ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

রাজনৈতিক দলের মূলধারায় অনলাইন শাখা থাকা সময়ের দাবী

রাজনৈতিকভাবে এখন পর্যন্ত অনলাইন এক্টিভিস্টদের জন্য ফরমাল সাংগঠনিক ভিত্তি না থাকলেও বিএনপি-জামাত তাদের অনলাইন এক্টিভিস্টদের মূল্যায়ন করে এবং নানানভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে। আওয়ামী লীগের ভাবটা এমন যে, তারা নিজেরাই মহাপণ্ডিত, এসব লেখক-ফেখক তাদের দরকার নাই। আরও একটা উন্নাষিক ভাব ও বড়াই আছে তা হলো- তুই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখিস সুতরাং আমার পক্ষে লিখতে বাধ্য। এসব কারণে এখন যারা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ডাকসাইটে বা ডাক-আনসাইটের নেতা আছে তাদের প্রায় কেউই লেখাপড়ার ধার ধারে না। ফলে তাদের তাত্ত্বিক দিক ভয়াবহ দুর্বল। অন্যদিকে মাঠের কার্যক্রমের‌ও কোনো গতি নাই। গত একবছরে আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, তাতী লীগ সারা দেশে কয়টি রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করেছে এবং তার ফলাফল কী- এটা বিবেচনায় নিলেই বিষয়টা বুঝতে পারবে। এই যে একদিকে অতাত্ত্বিক এবং অন্যদিকে মাঠের কাজে ঠনঠনা এই দুই অযোগ্যতার বৈশিষ্ট্য নিয়ে নেতাগিরি করলে তার ফল কী হবে? ব্যক্তি সুবিধা আদায়ের জন্য তেলবাজি করা ছাড়া আর কিছু হবে না। হচ্ছেও তাই। ওদিকে নেতারা এসব তেলবাজ ছাড়া অন্য কাউকে পাত্তা দেয় না। একজন জানা মানুষকে তারা এড়িয়ে চলে। একারণে জানাশোনা মানুষ এদের ধারেকাছে নাই। কিছু জানাশোনা মানুষ আছে বটে তবে তারা সব বিসর্জন দিয়ে তেলবাজ হয়েই চামচামি করে টিকে আছে। এই থাকা বা না থাকায় কোয়ালিটির কিছু যায়‌আসে না। আওয়ামী লীগের পক্ষে একটা ভালো লেখা লিখতে এমনকি একটা ভালো লেখার জন্য একটি ভালো শব্দ চয়ন করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন মাথা যন্ত্রণা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। লেখা শেষ করে প্রকাশ করার পর আওয়ামী লীগের থেকে সেই লেখক কী পায়? ঘোড়ার ডিম। এ দেশে অনলাইন কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। আমি দুটি ঘটনার উল্লেখ করি- একটা গণজাগরণ মঞ্চ, অন্যটা বাস দুর্ঘটনা থেকে রূপ নেওয়া ছাত্র আন্দোলন। এই দুইটি ক্ষেত্রে বিপক্ষ শক্তির অনলাইন দাপট এতোটাই বেশি ছিল যে, শেষপর্যন্ত রাজপথের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও তাদের অপপ্রচারের সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলা শুরু করল। তখন আমরা কয়েকজন ওসব অপচারের বিরুদ্ধে লেখা শুরু করলাম। এসব লেখার পরে তা আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য রেফারেন্স হয়ে উঠল, তারা ঘুরে দাঁড়ালো। তো সে সময়ের লেখকরা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কী পেয়েছে? আওয়ামী লীগের সময়েই তাদের অনেকে লেখার কারণে বিপদে পড়েছে। কার্টুনিস্ট কিশোর, অধ্যক্ষ রতন মজুমদার এ দুজনের নাম এ মুহূর্তে মনে পড়ছে। ফলে অনেকে আর সেভাবে লেখে না। আমিও লিখি না। তখন মুক্তচিন্তা ব্লগের নিয়মিত ব্লগার সংখ্যা ১০-১২ জন। সে সময়ে এই ব্লগের একটা লেখা ২০০ পাঠক পড়লে সেটাকে হিট লেখা হিসেবে গণ্য করা হতো। অথচ সেই সময়ে এই ব্লগে আমার একেকটা লেখা কয়েক হাজার পাঠক পড়েছে। ব্লগে লগ‌ইন করে ভক্ত পাঠকগণ যুক্তিযুক্তের লেখা খুঁজে খুঁজে পড়তো। ব্লগার যুক্তিযুক্ত তখন ব্লগ জগতের শীর্ষে থাকা কয়েকজনের মধ্যে একজন। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কী পেয়েছে ব্লগার যুক্তিযুক্ত? আওয়ামী লীগের কে মনে রেখেছে তাকে? আওয়ামী লীগের থেকে একটা অনলাইন লীগ তৈরি করে এদের মূলধারার সাথে যুক্ত করার পরামর্শ বহুবার বহুভাবে দিয়েছি। গণজাগরণ মঞ্চ শুরু হবার বছরখানেক আগে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির ৩ নম্বর অফিসে এ বিষয়ক পরিকল্পনা সভায় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতারা এসেছিল, সেখানেও বলেছিলাম। কিন্তু কার্যকরভাবে করা হয়নি। তা করা হয়েছিল তা ইভেন্ট কেন্দ্রিক। গণজাগরণ মঞ্চ শেষ, সে প্লাটফর্ম‌ও শেষ। তবে এখনও বলছি, বর্তমান সময়ে এর বিকল্প নাই। বেশ কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের পক্ষে লেখালেখি করে এরকম কয়েকজন অনলাইন এক্টিভিস্টকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে নেওয়া হয়েছিল। অদ্ভুত ব্যাপার এদের কেউই মৌলিক লেখিলেখি করতে পারে না। অনেকটা নকলবাজ, কাটপেস্ট করে দেখে। অনেকে লেখেই না। যাদের নেওয়া হয়েছিল তাদের কেউ ব্লগার যুক্তিযুক্ত অমি রহমান পিয়াল, অনিমেষ রহমান ইত্যাদি ব্লগারের কেশের যোগ্যতাও রাখে না। এভাবেই চলছে, এভাবেই চলবে! তারপরেও বলি- যুগের রাজনৈতিক চাহিদা পূরণে অনলাইন লীগ করতে হবে এবং মূলধারার সাথে তাকে ফরমালি যুক্ত করতে হবে। এটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিকল্প হিসেবে জামাত-বিএনপির মতো পেইড কর্মীকে আওয়ামী লীগের মূলধারায় নিয়ে সে লেখককে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। আগামীদিনের রাজনৈতিক লড়াই শুধু মাঠে হবে না, বেশিরভাগ হবে অনলাইনে।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 25/01/2023
সর্বমোট 731 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ