ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

গার্মেন্টস শিল্পে তুল-কালাম, গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা!


প্রশ্ন জাগে, বিভিন্ন সময়ে যারা গার্মেন্টস শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের দাবী-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দেয়  তারা কারা? রাষ্ট্রের কাছে, মানুষের কাছে এরা অপরিচিত কেউ নয়, সবাই চিহ্নিত মুখ। সবাই জানে এরা কেউ শ্রমিক নয়, কখনও ছিলও না।
 
কে না জানে, এরা সেই চিহ্নিত গোষ্ঠী যারা সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনের নামে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করে দেশকে অশান্ত করতে চায়। এদের অনেক কর্মী-সমর্থক আছে তারা জানেও না যে, এদের মূল চালিকাশক্তির ব্যক্তিগুলি আসলে অন্যের হয়ে কাজ করছে।    

এসব লোকজন ইতিপূর্বেও আন্দোলনের নামে গার্মেন্টস শিল্পে চরম অরাজকতা, ভীতিকর পরিস্থিতি ও অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। সে জন্য দেশকে দিতে হয়েছে চরম মূল্য। যে শ্রমিকদের জন্য করা হয়েছে আন্দোলন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারাও। আন্দোলনের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যে শ্রমিক অধিকারটুকু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার জন্য এমন চরম মূল্য দেবার কোনই প্রয়োজন ছিল না। সে জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই যথেষ্ট ছিল।

শ্রমিকদেরকে খেপিয়ে একটা আন্দোলনকে প্রতিবারেই ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোন শুভ লক্ষণ নয়। বরং এর পেছনে আন্দোলনকারী নেতাদের নিজস্ব শক্তিমত্তা প্রদর্শনের ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। স্বাভাবিকভাবে এসব নেতারা কোন গুণতির মধ্যে পড়ে না, শ্রমিক আন্দোলনের নামে গুণতির মধ্যে থাকাটা এদের মূল উদ্দেশ্য। শ্রমিক এখানে বলির পাঠা।

আন্দোলনের শুরু হওয়ার কথা আলোচনা দিয়ে। আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে পর্যায়ক্রমে তা কঠোরতার দিকে যায়। গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মরত নেতা নামক অনেতারা সেটি কার্যকরভাবে না করে প্রথমেই শ্রমিকদেরকে উত্তেজিত করে অচলাবস্থার সৃষ্টি করে এবং মিডিয়া কাভারেজ পাবার চেষ্টা করে। এটি আন্দোলনের কোন সুস্থ পথ নয়, বরং নিজেদেরকে জাহির করার পন্থা।

আন্দোলনের সময়ে প্রচুর মিথ্যা ছড়িয়ে শ্রমিকদেরকে উত্তেজিত করা হয়। অমুক গার্মেন্টসে একজন শ্রমিককে মালিকপক্ষ মেরে লাশ গুম করে ফেলেছে, তমুক গার্মেন্টসে পাঁচজন শ্রমিককে আটকে বেদম পেটানো হচ্ছে- এ জাতীয় মিথ্যা ছড়িয়ে তাদেরকে দিয়ে ভাঙচুর করানো হয়।

মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষকে পরস্পর বিপরীত মেরু ও মারমুখী অবস্থানে অবস্থান করানোটা এ শিল্পের জন্য মোটেও শুভ লক্ষণ নয়। যদিও এসব অনেতারা সেই কাজটিই করছে এবং শ্রমিকদেরকে বাদ দিয়ে নিজেরা আলোচনার টেবিলে যাচ্ছে।

একজন মালিক কতটা শ্রম ও মেধা খাটিয়ে একটা গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠা করেন, নানান ধরনের কমপ্লায়েন্স ফুলফিল করে সেটিকে পরিচালনা করেন, সেটিকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে। মা'র চেয়ে মাসির দরদ বেশি হতে পারে না। একজন শিল্প মালিক তার প্রতিষ্ঠানকে যতোটা ভালবাসেন, তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন শ্রমিককে যতোটা ভালবাসেন, সে ভালবাসা একজন বহিরাগত অশ্রমিক নেতার থাকার কথা নয়। কাগুজে সম্পর্কের বাইরেও মালিক-শ্রমিকের মধ্যে একটা আন্তরিক সেতুবন্ধন থাকে যা ব্যাখ্যা যোগ্য নয়, সে সম্পর্কের গভীরতা বোঝার ক্ষমতা একজন অশ্রমিক নেতার নাই। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে এটা একটা বড় শক্তি।

গার্মেন্টস শিল্পের স্থিতি ও অগ্রগতি বজায় রাখার জন্য সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ব্যবস্থাপনা চালু করেছে এবং সম্ভাব্য সবকিছু করার চেষ্টা করেছে। এর পরেও কেন সেই পরিচিত অনেতারা এখানে গোলযোগ করার সুযোগ পাচ্ছে সেটা আমার বোধগম্য নয়। আমার কেন যেন মনে হয়, এখানে কর্মরত গোয়েন্দারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। নতুবা পূর্বের সেই পরিচিত মুখগুলোই কেমন করে আবার এমন অরাজকতা সৃষ্টি করে?

সরকারকে কঠোর হস্তে এদেরকে দমন করতে হবে। দেশ ও দেশের শিল্পকে বাঁচানোর স্বার্থে প্রয়োজনে অনেক কঠোর হতেও দোষ নাই। দেশের উপরে তো কিছু নাই।

 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 31/01/2017 05:37 PM
সর্বমোট 191 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ