ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ভাবনার সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় সীমাবদ্ধতা

জাতি ধর্ম বর্ণ বিশ্বাসী অবিশ্বাসী আস্তি নাস্তিক বৈষম্যের ডামাডুলে এবং ধর্মীয় আচাড়ে শ্রেণীবিভক্ত সমাজে মানুষের মৃত ব্যক্তি নিয়ে খোনশুটি এড়াতে এবং নিজেকে সকল ভেদাভেদ থেকে মুক্ত রাখতে পরিবারের সম্মতিতে একটা ইচ্ছপত্রই মৃত্যুপরবর্তী পর্বটা নিষ্কন্টক করা যায়। যার একটা উপায় মৃত্যুর পূর্বেই তাঁর ইচ্ছা ও মৃতদেহ নিয়ে পরবর্তী কর্মকাণ্ডগুলোর নির্দেশনা আইনী প্রক্রিয়ায় স্থির করে যাওয়া।
ধর্মীয় ভেদাভেদের কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী যতই সৃষ্টিশীল হোন না কেন, মরদেহ নিয়ে দোয়া আশীর্বাদ পরকালে স্বর্গ নরক পাওয়া নিয়ে ভিন্ন মত আসতেই পারে। দেশের জন্য অসময়ে বা যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুবরণকারীদের বিষয়গুলো সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁরা গণশহীদের মর্যাদা পান। সেখানে কোন জাত পাত ধর্ম বর্ণ কাজে আসে না বা খোঁজার ফুসরত নাই।

কথা প্রসঙ্গে, কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর মৃত্যুর পর আমার এক কলিগকে জিজ্ঞেস করলাম, সুবীর নন্দী মারা গেল তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় আপনি কি দোয় করবেন। উত্তরে বলল, মুসলিম ছাড়া অন্য কেউ মারা গেলে আমাদের ইসলাম ধর্মে মৃতব্যক্তির উদ্দেশ্যে জানাতবাসী হওয়ার দোয়া করার কোন বিধান নাই। অন্য ধর্মের মৃত মানুষের ব্যাপারে আত্মার শাস্তি কামনায় কথিত শান্তির ধর্ম ইসলামে ইতিবাচকতার কোন জায়গা নাই। তাঁদের জন্য নির্ধারিত স্থান জাহান্নাম। লালন থেকে শুরু করে রবীন্দ্র নজরুল খুদীরাম সূর্য্যসেন প্রীতিলতা সুকান্ত জাতির জনক ডঃ হুমায়ন আজাদ আরজআলী মাতব্বর এবং অপশক্তির হাতে খুন হওয়া মুক্তচিন্তক মুক্তমনা ব্লগার লালন বাউল সাধক পণ্ডিত সবার মৃত্যুতেই অবস্থানভেদে দ্বিধাবিভক্তি দেখা গেছে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় কারনে। প্রাণ থেকেই ধর্মের সৃষ্টি আর ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্ম প্রচারে ও ধর্মকে টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। প্রাণ মূল্যহীন হলে ধর্মের অস্তিত্ব সংকটে পরবে এটাই স্বাভবিক।

আমার কাছে বিষয়গুলো অমানবিক মনে হলো। মানে ইসলাম সামগ্রিকতার কথা বলে না। হ্জ্ব ঈদের জামাত ইজতেমা ইসলামী ধর্মসভা ওয়াজ মাহফিল সব জায়গায় মুসলিম উম্মার শান্তি কামনা করা হয় বাকিটুকু লৌকিকতা সমগ্র মানুষ জাতির শান্তি কামনার বিধান মনে হয়  ইসলামে নাই। যা কিছু বলা হয় সবই চক্ষু লজ্জ্বার কারণে বা শুধুই লৌকিকতা।

যে কারণে আমি মনে করি, মৃত্যুর আগে সকলকেই মৃত্যু পরবর্তী ইচ্ছা জ্ঞান থাকতেই সম্পন্ন করে যাওয়া্। যা হবে প্রকৃতি প্রদত্ত প্রাণীকুলের কল্যানে এবং হতে পারে এরকমঃ

ইচ্ছাপত্র


আমি, ----------------------, পিতা – -------------------------------, মাতা – ---------------------, স্থায়ী ঠিকানা --------------- গ্রাম- পা--------------------, ডাক- ----------------, -----------------------, ---------------------, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: -------------------------------, সজ্ঞানে আমার উত্তরাধিকারদের সম্মতিতে আমার মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান করবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
আমার শুভানুধ্যায়ী ও উত্তরসূরিদের প্রতি এ সুনির্দিষ্ট নির্দেশ রইল যে, আমার মৃত্যুর পর, আমার দেহ এবং অঙ্গসমূহ তারা যেন আমার সিদ্ধান্ত মত ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মরদেহ ব্যবহারের ব্যবস্থা সমুহ:
১) আমার মরণোত্তর দেহ নিকটস্থ যে কোন মেডিকেল কলেজের (যাদের প্রয়োজন আছে) এনাটমি বিভাগে দান করতে হবে।
২) এর পূর্বে কর্নিয়া সন্ধানীকে এবং ত্বক, টিস্যু, হাড়, যকৃৎ, ফুসফুস, অগ্নাশয়, ক্ষুদ্রান্ত, কিডনি, রক্তনালী, টেন্ডন, হৃদযন্ত্রের ভাল্ব, হৃৎপিণ্ড এবং সম্ভব হলে হাত, মুখমন্ডলসহ দেহের যেকোন অঙ্গ আমার চূড়ান্ত মৃত্যুর বা ব্রেন ডেড হবার আগে বা পরে প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপনের জন্যে যে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংরক্ষণ ব্যাংক বা হাসপাতালকে প্রদান করতে হবে।
৩) যদি কোন কারণে আমার মৃত্যুর পর মরদেহ মানব কল্যাণে ব্যবহার উপযোগিতা হারায় বা কোন হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ বা ব্যক্তির প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব না হয় তবে আমার পুরো দেহ বা ব্যবহার পরবর্তি অব্যবহারযোগ্য দেহাংশের ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট নির্দেশা থাকল। আমি প্রকৃতির সন্তান। আগুণ এবং অন্ধকার দুটোইতেই আমার আপত্তি আছে।, আমি সুনির্দিষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, সেক্ষেত্রে তা কোন নদীর মোহনা বা সাগরে কিম্বা গহীন জঙ্গলে ফেলে দিতে হবে যাতে তা অন্তত প্রকৃতিসৃষ্ট প্রাণীকুলের কিছুটা কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
৪) ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান যেমন জানাযা, কুলখানি, চেহলাম, ধর্মগ্রন্থ পাঠ, শেষকৃত্য, শ্রাদ্ধ, পুজা, প্রার্থনা, প্রভুর ভোজ এতিম ও কাঙ্গালী ভোজ, স্মৃতিচারণ ও শোকসভা ইত্যাদি এখন লৌকিকতায় পরিণত হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিকে অথবা মৃত ব্যক্তির পরিবরকে এসবের ব্যয়ভার বহন করতে হয়।  সেহেতু আমার মৃত্যুর পর পারিবারিক বা ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠান এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাজ্য হবে। অর্থাৎ এ ধরনের কোন আয়োজন করা যাবে না এবং মৃত্যুর পর আমার মুখমন্ডল সর্বসাধরণের দর্শন থেকে বিরত থাকতে ও রাখতে হবে।
মরনোত্তর অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী বা উত্তরসূরিদের প্রতি আমার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ যে, আমার যেখানেই মৃত্যু হোক (শহরে বা গ্রামে,দেশে বা বিদেশে), উপরে বর্ণিত চারটি বিষয় অবশ্য কর্তব্য হিসেবে পালন করতে হবে। এর অন্যথা, আমার চিন্তা চেতনা এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবে।
এই ইচ্ছাপত্র আমার পরিবারের জীবিত সকল সদস্য, আমার বন্ধু, অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনদের প্রতি আমার নির্দেশ। এ ইচ্ছাপত্র দেশের প্রচলিত আইন মেনে করা হলো এবং এতে আমি সজ্ঞানে স্বাক্ষর করলাম।
--------------------------------------------------
তারিখ: -------------------------- খ্রিস্টাব্দ
------------------------------------------
বর্তমান ঠিকানা-------------------------------------------------------
---------------------------------------------------------------------------------------------------
সম্মতি হিসাবে পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষরঃ
-------------------------------------------------
(মৃত ব্যক্তির সহধর্মিনী)
 
---------------------------------------------------
(মৃত ব্যক্তির সন্তান)
(বি.দ্র. ইচ্ছাপত্রটি ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে উকিলের স্বাক্ষরযুক্ত ও নোটারী পাবলিক দিয়ে সত্যায়িত করে আমার শয়নকক্ষে/ স্থায়ী ঠিকানায়/বর্তামান ঠিকানায় রক্ষিত হল।)

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ নিরব তারিখঃ 07/05/2019 04:57 PM
সর্বমোট 159 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ