ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ছোটগল্প: শহীদদিবসের ভালোবাসা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 





ছোটগল্প:

শহীদদিবসের ভালোবাসা

সাইয়িদ রফিকুল হক

 

সকালে একুশের প্রভাতফেরিতে গিয়েছিলেন শহীদ মনসুর আলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক রাজিব আহমেদ। সেখান থেকে একটু আগে ফিরে এসে নাশতা শেষ করে তিনি এখন নিজেদের বাড়ির দক্ষিণের বিশাল খোলা বারান্দার এককোণে বসে দৈনিক সংবাদপত্র পাঠ করছিলেন। কিন্তু সংবাদপত্র তাঁর কোনোপ্রকার মনোযোগ-আকর্ষণ করতে পারলো না। এখানে, আজ দেশ ও দশের কোনো কথা নাই। সবখানে শুধু ব্যবসাবাণিজ্যের রকমারি, খোলামেলা কিংবা উলঙ্গ আলোচনা-সমালোচনা। এরা সবাই এখন লাভের হিসাব কষতে ব্যস্ত। এই দেশটার কথা কেউই ভাবতে চাচ্ছে না। সবখানে শুধু মৌখিক দেশপ্রেমের একটা প্রহসন মাত্র। আর সবখানে চলছে লোকদেখানোদেশপ্রেমের অতিরিক্ত আয়োজন। একশ্রেণীর নাগরিক এখন এসবেই গা-ভাসিয়ে দিচ্ছে।

আজ বাঙালি-জাতির জীবনে বিশাল এক অর্জনের দিন। আজকের দিনের মতো এমন একটা দিনে এই বাংলা-মায়ের সবচেয়ে সাহসী আর দরদী সন্তানরা সেদিনের পাকিস্তানী-সামরিকজান্তা-সরকারের সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাভাষার বিরুদ্ধে জারী করা ১৪৪ধারাকে অগ্রাহ্য ও অমান্য করে বাংলাভাষার মানরক্ষা করেছিলেন। সেদিন, তাঁরা জীবনের মায়া পরিত্যাগ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আত্মাহুতি দিতে কোনোরকম কার্পণ্য করেনি। তাঁদের এই মহাদানে বাংলা আজ আমাদের দেশের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু সেই মহামানবদের আমরা এখন কতটুকু ভালোবাসি? তাঁদের কথা কি আজ আমাদের মনে আছে? আমরা কি তাঁদের আত্মত্যাগের মর্মবেদনা অনুধাবন করতে পেরেছি?

কথাগুলো ভাবতে-ভাবতে অধ্যাপক রাজিবসাহেব কেমন যেন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন। তার বাবা ছিলেন স্থানীয়পর্যায়ের একজন ভাষাসৈনিক। তিনি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুআরি রাজপথে মিছিল করেছিলেন। তিনি সেদিন পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ঢাকায় যেতে পারেননি। কিন্তু এই পাবনা-জেলার রাজপথে ঠিকই তিনি সেই মহতী-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁরাও সেদিন ভাষার জন্য বুকে গরম গুলির স্বাদগ্রহণ করার জন্য ছিলেন সদাপ্রস্তুত।

পত্রিকা পড়তে তার ভালো লাগছিলো না। তিনি পত্রিকা ফেলে হাতে একটা বই তুলে নিলেন। বইটা ভাষাআন্দোলনকেন্দ্রিক। এখানে, বাংলাভাষা-আন্দোলনের ইতিহাসবিষয়ক অনেক কথা বলা হয়েছে। ভাষাশহীদদের প্রতি অনেক সম্মানও প্রদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু বইটাতে লেখা হয়নি যে, বর্তমানে বাংলাদেশেই বাংলাভাষা উপেক্ষিত। বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক মানুষ এখন বাংলার চেয়ে ইংরেজি বলতে বেশি ভালোবাসে। আর বাংলাকে বাদ দিয়ে ইংরেজি বলাটাকে এই শ্রেণীটি খুব গর্বের ও মর্যাদার একটা বিষয় বলে মনে করে। বাঙালির একটা বিরাট অংশের এইরকম নেতিবাচক ধারণার কারণে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা সত্যি আজ উপেক্ষিত। এসব ভেবে তার মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল।

তিনি এই বইয়ের কিছুদূর পর্যন্ত পড়ে আবার থেমে গেলেন। তার এখন বই পড়তেও ভালো লাগছে না। বাংলাভাষার প্রতি সর্বসাধারণের একটা বড় বেশি অবজ্ঞাপ্রদর্শনের ভাব দেখে তিনি মনে মনে ব্যথিত। তার হৃদয়টা আজ হঠাৎ করেই ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে।

কলেজে তিনি ইতিহাস পড়ান। তবুও বাংলা তার প্রিয় বিষয়। বাংলাসাহিত্য তার হৃদয়-আনন্দের খোরাক। তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় সাহিত্য পড়ে কাটান। বলতে গেলে বাংলাসাহিত্যের মধ্যে ডুবে থাকেন। এখনও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রাজশেখর বসু, সত্যজিৎ রায় প্রমুখ তার প্রিয়লেখক।

আজ একুশে ফেব্রুআরির প্রভাতফেরিতে গিয়ে তিনি দেখলেন, অনেকের মধ্যে আগের মতো আবেগ নাই। এরা যেন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে বেশি ডুবে আছে। আজকাল শহীদবেদিতে সবাই ফুল দিচ্ছে। কারও-কারও মধ্যে এখনও দেশপ্রেম পর্যাপ্ত। কিন্তু অনেকের মধ্যে যেন ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে লোকদেখানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা। এরা শহীদবেদিতে ফুল দেওয়ার সময় নিজেদের ছবি তুলতে ব্যস্ত। শুধু নিজেদের ছবির জন্য একেকজন একেবারে উন্মাদ। এদের আজকের হাবভাব দেখে, অধ্যাপক রাজিবসাহেবের মনে হলো—এরা যেন ছবি তুলতেই আজ শহীদমিনারে এসেছে!

আগে তো এসব ছিল না। তখনও মানুষের হাতে ক্যামেরা ছিল। মানুষ ছিল তখন শুধুই আন্তরিক। তিনি তার বাবার হাত ধরে কতদিন শহীদমিনারে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আন্তরিকতার বাইরে আর-কিছু দেখতে পাননি। অথচ, আজ মানুষের মনে ভয়ানক এক ব্যাধি জন্মেছে। এর দেশপ্রেমকেও আজ ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্র বানানোর কাজে নিয়োজিত। সবখানে এরা শুধু লাভের আশায় সবকিছু বিনিয়োগ করছে।

তিনি ভাষাশহীদদের স্বপ্নপূরণের জন্য তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করে থাকেন। কলেজে ক্লাস পরিচালনার সময় তিনি বাংলার বাইরে কখনও অন্য কোনো ভাষা বা সেই ভাষার শব্দব্যবহার করেন না। বাংলাভাষাবিরোধী অপ্রয়োজনীয় শব্দগুলোকে তিনি নিজের জীবন থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলেছেন। তিনি মনে করেন, তার জীবনে এগুলোর কোনো প্রয়োজন নাই। আর অহেতুক ইংরেজি বললে জীবনের গৌরব বিনষ্ট হয়।

তার সঙ্গের অনেক কলিগ বিনাপ্রয়োজনে ইংরেজি-শব্দগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের ইমেজবৃদ্ধি করার কাজে সদাব্যস্ত। এরা মনে করে, লোকের সামনে বিনাপ্রয়োজনে ইংরেজি-শব্দের প্রয়োগ ঘটালে তার সম্মানবৃদ্ধি পাবে। তিনি এদের এই হীনমানসিকতাকে সবসময় ঘৃণার চোখে দেখেন।

আজ অনেককিছু ভেবে তার মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। তিনি মনখারাপের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আবার হাতে তুলে নিলেন একটা বই। এটি শরৎচন্দ্রের একটা উপন্যাস। সেই বিখ্যাত ‘বামুনের মেয়ে’। বইটা আগেও তিনি অনেকবার পড়েছেন। আজ আবার পড়ার জন্য বইটা খুললেন।

তিনি সবেমাত্র বইটা খুলে পৃষ্ঠাখানেক পড়েছেন। এমন সময় দেখলেন, তার বাসার সামনে একটা ছোট মাঠের মতো জায়গায় ছেলেদের কোলাহল। তিনি এখানে বসে এসব দেখেও উঠলেন না। বইপড়ার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু ওদিকে উত্তেজনা যেন আরও বাড়ছে।

তিনি এবার উঠে বারান্দার অপরপ্রান্তে গিয়ে দেখলেন, মাঠে ক্রিকেট-খেলা নিয়ে গণ্ডগোল। ছোট্ট একটা মাঠ। সেখানে দুইদলের ক্রিকেট-খেলা চলতে পারে না। আগে যে-দলটি এসেছে, তারা বলছে, এখন তারা খেলবে। ওদিকে, যারা একটু পরে এসেছে তারাও বলছে, আজ নাকি তাদের একুশে ফেব্রুআরি উপলক্ষে ক্রিকেট-ম্যাচ আছে! এসব শুনে তিনি ভিমরি খেলেন। আজকের এমন একটি পবিত্র দিনে এসব ছেলেরা শহীদমিনারে যায়নি! এদের তো এতোক্ষণ শহীদমিনারে থাকা দরকার। কিন্তু এরা ইতিহাসের এমন মর্মস্পর্শী ও বিয়োগান্তক একটা দিনে ক্রিকেট-খেলার মতো অতিতুচ্ছ কাজে আত্মনিয়োগ করেছে! এরা দেশের ইতিহাস ভুলে শহীদমিনারে না গিয়ে কোন সাহসে আজ সামান্য এক ক্রিকেট-খেলায় মেতে আছে! এদের পিতামাতারা কি বাংলাদেশী কিংবা বাঙালি নয়? এরা কোন সাহসের বলে সন্তানসন্ততিকে আজ বাংলার ইতিহাসবিমুখ করে তুলছে!

তার মনটা আবার বিষাদে ভরে উঠলো। তিনি মনোযোগ দিয়ে ওদের কথাবার্তা শুনতে লাগলেন।

ছেলেগুলো এমনভাবে কথা বলছিলো যেন আজ ক্রিকেট না খেললে ওদের জীবনের সবকিছু একেবারে   পণ্ড হয়ে যাবে। ওদের ভাবগতিক দেখে তিনি মনে মনে লজ্জায় কুঁকড়ে উঠলেন। এরা পরস্পরকে আক্রমণ করে যেভাবে আর যে ভাষায় কথা বলছে তা মনুষ্যসমাজের আওতার বাইরে। অথচ, ওদের কতই বা বয়স! আর ওরা সর্বোচ্চ প্রাইমারি-স্তরের শিক্ষার্থী। বড়জোর ওরা দশ-এগারো বছরের শিশু! এরই মধ্যে ওরা বুঝে গেছে, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে ক্রিকেট-খেলা! আর আমাদের মহান ভাষাআন্দোলন তথা একুশে ফেব্রুআরি, পবিত্র মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাদিবস, বিজয়দিবস গৌণ বিষয়! এরা তাই বাঙালি-জাতির হৃদয়স্পর্শী-ঘটনার দিনে শহীদমিনারে না-গিয়ে, জাতির বীর শহীদসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা না-জানিয়ে, মাঠে নেমেছে ক্রিকেট খেলতে!

অধ্যাপক রাজিব আহমেদ আর ভাবতে পারলেন না। তার মনে হলো: এই সমাজটা যে আজ নিজেদের অস্তিত্ব-বিলোপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—তাতে কোনো সন্দেহ নাই। এই জাতির একটা অংশ এখন ভয়ানকভাবে আত্মবিস্মৃত অমানুষে পরিণত হচ্ছে। এদের কাছে দেশের কোনো চাহিদা থাকতে পারে না। দেশের কোনো অধিকার থাকতে পারে না। অধিকার শুধু ব্যক্তির। সে শুধু রাষ্ট্রে বসবাস করে নাগরিকঅধিকার ভোগ করবে। আর এই অমানুষরূপী-নাগরিকগুলো রাষ্ট্রের জন্য কোনোকিছু ভাববে না। তারা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যপালন করবে না। কিন্তু সবসময় স্বার্থপরের মতো পুরাপুরি নাগরিকঅধিকার ভোগ করবে!

তিনি খুব মনখারাপ করে আবার চেয়ারটাতে এসে বসলেন। আর শুনতে লাগলেন আগামীদিনের ভবিষ্য শিশুকিশোরদের বাংলিশ-স্টাইলে গালিগালাজ। তার মাথাটা ঝিমঝিম করতে লাগলো। আগে পাড়ায়-মহল্লায় ছোটভাই আর বড়ভাই বলে একটা মধুরসম্পর্ক ছিল। এখন এসবও উঠে গেছে। এখন সবাই নিজেকে সমাজের বড়ভাই মনে করে। তার মনে হলো—মানুষের পশু হওয়ার জন্য এই ভাবনাই যথেষ্ট।

 

রাজিবসাহেব এসব ভাবতে-ভাবতে কখন যেন একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তার ঘুম ভাঙতে লাগলো   বড় মেয়ে চৈতীর ডাকে। সে পাশে বসে বাবার ফেলে রাখা বইগুলো নাড়াচাড়া করছিলো আর বাবাকে আস্তে-আস্তে ডাকছিলো। এমন মধুর ডাক শুনে তিনি জেগে উঠতে বাধ্য হলেন।

মেয়ের ডাক শুনে রাজিবসাহেব আড়মোড়া ভেঙে সোজা হয়ে বসলেন। তারপর হাসিমুখে বললেন, “আমাদের কলেজের অনুষ্ঠান কেমন হলো রে মা?”

চৈতী হেসে বললো, “ভালো হয়েছে বাবা। তবে আসল অনুষ্ঠান তো বিকালে।”

রাজিবসাহেব হাসিমুখে বললেন, “বিকালে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে—তা আমি জানি।”

সে আগের মতো হেসে বললো, “হ্যাঁ, বাবা। আর বিকালে কিন্তু তোমাকে অবশ্যই যেতে হবে।”

রাজিবসাহেব মেয়ের কথা শুনে প্রসন্নমনে বললেন, “অবশ্যই যাবো মা। বছরের একটা দিন। এমন সুন্দর আয়োজন। এসব অনুষ্ঠানে আমরা যদি না যাই তবে আমাদের পূর্বপুরুষের আত্মা যে কষ্ট পাবে মা। আমি বাবার কাছ থেকে শিখেছি, দেশের দাবি সবার আগে।”

চৈতী এবার একটু গম্ভীর হয়ে বললো, “বাবা, দাদুর কথা শুনলে আমার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে।”

তারপর সে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে একটু বেশি হেসে বললো, “বাবা, আজ বিকালে আমি কিন্তু কলেজের স্টেজে গান গাইবো। এজন্য মা-ও আমাদের সঙ্গে যাবে।”

সব শুনে রাজিবসাহেব বললেন, “খুব ভালো কথা। শুনে খুশি হলাম। আর ঠিকভাবে তোর গানের রিহার্সেল করেছিস তো?”

চৈতী হাসে আর বলে, “হ্যাঁ, বাবা। ওসব তো আগেই সেরে রেখেছি। আজ শুধু একটু কষ্ট করে কলেজের মাঠে গিয়ে গানটা শুনবে।”

রাজিবসাহেব নিজেও শুনেছেন। মেয়েটি গত কয়েকদিন যাবৎ খুব পরিশ্রম করে “জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো তোমায় ভালোবেসে” গানটি অনেকবার গেয়েছে। এই গানটি তার খুব ভালো লাগে। তিনি স্কুলজীবন থেকে এই গানটি ভালোবেসেছেন। আর এখন তার সন্তানসন্ততিকে এই গানটা ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।

রাজিবসাহেবের দুই-মেয়ে আর এক-ছেলে। বড়মেয়েটি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে পড়ছে।   এরপর ছেলে পাভেল দশমশ্রেণীতে অধ্যয়নরত। আর সর্বকনিষ্ঠ অদিতি অষ্টমশ্রেণীতে পড়ে।

ছেলেমেয়েরাও তার মতো দেশকে ভালোবাসতে শিখেছে। এজন্য তিনি ওদের শৈশবকাল থেকে খুব মনোযোগ দিয়ে মানুষ করেছেন। তিনি দেশের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইপড়া, গানশোনা, সিনেমা দেখার জন্য বাসায় সবসময় একটা পুরস্কার-ঘোষণা করে রেখেছেন।

তিনি মনে করেন, মানুষকে পুরস্কারপ্রদান করলে মানুষ তার কাজেকর্মে আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে ওঠে। এটি একধরনের প্রেষণা। আর মানবজীবনে এই প্রেষণারই বড় প্রয়োজন। পরিবারের মধ্যে প্রচলিত এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি পুরস্কারলাভ করেছে চৈতী। সে মুক্তিযুদ্ধের ওপর অনেক বইপড়ে তার বাবার কাছ থেকে ইতঃপূর্বে ছোটখাটো অনেক পুরস্কারের পাশাপাশি গতমাসে একটা ‘ল্যাপটপ’ পেয়েছে। তিনি সন্তানদের সবসময় জীবনগঠনমূলক পুরস্কার দিতে ভালোবাসেন। এছাড়াও তিনি ছেলেমেয়েদের পুরস্কার হিসাবে অসংখ্য বই, কয়েকটি সুদৃশ্য বুকশেলফ, তিনটি সুন্দর টেবিল ইত্যাদি প্রদান করেছেন।

বাড়িতে এমন সুন্দর পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকায় তার ছেলেমেয়েরা পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি জীবনের আসল বইগুলো পড়ার ব্যাপারে ভীষণভাবে আগ্রহী ও উৎসাহী হয়ে উঠেছে।

এসব দেখে আত্মতৃপ্তি পান অধ্যাপক রাজিব আহমেদ। আর স্বপ্ন দেখেন তার ছেলেমেয়েরা সবসময় দেশের জন্য কিছু করার কথা ভাববে। ওদের চিন্তাচেতনায় আর ধ্যানধারণায় সবসময় দেশ সবার থেকে বেশি অগ্রাধিকার পাবে। দেশ হয়ে উঠবে ওদের স্বপ্নের কাঙ্ক্ষিত গৃহ। স্বদেশটাকে নিজের বাড়ি মনে করতে হবে। তবেই না সবাই এর প্রতি যত্নশীল হয়ে উঠবে।

 

দুপুরে খাওয়ার পর্ব শেষ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলেন রাজিবসাহেব। এসময় পাভেল তার বাবার সঙ্গে একুশে ফেব্রুআরিবিষয়ক নানারকম প্রশ্ন করে অনেক তথ্য জেনে নিলো। এসব পরে তার কাজে লাগবে। তার বন্ধুদের কেউ-কেউ আজকাল গায়ের জোরে ভাষাআন্দোলন বিষয়ে নানারকম মনগড়া কথা বলার চেষ্টা করে থাকে। এদের থোতামুখ ভোঁতা করার জন্য সে এসব তার বাবার কাছ থেকে খুব ভালোভাবে জেনে নিয়েছে।

একটু পরে রাজিবসাহেবের স্ত্রী ও কন্যা শাড়ি পরে তার পাশে এসে দাঁড়ালো। তার স্ত্রী হাসি-হাসি মুখে বললেন, “চলো, আমরা এখন হাঁটতে শুরু করি। আর একটু আগেভাগে যাই। নইলে অনুষ্ঠান দেখার মজা থাকবে না।”

রাজিবসাহেব আগে থেকেই সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরেই বসে ছিলেন। এব্যাপারে তিনি আর অমত করলেন না।

তিনি সবার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আজ তোমাদের সবাইকে খুব ভালো লাগছে। আর মনে হচ্ছে তোমরা যেন এইমাত্র দেশরক্ষার কাজে বেরিয়ে পড়তে চাইছো। এতে আমার মন আনন্দে ভরে উঠেছে।”

পিছন থেকে পাভেল বললো, “বাবা, আমার মন ভরে উঠেছে একটু আগে তোমার সঙ্গে কথা বলে। তুমি এতোকিছু জানো কীভাবে?”

ছেলের কথা শুনে হেসে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে তিনি বললেন, “তোমাকে আমার চেয়ে বেশি জানতে হবে বাবা। আর আমার চেয়ে বেশি না জানলেও ক্ষতি নাই। কিন্তু আমার চেয়ে বেশি দেশপ্রেমিক তোমাকে হতেই হবে। পিতা হিসাবে এটা তোমার কাছে আমার দাবি।”

বাবার মুখে আশীর্বাদসূচক কথা শুনে পাভেলের চোখে প্রায় জল চলে এলো। সে ভিতরে-ভিতরে খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাবার পা-ছুঁয়ে সালাম করে বললো, “তোমার দোয়া থাকলে আমি পারবো বাবা। যেমন, দাদাভাইয়ের দোয়ায় তুমি এতোবড় হতে পেরেছো।”

রাজিবসাহেব উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “তা-ই যেন হয় বাবা।”

তারপর তিনি সবাইকে নিয়ে হাসিমুখে বাইরে বেরিয়ে পড়লেন। তাদের চোখেমুখে এখন দারুণ একটা স্বপ্ন যেন বিরাট আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছে।

 

অধ্যাপক রাজিব আহমেদের নেতৃত্বে চারজনের একটা মিছিল কলেজের মাঠ অতিক্রম করে অনুষ্ঠানস্থলের একেবারে কাছাকাছি চলে এলো। তাদের দেখে সাধারণ মানুষ আর ছাত্রছাত্রীরা ভীষণভাবে উল্লসিত হয়ে উঠলো। ওরা সেসব গায়ে মেখে পাশাপাশি চারটি আসনে বসে পড়লো।

রাজিবসাহেব খুব মনোযোগ দিয়ে দেখলেন, কলেজের সব ছাত্র এখানে আসেনি। বড়জোর অর্ধেক হবে। আর বাকী অর্ধেকের কি দেশ নাই? শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা কি তাদের জানা নাই? নাকি তারা সব জেনেশুনেও কোনো এক নিষ্ঠুর উদাসীনতায় ঘাপটিমেরে রয়েছে?

এসব ভেবে তার মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল। সবকিছু দেখে তিনি মনমরা হয়ে একপাশে চুপচাপ বসে রইলেন। দেশের প্রতি কারও কোনো উদাসীনতা তিনি কিছুতেই সহ্য করতে পারেন না।

 

জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে একুশের অনুষ্ঠান শুরু হলো। সবাই উঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলো।

রাজিবসাহেব মোহাচ্ছন্ন হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পরও তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি জাতীয় সঙ্গীত শুনলে একেবারে তন্ময় হয়ে পড়েন। তার কাছে এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুরেলা সঙ্গীত মনে হয়।

চৈতীর কথায় তিনি বসে পড়লেন।

অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি এসে মঞ্চে রাজিবসাহেবের ডাক পড়লো। ভাষাআন্দোলন বিষয়ে তাকে কিছু বলার জন্য সবাই খুব পীড়াপীড়ি করতে লাগলো।

বেশ কয়েকজন ছাত্র তার কাছে এগিয়ে এসে বললো, “স্যার, আপনি আজ আমাদের অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা। সেজন্য সবার শেষে আলোচনাসভায় আপনাকে ডেকেছি। আপনাকে এখন কিছু-একটা বলতেই হবে। প্রিন্সিপাল-স্যারও আপনাকে কিছু বলার জন্য বলেছেন।”

সবার অনুরোধে রাজিবসাহেব খুব ধীরপদে মঞ্চে আরোহণ করলেন। তারপর তিনি আরও ধীরস্থিরভাবে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে সবিনয়ে বলতে লাগলেন, “আজকাল সবাই ভাবে—শহীদমিনারে কিছু ফুল দিলেই বুঝি ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়ে যায়। আসলে তা নয়। আমাদের জীবনে-মরণে সবসময় বাংলাভাষার প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন করতে হবে। জীবনের সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে আমাদের শুধু মাতৃভাষা বাংলা-ব্যবহার করতে হবে। আর ভালোবেসে শুধু বাংলাকেই বুকে ধারণ করতে হবে। এতে আমাদের জাতীয় বীর ভাষাশহীদদের আত্মা শান্তিলাভ করবে। তবেই না আমাদের ভাষাশহীদদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পাবে। আমাদের সবাইকে শহীদমিনারেও যেতে হবে আবার শহীদমিনারের বাইরেও ভাষার প্রতি অবিচল শ্রদ্ধা ধরে রাখতে হবে। আর ছাত্রছাত্রীদের বলবো, তোমরা আজ থেকে জীবনে-মরণে শুধু বাংলা-ব্যবহার করবে। আর বিনা প্রয়োজনে আজ থেকে একটি বিদেশীশব্দও ব্যবহার করবে না। আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে ইংরেজি কিংবা অন্য কোনো ভাষা বা শব্দ ব্যবহার করাটা অপরাধ। এতে আমাদের বাংলা-মা কষ্ট পায়। তাই, তোমাদের সবার মনে আজ থেকে শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আমাদের ভাষাশহীদদের পবিত্র আত্মা পারলৌকিক শান্তিলাভ করুক। জয় হোক আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার। জয় হোক আমাদের দেশের। সবাইকে ধন্যবাদ।”

তুমুল হর্ষধ্বনি ও করতালির মধ্যে তিনি বক্তব্য শেষ করলেন।

কথা শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে রাজিবসাহেব নিজের চোখ মুছলেন। বাংলা-মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। পরে তিনি কান্নার জলীয় বাষ্পে ঝাপসা হয়ে যাওয়া চশমার কাচ দুটোও মুছলেন।

চৈতী বারবার বলছিলো, “বাবা, খুব অল্পকথায় তুমি অনেক সুন্দর কথা বলেছো। এখানকার সবাই তোমার কথাগুলো সমর্থন করেছে। কিন্তু ওরা নিজের জীবনে তা মানবে কিনা তা-ই নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।”

রাজিবসাহেব কিছু না বলে শুধু একটু হাসলেন। মানবচরিত্রসম্পর্কে তার সব জানা আছে। তবুও এদের একটু বিশ্বাস করতে দোষ কোথায়?

তার স্ত্রী সেহেলী জামান বললেন, “খুব ভালো বলেছো তুমি। আমার এখানে আসাটা সার্থক হয়েছে।”

রাজিবসাহেব কিছু না বলে এবারও একটু হাসলেন।

খানিক পরে চৈতী দেশাত্মবোধক গানটা গেয়ে সবাইকে মাত করে দিলো। চারদিক থেকে যখন আরেকটা-আরেকটা শোরগোল উঠলো তখন মঞ্চের সামনে বসা রাজিবসাহেব মেয়ের দিকে চেয়ে আরেকটি গান গাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন।

বাবার সম্মতি পেয়ে চৈতী এবার গাইতে লাগলো: ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়...।

গানশেষে তুমুল হর্ষধ্বনি। দর্শকশ্রোতা গানটি শুনে ভীষণ আনন্দ পেয়েছে। চৈতীর সুরেলা কণ্ঠে গানটি চমৎকারভাবে গীত হয়েছে।

গানশেষে চৈতী মঞ্চ থেকে নেমে বললো, “বাবা, সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এবার চলো আমরা বাসায় ফিরি। এবার আমাদের ঘরোয়া-অনুষ্ঠানটাও তো করতে হবে।”

সেহেলী মেয়েকে সমর্থন করে বললেন, “হ্যাঁ, চলো এবার বাড়ি ফিরি।”

 

ওরা চারজন আবার একসঙ্গে হাঁটতে লাগলো। অল্পসময়ের মধ্যে ওদের ক্ষুদ্র মিছিলটা জাতির বৃহৎ মিছিল থেকে পৃথক হয়ে গেল।

ঠিক গোধূলিলগ্নে ওরা নিজেদের বাড়ির কাছাকাছি এসে পড়লো। সন্ধ্যার এই মুহূর্তটা ওদের কাছে বেশ লাগছিলো। ওদের বাড়ির সামনে কিছুদূরে একটা বিলের মতো জলাশয় রয়েছে। ওরা চারজন হাঁটতে-হাঁটতে সেখানে উপস্থিত হলো।

সন্ধ্যার এই মুহূর্তটাতে এখানে আলো-আঁধারি-পরিবেশে দারুণ একটা সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে। আজ কুয়াশা না থাকায় সবকিছু সুন্দরভাবে ওরা দেখতে পাচ্ছে। ওরা আরও কিছুটা সময় বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করে একসময় বাসায় ফিরে এলো।

 

আকাশে আজ জোছনা তেমন না থাকলেও কোটি-কোটি-কোটি আলো-ঝলমলে তারার হাতছানি রয়েছে। এসব দেখে রাজিবসাহেব, পাভেলের দিকে চেয়ে বললেন, “তুই হারমোনিয়াম আর তবলাটা নিয়ে ছাদে আয় তো বাবা। আমি আর চৈতী এখন ছাদে যাচ্ছি।”

তারপর তিনি স্ত্রীর দিকে তাকালেন। তার সম্মতি বোঝার চেষ্টা করলেন।

সেহেলী হাসিমুখে বললেন, “তোমরা যাও। হাতের কাজ সেরে আমি একটু পরে আসছি।”

পাভেল হারমোনিয়াম আনতে গেল। তার মধ্যে এখন দারুণ একটা উত্তেজনা কাজ করছে। সে চৈতীর গান খুব পছন্দ করে।

 

ওদের দোতলা বাড়ির ছাদ। তবুও অনেক সুন্দর। আর এই মফস্বলশহরে এরকম ছিমছাম সুন্দর একটা বাড়ি খুব কম লোকেরই আছে। বাড়িটার স্থাপত্যশৈলী যে-কারও চোখে পড়ার মতো।

রাজিবসাহেব ছাদে বসার জন্য স্থায়ীভাবে চেয়ার-টেবিল-মঞ্চ ইত্যাদি বানিয়ে রেখেছেন। আবার খানিকটা শুধু খোলা জায়গাও রয়েছে। সেখানে মাঝে-মাঝে মাদুর বিছিয়ে ওরা বসে। গ্রাম-বাংলার আবহমানকালের চিরসুন্দর রূপটি তখন ওদের বুকের মধ্যে দোলা দেয়।

পাভেল খুব দ্রুত হারমোনিয়াম আর তবলা নিয়ে ছাদে প্রবেশ করলো। আর সে ছাদের নির্দিষ্ট জায়গাটাতে এসব রাখতে–রাখতে বললো, “আপুনি, আজ কোন গানটা করবি রে?”

চৈতী খুব সুন্দর করে হেসে বললো, “দেখি বাবা কী বলে। আর গানতো আজ কয়েকটি গাইবো।”

রাজিবসাহেব মেয়ের উদ্দেশ্যে সস্নেহে বললেন, “তুই না হয় পাভেলের পছন্দের একটা গান আগে গেয়ে শোনা। আমারটা না-হয় পরে হবে। আমি...।”

এমন সময় ছাদে ঢুকতে-ঢুকতে তাকে বাধা দিয়ে সেহেলী হেসে বললেন, “তোমারটা পরে হবে কেন? আগে তোমারটা হোক। পরে পাভেলের পছন্দের গান শুনবো। এবার বলো তোমার আজকের পছন্দের গান কোনটি?”

পাভেলও তার মাকে সায় জানিয়ে বললো, “হ্যাঁ বাবা, তোমারটা আগে বলো।”

চৈতী ততক্ষণে হারমোনিয়ামের সামনে বসে গান গাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলেছে।

রাজিবসাহেব নিজের আসনে বসতে-বসতে বললেন, “ভাষাশহীদদের নিয়ে আমার এই জীবনে সবচেয়ে প্রিয়গান হলো: সালাম সালাম হাজার সালাম...। আজ প্রথমে এই গানটাই গাওয়া হোক।”

চৈতী যেন সব জানে। তাই, সে তার বাবা বলার আগেই গানের সুরটা হারমোনিয়ামে তুলে ফেলেছিলো। এবার বাবার মুখ থেকে শোনামাত্র সে গাইতে লাগলো: সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদস্মরণে, আমার হৃদয় রেখে যেতে চায় তাদের স্মৃতির চরণে...।”

সেহেলী জামান খুব সুন্দরভাবে ঝালমুড়ি বানিয়ে এনেছেন। তিনি স্বামীর দিকে তা বাড়িয়ে দিতেই তিনি বললেন, “এখন নয়। একটু পরে। এমন সুন্দর গান রেখে কিছু খেতে ইচ্ছে করে না।”

রাজিবসাহেবের কথায় সেহেলী ঝালমুড়ির পাত্রটা ঢেকে রাখলেন।

এখন পাভেল ও তার মা-ও নীরবে গান শুনতে লাগলো। ওদের মনপ্রাণও বলছে: আমার হৃদয় রেখে যেতে চায় তাদের স্মৃতির চরণে।...

রাজিবসাহেব গান শোনার ফাঁকে-ফাঁকে ওদের দুজনের আচরণ দেখে খুব সন্তুষ্ট হলেন। তার চোখে জল চলে এলো। দেশপ্রেমিক মানুষদের সুন্দর আচরণ দেখলে সবসময় অতিআনন্দে রাজিবসাহেবের চোখে জল চলে আসে।

সুরের মূর্ছনায় অমর একুশের ভাষাশহীদদের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসায় রাজিবসাহেবের দুচোখ বেয়ে   টপ টপ করে জলধারা নামতে লাগলো। আর তা দেখে চৈতীর চোখেও জল চলে এলো।

 

সাইয়িদ রফিকুল হক

মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

১২/০২/২০১৮

  

ছবি
সেকশনঃ গল্প
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক১ তারিখঃ 11/03/2019 10:44 PM
সর্বমোট 514 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ