ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

বেনামি চিঠি

, দ্বিতীয় পর্ব ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, নীলান্তি এবারও চিঠিটা রেখে দিলো,কারন নীলান্তি কবিতা আর গল্প খুব পছন্দ করে।সময় গড়িয়ে বিকেল হতে লাগলো,সুর্য্যটা রক্তিম বর্ন ধারন করেছে,অপুর্ব এক পরিবেশ,গোধূলীর রঙে রাঙানো পুরো বিকেলটা নীলান্তিকে ডাকছে,ভাবিকে বলে সে বাইরে বের হলো।জাহাঙ্গীর নগরের ভিতরের পরিবেশটা সবুজে ঘেরা,বিকেল বেলা সবুজ হয়ে উঠে মায়াময়,সারি সারি গাছ আর তার মাঝে মাঝে বসার জন্য ব্রেঞ্চ।নীলান্তি রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছে,হাটা হাটি নীলান্তির প্রচন্ড ভালোলাগে,মনেহয় অনন্ত কালের একটা বিকেল থাকতো আর সেই পুরো বিকেলটা আলতো পায়ে হেটে হেটে পার করত নীলান্তি তাহলে জীবনটা পুর্নতা পেতো।ভাবনার অন্তরিক্ষে অনেক বুনন থাকে যেগুলো আলপনার সপ্তরঙে রাঙানো একেকটা নকশী কাঁথা,হাটতে হাটতে নীলান্তি একটা ব্রেঞ্চিতে বসলো,মোবাইলটা হাতে নিয়ে কয়েকটা সেল্ফি নিলো,এমন সময় একটা পিচ্চি ছেলে এসে বলল_ , পিচ্চি ছেলে--আপু ফুলটা আপনার জন্য নীলান্তি--(ফুলটা হাতে নিয়ে)বাবু কে তোমাকে ফুলটা দিলো?? পিচ্চি ছেলে--(নীলান্তির দিকে দাকিয়েই হাত ইশারা করে দেখিয়ে)ওই ভাইয়া টা আমাকে বলল ফুলটা আপনাকে দিতে। নীলান্তি--কই তোমার ভাইয়া?ওখানে তো কেউ নেই। পিচ্চি ছেলে--এখানেই তো ছিলো,কোথায় গেলো আবার? নীলান্তি--আচ্ছা তুমি যাও। , এর আগেও অনেক ছেলে নীলান্তিকে এই রাস্তায় দাড়িয়ে ফুল দিয়েছে,কিন্তু ফুল গুলো পদদলিত হয়েছে,প্রতিবারের মত এই ফুলটাও নিস্তার পায়নি।এসব নীলান্তির ভালো লাগেনা,কিছুদিন আগেও একটা ছেলে ফুল দিয়েছিলো সাথে সাথে নীলান্তি ছেলেটাকে সবার সামনে অপমান করে।নিস্তব্দ বিকেলটা প্রায় শেষের পথে,সুর্য্য আর দেখা যাচ্ছে না,ঘনিয়ে আসছে কালো আধার,আধারকে স্বাগতম জানাতে ভীর জমাচ্ছে সবুজ বাতি নিয়ে জোনাকির দল।বাসায় ফেরার পথে নীলান্তি রুপার বাসায় ঢুকলো,রুপা হচ্ছে নীলান্তির বান্ধবী।নীলান্তি ক্লাশ কম করে এজন্য রুপার কাছ থেকে নোট গুলো নেয় যেনো পড়ালেখার সমস্যা না হয়।নোট নিয়ে নীলান্তি বাসায় চলে আসলো। , পরদিন নীলান্তি সকাল বেলা নাস্তা করে খবরের কাগজ পড়ছে এমন সময় কলিংবেল বাজলো,নীলান্তি দরজা খুলে দেখলো ডাক পিয়ন। পিয়ন চিঠি দিয়ে রেজিষ্টার খাতায় সাইন নিয়ে চলে যাবে এমন সময় নীলান্তি পিয়নকে পিছন থেকে ডাকলো_ , নীলান্তি--এই যে শুনেন পিয়ন--জ্বী ম্যাডাম বলেন নীলান্তি--এই চিঠি গুলো কে পাঠাচ্ছে? পিয়ন--আমি কি করে বলবো বলেন?আমি বার্তা বাহক মাত্র,চিঠি খুলে দেখার অনুমতি নেই,আর ব্যক্তিগত চিঠি এখানে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারিনা। নীলান্তি--অও আচ্ছা,ঠিক আছে আপনি যান। , নীলান্তি চিঠিটা নিয়ে বারান্দায় গিয়ে খুললো,ব্যপার টা নীলান্তির আশ্চর্য্য লাগলো,একটা মানুষ তাকে বারবার চিঠি দিচ্ছে,তার সব খবর রাখছে অথচ সামনে আসছে না। এবারের চিঠি পড়ে আরো কৌতুহল জাগছে নীলান্তির মনে। , প্রিয় নীলান্তি, তুমি যে অনেক ভালো আছো সেটা তোমাকে দেখেই বুঝেছি,বাসন্তি শুভ্রতা তোমাকে আরো অন্যপুন্যা করেছিলো,আমি অপলকে দেখেছি,দেখে বুঝেছি সুখের মানে টা,নীল আকাশটা বড়ই মুগ্ধকর ছিলো,সাদা মেঘের পালকি হয়ে এসেছিলাম তুমি বুঝলেই না। জানি তুমি বেনামী মানুষটাকে জানতে চাও,কিন্তু আমি তো আর তোমার আকাশের নীল না,আমি তোমার আকাশে ভেসে আসা এক টুকরো মেঘ,যেই মেঘ তোমার আকাশের নীলের কাছে অনেক তুচ্ছ। তুমি যখন একা একা হাটছিলে আমার মত নিঃসঙ্গ কেউ ছিলোনা,তোমাকে উপলদ্ধি করতে যখনি অগ্রসর হই মনে হয় আমার সামনে দাড়িয়ে আছে দৈত্যাকৃতির এক বিশাল দেয়াল।ভাবলাম তোমাকে একটু খুশি করি,ইচ্ছে করছিলো তোমাকে পৃথিবীর সমস্ত ফুল দিয়ে দিই কিন্তু যেখানে একটা ফুল পদদলিত হয় সেখানে সমস্ত ফুলের মৃত্যু অনেক কষ্টের। মানুষ মানুষকে ভালোবাসে ফুলকে না,কিন্তু এই ভালোবাসার কারনে মানুষকে ভালোবেসে সহস্র ফুল নিজেকে উৎসর্গ করে দেয়। তেমনি কাল আমার কারনে আরো একটি ফুল পদদলিত হয়েছে,আমি অপরাধি আমি নিজেকে কি করে ক্ষমা করব?আমার কারনে একটা ফুলের মৃত্যু হয়েছে,তোমাকে খুনি বলবনা কারন তুমি তো আমাকে কাছে পাওনি যে আমাকে পদদলিত করবে। নিঃশ্পাপ পাপড়ি গুলো রক্তাক্ত হয়েছে,হাজারো ফুল আমাকে দেখে ধিক্কার দিচ্ছে,চোখের কোনে এক ফোটা জল এসেছিলো,লোকে বুঝবে বলে নিজেকে সামলেছি অনেক কষ্টে।তবুও তোমার চলার পথে চেয়ে থেকেছি শেষ পর্যন্ত,বিকালটা অনেক সুন্দর ছিলো,তার চেয়ে সুন্দর ছিলে তুমি কিন্তু তোমার ভেতরের মানুষটা অনেক কঠিন,যার কারনে সুন্দরের সৈন্ধর্য্য তোমার কাছে তিত্ত।আমি জানি তুমি রুপার বাসায় গিয়েছিলে নোট কালেক্ট করতে ভাবলাম মনটা ভালো হয়ে যাবে রুপার সাথে কিছুক্ষন থাকলে কিন্তু সেটাও হলো না তোমার মনটা কারাপ ছিলো।তোমার মন খারাপ থাকলে আমারো কষ্ট হয়,সব কষ্ট মিলিয়ে এক মহা কষ্টের কূপ তৈরি হতে লাগলো আমার বুকে আর কষ্ট গুলো আমাকে বিব্রত করে দিচ্ছে তাই আর লিখতে পারলাম না, ভালো থাকো এই কামনা রইলো তোমার প্রতি , নীলান্তি এবার নিজেকে অপরাধী মনে করতে লাগলো,কিন্তু সে তো এসব পছন্দ করেনা,কেমন যেনো এক মায়া তার হৃদয়ে কালবৈশাখী হয়ে লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে সব,নীলান্তি অজান্তেই ভাবছে অজানা অচেনা একটা মানুষকে,মানুষটা কি চায় তার কাছে?হাজারো প্রশ্ন ঘুরে বেরাচ্ছে নীলান্তির আসপাশ জুরে।সে কি তাহলে আমার আশে পাশে থাকে? নীলান্তি চিন্তা করলো রুপাকে সব বলবে তাই নীলান্তি রুপাকে ফোন করলো। , নীলান্তি--হ্যালো রুপা কি করছিস? রুপা--না কিছু করছি না,নোট গুলো কি সমস্যা হইছে? নীলান্তি--আরে না,আমি একটা সমস্যায় পরেছি রুপা--কি সমস্যায় পরেছিস? নীলান্তি--অচেনা এক ঠিকানা থেকে আমার নামে চিঠি আসে,আমি কি করছি কোথায় যাচ্ছি কি বলছি সব সে জানে। রুপা--হয়তো তোর পরিচিত কেউ হবে। নীলান্তি--আমারো তাই মনে হচ্ছে,চিঠির প্রতিটি কথা অসাধারন ভাবে লিখছে আমি সব চিঠি রেখে দিয়েছি।মজার বিষয় কি জানিস? রুপা--কি? নীলান্তি--কাল বিকেলে তোর বাসায় গেছি সেটাও আজকের চিঠিতে বলছে। রুপা--বলিস কি?আমাকেও চিনে? নীলান্তি--হুমম,কালকে বিকালে একটা পিচ্চি ছেলে আমাকে একটা ফুল দিয়েছিলো,ফুলটা ওই অচেনা মানুষটা দিয়েছিলো।কিন্তু আমি পায়ের নিচে ফেলে পিষে দিয়েছি,কাজটা মনে হয় ঠিক করিনাই। রুপা--দেখ নীলান্তি ঠিক বেঠিক বুঝি না,তুই যা করেছিস সব তোর ইচ্ছাতে,ভালো মন্দ বিচার করার মত তোর বয়স হইছে। নীলান্তি--তবুও কেমন যেনো খারাপ লাগছে,দোষ করলে মানুষ করেছে ফুল তো দোষ করেনি। রুপা--তা ঠিক বলেছিস নীলান্তি--তাহলে এখন কি করব?? রুপা--তাহলে আর কি করার আছে?তুই একটা কাজ কর কালকে আবার ঘুরতে যাবি আর যেখানে যাবি নির্দিষ্ট একটা স্থানে একটা চিরকুট ফেলে আসবি,যদি কেউ নিতে আসে তাহলে ভাববি সেই তোকে চিঠি দিয়েছে। নীলান্তি--তোর মাথায় তো হেব্বি বুদ্ধি!!আচ্ছা ঠিক আছে ভালো থাকিস,রাখি তাহলে। রুপা--বাই নীলান্তি--বাই , চলবে

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ মোঃসুমন আহমেদ জয় তারিখঃ 23/12/2019 11:38 PM
সর্বমোট 113 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ

সর্বোচ্চ পঠিত

এই তালিকায় একজন লেখকের সর্বোচ্চ ২ টি ও গত ৩ মাসের লেখা দেখানো হয়েছে। সব সময়ের সেরাগুলো দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন