ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম


        

আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিরপ্রয়াণ দিবস। বাঙ্গালী জাতির জন্য খুবই বিষাদময় একটি দিন। পৃথিবীর মরণশীল নিয়মে সবাই একদিন এই নশ্বর পৃথিবী ছেলে চলে যায়। বঙ্গবন্ধুকেও একদিন সে নিয়মে চলে যেতে হতো। কিন্তু যেভাবে তাঁকে চলে যেতে হয়েছে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

স্বাধীনতা বিরোধী যে ঘৃণ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই মহান নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল তা শুধু একজন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে নিঃশেষ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, আজও সীমাবদ্ধ নেই। খুনিদের দীর্ঘমেয়াদী চক্রান্ত ছিল আরও অনেক গভীর। তাদের সেই চক্রান্ত আজও থেমে নেই। নানাভাবে তারা তৎপর আছে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে কিন্তু এর পিছনের মাস্টারমাইন্ডার সবাই বিচারের আওতায় এসেছে বলে মনে হয় না। আমার ব্যক্তিগত এনালাইসিস আমাকে অন্তত সেরকমই ধারণা দেয়। বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ পরবর্তী তাঁর প্রকাশ্য খুনিদেরকে যারা পুরস্কৃত করেছিল সঙ্গত কারণেই আমরা তাদেরকে ঘৃণা করি। কিন্তু অন্তরালে থাকা মাষ্টারমাইন্ডারদের অনেকে যে আওয়ামী লীগের সময়েও পুরস্কৃত হচ্ছে না সে বিষয়ে কি আমরা নিশ্চিত? এ বিষয়টিকে আমরা কীভাবে দেখছি? এ বিষয়ে মাঝে মাঝে গুঞ্জন ওঠে আবার তা থেমে যায়! কেন? তার মানে সেই অপশক্তিটি এ বিষয়টিকে ধামাচাপা দেবার মতো ক্ষমতা রাখে এবং তেমন শক্তিশালী অবস্থানেই তারা দিব্যি আছে।

আজ পনেরোই আগস্ট। সারাদেশব্যাপি শোক-প্রকাশ ও শোক-প্রচারের কাফেলা চলছে। ন্যায়নীতিহীন মানুষগুলোকেও দেখা যাচ্ছে এই কাফেলার সম্মুখভাগে। খুব অন্যায়কারী ব্যক্তি অন্যের মৃত্যুতে খুব একটা শোকার্ত হয়, এটা বিশ্বাস করার মতো বিষয় নয়। তাদের অন্যায়ের কারণে প্রতিনিয়তই মানুষের ক্ষতি হচ্ছে, মানুষ কাঁদছে- সেটা দেখে তারা যখন শোক পায় না, তখন একজন নেতার প্রয়াণে কেন তারা প্রকৃতই শোকার্ত হবেন? এটা আসলেই হয় না।

শোক প্রকাশের দরকার আছে কিন্তু সেইসাথে দরকার বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠিত করা। চারিদিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সেঁটে, ব্যানার টাঙ্গিয়ে, শোভাযাত্রা করে, কাঙ্গালি ভোজ করিয়ে আত্মপ্রচারণামূলক কাজ করলেই বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো করার উদ্দেশ্য মানুষের কাছে জলের মতো পরিষ্কার। বঙ্গবন্ধু এই দেশের জন্য কি করতে চেয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করার মধ্যেই নিহিত আছে বাঙ্গালীর হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী প্রতিষ্ঠা।

বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠার প্রদর্শনী করে বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা থেকে খানিকটা সরে এসে বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করলে এ বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধুকে অন্তরে ধারণ না করে, আত্মস্বার্থে এমন প্রদর্শনীর আয়োজন দেখে সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুপ্রেমী মানুষগুলি বরং কষ্টই পায়, সাধারণ মানুষজনও এতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়।

বঙ্গবন্ধু কি চেয়েছিলেন সে বিষয়ে আমি বঙ্গবন্ধুর মাত্র কয়েকটি উক্তি তুলে ধরছি-

১. অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোনদিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশ সেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।

২. সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমস্ত সরকারী কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন।

৩. বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী।

৪. আমাদের চাষিরা হল সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণি, তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।

৫. এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণি আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।

৬. ভুলে যেয়ো না, স্বাধীনতা পেয়েছো এক রকম শত্রুর সাথে লড়াই করে। তখন আমরা জানতাম আমাদের এক নম্বর শত্রু পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও শোষকগোষ্ঠী। কিন্তু, এখন শত্রুকে চেনাই কষ্টকর।

৭. সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।

৮. মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে। আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি। সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।

৯. এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।

১০. দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।

ছবি
সেকশনঃ রাজনৈতিক
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 15/08/2017 02:17 PM
সর্বমোট 1299 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ