ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ধর্ষন যেন এখন বিনোদনের মুল খোরাখ ।

যে ভাবে ধর্ষণ খুনের উৎসব শুরু হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে। বিনোদন এখন আর বইয়ের গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, গানে, সিনেমায় নেই, বিনোদন চলে গেছে নারীর দেহে।

নারী দেহ কেন এত বিনোদন প্রিয় হয়ে উঠল হঠাৎ এদেশে? এটা অবশ্য গবেষণা প্রয়োজন অপরাধ দমন কর্তৃপক্ষের। আপনি রোগ নির্ণয় না করে রোগী কে হত্যা করে রোগ নিরাময় সম্ভব নয়। আগে রোগীর রোগের ইতিহাস অনুসন্ধান, রোগ নির্ণয় তারপর চিকিৎসা অর্থাৎ অপরাধ দমন সম্ভব।

এবার আসি এই ধর্ষণ ঘটিত অপরাধ কেন এত বেশি সে বিষয়ে আমার ভাবনা।

আমার বাস্তব একটি গল্প দিয়ে শুরু, আমি তখন এইসএসসির ২য় বর্ষের ছাত্র। শহরে থাকি। গ্রামেও থাকি। একদিন মেস হতে একটি উপন্যাস হাতে পেলাম আমার খুব প্রিয় একজন উপন্যাসিক সমরেশ মজুমদারের লিখা। আমি বাড়ি ফিরে বইটি নিয়ে সোজা আমাদের মাঠে একটি মেহগনি বাগানে নিরিবিলি ছায়ায় বসে বইটি পড়তে শুরু করলাম। একটানা প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা এক ভাবে বসে বইটি পড়া শেষ করি। বই পড়ার মাঝে প্রচন্ড প্রসাবের বেগ বাট মনে হচ্ছে এখন পড়া বন্ধ করলে এই সিনটি আর পাব না তাই শেষ না করে উঠতে পারিনি। এতটা আনন্দ বিনোদন ভালোবাসা বইয়ের পাতায় খুজেছি আমরা। বই পড়তে পড়তে আমার ঐ বইয়ের নায়ক মনে হতো, এবং মনটাকেও তৈরি করি মানবিক ন্যায়ের পথে চলমান চরিত্র টির মত।

এই ছিল আমাদের বিনোদন, বই পড়া সিনেমা দেখা, রেডিও সকালে রাখালিয়া অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক, পল্লীগীতি গান শুনে সকাল শুরু করা।



আর বর্তমান বিনোদন মানে এন্ডুয়েড ফোন হাতে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ ছেলেমেয়ে গুলো আজ ফ্রি ফায়ার গেম, ফেসবুক, ইউটিউব, সহ বিভিন্ন অসামাজিক ওয়েব সাইটে নাড়াচাড়া করে আজ সব বিপথগামী। ডিজিটাল যুগের কুফল হলো এই যে আমরা ডিজিটাল তথ্য ভান্ডার সঠিক সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে আজ পুরোপুরি ব্যর্থ।

আমরা ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হাতে ডিজিটাল ক্লাসের নামে মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছি যার দরুন সে খেলাধুলার পরিবর্তে ফেসবুক সহ ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ করে মস্তিষ্ক করে ফেলছে অলস। শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চিন্তার অভাবে এই সকল ছেলে মেয়েদের সৃজনশীল কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

ডিজিটাল এই সকল ডিভাইসের অনলাইনে বিচরণ আমাদের কোমলমতি ছাত্র ছাত্রী সহ ছেলে মেয়েদের অপরিণত বয়সে সেক্সচুয়াল পর্নো ছবি সহ গল্প লিখা পড়ে তারা এটাকেই বিনোদন ভাবতে ভাবতে একসময় মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে বিনোদন আনন্দ হিসাবে এই লোমহর্ষক অপরাধ গুলো করছে।

তাই এখনই সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি সহ ডিভাইস তৈরি ও ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া। যেমন একজন শিশু একটি মোবাইল ব্যবহার করবে সেটাই কথা বলা যাবে, অনলাইন ক্লাস করা যাবে, তার বয়স ভিত্তিক ওয়েবসাইটে সে গান কবিতা খেলা দেখতে পারবে। কিন্তু একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ফোনের মত সকল অপশন ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সাথে তাকে প্রতিনিয়ত কায়িক পরিশ্রম এর কাজ ও খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আমাদের একটি মেধাবী সৃজনশীল অপরাধহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
 

ছবি
সেকশনঃ সাম্প্রতিক বিষয়
লিখেছেনঃ মাজেদুল হক তারিখঃ 24/09/2022
সর্বমোট 660 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ