ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

রামাদান

কয়েক দিন পূর্বে আমার ফেসবুকের একটি পোষ্টে, পবিত্র খ্যাত রমজানের মাসের আমাদের সমাজের কিছু বাস্তব চিত্র আর চরম সত্য কথাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। যারা এই মাসে সংযমকে অসংযম আর পবিত্রকে অপবিত্র করে বেড়ায় তাদের যৎসামান্য অসৎ ক্রিয়াকর্মের কথা বলতে চেয়েছি। অনেকেই নিজেকে খাঁটি মুসলিম এবং আগাগোড়া ধার্মিক বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে অথচ রমজান মাসে সমস্ত ধর্মবোধের মাথা খেয়ে অসৎ উপায়ে রোজগার করতে একটুও নৈতিকতায় বাঁধে না। ধর্মকে খোঁচা মারার উদ্দেশ্যে এই পোষ্ট ছিল না। তথাকথিত ধার্মিকেরা, যারা ধর্মের নাম বেচে সদা অধর্ম করে বেড়ায়। যারা ধর্মের কিছু উৎসাহ সুচক ব্যাখ্যা গুলোকে তাদের অপরাধ ঢাকার ঢাল আর নিজের কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার কাজে ব্যাবহার করে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল। এই পোষ্টে শুধুমাত্র রমজান মাসের দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কথাই বলা হয়নি, বলা হয়েছিল পরিমিত আহার, দুর্নীতি, আর উগ্রমেজাজ পরিহার ও আত্মসংযমের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ মানবীয় দোষগুনের কথা। দুঃখের বিষয়, আমার কিছু সুহ্নিদ ফেসবুক বন্ধুরা সেই প্রয়োজনীয় প্রসংগ ও বাস্তবিক দিক গুলোকে তাদের গোচরে না এনে, ধর্মামানুভূতির দিকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছেন কেন? তা আমার বোধগম্য নয়। পহেলা বৈশাখের প্রসঙ্গও কমেন্টে এসেছে যে কেন পহেলা বৈশাখের দিন ইলিশের দাম বাড়লে কোন পোষ্ট আসে না। বাংলা সালের প্রথমদিন হলো পহেলা বৈশাখ। বাঙালী জাতির সার্বজনীন জাতীয় উৎসব এটি। অন্যদিকে রমজান হলো তাবত দুনিয়ার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের আত্মসংযম সাধনার মাস। বাংলা বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক উৎসব আর ধর্মীয় সংযম সাধনা এক বিষয় নয়। তাছাড়া পহেলা বৈশাখের উৎসবের স্থায়ীত্ব একদিন। পক্ষান্তরে রমজানের সংযম সাধনা চলে পুরো মাস জুড়ে। বছরে একদিনের জন্য এক ইলিশের আর এক পাঞ্জাবীর উর্ধমূল্য সওয়া যায় কিন্তু পুরো মাস জুড়ে সব ধরনের নিত্যপন্যের আকাশচুম্বী দাম সহ্য করা যে কত কষ্টের, তা আমাদের মত সল্প আয়ের মানুষেরা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পায়। আমাদের দেশের জনগনের নব্বই শতাংশ মুসলমান, এ কথা গর্ব করে বলি, এখানে ব্যবসায়ীদের শতকরা হারও নব্বইভাগই হওয়ার কথা আর এই নব্বই ভাগের সবাই কি দুর্নীতিগ্রস্থ? না হলে কেন এই নব্বই শতাংশের দেশে, সওয়াব হাসিলের মাসে, বাজারে চাহিদানুযায়ী পন্যের প্রচুর যোগান থাকা সত্তেও, নিত্যপন্যের দাম কেন বাড়বে? বাজার ব্যাবস্থার সুত্রতেও তা পড়ে না। আপনারা দেশের বাজারে এসে দেখে যান, এমন কোন পন্য পাবেন না, যার যোগান বাজারে নেই। চাহিদানুযায়ী সব নিত্যপন্য বাজার ঠাঁসা তবুও এই মাসে সব পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ কি? ধর্মকে এরা অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে ব্যাবহার করে! অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা করার মানসিকতাই এর জন্য দায়ী , যাদের আপাদমস্তক ধার্মিকতার আবরণে ঢাকা কিন্তু অন্তর কুলষিত, তারা প্রকৃত ধার্মিক নয় আমি সেই কথাই বলার চেষ্টা করেছি। যারা নিজেদের প্রকৃত ধার্মিক মানেন তারাও ধর্মের ফতোয়া নিয়ে অপরাধ করতে পিছপা হয়না। যারা ধর্ম মানে না তাদের বিষয়েও আমার কোন এলার্জি নাই কিন্তু ভণ্ডামি, অন্যায়, বৈষম্য, অযৌক্তিকতা, অসমতা, অমানবিকতার বিপক্ষে আমি।

ছবি
সেকশনঃ সাম্প্রতিক বিষয়
লিখেছেনঃ সহজ কথা রিটার্ন তারিখঃ 27/05/2018 10:07 PM
সর্বমোট 199 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ