ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ভালবাসার বন্ধন

ভালবাসার বন্ধন মোঃ এনামুল হক ******************************** সালাম চায়ের দোকানে বসে গল্প করছে। কেউ একজন বসে পেপার পড়ছেন। করোনা রোগ বিশ্বে ছড়িয়েছে। চারিদিকে লোকজন মারা যাচ্ছে। পাশে আরো কয়েকজন আছেন। কেউ বললেনঃ করোনা কি না রোগ আইছে। আরেকজন বললেন হ্যাঁ আসছে। অনেক লোক মারা যাচ্ছে। এটা গজব। চারিদিকে নাফরমানী চলছে। তাই আল্লাহ গজব দিচ্ছে। হ্যাঁ গজব হবে। ঔষধ নাই। না। পেপার যিনি পড়ছেন। তিনি পেপার রেখে বললেনঃ করোনা ভাইরাস মানে কোভিট১৯ বলে। এটা আমাদের দেশেও হতে পারে। আমাদের দেশে আসবে না। চাচা কখন আসবে কেউ বলতে পারবে না। ইটালি, লন্ডন, আমেরিকা এরাতো জানতো না তাদের দেশে এমন হবে। এটা হয় কিভাবে? সালাম বলল। তিনি বললেনঃ এটা নিউমোনিয়ার মতো লক্ষণ হয়। স্বর্দি, জ্বর, কাশি, এগুলো দেখা দেয়। এ থেকে সাবধান থাকতে হবে। সালাম বললঃ আর কি করতে হবে? সাবান পানি দিয়ে বেশি বেশি করে হাত ধোঁতে হবে। পরিষ্কার থাকতে হবে। ভয়ানক রোগ মনে হয়। ভয়ানক রোগ। এ রোগের উপসর্গগুলো বলবেন। বললাম না সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াও হতে পারে। শুনলাম প্রবাসিরা এ রোগ বহন করছে। আমাদের দেশের যারা বিদেশে আছে তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কেননা কার শরীরে ভাইরাস কিভাবে আছে তা কেউ বলতে পারে না। তাহলে বিদেশ থেকে যারা আসবে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। অবশ্যই। কথা বলে তিনি চলে গেলেন। সালাম কথাগুলো শুনলো। সালাম উঠে মাঠের দিকে যেতে থাকলো। মাঠে কয়েকজন বন্ধুরা বসে আছে। সালাম তাদের সামনে গেলো। আরিফ বললঃ কিরে কি খবর? বর্তমান একটা খবর করোনা ভাইরাস। রোগ সম্পর্কে নানা কথা শুনছি। তবে যাই বলিস এটা আল্লাহর গজব। হতে পারে। আমরা যা করছি। শুনলাম চীন থেকে এর উৎপত্তি শুরু হয়েেছ। হ্যাঁ। পেপারে পড়েছি। অনেক লোক মারা যাচ্ছে। বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অবস্থা কি? অবস্থা ভাল না। গতকাল থেকে তো স্কুল, কলেজ সব বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তাহলেতো স্কুল বন্ধ পেয়ে বাচ্ছারা অনেক খুশি। সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। আর সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা অনেক কিছু জানি না। জানার চেষ্টা করতে হবে। কার কাছ থেকে জানতে পারি। আচ্ছা বাসায় যাই। পরে জানার চেষ্টা করবো। সালাম কথা বলে বাসায় রওয়ানা হলো। বাসায় তার ছোটবোন রিনা প্রতিদিন টিভি দেখে। করোনা নিয়ে নানা সচেতনতামূলক বার্তা সে জানতে পেরেছে। সালাম টিভি দেখে। করোনার কোন কথা এলে সে এগুলো শুনতে চায় না। দেখতে চা না। ফেইসবুক ইউজ করে। দেখে। কিন্তু তার কাছে এগুলো পড়তে ভাল লাগে না। বাসায় আসার সাথে সাথে রিনা বললঃ দাড়াও ভেতরে ঢুকবে না । কেন? সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ে এসো। সাবান দিয়ে ধোঁতে হবে কেন? তুমি জানো না। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য পরিষ্কার থাকতে হবে। স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমাদের। ভালতো। সারাদিন খেলা আর খেলা। নাও হাত ধোঁয়ে এসো। সালাম জানে হাত না ধোঁয়ে এলে রিনা ভেতরে ঢুকতে দেবে না। বিশেষ করে সালাম ওকে অনেক আদর করে। ভালবাসে। তাই কথাটা শুনতে হলো। নইলে ভাত খেতে দেবে না। মা জাহানারা বেগম তাদের এমন কান্ড দেখেন। বাবা বাসায় থাকলে তা দেখেন। বাবা রফিক সাহেব। ব্যবসা করেন। সালাম ঘরে প্রবেশ করল। রিনা খাবার দিলো। মা বিশ্রাম নিচ্ছেন। খেতে খেতে রিনা বললঃ শোন মানুষের কাছ থেকে দুরে দুরে থাকবা। কেন? বলা যায় না কার কাছে ভাইরাস আছে। ছড়াতে পারে। আর কি কি শিখলি। স্বর্দি, জ্বর, কাশি থেকে বেঁচে থাকতে। সাবান দিয়ে হাত ধোঁতে। হাঁচি, কাশি এলো টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করতে নয়তো কনুইয়ের ভাজেঁ নাক মুখ ঢেকে ফেলতে হবে। আমার তো জানা নেই। তুই এতো কিছু জানলি কি করে? টিভি দেখে দেখে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। করোনা নিয়ে বেশ জোরেশোরে প্রচার প্রচারণা চলছে। দেশের সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে । মানুষকে ঘরে রাখার জন্য সেনাবাহিনী মাঠে নামছে। সালাম রফিক রিপনসহ আরো অনেকে একসাথে বসে কথা বলছে। সালাম বললঃ দেশের অবস্থা মনে হয় ভাল নেই। শুনেছিস বিমানবন্দর, নৌবন্দর, স্থলবন্দর সব বন্ধ করা হয়েছে। হ্যাঁ। মানুস আল্লাহকে ভয় না করে রোগকে ভয় করছে। মানুষ বাঁচতে চায়। মরতে চায় না। বাঁচতে সবাই চায়। আমাদের বিদেশী ভাইয়দের জন্য নিয়ম করছে সরকার। হ্যাঁ করেছে। দুর ব্যাটা মানুষ বাহিরে থেকে আসবে আর লোকজন দেখা করবেনা তাকি হয়। সালাম লেখা পড়া জানা আমরা। আমরা উদাসিন হলে চলবে না। রফিক বলল। রিপন বললঃ শোন ইটালি, ফ্রান্স, জাপান, আমেরিকা সবরাষ্ট্র এখন করোনা আক্রান্ত। আমাদের দেশও আক্রান্ত। ইটালিতে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। শতশত মানুষ।সংবাদ দেখলাম। আমাদের সাবধান থাকতে হবে। আমাদের গ্রামে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষকে সাবধান হতে হবে। নইলে অনেক বড় বিপর্যয় আমাদের দেশে হবে। লাশের মিছিল হবে। সামাজিক সব বন্ধন সরকার বন্ধ করে দিচ্ছে। কারো সাথে কারো যোগাযোগ নেই। এভাবে কি চলে? চলবে না কেন? বাঁচতে হবে বাচাঁতে হবে। তার মানে আমরা কিছু করবো। অবশ্যই। ইটালি, সৌদিআরব,ইরান, আমেরিক বড় বড় ধনী রাষ্ট্ররা লকডাউন করেছে। মানে। সবার সাথে সবার যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে । সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। যাতে ভাইরাস ছড়াতে না পারে। আগামীকাল থেকে দুজন একসাথে চলাফেরা করা যাবে না। কেন? তুই খবর দেখিস না। আমার ভাল লাগে না। যখন করোনা ধরবে তখন বুঝতে পারবে। আবেদ বললঃ আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ রোগ থেকে বাঁচতে পারি। যেমন। যেমনঃ ১) যেখানে সেখানে থুথু কফ ফেলবো না। ২) স্বর্দি, কাশি, হলে আমরা ঘর থেকে বের হবো না। প্রয়োজনে পরিবারের কাছ থেকে একটু দুরে থাকবো। ৩) বার বার সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোঁবো। অন্তত ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত। ৪) হাচি, কাশি এলে টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করবো। যদি এগুলো না থাকে তাহলে হাতের ভাঁজে নাকমুখ ঢেকে রাখবো । ৫) টিস্যু ব্যবহার করার পর তা ঢাকনা যুক্ত বিনে ফেলে দেব। ৬) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ৭) একজন থেকে আরেকজনের দূরত্ব মিনিমাম তিনফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ৮) কাশি হলে এমনিতে গলা ব্যথা করে, ঠান্ডা লাগলে মাথাও ব্যথা করতে পারে। সেক্ষেত্রে গরমপানি পান করলে ভাল হয়। গরম পানি পান করা নিরাপদ। গলা ব্যথায় গরম পানির সাথে লবণ মিশিয়ে গলগলা করলে ব্যথা কমে যায়। ৯) দেখ হলে আমরা হাত মেলাবো না বা কুলাকুলি করবো না। ১০) বাহিরে থেকে ফিরে এসে আমরা কাপড় জীবাণুনাশক দিয়ে ধোঁয়ে ফেলবো এবং নিজে গোসল করে পরিষ্কার হয়ে যাবো। ১১) ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গ্রহন করবো। যেমনঃ লেবু, অরেঞ্জ, খেতে পারি। ১২) সবধরণের তরি তরকারী ভালভাবে সিদ্ধ করে খাবো। তেমনি মাছ, মাংস। ১৩) ঠান্ডাজাতীয় খাবার যেমন আইসক্রিম,কোল্ডড্রিংক্স,এনার্জি ড্রিংক্স এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। ১৪) সামাজিক দূরত্ব আমাদের সবাইকে নিশ্চিত করতে হবে। ১৫) বিদেশ থেকে যারা আসবে আপাতত তারা চৌদ্দ দিন আলাদা থাকবে । কেননা েররা ভাইরাস বহন করছে কিনা আমরা জানি না। কাজেই তাদেরকে চৌদ্দদিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। অর্থাৎ আলাদা একটি কক্ষে থাকতে হবে। নিজের জন্য। নিজের পরিবারের সবার জন্য। এলাকার জন্য। একটি নির্দিষ্ট কক্ষে তার ব্যবহারের সকল জিনিসপত্র আলাদা থাকবে। জীবাণুনাশক দিয়ে তার সবকিছু পরিষ্কার রাখতে হবে তাকে নিজেকে। বাথরুম পর্যন্ত। এবং ঐ কক্ষ, তার ব্যবহারের সকল জিনিসপত্র, বিছানা, বাথরুম অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবেন না। ১৬) কোন জমায়েতে যেমন বিয়ে, সভাএগুলো থেকে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। ১৭) সাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ১৮) স্বর্দি, জ্বর, গলাব্যথা হলে সাধারণ ঔষধ আমরা ব্যবহার করতে পারি। রফিক বললঃ এতো তত্ব সংগ্রহ করলি কিভাবে। খবর দেখেছি। ফেইসবুক থেকে তত্ব নিয়েছি । বুঝবো কিভাবে করোনা হয়েছে। তত্ব ঘেটে যা পেয়েছি তা হলো ১) স্বর্দি হয়েছে জ্বর নেই। করোনা নয়। ২) স্বর্দি, জ্বর আছে, গলাব্যথা নেই। করোনা নয়। ৩)স্বর্দি, জ্বর, গলাব্যথা আছে। কিন্তু শ্বাসকষ্ট নেই। করোনা নয়। ৪) স্বর্দি, জ্বর, গলাব্যথা, শ্বাসকস্ট, মাথাব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া নেই। করোনা নয়। ৫) সবগুলো উপসর্গ দেখা দিলে বাবতে হবে করোনার লক্ষণ তখন দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। রোগটা ছড়ায় কিভাবে? ১) যিনি আক্রান্ত তার স্পর্শে গেলে। ২) তার কাছাকাছি হাঁচি, কাশি থেকে। ৩) হাচি, কাশি দেবার সময় হাত ব্যবহার করার কারণে। ৪) ঐ হাত দিয়ে কিছু স্পর্শ করা হলো । ঐ স্পর্শ জায়গা অন্য কেউ স্পর্শ করলে ৫) আক্রান্ত ব্যক্তি তার বাচ্ছাকে স্পর্শ করলে ৬) কোন কমিউনিটিতে চলে গেলে ৭) তিনি বাজারে, বিয়ে, সভাতে গেলে পুরু কমিউনিটি আক্রান্ত হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সচেতনতা মেনে চললে আমরা করোনন থেকে রক্ষা পেতে পারি। সালাম বললঃ আমাদের পরি্বার আমাদের ভালবাসার বন্ধন। আমাদের সবাইকে সচেতন করতে হবে। এরপর ওরা সচেতনতামূলক কাজে হাত দেয়। তাদের নিজেদের মধ্যে দুরত্ব বজায় রেখে গ্রামের আশেপাশের মানুষকে বোঝাতে থাকে। তাদের কথায় অনেকে বুঝতে পারে। ওরা আবার বসলো। কেননা গ্রামে কয়েকজ প্রবাসী এসেছে। এদেরকে বারবার বলার পরও তারা বোঝাতে পারছে না। সালাম বললঃ এবার আঙ্গুল বাকা করতে হবে। কেন? এতো করে বোঝাচ্ছি তাদের কানে ঢুকছে না। কি করা যাবে? প্রশাসনের সাহায্যে নেব। নয়তো আমরা সকলে মিলে লকডাউন করবো। লকডাউন করলে কাজ হবে। তাহলে গ্রামের মানুষকে নিয়ে কাজ করতে হবে। সবাি আমাদের সাথে আছে । চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে প্রসাশনের ব্যবস্থা কর। আমরা গ্রামের লোকদের একসাথে নিয়ে লকডাউন করছি । এভাবে ওরা ওদের গ্রামকে সচেতন করে তুলল।

ছবি
সেকশনঃ সাহিত্য
লিখেছেনঃ Md Enamul Huq তারিখঃ 05/04/2020
সর্বমোট 532 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ