ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

মাদ্রাসার ভূমিকায় স্কুল, দেশে মাদ্রাসা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই!

পাকিস্তান আমলে কাজী নজরুল ইসলামের 'চল চল চল' কবিতার 'মহাশ্মশান' শব্দটি বদলে দিয়ে তার পরিবর্তে 'গোরস্থান' শব্দটি বসানো হয়েছিল। ধর্মীয় গোঁড়ামো বিবেচনায় নিয়ে সাহিত্যের উপরে চালানো অমার্জিত সে অপরাধের খড়গ স্বাধীন বাংলাদেশেও অব্যহত। এখন বোধকরি তা আরও বেড়েছে।

অদ্ভুত অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে হিন্দু ও মুক্তচর্চার লেখকদের লেখা টেক্সট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কয়েকটি উদাহরণ-

১. পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বই থেকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হুমায়ূন আজাদের 'বই' কবিতাটি যে কারণে বাদ দিয়েছে -

'যে বই তোমায় ভয় দেখায়/ সেগুলো কোন বই নয়/সে বই তুমি পড়বে না/যে বই তোমায় অন্ধকারে বিপথে নেয়' !

হুমায়ূন আজাদ এখানে কোন বইয়ের নাম উল্লেখ করেনি ; অথচ মুসলমানরা ধরে নিয়েছে কুরআন শরীফকেই নাকি ইঙ্গিত করা হয়েছে, এতে কোমলমতি শিশুদের ইসলাম বিদ্বেষী করা হচ্ছে । এর পরিবর্তে সংযুক্ত হয়েছে 'বিদায় হজ'।

২. ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইতে এস ওয়াজেদ আলীর 'রাঁচি ভ্রমণ' বাদ দেওয়ার কারণ, এখানে ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি'র কথা বলা হয়েছে যা হিন্দুদের একটি তীর্থস্থান । পরিবর্তে সৈয়দ মুজতবা আলীর 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ' যুক্ত হয়েছে ।

৩. ষষ্ঠ শ্রেণির সত্যেন সেনের 'লাল গরুটা' বাদ দেওয়ার কারণ, গরু মায়ের মতো উল্লেখ করে মুসলমান বাচ্চাদের নাকি হিন্দুত্ববাদ শেখানো হচ্ছে । এর পরিবর্তে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত 'সততার পুরষ্কার' যুক্ত করা হয়েছে । এটি পুরোটাই ইসলামিক ধ্যান ধারণা নিয়ে রচিত ।

৪. সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইতে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'লাল ঘোড়া' গল্পটি বাদ দেওয়ার কারণ, গল্পের লালু নামের ঘোড়া। গল্পটিতে পশুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে ; এতে নাকি মুসলমানদের পশু কোরবানিতে বাঁধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে । যার পরিবর্তে হাবীবুল্লাহ বাহারের 'মরু ভাস্কর্য' যুক্ত হয়েছে । যেখানে প্রকাশ পেয়েছে নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবন চরিত ।

৫. সুকুমার রায়ের 'আনন্দ' কবিতায় ফুলকে ভালোবাসার কথা বলেছে যেটা ইসলামের সাথে মেলে না - তাই বাদ পড়ে গেছে। কবি হিন্দু এটাই হয়তো মূল কারণ।

৬. কালিদাস রায়ের 'অপূর্ব প্রতিশোধ' কবিতায় কত সুন্দর ভাবে ইসলামের প্রশংসা করা হয়েছে-

'তার তাজা খুলে ওজু করে আজো নামাজ পড়িনি/আত্মা তোমার ঘুরিছে ধরায় স্বর্গে পাইনি ঠাঁই ! তবুও কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে । হয়ত কবি হিন্দু বলেই।

৭. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের 'মে দিনের কবিতা' কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কবি হিন্দু এটিই হয়তো কারণ।

৮. স্বর্ণকুমারী দেবীর 'উপদেশ' কবিতাতে পিতামাতা এবং গুরুজনকে দেবতুল্য বলা হয়েছে। জগতের সৃষ্টিকর্তা ভগবান, এ কারণে কবিতাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

৯. রণেশ দাশগুপ্তের 'মাল্যদান' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ; অথচ এটাকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ, লেখক হিন্দু।

১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বাংলাদেশের হৃদয়' কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ-

'ডান হাতে তোর খড়গ জ্বলে, বাঁ হাত করে স্নেহের হাসি' কথাগুলির মাধ্যমে নাকি দেবী দুর্গাকে প্রশংসা করা হয়েছে।

১১. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গল্প 'লালু' বাদ দেওয়ার কারণ ওখানে কালীপূজা ও পাঁঠা বলির কাহিনীর বর্ণনা আছে।

১২. অষ্টম শ্রেণির বাংলা বইতে বুদ্ধদেব বসুর 'নদীর স্বপ্ন' কবিতাটি বাদ দিয়ে কায়কোবাদের 'প্রার্থনা' যুক্ত করেছে। এখানেও কবি হিন্দু।

১৩. উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী রচিত 'রামায়ণ কাহিনী-আদিখন্ড' শীর্ষক গল্পটি বাদ দিয়েছে ; কারণ সেখানে রামকে প্রশংসিত করা হয়েছে যেটা নাকি কোমলমতি মুসলমান শিশুদের আঘাত করবে।

১৪. নবম শ্রেণির বাংলা বই থেকে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পালামৌ' গল্পটি বাদ দেওয়ার কারণ, এটি ভারতের পর্যটন স্পট।

১৫. জ্ঞান দাস রচিত 'সুখের লাগিয়া' কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ, কবিতাটিতে রামকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । পরিবর্তে শাহ মোহাম্মদ সগীরের 'বন্দনা' যুক্ত হয়েছে। এটা ইসলামিক চিন্তাধারার কবিতা।

১৬. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর রচিত 'আমার সন্তান' কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ, কবিতায় মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভূক্তি, যেখানে দেবী অন্নপূর্ণাকে প্রশংসা ও প্রার্থনা করার কথা বলা হয়েছে । এর পরিবর্তে আলাওলের 'হামদ' কবিতাটি যুক্ত করেছে।

১৭. লালন শাহ রচিত 'সময় গেলে সাধন হবে না' কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ, লালন সমাজকে প্রশংসিত করেছে, আসলে সকল প্রসংশা আল্লাহ তা'লার। পরিবর্তে আব্দুল হাকিমের 'বঙ্গবাণী' কবিতাটি যুক্ত করেছে ।

১৮. রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়ের 'স্বাধীনতা' কবিতাটি কি কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি । যার পরিবর্তে গোলাম মোস্তফার 'জীবন বিনিময়' কবিতা যুক্ত করেছে। কবি হিন্দু সেটিই হয়তো কারণ।

১৯. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'সাঁকোটা দুলছে' কবিতাটি বাদ দেওয়ার কারণ, ওখানে সাতচল্লিশের দেশভাগকে নাকি হেয় করা হয়েছে । যার পরিবর্তে কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামিক কবিতা 'উমর ফারুক' যুক্ত করেছে।
*
এ পরিবর্তনগুলির ফলে সাহিত্যের মান বাড়েনি বরং সার্বজনীনতা রুদ্ধ হয়েছে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থেকে এ কাজগুলি সজ্ঞানে করেছে নাকি অজ্ঞাতে করেছে জানি না।

দেশের স্কুলগুলো যেহেতু মাদ্রাসার ভূমিকা পালন করছে সেহেতু দেশে মাদ্রাসা বাড়ানোর দরকার নাই।
 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 31/01/2020
সর্বমোট 758 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ