ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ভ্রমণকথাঃ বছর শেষে মেঘের দেশে (১ম পর্ব)

সবুজ পাহাড় মেঘকে ডেকে বললো- তুই আমায় এভাবে ভেজালি!
মেঘ মৃদু হেসে উত্তর দিলো- ভেজালাম কোথায়?
একটু না হয় ছুঁয়েই দিলাম, সফেদ-শুভ্রতায়।
 
মেঘ পাহাড়কে ছুঁয়েছিলো বলে পাহাড় কতটুকু ভিজেছিলো জানি না, তবে আমি ভিজেছিলাম পুরোপুরি। সাজেক ভ্যালির পাহাড় আর মেঘ আমার মনকে ভরিয়ে দিয়েছিলো এক অনাবিল আনন্দে। সবুজ পাহাড়ের বুকে পেজো তুলোর মত সাদা মেঘের চাঁদর আমাকে আবিষ্ট করে রেখেছিলো দীর্ঘক্ষণ। অতি সাধারণ একজন মানুষ আমি। ভালোবসি ভ্রমণ করতে আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে। মাত্র ক’দিন আগে ঘুরে এলাম সাজেক ও কাপ্তাই লেক, রাঙামাটি। যেখানেই যাই, যা কিছু দেখি সবার সাথে শেয়ার করতে চাই সেই দেখার- পাওয়ার আনন্দ। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বলেছেন- "ভ্রমণ তোমাকে প্রথমে নির্বাক করে দেবে তারপর তোমাকে গল্প বলতে বাধ্য করবে "। আমিও আজ সাজেক আর রাঙামাটি ভ্রমণের গল্প  বলতে বসেছি... 
 
                           
 
ঘুরে এলাম মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালী
 
     মেয়ের পরীক্ষা শেষ। এদিকে বছরও শেষ হয়ে আসছে, তবে শীত তেমন জেঁকে বসেনি এখনও। অফিস কলিগ মাসুদ ভাই একদিন প্রস্তাব রাখলো- চলেন ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরে আসি নতুন কোন জায়গা থেকে। তার মেয়েদেরও পরীক্ষা শেষ। ঠিক হলো- অফিসের কাজের চাপ কিছুটা কমে এলে বেরিয়ে পড়বো। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায়? কক্সবাজার, কুয়াকাটা, রাঙামাটি, সিলেট, টাঙুয়ার হাওর- এসব জায়গায় ইতিমধ্যে ঘুরে এসেছি। তবে সাজেক কিংবা বান্দববান যাওয়া হয়নি। ইদানীং অনেকেই দেখছি সাজেক ভ্যালী ঘুরে আসছে। এবার তাহলে ঘুরে আসা যাক মেঘের দেশ সাজেক থেকে। মাসুদ ভাইয়ের একই কথা- সাজেকেই যাওয়া যাক। তবে সাজেকে দেখার মত যা আছে তার জন্য দু’দিনই যথেষ্ট। সাজেক যেতে হলে খাগড়াছড়ি হয়ে যেতে হয়, আর খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটির দূরত্ব খুব বেশি নয়। মাসুদ ভাইয়ের যেহেতু রাঙামাটি যাওয়া হয়নি, তাই ঠিক হলো- ঢাকা থেকে সাজেক ঘুরে আমরা সরাসরি রাঙামাটি চলে যাবো। আমাদের ট্যুর প্ল্যান ফাইনাল হলো- ১১ই ডিসেম্বর রাতে আমরা ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবো, আর ১৫ই ডিসেম্বর রাতে রাঙামাটি থেকে ঢাকা ফিরবো।
 
     ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি থেকে ঢাকা ফেরার জন্য সেন্টমার্টিন পরিবহনের এসি বাসের টিকিট কনফার্ম করা হলো। এবার হোটেল বুকিং। বন্ধু সাত্তারের সহায়তায় সাজেকে হোটেল বুকিং সম্পন্ন হলো, আর আলমগীরের বিআরডিবির খাগড়াছড়ি অফিসের লোকজনের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যাওয়া-আসার জন্য একটা মাহিন্দ্র (স্থানীয় লোকজন বলে চাঁদের গাড়ি) ভাড়া করা হলো। আমি রাঙামাটিতে পর্যটনের মোটেলে রুম বুক করে ফেললাম। ব্যাস, আমাদের যাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন, এবার শুধু নির্দিষ্ট দিনে বেরিয়ে পড়া। 
 
     ১১ই ডিসেম্বর রাতে কলাবাগান থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। সবাই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সাথে নিয়েছি।ঢাকায় তেমন শীত না পড়লেও সমতল থেকে ১৮০০ ফুট উপরে সাজেক ভ্যালীতে শীতের মাত্রা কেমন আমাদের জানা নেই। হঠাৎ সাজেকে যাওয়া নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম। কিছুক্ষণ পর বন্ধু ড. মাকসুদের ফোন। ওরা তখন বান্দরবান যাচ্ছে। হয়তো সেই মুহূর্তে ওদের বাস আমাদের কাছাকাছি কোথাও ছিলো। কিছুটা আফসোস হলো। আগে জানলে হয়তো ট্যুর প্ল্যান চেঞ্জ করতে পারতাম। এ যাত্রায় আমরাও ওদের সাথে বান্দরবান ঘুরে আসতে পারতাম। পরে সময় বুঝে সাজেকে যাওয়া যেতো। যাই হোক, আমাদের গাড়ি ঘুটে চলেছে চেনা পথে। এই পথে বহুবার ঢাকা-চিটাগাঙ জার্নি করা হয়েছে। তবে এখন রাস্তা ওয়ানওয়ে, লেন সংখ্যাও বেড়েছে, তাই গাড়ির গতিও আগের তুলনায় বেশি। বাসের মধ্যে ঠাণ্ডার মাত্রা বেড়ে গেছে। আমি কিছুক্ষণ পর পরই দেখছি মেয়ের ঠাণ্ডা লাগছে কি-না, কারণ ওর এমনিতেই কোল্ড এলার্জির সমস্যা আছে, তাই টুপি, মাফলার দিয়ে মাথা ঢেকে দিয়েছি। মাসুদ ভাইও তাই করলো। রাত দেড়টার দিকে আমাদের বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হোটেল অফ-বিটে যাত্রা বিরতি করলো। আমরাও ওখানে নামলাম। ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু খেয়ে নিলাম সবাই। প্রায় বিশ মিনিট পর আবার শুরু হলো আমাদের যাত্রা। ফেনী এসে আমাদের গাড়ি দিক পরিবর্তন করলো। ঢাকা-চিটাগাঙ হাইওয়ে ছেড়ে গাড়ি খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বাম দিকের রাস্তায় ঢুকে পড়লো। এদিকের রাস্তা ঢাকা-চিটাগাঙ হাইওয়ের মত অতটা স্মুথ নয়, কিছুটা সরুও বটে, তবে রাস্তা ফাঁকা থাকায় তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না।
     
সমস্যা শুরু হলো যখন আমাদের গাড়ি পাহাড়ি রাস্তায় প্রবেশ করলো। উচু-নিচু রাস্তায় অসংখ্য বাঁক, সেইসাথে ড্রাইভারের বেপরোয়া ড্রাইভিং। গাড়ি পাহাড়ি পথ ধরে কখনও উপরে ওঠে আবার নিচে নেমে আসে। এভাবেই এগিয়ে চলছিলো। আমরা ড্রাইভারকে আস্তে চালাতে বললাম। বিশেষ করে বাঁকগুলো ক্রস করার সময়। তবে খুব একটা কাজ হলো না। যাত্রীদের কথায় গতি কমালেও কিছুক্ষণ পর আবার ড্রাইভার আগের অবস্থায় চলে গেলো। কখনও কখনও মনে হচ্ছিলো এই বুঝি গাড়ি উল্টে খাদে পড়লো! যাত্রীদের মধ্যে বয়স্ক একজন হাঁক ছাড়লো ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে- এই ড্রাইভার, তোমাকে না আস্তে চালাতে বলেছি! এবার কিছুটা কাজ হলো। বেশ কিছুক্ষণ গাড়ি আস্তে চললো। বিশেষ করে বাঁকগুলোতে ড্রাইভার সাবধানে গাড়ি ঘোরালো। আমরা পাহাড়ি রাস্তায় ক্রমশঃ উপরে উঠছিলাম। জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে মনে হচ্ছিলো সমতল থেকে কয়েকশ ফুট উপরে। তবে কিছুক্ষণ পরই গাড়ি আবার নামতে শুরু করলো। এক সময় নেমে এলো সমতলে। আমরা যখন মাটিরাঙা নামক এক জায়গায় পৌঁছেছি, তখনই শুরু হলো আরেক বিপত্তি। গাড়ির টায়ার পাঙচার! তখন আমরা খাগড়াছড়িতে আমাদের শেষ গন্তব্যস্থল থেকে মাত্র পনেরো মিনিট দুরত্বে। কি আর করা! শুরু হলো স্পেয়ার চাকা লাগানোর কাজ। গাড়ি ঠিক হতে একঘণ্টার বেশি সময় লাগলো। আমরা প্রায় সোয়া সাতটার দিকে খাগড়াছড়ি পৌঁছালাম।
 
     আলমগীর নেওয়াজের বিআরডিবি অফিসের ড্রাইভার মান্নান ফজরের নামাজের পর থেকেই চাঁদের গাড়ি (মাহিন্দ্র) নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমরা যখন অরণ্য বিলাস রিসোর্টের সামনে বাস থেকে নামলাম তখন দেখলাম অসংখ্য পর্যটক রাস্তায় ভিড় করে আছে। এরা সবাই সাজেকে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ পর সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে, কারণ পথে আর্মিদের চেকিং, যা বেলা দশটার আগে সম্পন্ন হয় না; আর আর্মি চেকিং ছাড়া কোন পর্যটকের গাড়ি সাজেকের রাস্তায় যেতে পারে না। আমরা সবাই স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা সারলাম। কিছুক্ষণ পর আমরা মাহিন্দ্র নিয়ে সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো। এই মাহিন্দ্র ভাড়া করার ক্ষেত্রে মান্নান আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। আমরা এই গাড়ি নিয়ে সাজেকে যাব, ওখানে আজ সারাদিন আর রাত্রি যাপন করে আগামীকাল সকালে আবার খাগড়াছড়ি ফিরবো। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখে বেলা তিনটার দিকে এই গাড়ি নিয়েই রাঙামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো।
 
     সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমাদের গাড়ি খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের পথে চলতে শুরু করলো। নতুন জনপদ আর মানুষের বিচিত্র জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে আমরা এগিয়ে চলছিলাম। আমাদের মাহিন্দ্রর ড্রাইভার ও তার সহকারী- দু’জনই স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক। ড্রাইভার চাপাই মারমা বেশ হাসিখুশি ও ভদ্র, ড্রাইভার হিসেবেও দক্ষ আর তার সহকারী বাবু চাকমা কম কথা বললেও তার সাথে সাথে কথা বলে তাদের কালচার, জীবনধারা সম্মন্ধে বেশ কিছু মজার তথ্য জানা গেলো। চারপাশের প্রকৃতি দেখতে দেখতে আমরা ছুটে চলছিলাম। হঠাৎ ঠাণ্ডার মাত্রা বেড়ে গেলো। চারিদিক থেকে একটা হিম-শীতল বাতাস আমাদের কাঁপিয়ে দিচ্ছিলো। বাচ্চাদের ঠিকমত ঢেকে দিলাম। আরও কিছুটা পথ সামনে এগোনোর পর বাঘাইহাটে এসে আমাদের গাড়ি থেমে গেলো। সামনে আর্মি চেকিং। এখানে নাম রেজিস্ট্রি করতে হবে। আমি এগিয়ে গিয়ে নাম রেজিস্ট্রি করে এলাম। বাবু চাকমা জানালো এখানে চেকিঙের পর আর্মিদের এস্কর্ট যাবে বেলা দশটার দিকে। তখন গাড়ি ছাড়বে। আমরা কিছুটা হতাশই হলাম কারণ দশটা বাজতে এখনও অনেক সময় বাকি। আমরা গাড়ি থেকে নামলাম। স্থানীয় লোকজন নানা রকম সওদা ফেরি করে বেড়াচ্ছে। পেঁপে, জাম্বুরা, আঁখ, কলা ইত্যাদি। আমরা কিছু কলা কিনলাম। মাসুদ ভাই কিছুটা সামনে এগিয়ে বড় সাইজের তিনটা পাকা পেঁপে কিনলো মাত্র একশ টাকায়। পাশের দোকানে বাঁশের চা বিক্রি হচ্ছে। ‘বাঁশের চা’ বলতে আসলে কাপের পরিবর্তে বাঁশের চোঙায় করে চা দিচ্ছিলো দোকানি। মেয়েরা সেই বৈচিত্র্যময় বাঁশের চা খাওয়ার জন্য বায়না ধরলো। আমরা দোকানে গিয়ে দেখলাম চা শেষ। আশেপাশের লোকজন জানালো সাজেকেও পাওয়া যাবে এই চা। মেয়েদেরকে তাই বোঝালাম- 'সাজেকে গিয়ে বাঁশের চা খাওয়াবো’। ওরা মেনে নিলো।
 
     কিছুক্ষণ পরই আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিলো। যতই সামনে এগোচ্ছিলাম প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী বদলে যাচ্ছিলো। ধীরে ধীরে পাহাড়ি এলাকা দৃশ্যমান হচ্ছিলো। গতরাতে খাগড়াছড়ি আসার পথে রাস্তায় যে ধরনের বাঁক ছিলো এখন তার থেকেও বেশি। তবে গতরাতে অন্ধকারে প্রকৃতি ছিলো আমাদের দৃষ্টির বাইরে আর আজ দেখছি অন্যরকম এক বাংলাদেশ। রাস্তার দু’পাশে চোখ জুড়ানো অপার সৌন্দর্য। শুধু সবুজ আর সবুজ। বহুদূর পর্যন্ত উঁচুনিচু সবুজ পাহাড়, গিরিখাত, আর অনেক নিচে সরু জলধারা আঁকাবাঁকা পথ ধরে বয়ে চলেছে অজানা গন্তব্যে। এ যেন ভয়ঙ্কর সুন্দর এক রূপকথার রাজ্য। এই সবুজের মধ্যেই সরু আঁকাবাঁকা রাস্তা পাহাড়ের বুক চিরে ছুটে চলেছে। কখনও পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সর্পিল গতিতে উপরে উঠে যাচ্ছে আবার কখনও ঢাল বেয়ে নিচে নামছে। যাত্রার পূর্বে আমি কিছুটা শঙ্কিত ছিলাম এই ভেবে যে বাচ্চারা হয়তো পাহাড়ি পথে চলতে ভয় পাবে, তবে এখন দেখছি- না, ওরা ভয় তো পায়ই-নি, বরং প্রত্যেকেই বেশ রোমাঞ্চিত ছিলো; যেন ওরা রোলার কোস্টারে চড়েছে।
 
                            
                                                                                              গাড়ি থেকে তোলা পাহাড়ি দৃশ্য
 
     আমাদের মাহিন্দ্রর সহকারী বাবু চাকমা হঠাৎ দূরে একটা পাহাড়ের দিকে ইশারা করে দেখালো “ঐ যে পাহাড়টার উপরে একটা সাদা ঘর দেখা যাচ্ছে, ওটাই সাজেক; আমরা ওখানেই যাবো”  আমরা সবাই উৎসুক হয়ে সেদিকে তাকালাম। আমি জানতে চাইলাম- আর কতক্ষণ লাগবে? ও জানালো- আরও আধাঘণ্টা। তবে বাবুর সেই আধাঘণ্টা শেষমেশ ৪৫ মিনিটে শেষ হয়েছিলো।
      আমরা ছুটে চললাম সাজেকের পথে। মাহিন্দ্র খুব দ্রুতগতিতে চলছিলো। আমি চলন্ত গাড়ি থেকে স্থির ছবি তুলছিলাম, তবে গাড়ির দ্রুত গতি আর রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়ের (রাস্তার দু’পাশে নলখাগড়ার মত অসংখ্য গুল্ম এবং সেসব গাছে কাশফুলের মত গোলাপি রঙের ফুল) জন্য মনের মত ছবি তুলতে পারছিলাম না। যাই হোক প্রায় চল্লিশ মিনিট পর আমরা পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছালাম। বাবু তখন জানালো- এখন আমরা শুধু উপরে উঠবো। আমরা লক্ষ করলাম রাস্তাটা যেন হঠাৎ খাড়া হয়ে পাহাড়ের পাশ ঘেঁষে উপরে উঠে গেছে। চাপাই মারমা যে একজন সুদক্ষ ড্রাইভার তা আমরা আবার টের পেলাম। সেই খাড়া পথ বেয়ে কেমন সুচারুভাবে একই গতিতে উপরে উঠে যাচ্ছে সে। আমার যতটুকু মনে হয়েছে কখনও কখনও সেই পথ ৫৫ থেকে ৬০ ডিগ্রী পর্যন্ত এঙ্গেলে উঠে গিয়েছে। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিট ওঠার পর আমরা পাহাড়ের উপরে পৌঁছে গেলাম। বাবু জানালো- এটাই সাজেক। আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। আমি চারপাশে তাকিয়ে দোকানপাটের সাইনবোর্ড দেখলাম। হ্যা, আমরা পৌঁছে গেছি সেই রুইলুই পাড়া, সাজেক ভ্যালী। কিছুক্ষণের মধ্যে মাহিন্দ্র এসে দাঁড়ালো আমাদের নির্ধারিত হোটেল সাজেক বিলাসের সামনে।  
      আমাদের রুমের সামনেই কিছুটা খোলা ছাদ। মালামাল রুমে রেখে আমি করিডোর ধরে এগিয়ে খোলা ছাদে এসে দাঁড়ালাম। সামনে এবং চারপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ, উঁচুনিচু পাহাড়ের সারি, আর সেই সবুজ পাহাড় তার ভাঁজে ভাঁজে ধরে রেখেছে এক অপার সৌন্দর্য। অনেককেই বলতে শুনেছি- সাজেকের রূপ তার সবুজ পাহাড়ে আর সাদা মেঘে। এখন দেখলাম কথাটা সত্য। প্রকৃতি যেন খুব যত্ন করে সাজিয়েছে এই পুরো এলাকা। এখানে না এলে প্রকৃতির এই অসাধারণ সৌন্দর্য দেখা থেকে বঞ্চিত হতাম।
 
                             
                                                                      হোটেল রুমের সামনে থেকে তোলা পাহাড়শ্রেণী

চলবে......

ছবি
সেকশনঃ অন্যান্য
লিখেছেনঃ নিভৃত স্বপ্নচারী তারিখঃ 01/01/2020 12:45 PM
সর্বমোট 497 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ