ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

শিউলিস্বপ্ন

দীর্ঘ ভাঙন শেষে,
প্রমত্তা সুরমার বুকে অকাল জলাত্যয়ে
জেগেছিলো যে অপ্রত্যাশিত চর,
তার বুকে এক সোমত্ত যুবতীর নীরবঘরভাঙাকষ্ট ছিলো!
ভূমিদস্যু যে রাতে দখল করে নিয়েছিলো
নব্য জেগে উঠা চরের মালিকানা,
মেয়েটি তখনো ঘুমেই ছিলো
কিছুই বুঝতে পারেনি সে!
খুব ভোরে নিত্যকারমতো ঘুম থেকে উঠে,
ভোরের অস্পষ্ট নবজাতক আলোতে মেয়েটি সেই ভোরেই
একটি শিউলিচারা রোপন করেছিলো চরের জমিতে।
যদিও সে জানতেই পারেনি,
চরের বাসিন্দা হিসেবে সেও আজ চরেরই সহোদর!
সেও আজ অন্যের করতলগত!
এই শিউলি বীজটা ছিলো মেয়েটির নাড়িছেঁড়া।
সেটা কেউ জানেনি মেয়েটি ছাড়া!
মেয়েটি যখন ভাবলো,
তার নাড়িছেঁড়া ধনটির জন্য দস্যুটির দখলেই থেকে যাবে!
লোকে তখন মেয়েটিকে যারপর নাই বোকা ভাবতে লাগলো।
দস্যুর কবল থেকে তাকে মুক্ত করতে
তাকে ছিনিয়ে নিতে দলেদলে
ভুখানাঙা ভুমিহীন কৃষকশ্রেণী তৎপর হলো!
একজন জয়ীও হলো!
দস্যুটি থেকে মেয়েটি যখন কৃষকে হস্তগত হলো,
তখন সে নিজেকেই চর ভাবতে শুরু করলো!
এক মানবচর!
বিশুদ্ধ আদিমপলির বিপুল সমারোহ।
কৃষক যখন জমিতে লাঙল ফেলে
মেয়েটি অনুভব করে তার যোনি থেকে মগজ পর্যন্ত
বিদির্ণ হবার এক অব্যক্ত যন্ত্রণা!
বেহুস কৃষকের সময় চলে যায়
জমিতে চাষ চলে,
জমিতে চাষের জোয়ে জোয়ে
মেয়েটির শরীরও বিদির্ণ হয়!
বোবা শিউলিচারাটি এক সময় মূলশুদ্ধ উঠে আসে
অবিরাম কর্ষণের আঘাতে!
মেয়েটির নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়!
নিথর মেয়েটির সুউচ্চ বুকের উপর
চৈত্রের খাঁ খাঁ রোদে পুড়ে খাক হয়
নাড়িছেঁড়া শিউলিস্বপ্ন!

ছবি
সেকশনঃ কবিতা
লিখেছেনঃ শামুক তারিখঃ 07/03/2019 03:28 PM
সর্বমোট 227 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ