ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

আত্মহত্যা-প্রবণ ব্যক্তিকে চেনা ও তাকে সহযোগিতার উপায়

(বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ)

আজ ১০ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন’ নামের সংগঠন প্রতি বছরের এই দিনে দিবসটি পালন করে। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য হলো ‘ওয়ার্কিং টুগেদার টু প্রিভেন্ট সুইসাইড’ অর্থাৎ ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করা’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে আট লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। সংস্থাটির মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ গুণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করে থাকে।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এর মধ্যে নারী-পুরুষ-শিশু সব বয়সের মানুষ রয়েছে। মেয়েদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার তিন/চার গুণ বেশি। তবে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা চার/পাঁচ গুণ বেশি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে প্রথমেই জেনে নিতে হবে কিছু সর্তক চিহ্ন(Warning Sign) যা আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। আত্মহত্যা-প্রবণ ব্যক্তিকে চেনার উপায়-

১। ব্যক্তিটি নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন, তিনি বলতে থাকেন সংসারে তার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে।
২। ব্যক্তি আত্মহত্যার কথা বলেন, প্রকাশ করেন, হুমকি প্রদান করেন, অনেক সময় আত্মহত্যা সংক্রান্ত চিরকুট লিখেন।
৩। ব্যক্তি আত্মহত্যার সরঞ্জাম খোঁজেন, কিনেন। যেমন- কীটনাশক, অনেক ঘুমের বড়ি, ছুরি ইত্যাদি।
৪। নিজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন না।
৫। ব্যক্তি মনে করেন তিনি অবহেলিত, উপেক্ষিত।
৬। অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন, একা থাকেন, একা হয়ে পড়েন।
৭। অনেক সময় ছোটখাটো বিষয় থেকে বেশি পরিমাণ অপরাধ বোধ করেন।
৮। তিনি ঘন ঘন মৃত্যু চিন্তা করেন তা অন্যদের বলে বেড়ান।
৯। জীবননাশের পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ গুছিয়ে ফেলেন জমি/জমা, ব্যাংকের/ইনস্যুরেন্সের কাগজ/হিসাব ইত্যাদি।
১০। অনেক ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার নির্ণয় করেন এবং তাদেরকে সব কিছু বুঝে নিতে বলেন।
১১। ব্যক্তি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন এবং কখনও কখনও সেই পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
১২। নিকটাত্মীয়, বন্ধু বান্ধবদের অপ্রয়োজনে, অযাচিতভাবেই, যোগাযোগ করে ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলেন- যেমন- “কে কখন মরে যায়”, “মরে গেলে মাফ করে দিও”, “জীবন অর্থহীন”, ইত্যাদি।
১৩। পূর্বে নিজের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন এমন ব্যক্তি।
১৪। হঠাৎ করেই একজন ব্যক্তির বেশি থেমে যাওয়া।
১৫। মনোরোগ বিশেষ করে বিষণ্ণতা, (ডিপ্রেশন) ব্যক্তিত্ব সমস্যা, ড্রাগ এডিকশন, সিজোফ্রেনিয়া রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তি।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সকলের প্রচেষ্টা হতে হবে আন্তরিক। আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস। যেমন-

১। ব্যক্তি নিজে, তার পরিবার, কাছের বন্ধুরা, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সহপাঠীরা এমন কি ধর্মীয় শিক্ষক আত্মহত্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
২। আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে সহানুভূতি এবং দরদ দিয়ে সহায়তা করতে হবে। তার কষ্ট বুঝতে হবে এবং তাকে আশার আলো দেখাতে হবে। পৃথিবীর সুন্দর, ইতিবাচক আর আগামী ভবিষ্যতের সুখী মুখটা তাকে দেখাতে হবে।
৩। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে মনো চিকিৎসকের কাছে বা মানসিক স্বাস্থ্য সেবার কাছে পৌঁছাতে হবে। কারণ অধিকাংশ আত্মহত্যার কারণ মনোরোগ। তাই সঠিকভাবে মনোরোগের চিকিৎসা করলেও আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব।
৪। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা আত্মহত্যার নেতিবাচক দিক, ভয়াবহতা এবং তার কুপ্রভাব সম্পর্কে সকলকে অবহিত করতে পারেন এবং সাহায্য গ্রহণে সকলকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।
৫। মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির সহায়তা ও নির্ভরযোগ্যতার স্থান হয়ে রাষ্ট্র পারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে।

(লেখাটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে লেখা)

ছবি
সেকশনঃ চিকিৎসা
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 10/09/2020
সর্বমোট 126 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ

সর্বোচ্চ পঠিত

এই তালিকায় একজন লেখকের সর্বোচ্চ ২ টি ও গত ৩ মাসের লেখা দেখানো হয়েছে। সব সময়ের সেরাগুলো দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন