ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

দেশের জনগণ ভালো হলে সরকারও ভালো হবে (পর্ব—১)



দেশের জনগণ ভালো হলে সরকারও ভালো হবে (পর্ব—১)

সাইয়িদ রফিকুল হক

 
এই দেশের অধিকাংশ মানুষের একটা বড় রোগ, অপরাধ, সমস্যা আর বাড়াবাড়ি হলো—অতিকথন। এটা বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এদেশের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় সর্বক্ষেত্রে অতিরিক্ত কথা বলে থাকে। কোনো বিষয়সম্পর্কে এদের সামান্য ধারণা, বুদ্ধি, জ্ঞান, কিংবা প্রজ্ঞা না থাকলেও—এরা জটিল ও কঠিন বিষয়গুলো নিয়েও খুব সাধারণ, নিম্নমানের, সস্তা ও ভুল কথাবার্তা বলে থাকে। আর এরা মনে করে থাকে: যেকোনো বিষয় নিয়ে একটাকিছু বা কোনো কথা বলতে পারলেই—রাজাটাজা হয়ে যাবে! তাই, দেখা যায়—যে রাজনীতি বোঝে না, সমাজনীতি বোঝে না, অর্থনীতি বোঝে না, মানবনীতি বোঝে না, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বোঝে না, জীবনদর্শন ও জীবনাদর্শ বোঝে না—তারাও এসব বিষয়ে অহেতুক বড়-বড় আর ভারী-ভারী কথা বলছে! এদের কথা বলার মতো হয়তো সামান্য ভাষাজ্ঞান আছে—কিন্তু কোনো উচ্চতর মহৎদর্শন, সাধারণ ভাবনাচিন্তা বা সামান্য বুদ্ধিও নাই। তবুও এরা কী অবলীলাক্রমে বড়-বড় কথা বলে থাকে!
 
দেশের একশ্রেণীর মানুষ খুবই অবিবেচক। এরা অতিশয় পাষণ্ড কিংবা একেবারে শণ্ঢ! তাই, এরা বুদ্ধি-বিবেচনা করে আজকাল কোনো কথা বলে না। আমাদের দেশের একটা বৃহৎঅংশের কোনো ‘সিভিক-সেন্স’ নাই। কিন্তু এরাই আবার কাছা দিয়ে সরকারের সমালোচনা করতে-করতে নিজেদের মুখে একেবারে ফেনা তুলে ফেলে!
 
এই কাণ্ডজ্ঞানহীন-নাগরিকদের কয়েকটি আচরণিক বৈশিষ্ট্য এখানে তুলে ধরছি:
 
১. হাতের কাছে ফুটওভারব্রিজ থাকাসত্ত্বেও এরা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে ও আইন-অমান্য করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কের মাঝখান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কেউ এদের বাধা দিলে—এরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়! এরাই আবার সমাজে-রাষ্ট্রে আধুনিক পোশাকআশাক পরে ভদ্রলোক সাজার চেষ্টা করে থাকে! কিন্তু আমরা জানি, ব্যবহারে বংশের পরিচয়।
 
২. একজন একটা দুই টাকা দামের হোন্ডা বা মোটর-সাইকেল হঠাৎ দাঁড় করিয়ে দিলো একটা ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে বা মাঝখানের কাছাকাছি একটা জায়গায়। তা দেখে ব্যস্তসমেত দৌড়ে এলো রাস্তায় দায়িত্ব-কর্তব্যপালনরত ট্রাফিক-পুলিশ। তার উপর তেড়ে আসে এই হোন্ডা-আরোহী পাতিমাস্তান। কোনো ভদ্রলোক তার এই অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে তার উপরও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে এই পশুগুলো। সে লোকজনের কথায় রাস্তার মাঝখান থেকে হোন্ডা তো সরাবেই না—উল্টা এদের সঙ্গে কুতর্কে লিপ্ত হবে। আর সেও কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারের সমালোচনা করে থাকে।
 
৩. মার্কেটের সামনে, মসজিদের সামনে বা রাস্তার মাঝখানে না হলেও—এর বড় একটা অংশজুড়ে প্রাইভেট কার পার্ক করে রেখেছে একটা বেকুব! তার এই অপকাণ্ড দেখে যেকোনো বিল্ডিংয়ের ওয়াচম্যান বা সিকিউরিটির লোকজন বা সাধারণ মানুষ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে—এরাও ক্ষমতা দেখায়! এরাও সরকারের সমালোচনা করতে-করতে খাবি খাচ্ছে! কিন্তু নিজের সমালোচনা একবারও করছে না!
 
৪. ফুটপাতজুড়ে একেকটা অবৈধভাবে দোকানদারি করছে! এদের মাথায় টুপি! ভাব দেখায়—কত নামাজি! এইসব দোকানের জন্য রাস্তায় মানুষজনের চলাফেরায় ও গাড়িচলাচলে ব্যাঘাতসৃষ্টি হচ্ছে। আপনি এদের কিছু বললে—এরা আপনার বিরুদ্ধে লেগে পড়বে। সরকার এদের উচ্ছেদ করতে চাইলে সরকার খারাপ হয়ে যাবে! অথচ, এই ফুটপাত এদের বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়।
 
৫. রাস্তার পাশে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গজিয়ে ওঠা দোকানপাটে বসে নিয়মিত চা-পান-সিগারেট খাচ্ছে অনেকে। এরা অন্যায়কারীকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করছে। আবার এরাই ফুটপাতের দোকান থেকে কলা খেয়ে তার খোসা ছুঁড়ে ফেলছে মানুষ-চলাচলের রাস্তায়! কতটা অভদ্র আর ইতর হলে এরকম অপকর্ম করতে পারে। এরাও সরকারের সমালোচনা করতে একটু ছাড় দিবে না! এরা নিয়মিত ফুটপাতের দোকান থেকে খাবারজিনিস কিনে খায়, আরও কত জিনিসপত্র কেনে—আবার এরাই ফুটপাতের দোকানপাট তুলে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর-দাবি জানায়! এরা কত বড় ভণ্ড! একবার এটা একটুখানি ভেবে দেখেছেন?
 
৬. এরা ঢাকা-শহর থেকে সরকারকে রিক্সা তুলে দিতে বলে—আবার সরকার রিক্সা তুলে দিতে চাইলে এরা সরকারের সমালোচনায় মেতে ওঠে! এই লোকগুলো বড় আজব-জিনিস! আর আমাদের স্বাধীনবাংলাদেশে এই আজব-জিনিসের কোনো কমতি নাই।
 
৭. সকালে অফিস-যাত্রার বা কর্মস্থলে যাওয়ার সময়ে একদল লোক পাগলের মতো ছুটছে! সঠিক সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য এরা কখনো আগেভাগে বাসা থেকে বের হবে না। শেষে, তাড়াহুড়া করে অফিসে যাওয়ার জন্য এরা বাসে-টেম্পুতে ইচ্ছেমতো ঠেলাঠেলি করবে!
 
৮. অনেকের অর্থসম্পদ বা টাকাপয়সা বেশি আছে বলে জনে-জনে গাড়ি বা প্রাইভেট-কার কিনে রাস্তায় নামিয়েছে! আবার রাস্তার যানজটের জন্য সরকারের সমালোচনাও করছে! অথচ, নিজেরা যে যানজটসৃষ্টি করছে—তার কোনো আত্মসমালোচনা নাই! এমনকি এর জন্য এদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনাবোধও নাই!
 
দেশের একশ্রেণীর লোক এখন প্রতিনিয়ত আজেবাজে, আলতুফালতু, আবোলতাবোল, উদ্ভট, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও কল্পনাপ্রসূত কথাবার্তা বলতে খুব ভালোবাসে। আর এদের মুখ করাতের চেয়েও ধরালো ও ভয়ংকর!
 
 
(চলবে)

 
সাইয়িদ রফিকুল হক
৩০/১২/২০১৯
 

ছবি
সেকশনঃ রাজনৈতিক
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক১ তারিখঃ 31/12/2019 06:52 PM
সর্বমোট 168 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ