ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ছোটগল্প: সৌরভের হাতে ফুল ছিল



















ছোটগল্প:

সৌরভের হাতে ফুল ছিল
সাইয়িদ রফিকুল হক

 
সৌরভ সেই কখন থেকে তরতাজা একুশটি গোলাপ হাতে চন্দ্রিমা-উদ্যানের লেকের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার আসার কথা ছিল বিকাল চারটায়। কিন্তু সে এসেছে তিনটায়। একঘণ্টা আগে এসেও তার খুব-একটা খারাপ লাগছে না। আজ মিথিলার আসবার কথা আছে। তাই, সে আগেভাগে এখানে চলে এসেছে। সে প্রায়শঃ এরকম করে থাকে। মিথিলার সঙ্গে দেখা করার জন্য সবসময় সে কেবলই ছটফট করে।
আজও সে বাসায় বসে থাকতে পারেনি। একঘণ্টা আগে ছুটে এসেছে। তাদের জন্য আজকের এই জায়গাটা মিথিলাই পছন্দ করেছে। কারণ, আজ ওর জন্মদিন। আর মিথিলাই গতকাল ফোন করে সৌরভকে ঠিক চারটায় এখানে আসতে বলেছিলো। সৌরভ মিথিলার কথা অক্ষরে-অক্ষরে পালন করার জন্য দুপুরের খাবারটা কোনোরকমে শেষ করে মিরপুর চৌদ্দো-নাম্বার থেকে এখানে ছুটে আসতে বাধ্য হয়েছে।
 
একঘণ্টা পার করতে সৌরভের খুব-একটা কষ্ট হয়নি। এখন মাত্র চারটা বাজে। আর এখনইতো মিথিলার আসবার কথা। আর এখনই সে আসবে, আসবে, বলে মনে-মনে সে একটা সত্যআবিষ্কারের চেষ্টা করতে থাকে। মাঝে-মাঝে এইরকম করতে তার খুব ভালো লাগে।
সে পকেট থেকে মোবাইল-ফোনটা বের করে গান শুনতে থাকে। তবুও একটুখানি টেনশনমুক্ত হওয়া যাবে। ওর প্রায়ই এরকম হয়ে থাকে। মিথিলার কখনওসখনও আসতে দেরি হলে সে কেবলই ছটফট করতে থাকে। এই জটিল অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় সে তার প্রিয়গানগুলো একবার করে শোনার চেষ্টা করতে থাকে। আর মাঝে-মাঝে চারদিকটা তাকিয়ে দেখতে থাকে। মিথিলা কোনোদিক দিয়ে আসছে কিনা।
 
সে কখন থেকে দাঁড়িয়েই আছে। দুই ঘণ্টা পার হওয়ার পর সে এবার বসার জন্য একটা জায়গা খুঁজতে লাগলো। আর সে লেকের পাকা-বাঁধানো রেলিংয়ের উপর বসলো। আসলে, সে বসতো না। কিন্তু এতোক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় তার পা-দুটো এবার একটু বিশ্রাম চাচ্ছে।
দুইঘণ্টা পার হওয়ার পর এবার সৌরভের টেনশন বেড়ে গেল। আর সে কিছুক্ষণ পর-পর তার পকেট থেকে মোবাইল-ফোনটা বের করে সময় দেখতে লাগলো। আর তার কেবলই মনে হতে লাগলো: মিথিলা আসছে না কেন? মিথিলা কখন আসবে? আজ সে এতো দেরি করছে কেন?
তাকে এখন একটু অস্থির লাগছে। আর বেশ অস্থিরভাব-সৃষ্টি হচ্ছে তার মধ্যে। সে এখন নিজেকে কিছুতেই আর স্বাভাবিক রাখতে পারছে না।
সে উঠে পায়চারী করতে থাকে। আর আপনমনে ভাবতে থাকে: মিথিলা আসছে না কেন? আজ তো ওর আরও আগে আসার কথা। আর আজই সে দেরি করছে! তার কী হয়েছে? রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয়নি তো! অজানা একটা আশংকায় ডুবতে থাকে সৌরভ।
আজ মিথিলার একুশতম জন্মদিন। সে কি সে-কথা ভুলে গেল নাকি! দারুণ একটা শংকায় তার দেহমন সংকুচিত হতে থাকে। সে যে মিথিলাকে একটু ফোন করবে, তারও অবস্থা নেই। কারণ, মিথিলা তাকে যখন-তখন ফোন করতে নিষেধ করেছে।
পাঁচটা বাজবার পর সৌরভের আর-কিছুই ভালো লাগছে না। আর সময় যতো গড়াচ্ছে তার দেহমনের  ছটফটানি-ভাবটা ততোই বাড়ছে। সে নিজেকে আর সুস্থির রাখতে না-পেরে একসময় মিথিলার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু কয়েকবার চেষ্টা করার পর সে বুঝলো: ওর মোবাইল-ফোনটা হয়তো বন্ধ কিংবা ওটা কারও হাতে পড়েছে। হঠাৎ দুশ্চিন্তার কালোমেঘে ঢেকে যায় সৌরভের ভাগ্যাকাশ।
সে আরও ঘাবড়ে যায়। আজ মিথিলার জন্মদিন! ভেবেছিলো, তারা কতো আনন্দ করবে। কিন্তু হঠাৎ এ-কী হলো? সৌরভের চোখে জল না এলেও বুকের ভিতরে যেন কান্নার সমুদ্র ভয়ানকভাবে তর্জনগর্জন করছিলো।
 
সে একেবারে ভেঙ্গে পড়ে। এখন তার পাশে এমন কেউই নেই যে তাকে একটুখানি সান্ত্বনা দিবে।
শীতকালের দিন। বিকালের আগেই যেন সন্ধ্যা হয়। আর এসব দেখে তার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। রাত হয়ে গেলে মিথিলা আর-তো আসতে পারবে না। কিন্তু সে এখন কাকে কী বলবে? মিথিলার ফোনটাও বন্ধ!
 
একসময় তার গুরুজীর কথা মনে পড়ে। তার গুরুজী অধ্যাপক লিটু মিয়া একজন আধ্যাত্মিক-মানুষ। সৌরভ মাঝে-মাঝে তার কাছে যাতায়াত করে। তাঁর উপদেশগুলো সৌরভের খুব ভালো লাগে।
সৌরভের গুরুজী বলেছেন, “তুমি যে-কাউকে ভালোবাসতে পারো। এতে দোষের কিছু নাই। তবে জীবনে একজনকে ভালোবাসবে। আর যাকে ভালোবাসবে তাকে কখনও বিয়ের আগে স্পর্শ করবে না।”
সৌরভ তার গুরুজীর কথা সবসময় পালন করেছে। সে তাদের এগারো-মাসের প্রেম-জীবনে মাত্র আট থেকে দশবার মিথিলার হাত ধরেছে। আর কিছু নয়। তবুও সৌরভ ভেবে পায় না, আজ কেন মিথিলা এলো না!
 
সৌরভ মফস্বলের ছেলে। সে ঢাকায় এসেছে পড়তে। এখানকার একটা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সে পড়ছে। তার পড়ালেখা এখনও শেষ হয়নি। সামনে তার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। সে ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। আর মিথিলা ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.বি.এ. পড়ছে। আর সে এবারই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে।
তাদের পরিচয়টা খুব হঠাৎ করে। একটা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয় হয়। আর মিথিলাদের বাসাও তাদের বাসার কাছেই। আর ওদের নিজেদের বাড়ি। আর সৌরভ থাকে একটা মেসে। তবুও সেটা বাসা। আর সব জেনেশুনেই তো মিথিলা ভালোবেসেছিলো সৌরভকে।
 
সন্ধ্যার একটু আগে সৌরভ তার গুরুজীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলো। সে আজ আর কোনো-কথা গোপন না করে সব তার গুরুজীর কাছে অকপটে খুলে বললো। আর সব শুনে তার গুরুজী শুধু বললেন, “তুমি ফুল হাতে ওদের বাসায় যাও। তোমার টেনশন আজ থেকে কমবে।”
সৌরভ আর কালবিলম্ব না করে লেকের পাশ থেকে দ্রুত সরে এলো। আর সে তাড়াতাড়ি একটা গাড়িও পেয়ে গেল। গাড়িতে দাঁড়িয়ে সে ভাবতে লাগলো: আজ গুরুজী তাকে হঠাৎ ওদের বাসায় যেতে বললো কেন? নিশ্চয় কিছু-একটা ঘটতে পারে। গুরুজী হয়তো জানেন। তাই, তাকে ওদের বাসায় যেতে বলেছেন।  আর তাও তাকে ফুল হাতে! সে আদেশপালন করতে প্রস্তুত হয়। পারলে সে গাড়ি থেকে নেমে এখনই ওদের বাসায় যায় আরকি! তার বুকের ভিতরে এখন একটা মারাত্মক-যন্ত্রণাভাব।
সৌরভ এই এগারো-মাসে একদিনের জন্যও ওদের বাসায় যায়নি। কিন্তু আজ গুরুজীর আদেশ। সে যাবেই। আর যা হয় হোক।
সে মিথিলাদের বাসা চেনে। মিথিলা অনেক আগেই তাকে বাসাটা চিনিয়ে দিয়েছিলো। সে মিথিলাকে ভালোবাসতে-বাসতে এখন তাদের বাড়িটাকেও ভালোবাসে। এরই নাম বুঝি ভালোবাসা!
 
বাস থেকে নেমে তাড়াতাড়ি হেঁটে সৌরভ মিথিলাদের বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো। আর সে দেখলো, বিল্ডিংয়ের দারোয়ান এখন সম্ভবতঃ বাইরে কিংবা উপরে আছে। এই সুযোগে গেটটা খোলা পেয়ে সৌরভ দ্রুত ভিতরে ঢুকে তিনতলায় চলে এলো। আর সে দেখলো, মিথিলাদের বাসার দরজাটা খোলা রয়েছে। ভিতরে অনেক মানুষ। আর প্রায় সবাই ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ বলছে, আর কী-সব বলে ভীষণ শোরগোল করছে।
সে সাহস নিয়ে সদর-দরজার সামনে দাঁড়াতেই একটা স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তাকে দেখতে পেয়ে বললো, “আপনি? কাকে চাচ্ছেন?”
এবার সৌরভ বুকে সাহস-সঞ্চয় করে বললো, “আমি মিথিলার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই। দেখা করা যাবে কি? আমি ওর বন্ধু!”
মেয়েটি বললো, “আপনি এখানে দাঁড়ান, আমি খালুকে ডেকে আনছি।”
তার আগেই ওদের কথাবার্তা শুনে একজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক সৌরভের সামনে এগিয়ে এসে বললেন, “তুমি? তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারছি না, বাবা!”
সৌরভ এবার শুধু বললো, “আমি মিথিলার বন্ধু!”
এতে ভদ্রলোক ওর আরও কাছে এগিয়ে এসে বললেন, “এসো, এসো, অসুবিধা কী? তুমি আমাদের মিথিলার বন্ধু! আর এতে লজ্জারই বা কী? তোমরা আজকালকার ছেলে-মেয়ে! আর তোমরা-তো একটুআধটু রোম্যান্টিক হবেই। এসো, এসো, ভিতরে এসো বাবা।”
তারপর তিনি একটু থেমে সৌরভের দিকে চেয়ে হেসে বললেন, “আমি ওর বাবা।”
কথাটা শোনামাত্র সৌরভ তাকে ভক্তিসহকারে সালাম দিলো।
সৌরভ এখন ভাবলো: ভাগ্যিস তার হাতে আজ ফুল ছিল। আর ফুল-হাতে তাকে এখন একজন মেহমানই মনে হচ্ছে। তাইতে সে রক্ষা পেলো। নইলে, খালি হাতে এলে আজ তাকে ভীষণ অপ্রস্তুত হতে হতো।
 
সৌরভ ধীরপদে মিথিলার বাবার সঙ্গে ওদের ড্রইংরুমে এসে অবাক হলো। এ যেন বিয়ের আয়োজন!
সে দেখলো, মিথিলা ভীষণ সেজেগুজে সোফায় বসে আছে। আজ ও-কে কী-যে সুন্দর লাগছে! কিন্তু ওর পাশে বসে আছে আরও একজন মানুষ! তাকে যেন কেমন লাগছে! কে সে? একটা প্রশ্ন আচমকা সৌরভের বুকের ভিতর নতুনচরের মতো জেগে ওঠে। তবুও সে তাল-সামলাতে চেষ্টা করে।
 
প্রায় ঘরভর্তি মানুষ। এর মধ্যে মিথিলার বাবা সবাইকে বলে-কয়ে একটুখানি জায়গা করে নিয়ে বললেন, “এই মিথিলা, দেখো, তোমার একজন বন্ধু এসেছে। তোমার জন্মদিনের উইশ করতে!
এবার মিথিলা সৌরভকে দেখতে পেলো। আজ-এখন-এইমুহূর্তে প্রথমবার। আর এতেই হঠাৎ তার মুখটা যেন কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেল। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ঘরের মতো অবস্থা যেন তার।
আর তখনও কোনোকিছু পুরাপুরি বুঝতে না পেরে একরকম হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে সৌরভ। সে তার হাতের ফুলগুলো এই পরিস্থিতিতে কিছুতেই মিথিলাকে দিতে চাচ্ছে না। কিন্তু সে ফুলগুলো কোথাও লুকাতে পারলো না। আর সে কিন্তু তার সবকিছু এখন লুকাতে চাচ্ছে। তবুও সে কিছুতেই সে-সব লুকাতে পারলো না। আর তবুও তাকে মিথিলাকে ফুলগুলো দিতে হলো। আর তাই, সৌরভ কাঁপা-কাঁপা হাতে সবার সামনে ফুলগুলো মিথিলার হাতে তুলে দিতে-দিতে বললো, “হ্যাপি বার্থ ডে, ডিয়ার ফ্রেন্ড!”
মিথিলা এবার একটু জোর করে হাসার চেষ্টা করলো। আর এই হাসি যে সম্পূর্ণ লোকদেখানো-ছলনামাত্র। তা এইমুহূর্তে বুঝতে সৌরভের একটুও অসুবিধা হলো না।
আর তখনই মিথিলার বাবা সৌরভের দিকে চেয়ে বললেন, “বুঝলে বাবা, আজ তোমার বন্ধুর দুটো শুভদিন। একটা হলো জন্মদিন। আরেকটা হলো ওর আজকের এনগেজমেন্টের শুভদিন। তাই, তোমার বন্ধুকে তুমি  আরেকবার উইশ করতে পারো। আজ ওর আরেকটা আনন্দের দিন। তুমি আসার একটু আগে ওর এনগেজমেন্ট হয়েছে। তুমি আরেকটু আগে আসতে!”
তিনি একটু থেমে মিথিলার পাশের ছেলেটিকে দেখিয়ে বললেন, “ওই যে পাশে বসে আছে ছেলেটা, ওর সঙ্গে। ওর নাম শিহাব। ও জার্মানীতে থাকে। সামনের মাসে বিয়ের পরে ওরা জার্মানীতে চলে যাবে।”
সৌরভ এখন একেবারে বিধ্বস্ত! তবুও সে টিকে থাকার চেষ্টা করে। হাজার হলেও সে তো নবাব সিরাউদ্দৌলার উত্তরপুরুষ! ষড়যন্ত্র যতোই হোক, তবুও শেষচেষ্টা করতে হবে। তাই, সে এখনই ভেঙ্গে না পড়ে তার মুখের স্বাভাবিকভাব বজায় রেখে শিহাবের উদ্দেশ্যে বললো, “হ্যালো, আমি সৌরভ। মিথিলার ছোটোখাটো একজন বন্ধু।”
ওর কথা শুনে শিহাব হেসে বললো, “আপনি আরও আগে আসতেন! বেশ গল্প করা যেতো।”
সৌরভ আর-কিছু না বলে শুধু একটু হাসলো।
 
এরপর মিথিলার বাবা তাকে অনেককিছু খাওয়াবার জন্য বেশ আদর করতে লাগলো। কিন্তু সে কিছুতেই কোনোকিছু খেলো না। কয়েকটি অজুহাত দেখিয়ে বেঁচে গেল। তারপর সে মিথিলার বাবাকে একটা জরুরি কাজের কথা বলে যেন একলাফে তিনতলা থেকে নিচে নেমে এলো।
এখন সৌরভ রাস্তায় হাঁটতে-হাঁটতে ভাবছে: মানুষ এতো ছদ্মবেশী হতে পারে? এতো খারাপ হতে পারে? এতো খারাপ? এতো? এতো? এতো?...
কিছুক্ষণ পরে তার মনে হলো: এরচেয়ে ইতিহাসের ঘসেটি বেগমও ভালো। এরচেয়ে সিনেমার খলনায়িকারাও ভালো। এরচেয়ে জগতের সবাই ভালো।
 
সৌরভের হাতের ফুলগুলো মানুষের হাতে পড়েনি। তা-ই ভেবে-ভেবে তার এখন খুব আফসোস হতে লাগলো। আসলে, সে মনে-মনে খুব আফসোস করছে। সবকিছু জেনে সে মিথিলাকে ফুলগুলো দিতে চায়নি। ওর বাবার কথায় ভ্যাবাচাকা খেয়ে সৌরভ ওর হাতে ফুল দিয়ে ফেলেছে। তা-না-হলে সে কিছুতেই তার ভালোবাসার ফুলগুলো একজন ঘসেটি বেগমের হাতে তুলে দিতো না।
 
তার এখনও মনে হচ্ছে, ফুলগুলো এখনও তার হাতেই রয়েছে। সে কাউকে ওই ফুল দেয়নি। সেই সকাল থেকে সে কতো ভালোবেসে ফুলগুলো সযত্নে হাতে করে রেখেছিলো। ভালোবাসার ফুলগুলো সে ভালোবাসার মানুষকেই দিতে চেয়েছিলো। তার আরও মনে হচ্ছে, সে যেন ফুলগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে এসেছে।
সে বড় রাস্তায় এসে হাঁটতে-হাঁটতে একজায়গায় একটু থমকে দাঁড়ালো, আর তখনই আপনমনে ভাবলো: এতোদিন তার মাথায় একটা টিউমার ছিল। আজ সেটা নিজের থেকে পচে-গলে ছিন্নভিন্ন হয়ে চিরতরে তার মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। এখন সে টেনশনমুক্ত। সত্যি, তার গুরুজী ঠিকই বলেছেন, আজই সে টেনশনমুক্ত হলো। আর আজই সে কালনাগিনীর ছোবল খেয়েও বেঁচে গেল!
 
না, সৌরভ কাঁদতে চায়নি। তবুও তার চোখ দুটো কখন যে একটু-একটু করে জলে ভরে উঠেছে, তা সে টের পায়নি। মেসে ফেরার পর এক-বন্ধু তাকে দেখেশুনে বললো, “কিরে, তোর চোখমুখ অমন দেখাচ্ছে কেন? বাড়ি থেকে কোনো দুঃসংবাদ এসেছে? নাকি খুব কেঁদেছিস?”
সৌরভ শুধু ম্লান হেসে বললো, “না, তেমন-কিছু না। বিষাক্ত-ফুলের একটা পাঁপড়ি পড়েছিলো আমার চোখে! এখন তা ফেলে দিয়েছি।”


 
 
সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
 

ছবি
সেকশনঃ গল্প
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক তারিখঃ 04/01/2018 10:10 PM
সর্বমোট 2020 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ