ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

।। জিপসি রুদ্র'র একদিন ।।

জ্বরের কারণে মুখে যা দিই তাই তিতা লাগে। মনে হইতাছে আইজ সকাল থেকে যা খাইছি তার সবগুলার সাথে তিতা করলার রস মিশাই দিছে।

সকালে ঘুম থেকে উইঠা দুই ঢুক পানি খাইছি। মনে অইছে এ পানি নয় তিতা করলা চিবাই রস আমার পানির বোতলে ভইরা রাইখছে। 

দুই তিন মিনিট যাইতে না যাইতে পেট গুলাইয়া খলখল কইরা বমি। ভাগ্যিস বাথরুম আমার রুমের লগে এটাষ্ট। নইলে মনে অয় আইজ সকালে ঘর ভাসাইয়া দিতাম। অবাজি কি কষ্ট! মনে অইছে জান বাইর অইগেছে! 

বাথরুমে বইসা দাঁত ব্রাশ কইরা খাবার টেবিলে আইলাম। উদ্দেশ্য গরম গরম অল্প ভাত ইলিশ মাছের ঝোল দিয়া খাবো। বইন খুব সকালে উইঠা ভাইয়ের জন্য ভাত রান্না কইরা রাইখছে। কারণ বইন জানে গতকাল রাইতে তার একমাত্র ভাইটি জ্বরের জন্য ভাত খাইতে পারে নাই। তাই সকালে গরম অল্প ভাত খাইয়া ওষুধ খাইতে পারলে ফায়দা হইবে কিছুটা! 

কিন্তু টেবিলে বইসা ধোঁয়া উঠা ভাতের প্লেইট এবং ইলিশ মাছের পাতিল দেইখা মনে অইলো তিতা করলা রস আছে এইসবে। খাইলেই বমি অইবে। বইনরে কইলাম, ভাত খাইতে ইচ্ছা করতাছে না। এক কাপ চা বানা চিনি বেশি দিয়া। দেখি মুড়ি দিয়া খাওয়া যায় কি না! 

চা বানানোর মধ্যখানে আমি কিছু মুড়ি চিবাইলাম । তার কিছুক্ষনের মধ্যে চা দিয়া গেলো । চা'র সাথে মুডি ভিজাইয়া খাইলাম অল্প । তারপর একটা নাপা এক্সট্রা খাইয়া বের হইলাম কোর্টের উদ্দেশ্যে । 

আইজ আমার হাজিরার দিন ধার্য্য ছিলো । উল্লেখ্য , আমি গত জুন মাসের ১৪ তারিখ একজন একাত্তরের ঘাতক দালাল রাজাকার যুদ্ধাপরাধী , তার মেয়ে জামাত শিবিরের ছাত্রীসংস্থার একজন নারী নেত্রী যে এখন মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং জামাত থেকে আমদানিকৃত একজন বর্তমান আওয়ামীলীগ এমপির বিরুদ্ধে লেখার অভিযোগে ৫৭ (২) ধারায় গ্রেফতার হইছিলাম । দীর্ঘ আড়াইমাস বিনা দোষে কারাগারে অন্তরীন থাইকা আগষ্ট মাসের ৩১ তারিখ মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাই । আইজ ছিলো তার প্রথম হাজিরা । 

ঘর থেকে অসুস্থ শরীর নিয়া বাইর হইয়া মাথা চক্কর দিয়া উঠলো । মনে অইতাছে আসমান থ্যাইকা আগুন ঝইরা পড়তাছে । যা গরম মনে অইতাছে ছামড়া পুইড়া যাইতাছে । সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোর্টে ছিলাম । হাজিরা হইছে সাড়ে এগারোটার দিকে । সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত এই সময় উকিলের লগে রাজনৈতিক গাল গল্প এবং তর্কাতর্কি করলাম । উকিল বেশ স্মার্ট । বিএনপি করে । একটা জেলার প্রচার সম্পাদক । তবে আমার লগে যুক্তি তর্ক দিয়া মনে অইলো আমার প্রতি তিনি অনুরক্ত হইলো । কইলো, আপনার মতো এই রকম চেতনা এবং আদর্শিক আওয়ামীলীগ আমি আর দ্বিতীয়টা দেখি নাই । আপনারে আমি সর্বাত্মক সহোযগিতা করবো মামলা নিয়া । ভয় পাইয়েন না , এই মামলায় আপনার কিছুই হবে না । এইসব মামলা গুলা আসলে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানি করার জন্যে দেয় । উকিলরে ধন্যবাদ দিয়া যখন রাস্তায় বাইর অইলাম তখন দেখি গরমের পরিমান আরো বাড়ছে । 

একদিকে ক্ষুধার্ত পেট তার উপর জ্বর, এই অবস্থায় হাঁইটা আইলাম নিউ মার্কেট মোড় । আইসা প্রেমিকার ছবি'র ব্যাকগ্রাউন্ড কালার চেঞ্চ কইরা তারে মেইল করলাম । তারপর জামাল খান আইসা এইচএসবিসি'র বুথ থেইকা টাকা উঠাইয়া বাতিঘরে গিয়া কিছুক্ষন ঠান্ডা হইলাম । তারপর সোজা বাসা । 

বাসায় আইসা যখন বাথরুমে মুততে গেলাম দেখি পুরা হলুদ । শুধু হলুদ না গাঁড় হলুদ । বুঝতে পারছি , আগের জন্ডিস আবারো ডিষ্টার্ব মারতাছে । গরমে আর বাইর হওয়া যাইবে না কোথাও । কমপ্লিট বেড রেষ্ট । অল্প কইরা ভাত খাইয়া আরেকটা নাপা এক্সট্রা খাই শুইয়া পড়লাম । ঘড়ি দেখি বরাবর দুইটা । শরীর কাহিল তার উপর ভরা জ্বর শুইতেই চোখ বন্ধ হইয়া আইলো । 

কানের কাছে মোবাইল বাজতাছে । বিরক্তি কারে কয় । ফোন স্ক্রিনে বাপ্পী আলমগীরের নাম ভাসতাছে । সে আমারে একটা গল্প দিছে প্রায় দুই সাপ্তাহ আগে । এই গল্পরে স্ক্রিপ্ট কইরা দিতে হইবে । বাপ্পি আলমগীর ডিরেকশন দিবে । কিন্তু আমি ঢাকা চিটাগাং দৌড়াইতে দৌড়াইতে অর্ধেকে আটকাইয়া রইছি । আইজ বিকাল পাঁচটায় বিস্তারে মিটিং কল করছে বাপ্পি আলমগীর এবং গল্পকার । ঐখানে আমারে যাইতে হবে কারণ গল্পকার গল্প চেঞ্চ করছে । আর আমার স্ক্রিপ্ট শেষ না করার আগে তা জানতে হবে । 

পাঁচটায় বাসা থেকে বাইর হইয়া সাড়ে পাঁচটায় বিস্তারে গেলাম । গল্প বুইঝা লইয়া যখন বাইর অইতাছি তখনই শুরু অইলো কাপুনি দিয়া ভয়াবহ জ্বর । বাপ্পিরে কইলাম , বাপ্পি এই অবস্থায় আমার একা যাওয়া সম্ভব না । তুমি তোমার বাইকে করে আমারে দেওয়ানহাট পর্যন্ত আগাইয়া দিয়া আসো তারপর আমি রিকশা একটা নিয়া বাসায় চইলা যাবো । আর গল্পকাররে কইবা আমারে যেনো সময় দে । কারণ এই অবস্থায় স্ক্রিপ্ট লেখা যাইবে না । 

বাপ্পি আমারে দেওয়ানহাট পর্যন্ত আগাইয়া দিলো । আর আমি রিকশা লইয়া বাসায় আইসা বইনরে কইলাম , বইন আমার জন্যে রাইতে কাঁচা মরিচ ভর্তা করবি আর বেশি করে রসুন দিয়া শাক রান্না করবি এবং একটা ডিমপোচ করবি যেনো ডিমের লালি (কুসুম) একেবারেই টলটলা থাকে । আর এখন লেবু আর চিনি বেশি দিয়া একগ্লাস শরবত বানাইয়া দেয় । আমি অল্প খাইয়া দেখি আরাম লাগে কি না ! 

বইন আমারে লেবুর শরবত বানাইয়া দিলো । এবং খাইয়া আমার বেশ আরাম লাগলো । আর আমি এখন বিছনায় আধশোয়া হইয়া ল্যাপটপে "জিপসি রুদ্র'র একদিন" লিখলাম । আর আপনারা সেটি এখন পড়ছেন ।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ জিপসি রুদ্র তারিখঃ 10/10/2017 08:38 PM
সর্বমোট 209 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ