ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

বুড়িনদীর আদি ইতি

বুড়িনদীর আদি-ইতি -------------------------এস এম শাহনূর ছোটবেলায় বুড়িনদীকে তীব্র স্রোত সম্পন্ন একটি নদী হিসাবেই দেখেছি।বর্ষাকালীন সময়ে নদীটি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে এবং স্রোতও হয় দ্রুতগতি সম্পন্ন। কিন্তু শীত মৌসুমে এর গতিধারা সংকীর্ণ হয়ে আসে এবং অধিকাংশ স্থানে হেঁটেই নদী পার হওয়া যায়। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের বছরে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।একসময় বুড়ি নদীর বুক ভেদ করে চলতো জাহাজ ও সওদাগরদের বড় বড় নৌকা।এক সময় এ নদীকে ঘিরে এতদ্ অঞ্চলের কৃষক,জেলে ও মাঝিমাল্লাদের মাঝে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজিত ছিল।আজ উৎসববিহীন মলিনিমা মলিনতায় মলিনবিধুর। হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমির ইরি ধান চাষে শুকনা মৌসুমে পানির অভাবে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।নদীটি সংস্কারের গুরুত্ব আজ জরুরিভাবে অপরিসীম,অপরিহার্য ও অত্যাবশ্যক। বুড়িনদী আজ আমাদের কাছে শুধুই নদী নামে বেঁচে আছে, নদীর দৃশ্যমান সুরুত হারিয়ে অদৃশ্যপ্রায় অবস্থায় আবর্তমান। ইতিহাস ও প্রাচীন মানচিত্রে বিলুপ্ত বুড়ি নদীর স্পষ্ট অবস্থান থাকলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানুষের সর্বগ্রাসী ক্ষুধার কাছে নদীটির অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। এক সময়কার বিশাল নদীটি পরিণত হয়েছে খাল, ডোবা, বসতভিটা ও কৃষি জমিতে।বুড়ি নদী কাল পরিক্রমায় ভরাট হয়ে হারিয়েছে তার ঐতিহ্য।শতাধিক বছর আগে বুড়ি নদীটি নবীনগর উপজেলা থেকে কসবা উপজেলার কুটি হয়ে ধরখার পর্যন্ত প্রবাহমান ছিল।নদীর প্রায় ১৯ কি.মি. ভরাট হয়ে গেছে। এখন শুধু জোয়ারের সময় সেচ পাম্প চালু করা সম্ভব। বাংলাদেশের বুকে জটাজালের মতো অসংখ্য নদী। শুভ্র জলের নদী, ঘোলাটে জলের নদী। কাকচক্ষু জলের নদী, তামাটে জলের নদী। কুলুকুলু ঢেউ-খেলানো নদী, ফুঁসে-ওঠা সাপের ফণার মতো উদ্ধত ঢেউয়ের নদী। কোনো নদী খ্যাপা দুর্বাসার মতো ভয়ংকর অভিশাপপ্রবণ আবার কোনো নদী বাল্মীকির মতো শান্ত ও শুভাশিসদাতা। কোনো নদীরই রূপের মহিমা এক নয়, চরিত্র অভিন্ন নয় – স্বতন্ত্র।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" বাংলাদেশের নদীগুলোকে সংখ্যাবদ্ধ করেছে এবং প্রতিটি নদীর একটি পরিচিতি নম্বর দিয়েছে। এর ফলে তাদের হিসাব অনুযায়ি বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা এখন ৪০৫টি। পাউবো কর্তৃক নির্ধারিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী (১০২টি) , উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী (১১৫টি), উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী (৮৭টি), উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী (৬১টি), পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী (১৬টি) এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী (২৪টি)। বুড়ি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি নদী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক বুড়ি নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ১৪। ছেলেবেলায় পান্তাবুড়ি-কুঁজোবুড়ি-উকুনেবুড়ির গল্প শুনে হাসতে হাসতে পেটে খিল লাগত। । এখনও শিশু-কিশোররা পান্তাবুড়ির গল্প মন দিয়ে শোনে।প্রায় দেড়শ বছর আগে লেখা উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর এসব শিশুতোষ সাহিত্য সময়কে অতিক্রম করে আজও দাপটের সঙ্গে বইয়ের দোকান এবং পাঠাগারে শোভা পাচ্ছে। পাঠক আছে তাই বিক্রিও প্রচুর।কিন্তু বুড়িনদীর নাম কি করে বুড়িনদী হল উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী হয়তো তা জানতেই পারেননি।তাই লেখা হয়নি যৌবনা বুড়ি নদীর বুড়ি হওয়ার গল্প। নামকরণের ইতিহাস: এক সময় এ নদীর বুক চিরে বহু পণ্যবাহী নৌকা আসা যাওয়া করত। জনশ্রুতি রয়েছে যে কোন এক পূর্ণিমারাতে এই নদীতে পালতোলা নৌকার মাঝি টলটলে পানিতে চাদের বুড়ির ছবি দেখতে পায় এবং পরদিন অনেক চড়া দামে তাদের পণ্যসামগ্রী হাটে বিক্রি হয়।চাদের বুড়ির দর্শন তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সহায়ক হয় বলে সেই থেকে নদীর নাম হয় বুড়িনদী। ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নূরনগর ও বরদাখাত পরগনার মাঝখান দিয়ে বিল-ঝিলের উপর দিয়ে সর্পিলাকারে বয়ে চলা মুরাদনগর- কসবা- নবীনগরের সম্মিলন পয়েন্ট এই বুড়িনদী।লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ন- গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প অবস্থানে মোহনা সৃষ্টিকৌশলে বুড়ী নদীটি নবীনগরে লঞ্জঘাট সংলগ্ন তিতাসের সাথে মিলেমিশে একাকার। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৬ কিলোমিটার(১৬ মাইল), গড় প্রস্থ ৫৪ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। উৎস: সালদা নদী--সালদা নদী বাংলাদেশ- ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী ।নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার,গড় প্রস্থ ৩৭ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক সালদা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর ২১।সালদা নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভ করে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারপর এটি কিছুদুর প্রবাহিত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বুড়ি নদীতে পতিত হয়েছে। মোহনা: তিতাস নদী--‘তিতাস একটি নদীর নাম। তার কূলজোড়া জল, বুকভরা ঢেউ, প্রাণভরা উচ্ছ্বাস। স্বপ্নের ছন্দে সে বহিয়া যায়। ভোরের হাওয়ায় তার তন্দ্রা ভাঙে, দিনের সূর্য তাকে তাতায়, রাতে চাঁদ ও তারারা তাকে নিয়া ঘুম পাড়াইতে বসে, কিন্তু পারে না।’(‘তিতাস একটি নদীর নাম’/ অদ্বৈত মল্লবর্মণ) তিতাস বাংলাদেশ-ভারতের আন্তঃসীমানা সংশ্লিষ্ট নদী হিসেবে পরিচিত।এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে প্রবাহমান নদীবিশেষ। । নদীটির উৎপত্তি হয়েছে ভারতের অঙ্গরাজ্য ত্রিপুরায়। সেখানে বাংলা ভাষায় হাওড়া নদী এবং স্থানীয় কোকবোরোক ভাষায় সাঈদ্রা নদী নামে তিতাস নদীর নামকরণ করা হয়েছে।এটি ভারতীয় অঙ্গরাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার কাছাকাছি প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা দিয়ে নদীটি প্রবেশ করে শাহবাজপুর টাউন অঞ্চলের সীমানা ঘেঁষে এটি আরো দক্ষিণদিকে অগ্রসর হয়ে ভৈরব-আশুগঞ্জের সীমানা ঘেঁষে বহমান অন্যতম বৃহৎ নদী মেঘনার সাথে একীভূত হয়ে যায় তিতাস নদীটি। তিতাসের গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার গোমতীর গুরুত্বপূর্ণ উপনদীসমূহের একটি ডাকাতিয়া এবং এর শাখা নদীর নাম বুড়িনদী। চলবে.... 👍Copyright @এস এম শাহনূর smshahnoor@gmail.com (তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক)

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ এস এম শাহনূর তারিখঃ 02/02/2019 09:04 PM
সর্বমোট 125 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ