ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

‘তৌহিদী-জনতা’র সংজ্ঞা ও এদের আদি-আসল পরিচয়




‘তৌহিদী-জনতা’র সংজ্ঞা ও এদের আদি-আসল পরিচয়

সাইয়িদ রফিকুল হক

 
‘তৌহিদী-জনতা’র নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নাই।  এখানে, নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে কতকগুলো পশু একত্রিত হয়। ইসলাম-অন্ধ কতকগুলো পশু নিজেদের স্বার্থ ও দলীয় মতাদর্শ কায়েম করার জন্য নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পূর্ণভাবে গোপন করে এই ‘তৌহিদী-জনতা’র ব্যানারে মাঠে-ঘাটে-ময়দানে-রাজপথে নেমে পড়ে বিশৃঙ্খলাসৃষ্টি করে থাকে। এরা থাকে সামনে। আর এদের পিছনে থাকে বাংলাদেশবিরোধী সেইসব বড়-বড় শয়তান। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ চায়নি—আর এখনও চায় না। বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল থেকে এখানে সকল শয়তানের অনুপ্রবেশ, সমাবেশ ও মহাসমাবেশ ঘটে।  সাধারণ, মূর্খ, ধর্মান্ধ মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে নিজেদের দলভারী করতে এরা এই প্ল্যাটফর্মের নাম দিয়েছে ‘তৌহিদী-জনতা’। আসলে, এটি বাংলাদেশবিরোধী ‘শয়তানী-জনতা’। এদের জন্মই হয়েছে দেশের ভিতরে সাম্প্রদায়িক-সংঘাতসৃষ্টিসহ সবরকমের শয়তানী করা। এই ‘তৌহিদী-জনতা’র প্রধান খাদ্য—হুজুগ, গুজব, সাম্প্রদায়িক-উস্কানি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার, সহিংসতা, জঙ্গিপনা, সন্ত্রাস, নাশকতা, সংখ্যালঘুনির্যাতন, দেশদ্রোহিতা ইত্যাদি।
 
‘তৌহিদী-জনতা’র সংজ্ঞা:
ইসলাম-রক্ষার কথা বলে যারা হঠাৎ-হঠাৎ পরিকল্পিতভাবে উত্তেজিত হয়, এবং এইসময় তারা হিন্দুসহ যেকোনো অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর ভয়ংকরভাবে চড়াও হয়—তাদের বলা হয় ‘তৌহিদী-জনতা’। অন্যভাবে বলা যায়, দেশের ভিতরে মাঝে-মাঝে নানারকম শয়তানী ও বদমাইশী  করার অভিপ্রায়ে যারা বিভিন্নরকম সাম্প্রদায়িক-ইস্যুসৃষ্টি করে ইসলামের নামে মানুষের জানমাল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে থাকে—তারাই ‘তৌহিদী-জনতা’। এইসময় এদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা না হলেও—এরা সবসময় বাংলাদেশরাষ্ট্রের বিরোধিতাকারী, পাকিস্তানের দালাল ও সীমাহীন সাম্প্রদায়িক-নরপশুগোষ্ঠী। এরা হিন্দুদের ওপর বা হিন্দুদের বিরুদ্ধে নাশকতাসৃষ্টির সময় সব দল মিলেমিশে একাকার ও এককাট্টা হয়ে যায়। এখানে, ‘তৌহিদী-জনতা’র রাজনৈতিক কোনো পরিচয় বড় হয়ে দেখা দেয় না। আর এখানে, শুধু এদের নীতি, বিশ্বাস, চরিত্র ও আদর্শই মিলনের মূলমন্ত্র। সব পশু এইখানে মিলেমিশে ‘ইসলাম-রক্ষা’র নামে একদলে ও একপ্ল্যাটফর্মে শামিল হয়ে যায়।
 
বাংলাদেশে ‘তৌহিদী-জনতা’ শব্দটি নতুন নয়। তবে এর প্রচলন ও ব্যবহার শুরু হয়েছে আশির দশকের শুরুতে। এই শব্দটির প্রবক্তা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান, তাদের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির পাকিস্তান, ইসলামী যুবশিবির পাকিস্তান, এবং তাদের সমমনা অন্যান্য যুদ্ধাপরাধী ইসলামী রাজনৈতিক দল। এখানে উল্লেখ্য যে, জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতারা তাদের কথাবার্তায় ও ওয়াজমাহফিলে এই শব্দটির ব্যাপক প্রচলন করেছিল। পরবর্তীতে তাদের মিত্র বা ‘ইসলামী-সমমনা’ দলগুলো এই শব্দটি লুফে নেয়। এই দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তান, নেজামে ইসলাম পার্টি পাকিস্তান, খেলাফত আন্দোলন পাকিস্তান, খেলাফত মজলিশ পাকিস্তান, চোরমোনাই-পীরের ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন পাকিস্তান’ বা ‘ইসলামী আন্দোলন পাকিস্তান’, ইসলামিক পার্টি পাকিস্তান, ইসলামী মোর্চা পাকিস্তান, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন পাকিস্তান, হেফাজতে ইসলাম পাকিস্তান ওরফে হেফাজতে শয়তান পাকিস্তান ইত্যাদি। মনে রাখবেন: ইসলামের নামে এইসকল রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের দালাল ছিল। তাই, এরা নামে একটু ভিন্ন হলেও নীতি, আদর্শ ও চরিত্রে সবসময় এক ও অভিন্ন। এরা চিরদিন বাংলাদেশবিরোধী আর শয়তানের দোসর।
 
‘তৌহিদী-জনতা’ কী?
শব্দটি এসেছে মূলত ‘তাওহীদ’ শব্দ থেকে। বাংলাদেশের মসজিদ-মাদ্রাসার হুজুর ও পাতিহুজুররা সবসময় উর্দুপ্রেমিক। তাদের উর্দু-উচ্চারণে শব্দটি বিকৃত হয়ে তা হয়েছে তৌহিদ। আরবিতে ‘তাওহীদ’ শব্দের অর্থ একত্ববাদ। অর্থাৎ, এখানে আর-কোনোকিছুর অস্তিত্ব নাই। আল্লাহ এক ও অভিন্ন। সেই থেকে মূর্খ-মুসলমানরা ধরে নিয়েছে: এক আল্লাহর এক ধর্ম। ইসলাম ব্যতীত আর-কোনো ধর্ম নাই। মুসলমানদের ধর্মবিশ্বাসের মূলেও এটি। এজন্য আজকাল বেশিরভাগ মুসলমান ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে স্বীকার করে না বা শ্রদ্ধার চোখেও দেখে না। এই শ্রেণীটি ভয়ংকরভাবে গোঁড়া, ধর্মান্ধ, উগ্র, জঙ্গি, ধর্মউন্মাদ, সাম্প্রদায়িক ও ধর্মকেন্দ্রিক ধর্মজীবী। বস্তুতঃ ‘তৌহিদী-জনতা’ হলো একশ্রেণীর মূর্খ, অতিমূর্খ, চিরমূর্খ, জাহেল, অশিক্ষিত (সার্টিফিকেটধারী হলেও চিন্তাচেতনায় অশিক্ষিত), কথিত শিক্ষিত নামক মডারেট, সুশীল-নামধারী অর্ধশিক্ষিত মুসলমানদের একটি প্ল্যাটফর্ম। মুসলমানদের মধ্যে যারা সুশিক্ষিত ও কালচার্ড হতে পারে—একমাত্র তারাই অসাম্প্রদায়িক হয়ে থাকে। বাদবাকী এই ‘তৌহিদী-জনতা’র অংশীদার।
 
‘তৌহিদী-জনতা’ কে?
বাংলাদেশেবিরোধী সর্বস্তরের শয়তান ও শয়তানীতে পারদর্শী যেকোনো মুসলমানই এই ‘তৌহিদী-জনতা’র উৎস। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের নরপশু, নেজামে ইসলাম পার্টির নরপশু, খেলাফত আন্দোলনের নরপশু, খেলাফত মজলিশের নরপশু, হেফাজতে শয়তানের চিরপশু, চোরমোনাই-পীরের মুরীদ-ছাগলপাগল, বিএনপি-ছাত্রদলের নরপশু, আওয়ামীলীগের নষ্ট, পতিত ও ভণ্ড একটা অংশ মিলেমিশে এই ‘তৌহিদী-জনতা’। এরা যখন ‘তৌহিদী-জনতা’ হয় তখন এদের মধ্যে কোনো হিতাহিতজ্ঞান থাকে না। এরা বনের হিংস্র পশু আদিম-শুয়োরের চেয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এইসময় এদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। এরা হয়ে যায় বাজারের ‘পতিতা’র মতো। একটা পতিতার কাছে যেমন বাপ-ছেলে, চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগ্নে, ভাই-বন্ধু, পাড়াপড়শী ইত্যাদি কোনো বিষয় নয়—তেমনিভাবে এরাও ‘তৌহিদী-জনতা’ হয়ে ওঠার সময় কে কোন্ দল করে তা একবারও ভাবে না। এরা সব দল মিলেমিশে কথিত ‘ইসলাম-রক্ষা’র নামে দেশব্যাপী যেকোনো ধরনের নাশকতাসৃষ্টিতে লিপ্ত হয়ে থাকে। সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দিনের সাম্প্রদায়িক-ঘটনা থেকে শুরু করে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক তথা পরিকল্পিতভাবে ‘হিন্দুবিরোধী-আগ্রাসনে’ বাংলাদেশের সর্বস্তরের ‘তৌহিদী-জনতা’র এই পতিতাচরিত্র দেখেছি। সবখানে জামায়াত-শিবির, হেফাজতে শয়তান, বিএনপি-ছাত্রদল আর আওয়ামীলীগের একটা নষ্ট অংশ সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়েছে।
 
‘তৌহিদী-জনতা’র আদি-আসল পরিচয়:
পূর্বেই বলা হয়েছে সকল দলের পাপের ফসল এই ‘তৌহিদী-জনতা’। এগুলো বাংলাদেশের দীর্ঘদীনের পূঞ্জীভূত আবর্জনা। এরা পাকিস্তান থেকে আসেনি। কিন্তু এরা জীবনে-মরণে, চিন্তাচেতনায়, ভাবনাচিন্তায়, চরিত্রে, মননে, বিশ্বাসে, জীবনাদর্শে, ভাবধারায় ও জীবনদর্শনে এখনও পাকিস্তানী বা পাকিস্তানপ্রেমিক। আর এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। সংক্ষেপে বাংলাদেশের ‘তৌহিদী-জনতা’র পরিচয় এখানে তুলে ধরা হলো:
 
১. এটি মূলত স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি প্ল্যাটফর্ম। এরা সাধারণ মুসলমানদের চোখে ধুলা দেওয়ার জন্য এই ‘তৌহিদী-জনতা’র ব্যানারে ছদ্মবেশধারণ করেছে। এরা সবসময় ছদ্মবেশীশয়তান।  ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতাবিরোধীদের অনেক নাম ছিল। যেমন: রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি-কমিটির সদস্য, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রসংঘ, নেজামে ইসলাম, মুসলিম-লীগ, হেফাজতে ইসলাম ওরফে হেফাজতে শয়তান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী-মাদ্রাসার মুজাহিদবাহিনী, শর্ষিণা ওরফে ছারছীনা-মাদ্রাসাগোষ্ঠী ও তাদের ছাত্র-হিজবুল্লাহ, চোরমোনাইয়ের পীরগোষ্ঠী ও তাদের ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন ইত্যাদি। এরাই মূলত বাংলাদেশে ‘তৌহিদী-জনতা’র প্রবক্তা, রূপকার ও প্রধান মদদদাতা।
 
২. বাংলাদেশের সর্বস্তরের কওমীমাদ্রাসা ও আলিয়ামাদ্রাসাসমূহের হুজুর, পাতিহুজুর ও তাদের অনুগত ধর্মান্ধ ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। এরা নিজেদের সবসময় ‘তৌহিদী-জনতা’ ভাবতে খুব ভালোবাসে। আর বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক কোনো ইস্যু নিয়ে কোনোকিছু ঘটলে এরা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে রাস্তায় নেমে পড়ে। আর ১৯৭১ সালের মতো—আবার পাকিস্তান-কায়েম করার চেষ্টা করে থাকে।
 
৩. বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বঘোষিত পীর ও পীরের দরবার, তাদের আস্তানা ও মুরীদসমূহ। এরা অতিনিকৃষ্ট। এরা সবসময় ধর্মব্যবসায়ী ও ধর্মজীবী। এই সকল দরবারের পীর ও মুরীদ উভয়ই অশিক্ষিত, অজ্ঞ, ধর্মান্ধ, পথভ্রষ্ট ও শয়তানের অনুসারী। যেমন: বরিশালের চোরমোনাইয়ের পীর, পিরোজপুরের শর্ষিণার পীর, চট্টগ্রামের কাগতিয়ার পীর, ঢাকার রাজারবাগের পীর ইত্যাদি। এরা ভয়ংকর ভণ্ড হলেও সবসময় ‘তৌহিদী-জনতা’র অংশীদার।
 
৪. ‘তাবলীগ-জামাতে’র অনুসারীবৃন্দ। এরা সচরাচর মাঠে-ঘাটে না নামলেও ভিতরে-বাইরে সবসময় ধর্মান্ধ, গোঁড়া, সাম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমবর্জিত জীব। আর ভিন্নধর্মাবলম্বীদের প্রশ্নে এরা ‘তৌহিদী-জনতা’র দর্শনেই চিরবিশ্বাসী। এরা দেখতে শান্তশিষ্ট হলেও ভিতরে-ভিতরে একেকটা ভয়ংকর জঙ্গি কিংবা সেমি-জঙ্গি।
 
৫. আধুনিক সার্টিফিকেটধারী তথাকথিত শিক্ষিত-নামের মডারেট মুসলমানশ্রেণী। এরা ভিতরে-ভিতরে সবসময় সেমি-জঙ্গি। আর ধর্মের ব্যাপারে এরা যেকোনো সময় জঙ্গি হয়ে উঠতে পারে। এদের কারও-কারও নামের আগে কথিত ব্যারিস্টার, অ্যাডভোকেট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টরেট, সাবেক সচিব, পাতিমন্ত্রী, পুলিশ-অফিসার, আর্মি-অফিসার, রাজনীতিবিদ, কলামনিস্ট, পত্রিকা-সম্পাদক ইত্যাদি থাকতে পারে। কিন্তু কাজেকর্মে ও চিন্তাধারায় এরাও সবসময় ‘তৌহিদী-জনতা’র অংশীদার।
 
৬. সাধারণ অজ্ঞ, অশিক্ষিত (সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত হলেও অশিক্ষিত), ধর্মান্ধ, নামাজী, মসজিদগামী, হাজী, অর্ধশিক্ষিত ইত্যাদি। এই শ্রেণীর মধ্যে রয়েছে: ধার্মিক চা-বিক্রেতা, পানদোকানদার, মুদীদোকানদার, রিক্সাওয়ালা, ভ্যানচালক, মুরগীওয়ালা, টাউট-বাটপাড়, চোর-চোট্টা, কসাই, মাথায় টুপি দেওয়া যেকোনো ভণ্ড, বংশীয় গোঁড়ামিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, বাসের হেলপার-কন্ডাক্টর-ড্রাইভার, সিএনজি-চালক, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ঘুষখোর কর্মচারী ও কর্মকর্তা ইত্যাদি। এরা নিজেদের খুব ধার্মিক ভাবে। আর ব্যক্তিজীবনে সবসময় একেকটা জঙ্গি কিংবা সেমি-জঙ্গি। ‘তৌহিদী-জনতা’র ডাক এলেই এরাও ঝাঁপিয়ে পড়ে।
 
৭. রাজাকার ও রাজাকারদের প্রতিনিধি একশ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা-ব্যবসায়ীগোষ্ঠী। এই দলের প্রধান-প্রধান মুখপাত্র হলো: দৈনিক ইনকিলাবগোষ্ঠী, দৈনিক আমার দেশগোষ্ঠী, দৈনিক নয়াদিগন্তগোষ্ঠী, দৈনিক সংগ্রামগোষ্ঠী, আল বাইয়্যেনাতগোষ্ঠী, দৈনিক আল ইহসানগোষ্ঠী ইত্যাদি। এরা সবসময় শয়তানের অনুসারী এবং ‘তৌহিদী-জনতা’র মুখপাত্র হয়ে কাজ করছে।
 
৮. দেশের সর্বস্তরের ছোট-বড় রাজাকারের সমন্বয়ে বৃহৎ রাজাকারশ্রেণী। এরা ‘তৌহিদী-জনতা’র অন্যতম প্রধান ইন্ধনদাতা ও পৃষ্ঠপোষক। এদের জন্যেই ‘তৌহিদী-জনতা’ নামক প্রাণিগুলো আজও বাংলাদেশে বেঁচে আছে।
 
বাংলাদেশে ধার্মিকের জন্ম হচ্ছে না—বরং ধর্মের নামে একশ্রেণীর ধর্মান্ধের জন্ম হচ্ছে। এরা ‘তৌহিদী-জনতা’ হতে ভালোবাসে। তাই, দেশের ভিতরে ধর্ম নিয়ে যেকোনো একটা ইস্যুসৃষ্টি হলে এরা সচকিত হয়ে ওঠে। এদের ঈমানদণ্ড লাফিয়ে ওঠে আর বলে: “তুই এখনও ঘরে বসে! যা এখনই যা। বাইরে বেরিয়ে পড়। আর রাস্তায় নেমে পড়। আর মিশে যা ‘তৌহিদী-জনতা’র শিবিরে।”
 
মানুষ আর মানবতার জয় হোক।
 
 
সাইয়িদ রফিকুল হক
০১/১১/২০১৯
 

ছবি
সেকশনঃ ইতিহাস
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক১ তারিখঃ 01/11/2019 07:36 PM
সর্বমোট 178 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ