ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত সড়ক পরিবহন ও তাদের সহায়তাকারীদের পোয়াবারো

সড়কে কোন শৃংখলা নেই। বিআরটিএ নামক একটা অনিয়ম এর কারখানা চারু রেখে চালুকৃত নতুন আইন হলো অনিয়মকে আরেকটু প্রাতিষ্ঠানিক করা। লাইসেন্স ও কাগজপত্র নির্দিষ্ট ফি দিয়েও সময় মতো না পাওয়া সহ নানান হয়রানি বন্ধ করবার ও সেটা করবার কোন চেস্টা না করেই চাপিয়ে দেওয়া হইছে এই আইন। 

বাস, ট্রাক, টেম্পু আর মটর সাইকেলের জন্য একই আইন! একই বিধি!!! তারউপর তো রয়েছে আমাদের সৎ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী ভাইদের সড়কজুরে চাদাবাজী। ২০০% টেক্স দিয়ে হয়রানি হতে মানুষ মোটরসাইকেল কিনবে না। গণপরিবহনে অরাজকতা না ঠেকিয়ে উল্টা ক্ষমতার দৌড়াত্বে করা এই আইন অসন্তোষই তৈরী করবে। আসুন আইন গুলো দেখি - 
 

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া পেশাদার বা অপেশাদার চালক গাড়ি চালালে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রেখে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভা আইনটির খসড়ায় অনুমোদন দেয়। গত বছরের ৮ অক্টোবর ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর গেজেট জারি করা হলেও তার কার্যকারিতা ঝুলে ছিল।

আইনের খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়। গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্যও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণি পাস না করলে লাইসেন্স পাবেন না চালকরা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আইনে সাধারণ চালকের বয়স আগের মতোই কমপক্ষে ১৮ বছর এবং পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর। জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের জন্য দুই বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। ফিটনেস চলে যাওয়ার পরেও মোটরযান ব্যবহার করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।

দুর্ঘটনার জন্য দণ্ডবিধি অনুযায়ী তিন রকমের বিধান রয়েছে। নরহত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের সাজা হবে। খুন না হলে ৩০৪ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী তিন বছরের কারাদণ্ড হবে। দুই গাড়ি পাল্লা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে তিন বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় না পড়লেও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য আইনে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে আইনে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়ঃজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

মদপান করে বা নেশাজতীয় দ্রব্য খেয়ে গাড়ি চালালে, সহকারীকে দিয়ে গাড়ি চালালে, উল্টো দিকে গাড়ি চালালে, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য স্থানে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, চালকছাড়া মোটরসাইকেল একজনের বেশি সহযাত্রী উঠালে, মোটরসাইকেলের চালক ও সহযাত্রীর হেলমেট না থাকলে, ছাদে যাত্রী বা পণ্য বহন, সড়ক বা ফুটপাতে গাড়ি সারানোর নামে যানবাহন রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি, ফুটপাতের ওপর দিয়ে কোনো মোটরযান চলাচল করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত সড়ক পরিবহন ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোন কিছু না করেই এই আইন শ্রমিক শ্রেনীর ড্রাইভার ও পরিবহণ শ্রমিকের উপর নির্যাতন। স্পস্ট ভাবে এইটা এক শ্রেনীকে আরও আইনের আড়ালে শক্তিশালী করে অসুদপায় অবলম্বনের পথ করে দেওয়া। 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ দুরন্ত.. তারিখঃ 01/11/2019 02:48 PM
সর্বমোট 110 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ