ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা - মোঃ মাজেদুল হক

আমি নতুন প্রজন্মের একজন নাগরিক এই উন্নয়নশীল বাংলাদেশের ৮০ এর দশকে জম্ম আমার। ১৯৭১ যুদ্ধ দেখিনি। পিতামাতা, দাদা,দাদি,নানা, নানী,মামা সহ প্রতিবেশী প্রবীণ মানুষের মুখে শুনেছি যুদ্ধকালীন বিভৎস সব কাহীনি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে সারাদেশ আক্রান্ত হলে এলাকা ভিত্তিক পাক সেনাদের অত্যাচার কমবেশি ছিল। তবুও দেশের প্রতিটি গ্রাম মহল্লা বাড়ীর শিশু, বালক, কিশোর, যুবক, যুবতী, বয়স্কদের একটাই আকুতি ও প্রচেষ্টা ছিল দেশকে শত্রুমুক্ত করা। যারা দুর দুরান্তে বসে দেশের খবর রাখতেন এবং গ্রামের মহিলাগণ নামাজে বসে প্রার্থনা করতেন দেশের মুক্তিকামী যোদ্ধাদের জন্য। সেই দিক হতে বাংলাদেশ স্বাধীনতায় সকল জনগণের অংশগ্রহণে জনযুদ্ধে রুপ নেয়। ১১ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিবনগর সরকার এর প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্য জনযুদ্ধ এর কথা বলা হয়েছে। কেউ প্রশিক্ষিত যোদ্ধা আর কেউ ছিল পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষনাৎ অংশ নেওয়া যোদ্ধা শত্রু দমনে। বর্তমান বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে যা বিব্রতকর। ক্ষেত্র বিশেষে এমন মনে হয় যে পূর্ব পুরুষ কেন একটি যুদ্ধকালীন সনদ সংগ্রহ করল না? যেটা দিয়ে প্রমাণ হতো আমরা এদেশের নাগরিক, আমাদের পূর্ব পুরুষগণও স্বাধীনতা অর্জনে যুদ্ধ করেছিল। তারা নিঃস্বার্থে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, তথ্য, আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। তাদের সংবাদ আদান প্রদান, খাবার, থাকার ব্যবস্থা করেছিল। এগুলোতো স্বীকৃতির মাঝে পড়ছে না। তখন ত আর এখনকার মত এমন হাতে হাতে ক্যামেরা যুক্ত ফোন ছিল না তাই কে কি করেছে ছবি করে প্রমাণ রাখতে পারেনি। যা পরবর্তী তে কত দেশদ্রোহী ও চোর ডাকাত সুযোগ বুঝে নিজের অপকর্ম আড়াল করতে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করে নিয়েছে। আর প্রকৃত স্বাধীনতা কামী ঐ মানুষ গুলো স্বীকৃতির জন্য যুদ্ধ করেনি,যোদ্ধাদের সহযোগিতা করিনি। তারা এই দেশকে শত্রুমুক্ত করে একটি স্বাধীন দেশ চেয়েছিল এবং পেয়েছে। এই হলো প্রাপ্তি তাদের। বর্তমান সনদধারী কিছু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এ প্রজন্মের উত্তরাধিকারদের (সকলে নয়) অহমিকা মাঝে মাঝে বিব্রত করে তোলে পরিবেশ। মনে হয় আমরা এদেশে তাদের তুলনায় ভাড়াটে বা আশ্রিত। আবার প্রকৃত দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিনয় ভ্রাতৃপ্রেমী বোধ দেখে গর্বে বুক ভরে যায়।মনে হয় এই মানুষগুলোর আন্তরিকতায় দেশ এত দ্রুত স্বাধীনতা পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ যাইবলি দেশ স্বাধীনে সকল নাগরিকের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। এই সমর্থনকে অস্বীকার করা কোনভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু যখন দেখি কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তার মতের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বললে অমনি তার মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অহংকার করে তাকে অপমান অপদস্ত করে। তখন মনে হয় না আসলে কি আমরা স্বাধীন! এদেশ আমার তোমার সকলের। উন্নত দেশ গঠনে সকলে এখন তৎপর। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা পক্ষপাতিত্ব এনে কাউকে পেছনে ফেলে দেওয়ার রেওয়াজ বন্ধ করতে হবে বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ মাজেদুল হক তারিখঃ 05/02/2020 09:30 PM
সর্বমোট 95 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ