ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

একজন সাহসী আলম, হিরো আলম।

 

এক/
আশরাফুল আলম সাঈদ। যিনি হিরো অলম নামে পরিচত। অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনোদনের পণ্য হিরো আলম। ট্রলেই যার খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার প্রসার। ঠাট্টা বিনোদন মানেই হিরো আলম। বগুরা জেলার এরুলিয়া গ্রামে তার বসবাস। শুরুর দিকে তিনি সিডি বিক্রির কাজ করতেন। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট টিভি সংযোগের (ক্যাবল অপারেটর) ব্যবসায় নামেন। নিতান্ত সখের বশে তিনি মিউজিক ভিডিও নির্মাণ শুরু করেন। আলম বর্তমানে তার স্ত্রী সুমি ও তাদের সন্তান আলো ও কবিরকে নিয়ে বগুড়াতেই থাকেন। মিঃ আলম সখের বসে সাংস্কৃতিক অঙ্গণে আসেন। ইউটিউবে গান নাটক প্রচার করে তরুণ সমাজের মন জয় করে এবং আলোচনায় আসে। নতুন প্রজন্ম হিরো আলমকে এক ডাকে চেনে। হিরো বললেই আলমটা চলে আসে, বিষয়টা সেরকমই। হিরো আলমের ভাষায় ভয়কে জয় করাই তার কাজ। সে অসম্ভব সাহসী। জীবনে কখনও হারেনি।
৭১ টিভিতে তার সাক্ষাতকার শুনলাম। সে দু’বার ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার পদে নির্বাচন করেছে। প্রথমবার এগার ভোটে এবং দ্বিতীয়বার ৭১ ভোটে হেরেছে। ইউনিয়ন পরিষদে হারার পর তার ইচ্ছে সে সংসদ নির্বাচন করবে। সেই  অভিপ্রায় থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ তাকে নাড়া দিয়েছে অন্যদের মতোই। আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে সর্বত্র। ক্রিকেট মাঠ থেকে শুরু করে রুপালি পর্দায়। আর এমন নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে হিরো আলমের গায়ে। বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন আলোচিত হিরো আলম। যিনি ইউটিউবের মাধ্যমে সর্বত্র পরিচিতি পান। সোমবার বিকালে হিরো আলম জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, প্রথম দিকে বগুড়া-৬ সদর আসনে নির্বাচন করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু বগুড়া-৪ আসনে আমার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। যে কারণে সেখান থেকেই নির্বাচন করব। হিরো আলম আরও বলেন, আমি আগে থেকেই একটু বেশি সাহসী। আমার জীবনে ব্যর্থতা বলতে কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ এখানেও আমি আশাবাদী। হিরো আলমের বেড়ে উঠা সামরিক স্বৈরাচার হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে। তার কথায় ঐ সময়ে ব্যবসা বানিজ্য খুব ভাল ছিল।
দুই/
হিরো আলমরা আইনপ্রণেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। জাতীয় সংসদ আইন প্রনয়নের সর্বোচ্চ স্থান। খেলনা জনপ্রিয়তা, অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ, মাদক ব্যবসায়ি, তদবীরবাজ ধান্দাবাজ সবাই আইন প্রনয়নে মনোনিবেশ করতে চায়। এটা উচ্ছাসের বিষয় হলেও ভয়ের কারণও বটে। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। পেশী ও অর্থশক্তি জেঁকে বসেছে। তাইতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গরত্ন শেখ হাসিনা আক্ষেপ করে বলেছিলেন,” আমাকে ছাড়া সবাইকে কেনা যায়”। তারপর পরও দলীয় নেতাকর্মী কারোরই লজ্জ্বা হয়নি। আইনপ্রণেতাদের দৌড়ে রাজনীতিকদের পিছনে ফেলে ব্যবসায়ি, সামরিক বেসামরিক আমলা, পেশাজীবী এবং পেশীশক্তি এগিয়ে। বঙ্গবন্ধু অনেক আগেই বলে গিয়েছেন,” আমরা কৃষক শ্রমিক দূর্ণীতি করে না, দূর্ণীতি করে গুটিকয়েক শিক্ষিত জনগোষ্ঠী”। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবদল মিলিয়ে কমপক্ষে দশ হাজার সাংসদ হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশি হবে। এদের বেশীরভাগই অর্থ ও পেশী শক্তির অধিকারী। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কমপক্ষে খরচ হবে একহাজার পঁচশত কোটি টাকা। সরকার বা সিইসির নির্বাচন খরচ বাদেই। ব্যক্তি উদ্দোগে এত খরচ অনিয়মের পথকেই প্রসারিত করবে। খরচের অর্থও অনিয়ম থেকেই অর্জিত। তৃণমূলও মুখিয়ে আছে অর্থ তছরুপের জন্য।
বগুরা-৪ আসনে বর্তমান সাংসদ জনাব মমতাজ উদ্দিন আর জোট আমলে ছিল তোফাজ্জল হোসেন। আগে একটা রেওয়াজ ছিল সমজাতীয় প্রার্থীদের দিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করানোর। যেমন জিয়াউর রহমানের সাথে বঙ্গবীর এমএজি ওসমানী, আব্দুস সাত্তারের সাথে ডঃ কামাল হোসেন। এবার সাহসী আলমের সাথে জোট মহাজোট ঐক্যফ্রন্ট কাকে মাঠে নামায় সেটা সময় বলে দেবে। কথিত মাদক ব্যবসায়ি বদিরা মনোনয়ন পেলে আগাত না পেলে হিরো আলমদের নিয়ে হতাশার কিছু নাই।
আইনপ্রণেতার দৌডে হিরো আলমরা কতদুর যায় সেটাই দেখার বিষয়।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ নিরব তারিখঃ 13/11/2018 06:08 PM
সর্বমোট 121 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ