ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

দুটো নববর্ষ ও অসাম্প্রদায়ীকতার সুশীল পেশী প্রদর্শণ।

বাংলা মাস ও সনের হিসাবের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র বাংলা উইকি পিডিয়া হতে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো: 
 

বঙ্গাব্দবাংলা সন বা বাংলা বর্ষপঞ্জি হল বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্য মণ্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরদিন গণনা শুরু হয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। এই সময়টাই এক সৌর বছর। গ্রেগরীয় সনের মতন বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস। এগুলো হল ‌ বৈশাখজ্যৈষ্ঠআষাঢ়শ্রাবণভাদ্রআশ্বিনকার্তিকঅগ্রহায়ণপৌষমাঘফাল্গুন ও চৈত্র। আকাশে রাশিমণ্ডলীতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে বঙ্গাব্দের মাসের হিসাব হয়ে থাকে। যেমন যে সময় সূর্য মেষ রাশিতে থাকে সে মাসের নাম বৈশাখ।

বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গঅসম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়। বঙ্গাব্দ শুরু হয় পহেলা বৈশাখ বা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে। বঙ্গাব্দ সব সময়ই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর চেয়ে ৫৯৩ বছর কম।

বাংলা একাডেমী কর্তৃক বাংলা সন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র নেতৃত্বে এ কমিটি বিভিন্ন বাংলা মাস ও ঋতুতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সাংস্কৃতিক জীবনে কিছু সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাকে নির্ণয় করে সেগুলো হতে উত্তরণের প্রস্তাবনা প্রদান করেন। বাংলা সনের ব্যাপ্তি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর মতনই ৩৬৫ দিনের। যদিও সেখানে পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের পরিপূর্ণ সময়কেই যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে। এই প্রদক্ষিণের মোট সময় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট এবং ৪৭ সেকেন্ড। এই ব্যবধান ঘোচাতে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর প্রতি চার বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়। ব্যতিক্রম হচ্ছে সে শতাব্দীতে যে শতাব্দীকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করা যায় না বা বিভাজ্য। জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ভর হলেও বাংলা সনে এই অতিরিক্ত দিনকে আত্মীকরণ করা হয়নি। বাংলা মাস অন্যান্য সনের মাসের মতনই বিভিন্ন পরিসরের হয়ে থাকে। এই সমস্যাগুলোকে দূর করার জন্য ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কমিটি বাংলা একাডেমীর কাছে কতকগুলো প্রস্তাব পেশ করে। এগুলো হচ্ছেঃ-

  • বছরের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাৎ বৈশাখ হতে ভাদ্র হবে ৩১ দিনের;
  • বাকী মাসগুলো অর্থাৎ আশ্বিন হতে চৈত্র হবে প্রতিটি ৩০ দিনের মাস;
  • প্রতি চতুর্থ বছরের ফাল্গুন মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করে তা হবে ৩১ দিনের।

সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৭ সালে গৃহীত হয়। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে পুরাতন পদ্ধতি ব্যাবহৃত হয়।


১৯৬৬ সনে এই দেশের নাম ছিলো পুর্ব পাকিস্থান যা দ্বীজাতি তত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি মৌলবাদী, সামরিক ও নিস্পেষন মুলক রাষ্ট্র এর অংশ। তখনকার রাষ্ট্র ক্ষমতাতে ছিলো - আইয়ুব খান। বাংলা একাডেমী এখনকার মতই একটি সরকারী তাবেদার প্রতিষ্ঠান ছিলো, যা প্রধাণতম কাজ ছিলো ক্ষমতাসীনদের হুজুর বলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্জনের জন্য আইয়ুবের সময়ে যে অপচেষ্টা করা হয়েছিলো সেই সময় এই একাডেমী কোন কথা বলেনি, কোন বিবৃতি দেয়নি বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতেও কোন প্রকার ক্ষমা চায়নি। 

১৯৬৬ এর বাংলা একাডেমীর উদ্যোগ সুস্পষ্ট ভাবে তৎকালীন সাম্প্রদায়ীক সামরিক নিপিড়ণকারী সরকারের বাংলা বর্ষপঞ্জিকে ধর্ম ও বর্ণ নির্বশেষে সকল বাঙালীর এক থাকার মুলে প্রথম কুঠারাঘাত। বাঙালী সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসবের দিনকে দ্বিধাবিভক্ত করবার পরিকল্পিত প্রয়াস। 

১৯৮৮ সালে 
ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসাবে ঘোষণা করা হয় এরশাদের সময়। এর আগে ১৯৮৭ সনে বাংলা বর্ষপঞ্জিকে এরশাদ তার আজ্ঞাবহ একাডেমী দ্বারা দ্বীধাবিভক্ত করে। 

এই বর্ষপঞ্জির বিভাজন সুস্পস্ট রাজনৈতীক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং সুদুরপ্রসারী মৌলবাদী রাজনিতীর চিন্তার ফলাফল। একাডেমীর পাকিস্তানী প্রেতাত্বারা ১৯৬৬ সনে শুরু করা তাদের কাজের ফল পেয়েছে ১৯৮৭ সনে এসে। তারা সফল। 

কিন্তু আমার মতো ক্ষুদ্র জীব এটা বুঝতে পারলেও আমাদের বুদ্ধিমান মেধাবী প্রগতিশীলেরা এটা বুঝতে পারেনা এটা আমি মানি না। তাই তাদের এসব বিষয় নিয়ে নিরবতা আমার কাছে তাদের ভন্ডামী ও মৌলবাদ সমর্থন করবার প্রয়াস মাত্র। তাবত কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজিবী, বানানজিবী, প্রফেসর, অধ্যাপক, রবীন্দ্রজিবী, সংস্কৃতিজিবী, শিল্পজিবী একই কাতারে। উহারা সবাই অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ চান! দেশে দুটো বাংলা নববর্ষ পালন করে!! নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের পেশী দেখানো সুশীল উপায়ে? 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ দুরন্ত.. তারিখঃ 14/04/2019 02:08 PM
সর্বমোট 280 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ