ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

কাইতলা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা

কাইতলা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা। =======এস এম শাহনূর======== প্রারম্ভিকা: আমার স্বপ্ন ও গবেষণা যেখানে এসে পূর্ণতা খুঁজে তার নাম কাইতলা জমিদার বাড়ি।আন্তর্জাতিক তথ্য ভান্ডার "কাইতলা জমিদার বাড়ি উইকিপিডিয়া"য় আমার লেখা কাইতলা জমিদার বাড়ির ইতিহাস(১৯৯৮ সালে প্রথম প্রকাশিত) শিরোনামের প্রবন্ধটি স্থান দখল করে নেওয়ায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সংরক্ষিত হলো ঐতিহাসিক কাইতলা নামক জনপদের ঐতিহ্য গাথা। কোন গ্রামে জন্মগ্রহন না করেও তাকে নিজ গ্রামের মত ভালবাসা যায়,আমার নিকট তেমনি একটি গ্রাম কাইতলা।শিশুকাল,শৈশব এবং কৈশোরকালের এমন একটি দিন নেই কাইতলাকে নিজ চোঁখে দেখিনি। আমার জন্ম শৈশবের স্রোতম্বিনী-মাছে ভরা অদের খালের তীরবর্তী বল্লভপুর নামক সূর্যদীঘল গ্রামে।যেখানে সুফি সাধক ও মুবাল্লিক শায়খুল বাঙাল ছৈয়দ আবু মাছাকিন গোলাম মতিউর রহমান(রঃ) দুদু মিয়া পীর সাহেব সহ বহু গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে।বর্ষাকাল জুড়ে হাজারো পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত থাকে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানসমূহের তালিকায় "আনন্দ ভুবন" খ্যাত বল্লভপুর-শিমরাইল ব্রিজের দু'পাশ। আজকের পিচঢালা মহেশ রোড যখন একটি সরু আইল ছিল,কাইতলা গ্রামের ভিতরে যখন একটি ব্রীজ,কালভার্টও ছিল না,বর্ষাকালে গ্রামটিকে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের সমষ্টি মনে হত সেই সময়টি দেখারও সৌভাগ্য হয়েছে।এখানকার স্কুল কলেজের শিক্ষাই আমাকে দিয়েছে অভিযোজন ক্ষমতা। শিখিয়েছে শালিনতা,মনুষ্যত্বের মানবিকতা।দেশ বিদেশের যেখানেই থাকি কাইতলার অজস্র স্মৃতি বুকে ধারন করে লালন করে চলেছি অবিরত।মেহারী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের নামকরণের ইতিকথা'র কয়েকটি পর্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে আমার সুপরিচিত জনদের মধ্যে কিছু গুণী মানুষ আমাকে কাইতলা গ্রামের নামকরণের ইতিকথা লেখার প্রস্তাব দেন।আমি সাদরে এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহন করলাম।কারণ,আমার জানা আছে সুখ মনি চৌধুরাণী দেবীর আন্দর মহলের সব নাড়ীনক্ষত্র।দেখা আছে কাইতলার যত অলিগলি,আড়া আর পুকুর ডুবা।কোন গবেষণাই সম্পূর্ণ নয়।কোন গবেষণাই অসম্পূর্ণ নয়।একটি সফল মুক্তিযুদ্ধ সম্পন্ন করতে নয় মাস সময় লেগেছে।কাইতলা গ্রামের ইতিবৃত্ত লিখতে আমারও লেগেছে নয় মাস।দীর্ঘ নয় মাস ধরে কাইতলা গ্রামের ইতিবৃত্ত লিখতে যাঁরা বিভিন্ন তথ্য তত্ত্ব ও পরামর্শ দিয়ে লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। এ লম্বা জার্নিতে যাঁরা এই লেখাটি সম্পূর্ণ করতে অবদান রেখেছেন উনাদের নাম উল্লেখপূর্বক কিছুটা ঋণ শোধ করার আশা করছি। *সৈয়দ আলহাজ্ব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন (৭১রে যুদ্ধকালীন কমান্ডার) *মোঃ আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ (সভাপতি, কযহস পরিচালনা কমিটি) *সৈয়দ মোহাম্মদ মহসীন (অব:জেলা প্রাঃ শিক্ষা অফিসার) *প্রফেসর ড.মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ (ডীন,সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপা. উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়) *এডভোকেট আক্তার হোসেন সায়্যিদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা) *শ্রী নারায়ণ চঁন্দ্র সাহা (অব:মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক) *মোঃ হাছাল আলী (অব:প্রধান শিক্ষক,ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা সঃ বালক উঃ বিঃ) *প্রফেসর ডক্টর সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া (কেমিক্যাল ডিপা.বুয়েট) *এডভোকেট সৈয়দ খালেদ আশিষ *মোঃ ইকবাল হোসেন (ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ পুলিশ) *ডা:সৈয়দ মোঃ রাহাত (বিসিএস,চিকিৎসা) *সৈয়দ আলাউদ্দিন (এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর-বিসিএস,শিক্ষা) *মোঃ গোলাম জাকারিয়া (সিনিয়র সহকারী সচিব,জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়) *সৈয়দ মোঃ আজাদ (জনকল্যাণে মাদার তেরেসা পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব) *এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া (বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট) *প্রভাষিকা পান্না আক্তার (সরকারী আদর্শ মহাবিদ্যালয়,সৈয়দাবাদ) *মোঃ ফকরুল ইসলাম লিমন (প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- মেধাবিকাশ বিদ্যানিকেতন) *মোঃ তানভীর হোসেন সোহেল (প্রধান শিক্ষক, কাঃপশ্চিম সঃ প্রাঃ বিঃ) এখানেই শেষ নয়। আমার জানার বাহিরে আরো বহু তথ্য থাকতে পারে।তাই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আপনার জানা তথ্য প্রদান করে লেখাটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখুন।মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়।লেখক হলেও আমিও একজন মানুষ।আমার সংগৃহিত তথ্য,লেখা ও গবেষণায় ভুল থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।সকলের প্রতি সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ আশা করছি। যেহেতু ঐতিহাসিক কাইতলা গ্রামকে নিয়ে এটিই প্রথম তথ্য ও তত্ত্ব বহুল লেখা সেহেতু এতে দিনদিন আরো তথ্য যুক্ত হয়ে আগামী প্রজন্মকে একটি তথ্যসমৃদ্ধ কাইতলার ইতিবৃত্ত উপহার দিবে বলে আমার বিশ্বাস। পাঠক কুলের সুবিধার্থে কাইতলার ইতিবৃত্ত কে তিনটি অধ্যায়ে ভাগ করে পনেরটি পরিচ্ছেদ এ সাজিয়েছি।তৃতীয় অধ্যায়ে কাইতলা গ্রামের কৃতি ও বরেণ্য ব্যক্তিগণের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মহান আল্লাহ আমাদের সকল ভাল কাজে সহায় হউন। আমিন।সকল পাঠকের সুস্থ ও সুন্দর জীবন কামনা করছি।সেই সাথে দোয়ার দরখাস্ত। ইতি, এস এম শাহনূর (তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক) তাং ২২শে নভেম্বর ২০১৮। #প্রথম_অধ্যায়ঃ ★পরিচ্ছেদ-১ ------------------ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আরেক সাংস্কৃতিক আখড়া নবীনগর উপজেলার কাইতলা গ্রাম। বহুকাল আগে থেকেই নানাবিধ কারণে কাইতলা গ্রাম টি ছিল এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হিসাবে বহুল পরিচিত।পূর্ব বাংলা তথা ত্রিপুরা রাজ্যের জমিদারির ইতিহাস প্রমাণ করে এক সময় ব্রিটিশ শাসনামলে এটি ছিল সমগ্র ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা বীর বিক্রম রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরের অধিনস্থ নূরনগর পরগনার একটি পূর্ণাঙ্গ জমিদার বাড়ি।আর বিশ্বনাথ রায় চৌধুরী ছিলেন এ জমিদারি সাম্রাজ্যের প্রধানতম জমিদার।পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য তিন পুত্র যথাক্রমে (১)তিলক চন্দ্র রায় চৌধুরী, (২)অভয় চন্দ্র রায় চৌধুরী, (৩)ঈশান চন্দ্র রায় চৌধুরী এবং প্রৌপুত্রগণ জমিদারি তদারকি ও পরিচালনা করেন।জানা যায়,পশ্চিম বঙ্গের শিমগাঁও নামক স্থান থেকে তিনি এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং জমিদারি লাভ করেন।নিরীহ রায়তদের প্রতি অবিচারের পাশাপাশি বহু জনহিতকর কাজের জন্য এলাকার সাধারন মানুষ আজও সেই জমিদারদের কথা স্মরণ করেন।যা পরোক্ষভাবে কাইতলা নামক জনপদেরই ঐতিহাসিক বন্দনা।[১] অন্য এক তথ্য থেকে জানা যায়,আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ এর পূর্ব পুরুষগণের কেউ কেউ কাইতলা গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।আর কেউবা বসতি গড়েন সদর উপজেলার মৌড়াই গ্রামে।আরও যে সকল জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিবর্গ কাইতলা গ্রামকে কালের প্রবাহে আলোকিত করেছেন তাঁদের মধ্যে, (#ওনাদের_সংক্ষিপ্ত_জীবনী_জানতে_তৃতীয়_অধ্যায়_পাঠ_করুন।) * স্বর্গীয় ডাঃ নিকুঞ্জ বিহারী সাহা (ব্রেইন টনিক নামক মেডিসিন আবিস্কারক)।মূলত,প্রতিদিন প্রায় শতবক্স মেরিট টনিক পার্সেল করার সুবাদেই ডাকবিভাগ কাইতলা পোষ্ট অফিস-৩৪১৭ নামক পোষ্ট কোড প্রদান করেন। * মরহুম আলহাজ্ব ছৈয়দ আবু আব্বাস (সমাজ সংস্কারক ও বিদ্যোৎসাহী) * মরহুম এম শামসুজ্জান (শিক্ষাবিদ ও সাবেক প্রধান শিক্ষক কযহস) * মরহুম হামিদুর রহমান(যিনি ডালিম চেয়ারম্যান নামে আজও স্মরণীয়) * মরহুম মাহতাব উদ্দিন(সাবেক ইউ.পি ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাজ সংস্কারক) * এডভোকেট আলহাজ্ব সামসুল আলম (প্রতিষ্ঠাতা: আলীম উদ্দিন জোবেদা অনার্স কলেজ;কাইতলা) * সৈয়দ মোঃ সোলায়মান অবঃযুগ্ন সচিব। * ডক্টর সৈয়দ জালাল উদ্দিন আহমেদ (সাবেক অধ্যক্ষ,জগন্নাথ বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ)। * মরহুম আব্দুল খালেক (শিক্ষক ও বহু ভাষাবিদ)। * মরহুম মহিউদ্দিন(শিক্ষক ও লেখক) * মরহুম ফুলমিয়া মাষ্টার [মধ্য পাড়া(চির কুমার) তিনি বিনা মাহিনায় ছেলে মেয়েদের পড়াতেন।] * ডা.জিতেন্দ্র দেব (শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক)। * প্রফেসর ডক্টর সৈয়দ আবু আব্দুল্লাহ (কিং ফয়সাল ইউনিভার্সিটি, সৌদিআরব) এছাড়াও সমাজ সংস্কার ও পুনর্গঠনে যাঁরা সরাসরি কাজ করেছেন তাঁদের অন্যতম কয়জন হলেন, * আজগর আলী সরদার * আব্দুর রহমান * আব্দুল কাদের * লাল মিয়া সরদার প্রমুখ। ★পরিচ্ছেদ-২ ------------------- গবেষণা ও বিভিন্ন নির্ভরশীল তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়,২০নং কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১ থেকে ৭ পর্যন্ত এই সাতটি ওয়ার্ডের অধিপতি কাইতলা গ্রামে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার লোকের বসতি। তবে এ গ্রামের গোড়া পত্তন হয় আজ থেকে(প্রায়) ৪৫০ বছর পূর্বে। এতদ্ অঞ্চল এক সময় ছিল(প্রায়)১০ কি.মি.প্রশস্থ অথৈ জলরাশির কালিদাস সায়র। ধারনা করা হয়,আনুমানিক ৭০০ বছর পূর্বে ত্রিপুরা(বর্তমান কুমিল্লা) রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে পাহাড় ধ্বংস হয়ে কালিদাস সায়র(বা কালিদহ সাগরের)সৃষ্টি হয়েছিল। কালের পরিক্রমায় এ সায়রের মাঝখানে জেগে উঠে ছোট ছোট চর।এই চর গুলো এক সময় হয়ে উঠে জেলেদের আশ্রয়স্থল।আর এ চর গুলোর মধ্যে কৈবর্ত নামক জেলে সম্প্রদায় যেখানে প্রথম বসতি স্থাপন করে সেটিই আজকের কাইতলা গ্রাম।জল থেকে জাল,জাল থেকে জেলে।তাহলে কি কৈবর্ত থেকে কৈতলা>কাইতলা শব্দের উৎপত্তি? উপরোক্ত লিখাটুকু অধ্যয়নে অনেকের মনে এমন ধারনা জন্ম নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।মূল রহস্য জানতে হলে আপনাকে আরেকটু সময় ও ধৈর্য সহকারে পরবর্তী পরিচ্ছেদ গুলো পাঠ করতে হবে।তার আগে কাইতলা নামক জনপদে প্রথম বসবাসকারী কৈবর্ত সম্প্রদায় সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই। কৈবর্ত হিন্দুদের চতুর্বর্ণের অন্তর্ভুক্ত একটি উপবর্ণ। এরা মূলত মৎস্যজীবী সম্প্রদায়। বৈদিক যুগে ভারতে কৃষিজীবী, পশুপালনকারী, শিকারি প্রভৃতি পেশাজীবী মানুষের পাশাপাশি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের লোকজনও ছিল। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে উল্লিখিত ঊনত্রিশটি শূদ্র জাতির মধ্যে কৈবর্ত একটি হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন – কৈবর্ত অর্থ দাশ, ধীবর। যারা মৎস্য শিকার করে, তারা কৈবর্ত। (বঙ্গীয় শব্দকোষ, ১ম খন্ড) জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসও তাঁর বাঙ্গালা ভাষার অভিধানে প্রায় একই কথা বলেছেন। রাজশেখর বসু চলন্তিকায় বলছেন – ‘কৈবর্ত মানে হিন্দুজাতি বিশেষ। জেলে।’ কাজী আবদুল ওদুদ লিখেছেন – ‘কৈবর্ত : যে জলে বাস করে, জলের সহিত বিশেষ সম্বন্ধযুক্ত হিন্দুজাতি বিশেষ।’ (ব্যবহারিক শব্দকোষ) আবু ইসহাক সমকালীন বাংলাভাষার অভিধানে বলেছেন – ‘কৈবর্ত অর্থ জেলে, ধীবর, মেছো।’ ভারতকোষে আছে – ‘কে বৃত্তির্যেষাং ইতি কৈবর্ত।’ ‘কে’ শব্দের অর্থ জল। জলে যাদের জীবিকা, তারা কৈবর্ত। একাদশ-দ্বাদশ শতকে বাংলাদেশে কৈবর্তদের বলা হতো ‘কেবট্ট’।(সদুক্তি কর্ণামৃত নামক কাব্য সংকলন) কৈবর্ত জাতির উৎপত্তি বিষয়ে ঋষি মনুর ভাষ্য এরকম – ‘নিষাদ নৌকর্মজীবী মার্গব নামক সন্তান উপাদন করে। এদের আর্যাবর্তবাসীগণ কৈবর্ত নামে অভিহিত করেন।’ (দশম অধ্যায়, ৩৪নং শ্লোক) উৎসঃ সংস্কৃত কেবর্ত + অ প্রাচীনকাল থেকে ভাটির দেশ খ্যাত বাংলায় অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল থাকায় দেশটি ছিল মাছে ভরা। তাই এ দেশে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল।সৃষ্টি হয়েছিল "মাছে ভাতে বাঙালী"প্রবাদ। বাংলায় পাল আমলে (৭৫০-১১৬০) কৈবর্ত নামে একটি ধনবান ও বিত্তবান উপবর্ণ ছিল। তাদের কেউ রাজা, কেউ বা বণিক ছিল। তারা পরবর্তীকালে একটি শক্তিশালী উপবর্ণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। উত্তরবঙ্গে কৈবর্তরা দিব্যকের নেতৃত্বে দ্বিতীয় মহীপালের (১০৭১-৭২) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, যা ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এ বিদ্রোহে জয়ী হয়ে তারা কিছুকালের জন্য একটি কৈবর্তরাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে কৈবর্তদের মৎস্যজীবী বলা হয়েছে।বাংলাদেশের সিলেট , ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চলের মৎস্যজীবী ধীবর ও জালিকরা কৈবর্ত হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশের মৎস্যজীবীরা মালো, বর্মণ, রাজবংশী, কৈবর্ত গঙ্গাপুত্র,জলপুত্র,জলদাস ও দাস হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। তবে এখন তাদের অনেকেই লেখাপড়া শিখে পৈতৃক পেশা ত্যাগ করে ব্যবসা ও চাকরী করছে। কৈবর্তরা বর্ণগতভাবে ব্রাত্য, অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা, রাজনৈতিকভাবে অনুল্লেখ্য এবং সাহিত্যাঙ্গনেও অবহেলিত।জেলেদের নিয়ে পাশ্চাত্যের স্মরণীয় উপন্যাসগুলো হলো – আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ওল্ডম্যান অ্যান্ড দি সি (১৯৫২), ভিলিস লাৎসিসের সান অফ ফিশারম্যান (১৯৩৪), স্টিফেন গুয়ইনের ডাফার লক – অ্যা ফিশারম্যানস্ অ্যাডভেঞ্চার (১৯২৪), নরমান হিলের অ্যা ফিশারম্যানস্ রিফ্লেকশনস্ (১৯৪৪), অলিভার কাইটের অ্যা ফিশারম্যানস্ ডায়েরি (১৯৬৯) প্রভৃতি। এসব উপন্যাসে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের কাহিনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মাছশিকারের খুঁটিনাটি বর্ণনা। অন্যদিকে, বাংলাভাষায় এ-জাতীয় উপন্যাসগুলোর মূল উপজীব্য কৈবর্ত-সমাজজীবন। কৈবর্ত-জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামের পরিচয় এসব উপন্যাসে স্পষ্ট। বাংলা সাহিত্যে এ-বিষয়ে যে কয়েকটি স্মরণীয় উপন্যাস রচিত হয়েছে সেগুলো হলো – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), অমরেন্দ্র ঘোষের চরকাশেম (১৯৪৯), অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৫৬), সমরেশ বসুর গঙ্গা (১৯৫৭), সত্যেন সেনের বিদ্রোহী কৈবর্ত (১৯৬৯), সাধন চট্টোপাধ্যায়ের গহিন গাঙ (১৯৮০), শামসুদ্দীন আবুল কালামের সমুদ্র বাসর (১৯৮৬), মহাশ্বেতা দেবীর কৈবর্ত খন্ড (১৯৯৪), ঘনশ্যাম চৌধুরীর অবগাহন (২০০০) ও শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের গঙ্গা একটি নদীর নাম (২০০২)। ★পরিচ্ছেদ -৩ --------------------- এক নজরে ঐতিহাসিক কাইতলা-যে গ্রামে রয়েছেঃ ৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (এবং এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র) ১ টি অনার্স কলেজ " আলীম উদ্দিন জোবেদা অনার্স কলেজ"(এবং এইচ এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র), ২ টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, ২ টি এবতেদায়ী/ হাফেজিয়া মাদ্রাসা, ১৮ টি মসজিদ, ৬ টি ঈদগাহ মাঠ, ১ টি খেলার মাঠ, ১ টি সাব পোষ্ট অফিস, ১ টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ১ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ১ টি কৃষি ব্যাংক, ১ টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ১ টি হাট/বাজার, ১৯ টি ছোট বড় কবরস্থান, ১ টি শ্মশান, ১ টি কালি মন্দির, ২ টি বড় দীঘি,এবং অসংখ্য পুকুর। অন্যান্য তথ্যঃ (১)অধিকাংশ মানুষের পেশা: কৃষি। (২)আয়তন ১০.৭০ বর্গকিলোমিটার(গোয়ালী সহ) (৩)লোকসংখ্যা: ২০,৯৭২. (৪)মোজার সংখ্যা: ৬টি (৫)উপজেলা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সিএনজি, মটর সাইকেলের মাধ্যমে। বর্ষাকালে নৌকা যোগে এখনো কুটি বাজার সহ বরদাখাত পরগনার বিভিন্ন স্থানে যাওয়া যায়। (৬)শিক্ষার হার:৭০% এখনও বাজারে ছোটদের বই পাওয়া যায় প্রকাশকগণ এদের নামকরণ করেন একের ভিতর তিন,একের ভিতর পাঁচ ইত্যাদি ।কাইতলা এমনই একটি গ্রাম যে গ্রামের ভিতর রয়েছে আরো চারটি গ্রাম বা মৌজা।মৌজা বা গ্রাম সমূহের নাম: ১। কাইতলা ২।রামনগর ৩। শংকরপুর ৪। অচিমত্মপুর ৫। হরিপুর। ★সীমানাঃ পূর্বেঃ কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউপির চারগাছ ও বাহাদুরপুর গ্রাম। পশ্চিমেঃ বিল ও বুড়িনদী। উত্তরেঃ মূলগ্রাম ইউপির চন্দ্রপুর ও বিটঘর ইউপির গুড়িগ্রাম। দক্ষিণেঃ কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউপির জয়পুর গ্রাম। *গ্রাম ভিত্তিক লোকসংখ্যা: গ্রামের নাম- লোকসংখ্যা কাইতলা : ১০,০০০ রামনগর : ৩০০০ শংকরপুর : ১০০০ অচিমত্মপুর: ৮০০ হরিপুর : ১১৭২ (গোয়ালী : ৫০০০) ★পরিচ্ছেদ -৪ --------------------- ৭১রে মহান মুক্তিযুদ্ধে কাইতলার অবদানঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়লে একটি জনযুদ্ধের আদলে গেৱিলাযুদ্ধ তথা স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে।২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকায় অজস্র সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ ও ই.পি.আর.-কে হত্যা করে এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বাঙালিদের তৎকালীন জনপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পার্বত্য চট্টগ্ৰামেৱ কালুৱঘাট বেতাৱ কেন্দ্ৰো থেকে ৮ম পূৰ্ব বেঙ্গল ৱেজিমেন্টেৱ উপ প্ৰধান মেজৱ জিয়াউর ৱহমান ও চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতা এম. এ. হান্নান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময় কাইতলা ২নম্বর সেক্টরের অধিনে ছিল।এখানে পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সরাসরি কোন যুদ্ধ সংগঠিত হয়নি।পার্শ্ববর্তী গ্রাম চারগাছ,জমশেপুর ও শিমরাইলে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হলেও প্রচন্ড সতর্কতা ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ গায়ে অবস্থানের কারণে পাক মিলিটারি এখানে হামলা করার সাহস পায়নি।তবে জানা যায়,একবার চারগাছ থেকে পাকিবাহিনী গ্রামের পূর্বদিকের প্রাইমারি স্কুলের পাশ দিয়ে ঢুকবার চেষ্টা বিনা রক্তপাতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। *সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর কাইতলায় যারা সাত সদস্যের সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছিলেন তারা আজ কেউ বেঁচে নেই। ক্বারী আব্দুস সালাম (প্রেসিডেন্ট) সৈয়দ এডভোকেট জেন্টু সৈয়দ আবু নোমান সৈয়দ তাহেরুজ্জামন সুরুন এম শামসুজ্জামান সৈয়দ আবু মাহতাব মৌলভী মোঃ ইব্রাহীম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাতকার থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের মত কাইতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারাও কসবা সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রবেশ করে।আগরতলা কংগ্রেস ভবনে বিশ্রাম/ রাত্রী যাপনের পর তাদের জয়নগর ক্যাম্পে পাঠানো হতো। সেখান থেকে বাঘমারা, পরে চারপাড়া হাইস্কুল ক্যাম্পে। সেখানে প্রায় এক মাস অবস্থান করার পর তাদেরকে গেরিলা হিসেবে রিক্রুট করে ভারতের সেনাবাহিনীর ট্রাকে তুলে পাহাড়ে জঙ্গলের ভেতর উম্পিনগর গেরিলা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হত। প্রায় পঁয়ত্রিশ দিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় রাইফেল, স্টেনগান, বেটাগান, এসএলআর, এলএমজি, টু-ইঞ্চ মর্টার, জি থ্রি রাইফেল, থার্টি সিক্স হ্যান্ড গ্রেনেড, ডিনামাইট, এন্টি এয়ার ক্রাপ্ট, মলোটে ককটেল, স্মোক বোম, আন আর্মড কম্বাট, বেয়নেট ফাইটিং ইত্যাদির। এসব প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষক ছিলেন মেজর শ্যাম বাহাদুর থাপা, ক্যাপ্টেন চৌহান সিং ও রাজেন্দ্র কিশোর, ইন্সপেক্টর কিশোর কুমার। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের আগরতলার দুই নম্বর সেক্টর মেলাঘর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। এ সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ হোসেন ও সহ-অধিনায়ক মেজর হায়দার।মেজর হায়দার কসবা ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধে নামান। এভাবেই অকুতোভয় এ বীর যোদ্ধারা দেশ মাতৃকার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সার্জেন্ট কাজী হাবিবুর রহমান (কাজী ফেরদৌসের ভাই) তিনি ভারতের চারপাড়া মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পে বাঙালী মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং প্রদান করতেন।ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী বক্সার। সৈয়দ আলী আকবর বাবুল তিনি কাইতলা গ্রামের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র ট্রেনিং দিতেন। সৈয়দ জাকির হোসেন কিরণ এর মাধ্যমে বর্তমান সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ জন তরুন মুক্তিযোদ্ধা কাইতলা গ্রামে রাত্রি যাপন করেন। *মুক্তিযোদ্ধার তালিকা: কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রাপ্তির তালিকাঃ ১। সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন। যোদ্ধাহত। যুদ্ধকালীন কমান্ডার। ২। সৈয়দ সাইফুল ইসলাম। যুদ্ধকালীন কমান্ডার। ৩। মৃত, সৈয়দ জালাল উদ্দীন। যুদ্ধকালীন কমান্ডার। ৪। আবদুল মান্নান যোদ্ধাহত, কাইতল দক্ষিণ ইউনিয়ন কমান্ডার। ৫। আবদুল গণি, যোদ্ধাহত। ৬।মো: রহিজ মিয়া,যোদ্ধাহত। ৭। মৃত আবু নাছির। ৮। মৃত ফিরোজ সরকার। ৯। আকতার হোসেন সাইদ। ১০। আবদুর রাজ্জাক। ১১। মৃত,সৈয়দ ওবাইদুল্লাহ্। ১২। সৈয়দ জাকির। ১৩। সৈয়দ আবু মুছা। ১৪। সুবেদার আবদুর রহিম। ১৫। আবু তাহের । ১৬।সামসুদ্দীন। ১৭। সৈয়দ ইকবাল। ১৮। জহির উদ্দীন। ১৯। জাহাঙ্গীর আলম। ২০। সৈয়দ আবুল কালাম। ২১। আবদুল হান্নান মোল্লা। ২২। আবদুল জলিল। ২৩। আবু হানিফ। ২৪। মোহাম্মদ আলী। ২৫। হাজী ইসমাইল। ২৬। জজ মিয়া। ২৭। আবদুর রউফ। ২৮। আবুল হোসেন। ২৯। আবুল হাসেম ৩০। মিজানুর রহমান। ৩১। আবদুল মান্নান ৩২। নান্নু মিয়া। ৩৩। চাঁন মিয়া ৩৪। আবদুল জলিল ৩৫। মকবুল হোসেন। ৩৬। আবুল হাশেম। ৩৭। শুক্কুর আলী। ৩৮। মোঃ ইসমাইল। ৩৯। আবু জামাল পুলিশ। ৪০। আবুল হাশেম। ৪১। আবদুল জলিল। ৪২। আবদুল লতিফ। ৪৩। মিন্টু মিয়া। ৪৪। রফিকুল ইসলাম। ৪৫। আবুল খায়ের। ৪৬। আবদুল কুদ্দুস। ৪৭। একে.এম.আবদুল কাদের ৪৮। আবদুল্লাহ এলাহী। ৪৯। আবুল কাশেম। ৫০। একে.এম.আবদুল কাদের ৫১। আবদুল কাদির। ৫২।মো: আবু জাহের। ৫৩।নুরুল ইসলাম। ★পরিচ্ছেদ -৫ ---------------- *সংস্কৃতি ও খেলাধূলাঃ এখানকার লোকজন বিদেশী সংস্কৃতির ধারধারে না।।বহুকাল ধরে এখানে গড়ে উঠেছে নিজস্ব বাঙালী সংস্কৃতির এক শক্ত বলয়।বহু মেধাবী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও লড়াকু খেলোয়াড় এখানে জন্ম গ্রহণ করেন।নূরনগর পরগণায় নাটক,যাত্রাপালা আর নানামুখী অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে এক সময় যাঁরা সাধারন মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছেন,কাইতলাকে তুলে ধরেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁদের অবদানও কম নয়।এঁদের অন্যতম কয়জন হলেন, *মোঃ মনো খলিফা *মোঃ ইদ্রিস মিয়া *মোঃ গোলাম কিবরিয়া *মোঃ ফিরোজ মেম্বার *মোঃ ছিদ্দিক মিয়া *মোঃ মবত আলী *মোঃ আবু জাহের মেম্বার *শ্রী বিধান চন্দ্র রায় বর্ধন *সৈয়দ মুহাম্মদ আলী *মোঃ মোজাম্মেল সরকার লিটন *মোঃ আজহার আলী(ভিপি) প্রায় সারা বছরই আন্তঃপাড়া,আন্তঃগ্রাম ভিত্তিক ক্রিকেট,ফুুটবল,ব্যাডমিন্টন খেলার আসর বসে এ কাইতলায়।এক সময় কাইতলার যে সকল খেলোয়াড়রা উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন মাঠ কাঁপিয়েছেন তাঁদের অন্যতম কয়জন হলেন, *মোঃ জাকির হোসেন হান্নান (অবঃসাব ইন্সপেক্টর অব পুলিশ) *মোহাম্মদ আলী(অবঃ সেনা সদস্য) *মোঃ আবু জাহের মেম্বার *মোঃ গোলাম কিবরিয়া *এডভোকেট খালেদ আশিস *সৈয়দ মোঃ মহসীন খোকা *সৈয়দ শাহারিয়ার নিন্টু ও তাঁরই সহোদর সৈয়দ পিন্টু *ঐতিহ্যবাহী উৎসবঃ বাঙালী ও মুসলিম জীবনের সকল উৎসব এখানে মহা সমারোহে পালিত হয়।যুগযুগ ধরে হিন্দু-মুসলমানদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক প্রাচীন জনপদ কাইতলায় প্রতিবছর পহেলা মাঘ বসে ডাক্কা ডুবার মেলা।হয় দূর্গাপূজার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন। সপ্তাহ ব্যাপী চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশেষ অনুষ্ঠান শ্রী হরে রাম কৃষ্ণ কীর্তন। --------------------------------------------------- 👍Copyright @এস এম শাহনূর smshahnoor82@gmail.com (তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক) #দ্বিতীয়_অধ্যায়_পড়তে_নিম্নোক্ত_লিংক_ক্লিক_করুন https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2165133780406368&id=100007293000888 #লম্বা_জার্নি_তাই_সাথেই_থাকুন.......... #দ্বিতীয়_অধ্যায় ★পরিচ্ছেদ -১ ------------------ কাইতলা নামকরণঃ আজ থেকে প্রায় তিন"শ বছর আগে কাইতলা নামের উদ্ভব,,,, (ক) আকবর কাই ভূঁইয়া ও (খ) শমসের কাই ভূঁইয়া দুই ভাই ছিল। তারা সম্ভবত ইরান থেকে এসে এই দেশে বসতি শুরু করে,তাদের অনেক সাহস ও অঢেল সম্পত্তি ছিল।যা এই দেশে এসেই অর্জন করেছিল।তাদের ব্রিটিশ আমলে অঢেল সম্পদ থাকায় ভূঁইয়া বংশে রুপান্তরিত হয়।[#বিস্তারিত_জানতে_তৃতীয়_অধ্যায়_পড়ুন]জমিদারী প্রথার সময়ও জমিদারদের কাছ থেকে তারা খাজনা আদায় করত যা তাদের সাহসী ও বীরত্বের কারণে নেওয়া সম্ভব ছিল। উনাদের নামেই অর্থাৎ আকবর কাই ভূঁঞা ও শমসের কাই ভূঁঞার কাই নামেই কাইতলার সৃষ্টি।এক সময় তাদের(তল্লাট)তাল্লুক ছিল পূর্বদিকে কাইতলা থেকে বর্তমান চারগাছ পর্যন্ত। উত্তরে কাইতলা থেকে সিনামাছি পর্যন্তও তাদের তাল্লুক ছিল। #বাংলা_অভিধানে_তল্লাট_একটি_বিশেষ্য_পদ_।#যার_অর্থ: #প্রদেশ, #অঞ্চল, #সীমা। #কাই_এর_সাথে_তল্লাট (তলাট>>তলা)#শব্দের_অপভ্রংশ_তলা_যুক্ত_হয়ে_কাইতলা_নাম_ধারন_করেছে_বলে_মনে_করা_হয়।" প্রদত্ত কাইতলা নামটির অর্থ নতুনত্ব, স্বাধীনতা, দৃঢ়সংকল্প, সাহস, আন্তরিকতা এবং কার্যকলাপকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই নামের পরিচয় বহনকারীগণ প্রায়ই শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, উদ্যমী, সহজাত দক্ষতা সম্পন্ন, উচ্চাভিলাষী এবং আলোকবর্তিকাময় হয়ে থাকেন।। নেতৃত্বদানের জন্যই এদের জন্ম। (The name given by the name of kaitala represents innovation, independence, determination, courage, sincerity and activity. Identities of this name are often strong personality, enthusiastic, charismatic, ambitious and photographer. They are born for leadership.) ঐতিহাসিক কাইতলা গ্রামের প্রাচীন বংশের কুলজি দেখে নিই। ★প্রজন্ম -১ (ক) আকবর কাই ভূঁইয়া [তিনি ছিলেন নিঃসন্তান] (খ) শমসের কাই ভূঁইয়া (১.খ) শমসের কাই ভূঁঞার এক ছেলে ও চার মেয়ে ছিল। তাদের মধ্যে এক মাত্র ছেলের নাম ছিল কালা কাজী ভূঁঞা। ★প্রজন্ম -২ (ক) কালা কাজী ভূঁঞা। (কালা কাজী ভূঁঞার চার ছেলে পাঁচ কন্যা সন্তান ছিল। তাদের মধ্যে দুই ছেলে বেঁচে ছিল।ছেলেরা হলেন,) ★প্রজন্ম-৩ (ক) লষ্কর আলী ভূঁঞা ও (লষ্কর আলী ভূঁঞা এই গ্রাম ছেড়ে প্রথমে সম্ভবত নাছিরনগরে বসতি গড়েন আর মেয়েদের অন্যএ বিবাহ হয়।তাই তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি) (খ) কলিম ভূঁঞা। প্রজন্ম-৩.এর (খ) কলিম ভূঁঞার দুই ছেলে ও এক কন্যা ছিল ছেলেরা হলো- ★প্রজন্ম -৪ (ক) ছমোরুদ্দিন ভূঁঞা ও (খ) মনোরুদ্দিন ভূঁঞা। প্রজন্ম-৪ এর (ক) ছমোরুদ্দিন ভূঁঞার তিন ছেলে ছয় মেয়ে ছিল তাদের মধ্যে ছেলেরা- ★প্রজন্ম-৫ (ক)আমিন উদ্দিন ভূঁঞা [তিনি নিঃসন্তান ছিলেন] (খ) অহিজ উদ্দিন ভূঁঞা। (গ) মেওয়া ভূঁঞা। প্রজন্ম-৫ এর(খ) অহিজ উদ্দিন ভূঁঞার এক ছেলে হাবিবুর রহমান ভূঁঞা ও চার কন্যা ছিল। ★প্রজন্ম -৬. (ক) হাবিবুর রহমান ভূইয়া। (হাবিবুর রহমান ভূইয়ার ৪ ছেলে ১ মেয়ে এদের মধ্যে ছেলেরা।) ★প্রজন্ম -৭ (ক) ইয়ামিন ভূঁঞা। (খ) ইয়াসিন ভূঁঞা। (গ) মহসীন ভূঁঞা। (ঘ) জসীম উদ্দিনভূঁঞা। ----------------------------------- প্রজন্ম -৫এর(গ) মেওয়া ভূঁঞার এক ছেলে শামসুল হক ভূঁঞা ও চার মেয়ে ছিল। ★প্রজন্ম -৬ (ক) শামসুল হক ভূঁঞা। (.শামসুল হক ভূঁঞার ৩ ছেলে) ★প্রজন্ম -৭ (ক) আলম ভূঞা (খ))জামাল উদ্দিন ভূঁঞা ও (গ)কামাল উদ্দিন ভূঁঞা এখন বেঁচে আছে এবং তাদের সন্তান আছেন। ------------------------------------------- প্রজন্ম -৪এর(খ) মনোরুদ্দিন ভূঁঞার দুই ছেলে এবং তিন কন্যা ছিল।ছেলেরা হলো- ★ প্রজন্ম-৫ (ক) আফিল উদ্দিন (পুকু) ভূঁঞা ও (খ) কফিল উদ্দিন ভূঁঞা। ৫.(ক) আফিল উদ্দিন ভূঁঞার এক ছেলে সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা ও চার কন্যা ছিল। ★প্রজন্ম -৬. (ক) সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা (তিনি ৭১রে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী একজন মুক্তিযোদ্ধা) (তিন ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা যান,ছেলেরা হলো) ★প্রজন্ম -৭ (ক) বাবুল ভূঁঞা,পেশায়- সাংবাদিক। (খ)সাহাদৎ ভূঁঞা,পেশা-ব্যবসা। (গ) বিল্লাল ভূঁঞা,আইন ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। --------------------------------------------- প্রজন্ম -৫ এর (খ)কফিল উদ্দিন ভূঁঞার এক ছেলে ও পাঁচ কন্যা ছিল। ★প্রজন্ম-৬ (ক) মাঈন উদ্দিন ভূঁঞা। (তিনি ৭১রে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী একজন মুক্তিযোদ্ধা) (মাঈন উদ্দিন ভূঁঞার তিন ছেলে দুই মেয়ে যথাক্রমে) ★প্রজন্ম -৭ (ক) এ্যাডভোকেট মোঃ গিয়াস উদ্দিন ভূঁঞা। (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আছেন।) (খ) মায়া আক্তার (গ) মোঃ লিটন ভূঁঞা (ঘ) রানী আক্তার (ঙ) মোঃ আইন উদ্দিন ভূঁঞা (আইন বিভাগে অনার্স শেষ করে ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া জজ কোর্টে প্র্যাকটিস এ আছেন।) তম্মধ্যে আমিন উদ্দিন ভূঁঞা অহিজ উদ্দিন আফিল উদ্দিন ও কফিল উদ্দিন ভূঁঞা গণের আমল পর্যন্ত তাদের তাল্লুক ছিল পূর্বদিকে কাইতলা থেকে বর্তমান চারগাছ পর্যন্ত। উত্তরে কাইতলা থেকে সিনামাছি পর্যন্তও তাদের তাল্লুক ছিল। ভারত ভাগ হওয়ার পর পাকিস্থান ভাগ হওয়ার পর সর্বোপরি বাংলাদেশ ভাগ হওয়ার পর তাদের সকল জমিদারী সম্পত্তি ক্রমান্বয়ে বিলোপ্ত করেন। ★পরিচ্ছেদ -২ ------------------ গোষ্ঠী/গোত্র গুলোর নামঃ ম্যাকাইভার ও পেজ এর মতে, "গোষ্ঠী বলতে আমরা বুঝি কোন সামাজিক ব্যক্তির সমষ্টি, যারা পরস্পরের সঙ্গে নির্দিষ্ট সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত।" কাইতলা গ্রামে রয়েছে বেশ কিছু গোষ্ঠী।যারা নিজ নিজ গোত্রের গন্ডির মধ্যে থেকেও অপরাপর গোষ্ঠীর মানুষজনদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দীর্ঘকাল পাশাপাশি বসবাস করে চলেছে। *পশ্চিম পাড়া- ১।জমিরউদ্দিন সরকার ২।রেহানউদ্দিন সরকার ৩।ইমামউদ্দিন সরকারকপ ৪।পন্ডিত ফকির বাড়ি ৫।ঝালু সরকার ৬।জমদ্দার বাড়ি ৭।বাদ্যঘর সমাজ ৮।গুনিন সমাজ ৯।হিন্দু সমাজ *মধ্য পাড়া। ১।মইজুদ্দিন সরকার ২।ছামিরউদ্দিন সরকার ৩।আঃহামিদ মিয়া ৪।কাজীবাড়ি ৫।ফুলমিয়া মাস্টার বাড়ি ৬।মদ্দির বাড়ী(বাহরাবাড়ি) *পূর্বপাড়া ১।দুলাল বেপারী ২।জরুদ্দি ৩।শরিফের বাড়ি ৪।রশিদ বেপারী ৫।পান্ডু সরকার ৬।ওয়াজউদ্দিন ৭.ভূঁইয়া বাড়ি ৭।সৈয়দ বাড়ি। ★পরিচ্ছেদ -৩ -------------------- দর্শনীয় স্থান সমূহঃ *কাইতলা জমিদার বাড়ি- এক সময় গ্রামের মানুষের অাড্ডাস্থল ছিল কাইতলা জমিদার বাড়ির খোলা মাঠ।বিকেলে ছেলে মেয়েদের বৌ চি, গোল্লা ছুট, দাড়িয়াবান্ধা, কানামাছি, হা-ডু-ডু,ফুটবল নানান খেলায় মুখরিত হয়ে উঠত জমিদার বাড়ীর উন্মুক্ত অঙন।বিভিন্ন সময় যুবকদের দ্বারা অায়োজিত যাত্রা,জারি-সারি গান হতো,পুতুল নাচ,আসতো সার্কাসপার্টি,বসতো বৈশাখী মেলা।দূরদূরান্ত থেকে পিকনিক পার্টি অাসতো।অাশে পাশের কারো বাড়ীতে নতুন মেহমান অাসলে এ জমিদার বাড়ী না দেখে যেতোনা।এখনো জমিদার বাড়ীর অাকর্ষন কমেনি মানুষের কাছে। পূজা পার্বনে,বিয়ে,অা শুরায় এখনো ঢোল সাঁনাইয়ের বাজনায় মুখরিত হয় জমিদার বাড়ীর অাকাশ-বাতাস। *কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় -জমিদার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় চৌধুরী গায়ের অক্ষর জ্ঞান শূন্য মানুষের কথা ভেবে নিজ বাবার নামে(পালক পুত্র হয়েও)গ্রামের দক্ষিণে তখনকার সময়ে ১৯১৮ সালের ৫ই জানুয়ারী একটি মাইনর স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।যা অাজ সময়ের প্রয়োজনে মাধ্যমিক স্কুলে পরিনত এবং সে স্কুলটি ১৯৯৭ ইংরেজী সন হতে এস এস সি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলটির পুরো নাম কাইতলা যঁজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়।এটি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার একটি স্বনামধন্য বিদ্যাপিঠ। *আলিমউদ্দিন জোবেদা অনার্স কলেজ-আলহাজ্ব এডভোকেট সামসুল আলম জেন্টু কর্তৃক ১৯৭২ সালে কলেজটি নিজ পিতা-মাতার নামকরণে প্রতিষ্ঠিত হয়।এই কলেজে একটি মনোরম ত্রিতল ভবন, একটি টিনসেট ঘর, একটি আধাপাকা ঘর, একটি টিনসেট ছোটঘর,একটি,একতলা পাকা ভবন, একটি সানবাধাঁনো পুকুর ঘাট ও নামাজের জন্য একটি মসজিদ রয়েছে। *সুখ সাগর---জমিদার প্রফুল্ল চন্দ্র রায় চৌধুরী গ্রামের মানুষের সুপেয় পানির সুবিধার্থে (পালক) মাতা সুখ মনি রায় চৌধুরানী ওরফে সুখ দেবীর (যঁজ্ঞেশ্বর রায়ের স্ত্রী )স্মৃতিকে প্রানবন্ত করে রাখার উদ্দেশ্যে গ্রামের উওর পশ্চিমে প্রায় ৪০একর অায়তন বিশিষ্ট একটি দীঘি খনন করে মায়ের নামানুসারে তার নাম রাখেন"সুখ সাগর"। *আবদুস সাত্তার ইম্ফু শাহ্(রঃ) এর মাজার শরীফ--কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডে এই মাজারটি অবস্থিত।জানা যায়,শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি কর্ম ক্ষেএে আগমন করেন।পরবর্তীতে তিনি মসজিদের হেদমতে ছিলেন।জীবনের শেষ পর্যায়ে আল্লাহর ওলী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। অনেক বক্ত বৃন্দ রেখে তিনি পরলোক গমন করেন। প্রতি বছর পৌষ মাসের ২৯ তারিখে মহাসমারোহে বাৎসরিক ওরশ হয়। ওনার আসল নাম মৌলানা আব্দুস সাওার। জন্ম ১৩২৫ বাংলা, ইন্তেকাল১৪০০বাংলা ২৯শে পৌষ।তিনি মুখে সদা সর্বদায় ইম্ফা উচ্চারণে জিকির করতেন বলে লোকমুখে তিনি ইম্ফু শাহ্ নামে পরিচিতি লাভ করেন।বাংলা ইম্ফা বা ইম্ফু নামের আরবি উচ্চারণ করলে নামটি হয় আমফাহ।আমফাহ নামটি লিখতে পাচটি অক্ষরের প্রয়োজন হয় যথা-১.আলিফ ২.মীম ৩.ফা ৪.আইন ৫.হা। যার ভাবার্থ হল: ১.আলিফে - আল্লাহ জাল্লা শানুহু তায়ালা ২.মীমে-হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৩.ফা'তে-হযরত ফাতেমা(রা:) ৪.আইন এ-হযরত আলী (রা:) ৫.হা'তে -হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন (রা:)। এই হল হযরত ইম্ফুশাহ (র:)এর ইম্ফা/আমফাহ নামের অর্থ ও ব্যাখা। পেশা :বিভিন্ন নির্ভরশীল সূত্র থেকে জানা যায়,তিনি প্রথম জীবনে ব্যবসায়ে মনোনিবেশ,তারপর বেশ কিছুদিন নায়েবের দায়িত্ব পালন করেন,অত:পর শিক্ষকতা পেশা হিসেবে গ্রহন করেন।সবিশেষে ইমামতিতে যোগদান করেন যা জীবনের শেষ কর্ম প্রাধান্য পায়।কর্মজীবনের সব তিনি শালদানদীর নয়নপুর গ্রামেই করেছেন। *শংকরপুর মঠ -এটি কাইতলা গ্রামের পশ্চিমে মহেশ রোড থেকে ৬শ গজ পশ্চিমে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত পরিবেশে অবস্থিত।এটি মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের জন্য নির্ধারিত শ্মশান এলাকার একটি দৃষ্টিনন্দন সুউচ্চ মঠ।ধারনা করা হয় কাইতলার জমিদারদের শাসনামলে পূজা আর্চণার জন্য এখানে একটি সুদৃশ্য ও দৃষ্টিনন্দন মঠ এবং একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়।কালের পরিক্রমায় সেই জমিদারদের জমিদারি নেই কিন্তু আজও সেই সুউচ্চ মঠ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের জীর্ণশীর্ণ ইমারত চোঁখে। পড়ে।যা মনের অজান্তেই আপনাকে নিয়ে যাবে অতীত স্মৃতিলোকে। *আলীমউদ্দিন পেশকার বাড়ি--এটি কাইতলা গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যোৎসাহী পরিবারের পুরাতন পাকা বসত বাড়ি।এক সময় অনেক জমিজমার মালিক ছিলেন এই বাড়ির নির্মাতা মরহুম আলীমউদ্দিন।উনার সুখ্যাতির কারণেই এলাকার লোকজনের নিকট এ বাড়ি আলীমউদ্দিন পেশকার বাড়ি নামে স্বীকৃতি পায়।উনার সুযোগ্য তিন পুত্র সন্তান মিয়া আব্দুল হান্নান(এ জেড কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল),ডা.কামরুল হুদা ও এডভোকেট সামসুল আলম(জেন্টু)পিতা মাতার নামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নিজ গ্রামে আলীমউদ্দিন জোবেদা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।যা আজ সময়ের প্রয়োজনে ডিগ্রী ও অনার্স কলেজে উন্নীত হয়েছে। *আন্ধা পুকুর--বাস্তবদৃশ্য দেখলে মনে হবে এটি কোন চারণ ভূমি।আসলে এটি শত বছরের কচুরিপানা আর নলখাগড়ায় ঢাকা পরা একটি পুকুর।এলাকার মানুষ যাকে আন্ধা পুকুর নামে জানে।সাহস থাকলে আপনি পুকুরের পানির উপর চটবাধা বিছানার উপর দিয়ে চলে যেতে পারবেন এ পাড় থেকে ও পাড়ে।কিন্তু সাবধান!!যদি সত্যিই অদ্ভুত কোন কিছু আপনার পা খামচে ধরে তবে সলিল সমাধী হতে পারে ওখানেই........ কাইতলা জমিদার বাড়ীর আন্ধাপুকুর সম্পর্কিত অনেক কিংবদন্তি ও গল্পগাঁথা অাজো মানুষের মুখ থেকে মুখে মুখরিত। শুনা যায় তাদের সব মূল্যবান স্বর্ণালকার ও হীরা জহরত নাকী কলসিতে ভরে আন্ধাপুকুরে ডুবিয়ে রাখত।ঐ কলসি গুলো নাকি অাবার মাঝে মধ্যে পুকুরে ভেসে উঠত।ভরদুপুরে পুকুরে নাকি সিন্দুক ভেসে উঠত।রাত্রিকালে এ পুকুর থেকে ঐ পুকুরে যাওয়া অাসা করতো স্বর্ণ,রূপা হীরা জহরত ভর্তি তামার পাতিল।অারো অনেক মুখরোচক কল্লকাহিনীতে অাবর্তিত কাইতলা জমিদার বাড়ী রহস্য।তবে এখনো ভয়ে কেহ নামতে চায়না সেই অান্ধা পুকুরে।ঘুটঘুটে কালো পানির পুকুরটি অাজও বিদ্যমান।সত্যি কথা বলতে কি এখনও সেখানে গেলে গায়ের লোম কাটা দিয়ে উঠে। " *হাছান আলী শাহ (রঃ) র মাজার -- ★পরিচ্ছেদ - ৪ ---------------------- কাইতলা ইউনিয়নের ভাঙা গড়ার ইতিহাসঃ আমাদের দেশের ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান বয়স ৪৪ বছর। এই ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে ১৮৭০ সালে চৌকিদারি পঞ্চায়েত নামে। পরবর্তীতে ১৮৮৫ সালে তৎকালিন ব্রিটিশ শাসক লর্ড রিপন স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন আইন চালুর মাধ্যমে এর নামকরণ করেন ইউনিয়ন কমিটি ।১৯১৯ সালে বঙ্গীয় পল্লী স্বায়ত্বশাসন আইনের অধীনে চৌকিদারী পঞ্চায়েত এবং ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পাকিস্তান আমলে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ, ১৯৫৯ এর অধীন ইউনিয়ন বোর্ডের নামকরণ করা হয় ইউনিয়ন কাউন্সিল। ইউনিয়ন কাউন্সিল এর কার্যকাল ছিল ৫ বছর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং- ৭ জারি করার মাধ্যমে মৌলিক গনতন্ত্রের সব কয়টি সংস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। ইউনিয়ন কাউন্সিল নাম পরিবর্তন করে এর নাম রাখা হয় “ইউনিয়ন পঞ্চায়েত” ১৯৭৩ সালের ২২ মার্চ রাষ্ট্রপতি আদেশ নং ২২ জারি করেন এবং এ আদেশে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত নাম পরিবর্তন করে এর নাম দেয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদ। প্রাচীন কিছু নিদর্শন,উপরোক্ত ইতিহাস এবং নিম্নোক্ত ইউনিয়ন কাউন্সিল/পরিষদের প্রেসিডেন্ট /চেয়ারম্যান বৃন্দের সময়কাল পর্যালোচনা করে দেখা যায় কাইতলা ইউনিয়নের ইতিহাস ঐতিহ্য বেশ পুরনো।শ্রীযুক্ত বাবু চন্দ্রমাধব কবিরাজ - কাইতলা (মধ্য পাড়া) ইউনিয়ন কাউন্সিল এর প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। *অখন্ড ৮নং কাইতলা ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট/চেয়ারম্যান মহোদয়গনের নামের তালিকা: ১. শ্রীযুক্ত বাবু চন্দ্রমাধব কবিরাজ কাইতলা (মধ্য পাড়া) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল ২. জনাব জমির উদ্দিন সরকার কাইতলা(পশ্চিমপাড়া) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল ৩. জনাব ওয়ালি আহম্মেদ চৌধুরী গোয়ালি (সাহেববাড়ী) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল ৪. জনাব নায়েব আলী মাষ্টার নোয়াগাঁও (ছগৈরা বাড়ী) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল ৫. জনাব আয়েত আলী মাষ্টার নোয়াগাঁও (মাষ্টর বাড়ী) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল ৬. জনবা কাজী লিয়াকত হোসেন ব্রাহ্মণহাতা (কাজীবাড়ী) চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ ৭. জনাব আব্দুল বারিক (বারেক ডাঃ) কোনাউর (উত্তরপাড়া) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল ৮. হামিদুল হক ডালিম কাইতলা (পশ্চিমপাড়া) চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ ৯. জনবা কাজী লিয়াকত হোসেন (২য় বার) ব্রাহ্মণহাতা (কাজীবাড়ী) চেয়ারম্যানইউনিয়নপরিষদ ১০. জনাব এম, এ ওয়াছেক কোনাউর (বাজারের পূর্ব পার্শে) চেয়ারম্যান, ইউনিয়নপরিষদ ১১. জনাব নাসির উদ্দিন সরকার, গোয়ালী (সরকার বাড়ী) চেয়ারম্যান, ইউনিয়নপরিষদ ১২. জনাব মাহতাব মিয়া কাইতলা (পশ্চিমপাড়া) চেয়াম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ। ১৩. সৈয়দ আব্দুল হান্নান কাইতলা (সৈয়দপাড়া) চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ। ১৪. জনাব আব্দুল ওয়াহাব (অহিদ) নোয়াগাঁও(মুন্সিবাড়ী) চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ ১৫. জনাব আব্দুল মান্নান (কাঞ্চন), নোয়াগাঁও (জমিরের বাড়ী), চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ। ১৬. জনাব আব্দুল মান্নান, কাইতলা(পশ্চিমপাড়া), চেয়ারম্যান, ইউনিয়নপরিষদ। ১৭. জনাব জয়নাল আবেদীন নারুই (জমদ্দার বাড়ী) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত), ইউনিয়ন ১৮. জনাব মোঃ সহিদুল ইসলাম নারুই (মোল্লাবাড়ী) চেয়ারম্যান, ইউনিয়নপরিষদ ১৯. জনাব মো:সোহরাওয়ার্দী চৌধুরী নোয়াগাঁও পশ্চিম পাড়া চেযারম্যান বাড়ি জনাব জমির উদ্দিন সরকার কাইতলা(পশ্চিমপাড়া) প্রেসিডেন্ট ইউনিয়ন কাউন্সিল। ২০. জনাব আব্দুল মান্নান, কাইতলা(পশ্চিমপাড়া), চেয়ারম্যান, ইউনিয়নপরিষদ। ২১. জনাব মোঃ শওকত আলী,কাইতলা(পূর্বপাড়া),চেয়ারম্যান, কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ। কাইতলা নামটি যুগে যুগে নিজ এলাকা ছাড়িয়ে অদূরবর্তী এলাকার মানুষজনেরও প্রতিনিধিত্ব করেছে। নবীনগর উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণ কর্ণারে বার আউলিয়ার পুণ্য ভূমি, শাখা তিতাস নদী বিধৌত এলাকার পশ্চিম তীরে গড়ে উঠা "৮ নং কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ" আজও কাইতলা নামের ঐতিহ্য বুকে ধারন করে চলেছে। অথচ এক সময় ৮নং কাইতলা উত্তর ইউনিয়নটি অখন্ড কাইতলা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অখন্ড কাইতলা ইউনিয়ন পরিষদ নিম্নোক্ত ৭টি গ্রামের সমন্বয়য়ে গঠিত হয়েছিল। ১। কাইতলা (রামনগর,শংকরপুর, অচিমত্মপুর,হরিপুর)। ২।গোয়ালী ৩। ব্রাহ্মণহাতা, ৪।কোনাউর, ৫।নারুই, ৬।নোয়াগাঁও ও ৭।শিবনগর। পরবর্তীকালে সময়ের প্রয়োজন ও ইউনিয়ন পরিষদের বিশাল আয়তন বিবেচনায় কাইতলা নামটি ঠিক রেখে কাইতলা,রামনগর,শংকরপুর,অচিমত্মপুর,হরিপুর,গোয়ালী এই ৬ টি গ্রামের সমন্বয়ে কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ব্রাহ্মণহাতা, কোনাউর, নারুই, নোয়াগাঁও ও শিবনগর এই ৫টি গ্রাম নিয়ে উত্তর কাইতলা ইউনিয়নটি গঠিত হয়। উত্তর কাইতলা ইউনিয়ন মূলত বিখ্যাত নোয়াগাঁও মুন্সী বাড়ীর জন্য। *অখন্ড কাইতলা ইউনিয়ন বিভক্তি প্রক্রিয়ার পদযাত্রাঃ- অখন্ড কাইতলা ইউনিয়ন পরিষদের জনাব মোঃ মাজিদুল ইসলাম চৌধুরী, জনাব মোঃ মদন মিয়া, জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম, জনাবা সৈয়দা নাজমুন্নাহার এর মাননীয় মন্ত্রী- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বরাবর ২২/০২/০৯ইং তারিখে দাখিলকৃত আবেদন পত্রের উপর ভিত্তি করেই অখন্ড কাইতলা ইউনিয়ন বিভক্তি তথা ০৮নং কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন সৃষ্টির ১ম দরজা খুলে যায়।এর পর যথাযথ সরকারী বিধি মালা ও নিয়ম পদ্ধতি মেনে কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন সৃষ্টির চুড়ান্ত পর্যায় চলে আসে।অবিভক্ত ০৮নং কাইতলা ইউনিয়ন দুই ভাগ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (স্থানীয় সরকার শাখা) কর্তৃক স্মারক নং-স্থাঃ সঃ ১৬ (গঠন) ১১/০৯-৩৬৫ (৭) তাং- ৩১/০৮/০৯ইং প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুসারে ১৭/০৭/ ২০১১ইং তারিখ ২০ নং কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মান্নান সাহেবের নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তরের মাধ্যমে ০৮ নং কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের জন্ম ও যাত্রা শুরু হয়। (০৫/০৬/২০১১ইং তারিখে ২০ নং কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে নির্বাচন হয়, কিন্তু নব গঠিত ০৮নং কাইতলা উত্তর ইউনিয়নে সীমানা সংক্রান্ত মামলা থাকায় নির্বাচন হয় নাই।পরবর্তীতে ২৬ জুন ২০১২ সালে প্রথম কাইতলা উত্তর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। )। ★পরিচ্ছেদ -৫ -------------------- *ক্রীড়া সংগঠন (১)অনির্বান ক্রীড়া সংগঠন। (২)ফুলকলি ক্রীড়া সংগঠন। (৩)সৈয়দ পাড়া মোহাম্মদিয়া সংগঠন। (৪)পূর্ব পাড়া সমাজ কল্যাণ ও একতা সংগঠন। (৫)পূর্ব পাড়া ইসলামি যুব সংগঠন। *সাংস্কৃতিক সংগঠন: সাংস্কৃতিক সংগঠন:-৪ টি। (১)মেধা বিকাশ সংগঠন। ২)অগ্নিবীনা সংগঠন। (৩)জয়যাএা সংগঠন। (৪)স্টুডেন্টস ফোরাম। *পেশাজীবি সংগঠন (১)মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন। (২) দোকান মালিক সমিতি। *এনজিও ১। আশা২। গ্রামীণ ব্যাংক৩। সিসিডিএ৪। পপি ইবেসরকারী সংস্থা গুলো কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের জনগনকে আর্থিক ভাবে সহায়তা প্রদানের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্র ঋণ সহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে। *বীমা ১। ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ২। পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিঃ৪। আল আরাফাহ ইসলামী ইন্সুরেন্স কো অপারেটিভ লি:৫। আল বারাকা লাইফ ইন্সরেন্স লিঃ৬। ইসলামী ব্যাংক ইন্সুরেন্স শাখা ।৭। প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ৮। জীবন বীমা কর্পোরেশন ।৯। বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ১০।আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃ১১। পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লিঃএ সকল বীমা প্রতিষ্ঠান সমূহ কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নে তাদের শাখা অফিস, এজেন্ট এবং বুথ দ্বারা তাদের সেবা প্রদান করে চলেছে। ------------------------------------------------------------------ 👍Copyright @এস এম শাহনূর smshahnoor82@gmail.com (তথ্য সংগ্রাহক,লেখক ও গবেষক) #তৃতীয়_অধ্যায়_পড়তে_নিম্নোক্ত_লিংক_ক্লিক_করুন https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2165836017002811&id=100007293000888 চলমান.............

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ এস এম শাহনূর তারিখঃ 02/02/2019 08:51 PM
সর্বমোট 178 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ