ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

গল্পঃ একলা চলার পথে

রাত সাড়ে দশটা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে চিটাগাঙগামী ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে অনিরুদ্ধ। আজকাল যে কি হয়েছে! ট্রেনের টিকিট পাওয়া এক ঝামেলা, তার উপর সময় মত ট্রেন ছাড়বে না। এগারটার ট্রেন এলো রাত সাড়ে এগারটায়। কম্পার্টমেন্টে ঢুকে নিজের আসনে গিয়ে বসলো অনিরুদ্ধ। জানালার গ্লাসটা তুলে দিতেই ঠাণ্ডা হাওয়ার ঝাপটা এসে গায়ে লাগে। কিছুক্ষণ পর পাশের ফাঁকা সিটে এসে বসল একজন ভদ্র মহিলা। অনিরুদ্ধ একবার তাকিয়ে জানালার দিকে ফিরিয়ে নেয় দৃষ্টি। মনে মনে ভাবে, কি ভাগ্য আমার! সারারাত একজন অচেনা মহিলার পাশে বসে যেতে হবে! ট্রেন ছেড়ে দেয়। অনিরুদ্ধ বাহিরে তাকিয়ে দেখে অন্ধকার কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে ফর্সা হয়ে উঠছে চারপাশ। চাঁদ উঠেছে আকাশে।   
ঢাকা থেকে বেরুতে পেরে আজ হাফ ছেঁড়ে বাঁচল অনিরুদ্ধ। ইদানীং আগের মত ঢাকায় ফেরার ইচ্ছেটা আর হয়না। তবে অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও একমাত্র বোনের অনুরোধে মাঝে মধ্যেই আসতে হয়। গত তিনদিন এখানে থেকেই হাঁপিয়ে উঠেছিল সে। সারা শহরজুড়ে যানজট। শান্তি মত কোথাও চলাফেরা করার উপায় নেই। দীর্ঘদিন কক্সবাজারে থেকে অভ্যস্ত অনিরুদ্ধর কাছে এই যানজট বড় অসহ্য লাগে। ঢাকা থেকে বাসে ফেরা আরেক বিড়ম্বনা। ঢাকা-চিটাগাঙ ছয় ঘন্টার পথ হলেও কখনও দশ ঘণ্টাও লেগে যায়। তাই ঢাকায় আসা যাওয়ার জন্য ট্রেনকেই বেছে নেয় সে।
ট্রেন ষ্টেশনের ছাড়িয়ে শহরের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে এগিয়ে চলে। কম্পার্টমেন্টের ভিতরে হালকা আলো। অনিরুদ্ধ তাকিয়ে আছে বাহিরে। খুব তাড়াতাড়ি আর ঢাকামুখি হচ্ছে না সে।  
-এক্সকিউজ মি! পাশ থেকে ভদ্র মহিলার কণ্ঠ শুনে ঘুরে তাকায়।
-যদি কিছু মনে না করেন আমাকে একটু জানালার পাশে বসতে দিবেন?
অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও উঠে দাঁড়ায় অনিরুদ্ধ। মনে মনে ভাবে, এই শুরু হল জ্বালাতন!
-ঠিক আছে, বসুন।
মহিলাকে জানালার পাশের সিট ছেড়ে দিয়ে ভিতরের দিকে এসে বসে।
-অনেক ধন্যবাদ।
রুমের ভিতরে আলো জ্বলে ওঠে। হকারদের হাঁকডাকের মধ্যে ভদ্রমহিলার কণ্ঠ শুনে সেদিকে ঘুরে তাকায়। হঠাৎ চমকে ওঠে অনিরুদ্ধ। এ কাকে দেখছে সে? ‘সেই চোখ, সেই হাসি!’ কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। ভদ্রমহিলার মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি লক্ষ্য করে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। এতক্ষণ আবছা অন্ধকারে ভালমত লক্ষ্য করেনি সে। এখন স্পষ্ট। চেহারায় কিছুটা বয়সের ছাপ পড়েছে, তারপরও নীলা আপুকে চিনতে একটুও কষ্ট হয়নি অনিরুদ্ধর।
-কেমন আছ নীলাপু?
-কে! চট করে অনির দিকে ঘুরে তাকায় মহিলা।
-আমি অনিরুদ্ধ।
-অনিরুদ্ধ!
-মনে নেই নীলাপু? অনিকে ভুলে গেছ?
-অনি! অবাক হয়ে অনির দিকে তাকিয়ে থাকে নীলা।
-কেমন আছ তুমি?
-ভাল। কিন্তু তোর এ কি অবস্থা! নাম না বললে তো তোকে চিনতেই পারতাম না। কেমন শুকিয়ে গেছিস, কালোও হয়েছিস অনেকটা।
-তুমি কিন্তু সেই আগের মতই আছো।
-কি যে বলিস না! বয়স বেড়ে গেছে, কত মুটিয়ে গেছি।
-বয়স কোন ব্যাপার না, সৌন্দর্যটাই আসল। তুমি এখনো আগের মতই সুন্দর।  
-কত বছর পর তোর সাথে দেখা বলতো?
-তা প্রায় দশ বছর হবে।
-কোথায় ছিলি এতদিন?
অনি হেসে বলে- আমার কথা থাক। তুমি কেমন আছ বল।
-ভাল। তুই কেমন আছিস? কোথায় থাকিস?
-কেন, অঞ্জন তোমাকে কিছু বলেনি?
-নাহ! অঞ্জন তো মহা ব্যস্ত। আমার সাথে দেখা হলেও প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া কথা হয় খুব কম। তোর খবর বল। কোথায় আছিস?
-কক্সবাজারে। একটা প্রাইভেট ফার্মে আছি। শিহাব ভাইয়া কেমন আছে? ছেলেমেয়েরা?
-ভাল। বিয়ে করেছিস নিশ্চয়ই!
-অনি হাসে।
-কি রে, হাসছিস কেন?
-ও পর্ব আর শুরু করা হল না।
-কি বলিস! কেন? মনের মত কাউকে পাস নি বুঝি? তুই যা চুজি ছিলি!
-আমার কথা তোমার মনে আছে নীলাপু?
-মনে থাকবে না কেন? বিয়ের দিন তোর উপর আমার খুব রাগ হয়েছিল। সেদিন একটি বারের জন্যও তুই আমার সাথে দেখা করিস নি। তারপর একেবারেই উধাও। প্রথমবার বাড়ি ফিরে তোদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। রিনি আপা জানাল তুই ঢাকা চলে এসেছিস কিন্তু তোর ঠিকানা দিতে পারল না। পরের বার গিয়ে শুনি রিনি আপারাও বাসা বদলে চলে গেছে অন্য কোথাও। তারপর যতবার বাড়িতে গিয়েছি তোর খোঁজ করেছি, তোর বন্ধু-বান্ধব সবাইকে জিজ্ঞেস করেছি কিন্তু কেউ তোর কোন খবর দিতে পারল না। দেখ, তোর সাথে যোগাযোগ আছে, অথচ অঞ্জনটা আমাকে কিছুই বলেনি।
-দেখ আমাদের গণ্ডিটা কত ছোট! তোমার সাথে ঠিকই দেখা হয়ে গেল।
-হ্যাঁ, আমাদের জীবনটাও অনেক ছোট।
-তুমি ভাল আছ তো নীলাপু?
-হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন রে?
-এমনিই। জানতে ইচ্ছে হল।
নীলা কোন জবাব দেয়না। জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে।
-কি হল নীলাপু কিছু বলছ না যে!
-আমি কেমন আছি তা জেনে তোর কি হবে?
-হয়ত কিছুই হবে না, তবে তুমি সুখে আছ এটা জানলে ভাল লাগবে।
নীলা আবার জানালার দিকে ফিরে বাইরে তাকিয়ে থাকে। আজ চমৎকার জোছনা উঠেছে। তবুও তার মন খারাপ লাগে।
-রাগ করলে?
-না রে! রাগ করব কেন? আসলে সবাই সুখি হতে পারে না কিংবা একেকজন একেকভাবে সুখী হয়। এটা আসলে আপেক্ষিক ব্যাপার।
-আচ্ছা বাদ দাও। নীলাপু তোমার কি সেই পুরানো কথা মনে পড়ে?
-পড়বে না কেন? কি চমৎকার দিন ছিল আমাদের! তুই খুব ভাল দাবা খেলতিস, কোনদিনই আমি তোকে হারাতে পারিনি। তোর মনে আছে?
-হ্যাঁ। তুমি খুব ভাল ভুনা খিচুড়ি করতে। ভাবতে ভাবতে অনি ফিরে যায় সেই পুরানো দিনে। দশ বছর আগে।  

-এবার তোমার চাল, মন্ত্রী সামলাও। অনি বলে।
নীলা মন্ত্রী সামলানোর চিন্তায় ব্যস্ত। নীলার দিকে তাকিয়ে থাকে অনি, মন্ত্রমুগ্ধের মত।
-তুমি কি সেই রেবেকা আপা! অনি বিড়বিড় করে আওড়ায়।
-এই অনি! তোর কাহিনীটা কি রে, বল তো?
-কই কিছু না তো! কাহিনী আবার কি?
-আরে না না, আমি তোর মুখে অনেকদিন শুনেছি। ব্যাপারটা কি? কে তোর রেবেকা আপা?
-আরে ও কিছু না, তুমি চাল দাও তো!
-চাল তো দিবই, বল না কাহিনীটা কি? আমি শুনেছি তুই প্রায়ই বলিস- ‘তুমি কি সেই রেবেকা আপা’  
-অনি মনে মনে আবার আওড়ায়-‘শৈশবে কৈশোরে শিহরণ জাগা!’
-কি রে, কি ভাবছিস?
-কিচ্ছু না। তুমি চাল দাও তো।
-নীলা চাল দেয় আর বলে তুই কিন্তু এড়িয়ে যাচ্ছিস।
-আরে বলার কিছু থাকলে তো বলব। তুমি ক্ষেপছ কেন? এটা তো একটা কবিতা।
-তাহলে পুরাটা শোনা।
-পুরাটা পারলে তো শোনাব! এবার তোমার রাজা সামলাও।
-নাহ! তোর সাথে আমি কখনোই জিততে পারিনা ।
-ঠিক আছে, একদিন তোমাকে জিতিয়ে দিব।
-তুই ইচ্ছে করে হারবি?
-তোমার জন্য না হয় হারলাম।
-ইস! সেটা আবার আমার জিত হল কি করে? আমি এভাবে জিততে চাই না।
-তাহলে আর কি করবো? চেষ্টা করতে থাক, দেখ জিততে পার কিনা।
-আমি খেলেই জিতবো।
অনি নিচু স্বরে বলে-সব খেলায় সবাই যেতে না নীলাপু। তুমি হয়তো দাবায় হারছো, কিন্তু আমি তো অন্য জায়গায় হেরে বসে আছি। নীলা অনির দিকে তাকিয়ে হাসে। তোর কিছু একটা হয়েছে। দাঁড়া, রিনি আপার সাথে আলাপ করতে হবে। তোকে ডাক্তার দেখানো দরকার।
-আচ্ছা নীলাপু, তোমার বয়স কত?
-এই অনি, থাপ্পড় খাবি কিন্তু। তুই জানিস না মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই?
-তুমি রাগছ কেন? আমি জানতে চেয়েছিলাম তুমি আমার থেকে কত বছরের বড়। এই ধরো আমার বয়স তো বাইশ, তাহলে তোমার বয়স বড় জোর তেইশ কি একটু বেশী, এই তো!
-বেশী পেকেছিস, না? যা ভাগ এখন।
-তুমি কিন্তু আবার রেগে যাচ্ছো। অবশ্য রাগলে তোমাকে আরও বেশী সুন্দর লাগে।
-তোকে বলেছে। অনি, আজ ভুনা খিচুড়ি করেছি, খেয়ে যাস।
-তোমাদের নিয়ে এই এক সমস্যা।
-মানে কি?
-মানে হচ্ছে তোমাদের বোঝা বড় কঠিন। এই বললে চলে যেতে, আবার এখনই নিমন্ত্রণ। কি অদ্ভুত!
-তোর এত বুঝে কাজ নাই। এখানে চুপচাপ বসে থাক। খেয়ে তবে যাবি।
-তুমি বলছ আর আমি খাব না তাও কি হয়? এই আমি বসলাম।
-নীলা হাসে। দাবার গুটিগুলো গুছিয়ে রাখে।
-অনি, নতুন কোন কবিতা লিখিস নি?
-হুম, লেখা চলছে।
-আমাকে আগে দেখাবি।
অনি মনে মনে বলে-তোমাকে নিয়ে লেখা, তুমি ছাড়া আগে আর কে পড়বে! মুখে কিছুই বলে না। কেবল নীলার চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। চোখাচোখি হতেই হেসে ফেলে।
-কিরে, কি দেখছিলি এমন করে?
-তোমাকে। তোমার চোখ দু’টো খুব সুন্দর।
-এই নিয়ে কতবার বললি? অনি, তুই কি আবার আমার প্রেমে পড়ে গেছিস নাকি? নীলা হাসতে হাসতে বলে।
-কি যে বল! আমি তোমার প্রেমে পড়ব কি করে? তোমার চোখের গভীরে কি আমি ঠাঁই পাবো? তাছাড়া, তোমার তো শিহাব ভাই আছে।
-তোর কেউ নাই বুঝি?
-আমার আবার কে থাকবে? আমাকে কি কেউ পছন্দ করবে?
-কেন কেউ কি তোকে ভালবাসতে পারে না?
-হয়তো পারে, তবে সবার জন্য তো সবকিছু না। মনে মনে বলে -তুমি কি আমায় ভালবাসতে পার না নীলাপু!

জানালা দিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়াটা গায়ে লাগতেই কিছুটা শীত শীত লাগে নীলার। ব্যাগ থেকে শাল বের করে গায়ে জড়ায়। হঠাৎ অনির দিকে চোখ পড়তেই দেখে, ও গভীর ভাবনায় ডুবে আছে।
-এই অনি, কি ভাবছিস?
নীলার কণ্ঠ শুনে বাস্তবে ফিরে আসে অনি। -ভাবছিলাম আমাদের ভুলতে না পারা দিনগুলোর কথা।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীলা।
-আচ্ছা নীলাপু, তোমাদের ঘরের সামনে সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটা এখনো আছে?
-হ্যাঁ আছে তো। বাবা কেটে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আমার খুব পছন্দের বলে মা কাটতে দেয় নি।
-কতদিন ওই গাছটার নীচে চেয়ার-টেবিল পেতে আমারা দাবা, ক্যারাম খেলেছি, কি টকটকে লাল ফুল ফুটত! তাইনা?
-হ্যাঁ, সেই সব দিনগুলো কত আনন্দের ছিল! এখন মনে পড়লে খুব মন খারাপ হয়।
-আমাদের জীবনটা বড় অদ্ভুত। জীবনের এই প্রান্তে এসে ফেলে আসা সময়গুলোর কথা খুব মনে পড়ে। কেবলই মনে হয় ইস! সেই দিনগুলোতে যদি ফিরে যেতে পারতাম!
-জীবনের যাঁতাকলে বন্দী থাকতে হয়। তবে মাঝে মাঝে মনে হয়, ওগুলোই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন।  
-তোমরা আর কতদিন চিটাগাঙ আছো?
-আরও দু’বছর।
-কক্সবাজারে বেড়াতে আসা হয় না?
-গত ডিসেম্বরে গিয়েছিলাম।
-আবার গেলে আমাকে জানিও।
-আচ্ছা অনি, এভাবে একা একা আর কতদিন? তুই একটা বিয়ে করে ফেল।
-তোমার মত কাউকে তো পেলাম না!
আবার চমকে ওঠে নীলা। অনির দিকে ঘুরে তাকায়।
-অনি হাসে। থাক না, চলে তো যাচ্ছে। মন খারাপ হলে আপার এখানে আসি। কয়েকদিন থেকে আবার ফিরে যাই। হারিয়ে যাই অন্তহীন কাজের ভীড়ে। ভালোই তো আছি।
-অনি, একটা কথার উত্তর দিবি?
-কি কথা?
-না থাক।
-থাকবে কেন, বলনা।
-আমার ওপর তোর কোন রাগ আছে?
-নাহ! তোমার উপর রাগ থাকবে কেন? কারো উপরই আমার কোন রাগ নেই।
-তাহলে আমার বিয়ের দিন তুই একেবারে উধাও হয়ে গেলি কেন? এতগুলো বছর পার হয়ে গেল, কেন নিজেকে আড়ালে রাখলি?
-বিচ্ছিন্ন থেকেছি এটা ঠিক কিন্তু তোমার খোঁজ আমি ঠিকই রাখতাম।
-তাহলে যোগাযোগ করলি না কেন?
-কি হত যোগাযোগ রেখে? হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি রোমন্থন করতেই ভাল লাগে কিন্তু তাকে ফিরে পেতে চাইলে কষ্ট বাড়ে।
 
গল্প-কথায় সময় বয়ে যায়। দীর্ঘশ্বাসগুলো আরও গাঢ় হয়। অনেকদিন ধরে বুকে জমাট বাঁধা কষ্টগুলো বের হতে গিয়েও হয়না। একটা অদৃশ্য দেয়াল দু’জনকে আড়ালে রাখে। দু’জনেই কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। অনি আবার নীরবতা ভাঙে।
-অঞ্জনের কাছে কিছু কিছু শুনেছি। তোমার কষ্টের কথা শুনতে আমার ভাল লাগে না নীলাপু।
-আমি মেনে নিয়েছি আমার ভাগ্য। কার কি করার আছে বল?
-কিন্তু তোমার ভাগ্য তো এমন হবার কথা ছিল না নীলাপু! সবকিছু অন্যরকম হতে পারতো!
নীলা কিছুই বলে না। জানালা দিয়ে আবার বাইরে তাকিয়ে থাকে। অনেকক্ষণ পর ঘুরে বলে,
-তুই কি আজই কক্সবাজার যাবি?
-হ্যাঁ, ছুটি শেষ।
-চিটাগাঙ আসিস না?
-আসি মাঝে মাঝে। কাজ সেরে আবার ফিরে যাই।
-এরপর আসলে বাসায় আসবি।
-অনি হাসে। তোমার কষ্ট বাড়াতে?
-কি যে বলিস না! কষ্ট বাড়বে কেন? তুই আসলে বরং ভাল লাগবে।
-আচ্ছা দেখি। তোমরা কক্সবাজার গেলে আমাকে জানিও। আমাদের কোম্পানির গেস্ট হাউজ আছে। থাকার কোন সমস্যা হবে না।
-আচ্ছা, এরপর আসলে তোকে জানিয়ে আসবো।

রাত শেষ হয়ে আসে ভোর। আকাশ ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে আসে। জানালা দিকে আবছাভাবে চোখে পড়ে- সবুজ পাহাড়গুলো উঁকি দিচ্ছে দূরে। অল্পক্ষণের মধ্যে ট্রেন পৌঁছে যায় চিটাগাঙ। অনি নীলার দিকে তাকায়। নীলার চোখের কোনে পানি চিক চিক করছে।
-কি হল নীলাপু, তুমি কাঁদছো?
চোখ মুছে নীলা বলে- কই না তো! চোখে কি যেন পড়েছে।
-আমার কাছে লুকাচ্ছো?
নীলা নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।
-চল তোমাকে এগিয়ে দিই।
-চল।
দু’জনে ট্রেন থেকে নামে। অনি নীলার জন্য ট্যাক্সি ঠিক করে দেয়। নীলা ট্যাক্সিতে উঠে বসে।
-ভাল থাকিস অনি।
ট্যাক্সি একটু একটু করে এগিয়ে যায়, অনি তাকিয়ে থাকে নীলার যাত্রাপথের দিকে। মনে মনে বলে -
আছি, ভাল আছি।
তা-ধিন, তা-ধিন,
যাচ্ছে তো দিন!
যাচ্ছে তো দিন!!

 

ছবি
সেকশনঃ গল্প
লিখেছেনঃ নিভৃত স্বপ্নচারী তারিখঃ 30/03/2013 10:51 PM
সর্বমোট 4349 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ