ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

​সকল প্রাণী ভালো আছে চিন্তা করাটাই মানব ধর্ম, এই ক্ষুদ্র ও নশ্বর জীবনের সার্থকতা এখানেই

কেনো যে এলাম ধরায়
কি করিতে দয়াল
মানব শরীরে দেখি 
জানোয়ার সব ভয়াল!

আজ চারদিকে ধর্মের, রাজনিতীর, অর্থনিতীর, মতবাদের নামে উন্মাদনা, অবিচার,  উন্মত্ততা, হিংসা, বিদ্বেষ, যুদ্ধ ও ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি আসুরিক কাজের আয়োজন। সেই সাথে মতবাদের ঝনঝনানিতে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে প্রগাড়ভাবেই, এর থেকে সহসা উত্তরণের পথ কোথায়? উদ্ভুত পরিস্থিতিতে করণিয় কি? এভাবে চললে মানবের ভবিষ্যত কোথায়? একগাদা র্আও প্রশ্ন আনা সম্ভব এবং এর জন্য খুব বেশী চিন্তা করবার প্রয়োজনও নেই, খুব বেশী ইতিহাস চর্চা করবারও দরকার নেই, খুব বেশী দুরত্বও অতিক্রম করবার ও সময় নেবারও অবকাশ নেই, কারণ এই সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমরা এই সময়েই বাস করছি, বিশ্ব ব্যবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়। বৈশ্বিক অর্থনিতী ও রাজনিতীর মেরুকরণ আজ স্পষ্ট ভাবেই প্রভাব ফেলছে মানুষের আচড়ণের উপর। 

আমি বচন লিখি, বচন লিখাটা আমার কাছে একটি শখের বিষয়। প্রচুর চিন্তা করতে হয় বচনের ছোট একটি বাক্য গঠনের জন্যও যেনো তা সকল বিরুদ্ধ চিন্তাকেই অতিক্রম করতেপারে। আমার নিয়মিত পাঠকগণ দুরা বচন এর সাথে পরিচিত। আজকের সমাজের এই অবস্থার জন্য বড় একটি কারণ নানান মতবাদ ও তার অনুসারীদের মেরুকরণের চেস্টা। আপাত নিরিহ একটি মতবাদও সময়ের সাথে শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করে এটাই মতবাদের আচড়ণগত বৈশিষ্ট। এটা করতে গিয়ে সে সমসাময়িক মতবাদকে অস্বীকার বা ধ্বংস করতে উদ্যত হয় যা সূচনাকরে হিংসা বিদ্বেষের। শ্রেষ্ঠত্ব শব্দটির মাঝেই লুকিয়ে আছে অহংকার ও অন্যকে ছোট করে দেখবার যাবতীয় রসদ। আমরা যারা সমান চোখে সবাইকে দেখবার কথা চিন্তা করি তাদের প্রধান শত্রু তাই মতবাদ। আমি মজা করেই বলি, মতবাদের মাঝে মানে শব্দটির শেষে বাদ বা পরিত্যাগ আছে! সুতরাং মতবাদ ত্যাগ করাই প্রধাণতম কাজ। 

আমাদের জন্য থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে সকল কাজ হাজার হাজার বছর ধরে আমরা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছি তার প্রধানতম হচ্ছে শিক্ষা, কাজ ও সংসার তথা পরিবার গঠন করা এবং একই সাথে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য জন্মগত ভাবে প্রাপ্ত ধর্মের আলোকে ধর্ম চর্চা করা। এখানে যারা ধর্ম পালন করে তাদের কথাই বলা হয়েছে। এর বাইরে যারা সৃষ্টি কর্তার প্রতি অবিশ^াসী, অজ্ঞেয়বাদী, প্রকৃতি বিশ^াসী ও অন্য ভাবনার পথিক তারা জানতে চেষ্টা করে সৃষ্টি রহস্য, কেমন করে মানব প্রজাতি অর্জন করলো আজকের পর্যায়, কিভাবে সময়কে অতিক্রম করা যায় এর মতো জটিল সব বিষয়। বর্তমান সময়ে (রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালুর সমসাময়িক সময় থেকেই) এই দুইয়ের সমন্বয়ে উদ্ভব হয়েছে মডারেট শ্রেণীর! নেহায়েত ধর্ম পালনকারী বা একেবারেই পালন কারী নয় এরা যার যার কাজে মগ্ন কিন্তু এই বকচ্ছপ গোত্র গিরগিটির মতো রঙ পাল্টানো ভয়ংকর মানব দেহধারী মানবতার শত্রæ। এরাই অর্থনিতীর সাথে ধর্ম, রাজনিতীর সাথে ধর্ম, ক্ষমতার সাথে ধর্মকে মিশিয়ে ব্যবহার করছে মানবতার বিপক্ষে। 

আমাদের এই দেশেও একই অবস্থা, ক্ষমতা সুসংহত করতে প্রমাণিত দুর্নিতীবাজ স্বৈরশাসক রাষ্ট্রের ধর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে! অথচ যে আশা আকাংখা নিয়ে এই ভূখন্ড স্বাধীন হলো তা ছুড়ে ফেলে দ্ওেয়া হয়েছে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে। মতবাদ ও জাতীয়তাবাদ এক করবেন না এখানে, তবে উগ্র জাতীয়তাবাদও মতবাদের মতো হিংসা ডাকদেয় এটাও অনস্বীকার্য যা বর্জণীয়। শুরুতে যা বলছিলাম, আমাদের ভবিষ্যত কোথায়!? এই মানবতা বিরোধী অবস্থানেই আমরা চলবো নাকি বের হবো হানাহানি থেকে! বের হবার উপায়ই বা কি? উপায় হলো যাবতীয় মতবাদকে অস্বীকার করা, এটাই প্রথম করণিয়। জীবের জীবনে চলার চেষ্টা করা। জীবরে জীবন আবার কি? মনে প্রশ্ন আসছে! খুবই সোজা, যাবতীয় জীবের প্রতি মমতা অনুভব করা, নিজ প্রজাতি তথা মানবের বাইরেও অন্য জীবের প্রতি ভালোবাসা থাকা, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা ও যুক্তির বিপরীতে যুক্তি স্থাপন, পেশী শক্তির ব্যবহার অপারগ না হলে ব্যবহার না করা এবং সেটাও মানবতার খেলাপ হলে তখন উত্তরণের পথ না থাকলে একমাত্র তখনই করা। জীবের এই জীবনই মানব ধর্ম। 

আপনি যদি ধর্ম চর্চা করে পারেন , না করে পারেন তাতেও মানব ধর্ম পালনে সমস্যা নেই তবে মতবাদী হলেই বিপদ, উত্তরণের পথ তখন বন্ধ। শুরু হবে হানাহানি , হিংসা বা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ! আর পারবেন না তখন। হতেই হবে, লাগবেই এমন মানসিকতা পরিত্যাগ করাও জরুরী, আমরা কেউই নিঁখুত নই, নিঁখুত কাজ বা আচড়ণও তাই কামনা করা যাবেনা। সন্তুষ্টির মাত্রাও সামর্থের সাথে নির্ধারণ করা জরুরী। আমি, আমরা সুখে শান্তিতে আছি বা থাকবো ভাবার চেয়ে সকল প্রাণী ভালো আছে চিন্তা করাটাই মানব ধর্ম, এই ক্ষুদ্র ও নশ^র জীবনের সার্থকতা এখানেই। 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ দুরন্ত.. তারিখঃ 27/04/2020
সর্বমোট 925 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ