে তার চেম্বারের মধ্যেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। দীর্ঘদিনের রুমমেটকে নিজের হাতে কবর দিয়েছি।আসামী ধরা পড়ার পরেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং এখন পর্যন্ত ছাড়াই আছে। কোন বিচার হয়নি। চার বছর হয়ে গেল। তার মেয়েটা এখন ডেন্টাল কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। বন্ধুরা মিলে তার খরচ চালাচ্ছি। সাহাবুদ্দিন এ্যামেরিকাতে সেটেল্ড করেছে। মাঝে মাঝে ফোন করে, কথা হয়। মিঠু সেনাবাহিনীর কর্নেল। এখনও একসাথে তাস খেলি। ছাত্রজীবন থেকেই আমার তাস খেলার পার্টনার। তিনবার মেডিকেল কলেজ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। শিখা ম্যাডাম গাইনী এক্সপার্ট, মানবেন্দ্র স্যার অর্থপেডিক্স এক্সপার্ট; কে কোথায় আছে জানিনা।

আমার কৈফিয়তঃ ‘আলোচিত ব্লগার’ শিরোনাম তুলে দিয়ে সেখানে ‘ফান কর্ণার’ করা হয়েছে, যদিও এর জন্যে কোন সেকশন নাই। ব্লগে নতুন নতুন বিভাগ খোলা অবশ্যই একটি প্রসংসনীয় কাজ। এতে যার যার লেখার যোগ্যতা অনুযায়ি সে সে বিভিন্ন লিষ্টে থাকার সুযোগ পায়। ব্লগারদের উৎসাহ দেবার জন্য এর প্রয়োজনীতা অনস্বীকার্য। এখনও যে শিরোনামগুলি আছে তার সাথে আরো নতুন নতুন শিরোনাম যোগ হতে পারে এবং সেটাই কাম্য। যেমন, কবিতার জন্য আলাদাভাবে ‘আলোচিত কবিতা’ শিরোনাম করা যেতে পারে। কারণ, এই ব্লগে কবিতার স্থানটা সত্যিই সমীহ করারমতো। আমার সাফ কথা হলো, ‘আলোচিত ব্লগার’ শিরোনামটি রেখেও এসব করা যেতে পারে। যেভাবে লক্ষ্য স্থির হয়, তার উপরে ভিত্তি করেই লক্ষ্য অর্জনের কৌশল নির্ধারিত হয়। ব্লগের বিভাগ শিরোনাম পাল্টানোতে আমার লেখার কৌশলও পাল্টেছে। মনে হতে পারে, আমি তাহলে শিরোনামে থাকার জন্যই লিখি। না, তা লিখি না, তবে শিরোনামের কোথাও নিজেকে দেখলে আমার ভাল লাগে। মনে হয়, এটি আমার কষ্টের স্বীকৃতি, যা পাঠকরা আমাকে দিয়েছে। পাঠকের জন্যইতো লিখি। আকাশের ঠিকানায়তো লিখিনা। মানব মনের এই নেচারাল হিইম্যান ইনস্টিক্টকে যদি কেউ অস্বীকার করতে চান, করতে পারেণ। আমি করিনা। যদি কেউ বলেন, আরো বাবা লেখার কাম তাই লিখি, কোথায় কোন লিষ্টে থাকলাম, না থাকলাম, তা নিয়ে ভাবি না। যারা এটা বলেন তাদেরকে আমি ব্যপক শ্রদ্ধা করি। তারা সুপার ন্যাচারাল মানুষ। আমি তা নই। যুক্তিযুক্তের জীবনের চর্চা ও প্রকাশ এক এবং অভিন্ন। এমনকি কোন আড্ডাতেও আমি এমন কিছু বলিনা, যা আমি চর্চা করিনা। আমার এই প্রকাশের ভঙ্গির কারণে আমাকে ক্ষুদ্রমনের জ্ঞান করে কেউ কেউ ভ্রান্ত হতে পারেণ। আমার প্রকাশ ও চর্চার মধ্যে দ্বৈততা থাকলে সে সুযোগ হয়তো পাওয়া যেতো না। আমি সেটি পারিনা। অথচ এই দুইয়ের মধ্যে রাত-দিনসম পার্থক্য বজায় রেখে জীবন-চর্চা করে চলেছেন, এমন মানুষই এ সমাজে বেশী। আমি তার মধ্যে পড়ি না। আমি ট্রান্সপারেন্ট মানুষ, যেটুকু দেখা যায়, আমার ভিতরেও তাই।

ছবি
সেকশনঃ কৌতুক
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 11/09/2013 11:58 AM
সর্বমোট 10275 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ