ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

নিরপেক্ষ নির্বাচন ও নিরপেক্ষ আচরণ আদৌ কি সম্ভব?

এক/
নিরপেক্ষ শব্দটির অভিধানিক অর্থই বলে দেয় এ আচরণ প্রায়  অসম্ভব। নিরপেক্ষ মানে পক্ষপাতশুন্য, কোনো পক্ষ গ্রহন না করা, স্বাধীন, স্বতন্ত্র, কারও মুখাপেক্ষী না এমন, ব্যক্তিক প্রভাব মুক্ত। আর নিরপেক্ষতা মানে পক্ষপাতহীনতা, অপক্ষপাত, স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র‌্য। চলমান বান্তবতা বলে দেয় নিরপেক্ষ থাকা নিরপেক্ষতার  স্বাক্ষর রাখা সত্যিই অসম্ভব। বিশেষকরে যখন স্বার্থ্য সংশ্লিষ্ট কোন ব্যাপার থাকে। পূথিগতভাবে নিরপেক্ষতার ছবক দেয়া যতটা সহজ প্রায়োগিক দিক থেকে ততটাই কঠিন। পরিবার সমাজ সরকার ও রাষ্ট্র কোন ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ আচরণ করা সম্ভব নয়। বাবা মা পরিবারের সদস্যদের প্রতিও নিরপেক্ষ আচরণ করতে হিমশিম খায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মাতৃত্বের স্বাদ দেয়া প্রথম সন্তান বাবা মায়ের বেশী আদর পায়, অনেক ক্ষেত্রে সবার ছোটজন, অনেক ক্ষেত্রে বেশী উপার্জনক্ষম, আবার অনেক ক্ষেত্রে অসহায় অকর্মন্য সন্তানটি বেশী আদর পায়। সমাজের ক্ষেত্রে হয় প্রভাবশালী না হয় হতদরিদ্র বেশী আনুকুল্য পায়। নিরপেক্ষ থাকা প্রাণীকুলের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানরা বেশী আনুকুল্য পেয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন হতে পারে নিরপেক্ষতার সহনশীলতা ও মানসম্পন্নতা। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন এবং বিচারপতি আব্দুল আজিজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিরপেক্ষতা এবং দলান্ধতা তাদেরকে ভিন্ন মেরুতে ঠাঁই করে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের সময় বেগম খালেদা জিয়ার একটি উক্তি “শিশু ও পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়” বিশেষভাবে উল্লেখ্য। কথাটা রাগ এবং ক্ষোভের সাথে বললেও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে যথার্থতা লক্ষ করা যায়।
দুই/
প্রশ্ন উঠেছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে ভোটের ফলাফল নিয়ে। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে নিরপেক্ষ। অবাধ সুষ্ঠ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষতা খুব জরুরি। আদৌ কি সম্ভব? সংবিধানের বিধান মোতাবেক নির্বাচন কমিশনের কাজের দিকে নজর দিতে চাই। সংবিধানের ১১৯ ধারার বিধান মতে নির্বাচন কমিশন কি করবেন।
 রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী (ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; (খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; (গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং (ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন। এসব  নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন। ১২০ ধারায় বলা আছে,  নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন। আবার ১২৬ ধারায় বলা আছে  নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।
তিন/
নির্বাচন কমিশন পুরোপুরিই রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের উপর নির্ভরশীল । নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করলেও তা পূর্ণতা পাবেনা যদিনা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ নিরপেক্ষ আচরণ করে। রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার পুরোটা জুড়েই নির্বাহী বিভাগের আধিপত্য। নির্বাহী বিভাগ/শাসন বিভাগ কি এবং কেন। সরকারের যে বিভাগ আইনানুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনা করে তাকে শাসন বিভাগ বলে। ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে গ্রাম্য পুলিশ পর্যন্ত সকলেই নির্বাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। সীমিত অর্থে নির্বাহী বিভাগ বলতে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীবর্গ এবং সচিবদেরকে বোঝায়। আরও সীমিত অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নির্বাহী বিভাগ বলে। বস্তুত রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে নিয়ে যে বিভাগ গড়ে ওঠে তাকেই এককথায় নির্বাহী বিভাগ বলে। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে নির্বাহী বিভাগ গড়ে ওঠে। এদের মধ্যে মন্ত্রীবর্গ, প্রশাসনিক বাহিনী এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত। সহজ কথায় রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ এবং সচিবালয়ের সকলকে নিয়ে নির্বাহী বিভাগ গঠিত।
রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার, সাংবিধানিক ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী হলেন রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। স্পিকার (সংসদের পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্বে ছিল প্রধান বিচারপতি) রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান। তিনি সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ নিতে হয় না। একই সঙ্গে তার ওপর আদালত এর কোনো এখতিয়ার বারিত। রাষ্টপতির অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার স্বয়ং। রাষ্ট্রপতি প্রধামন্ত্রীর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করবেন। তার নিকট কোনো বিল পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে তা অনুমোদন করতে হয় নচেৎ তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে অনুমোদিত হয়ে যায়। তবে অর্থ বিল এ সম্মতি দানে তিনি বিলম্ব করতে পারবেন না। দুই-তৃতীয়াংশ সংসদের ভোটের মাধ্যমে শারীরিক বা মানসিক কোনো কারণে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়। তার নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী হলো প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (PGR) ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF)।
প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, বাংলাদেশের সরকারপ্রধান মন্ত্রিপরষদ এর প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনিই জাতীয় সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রী যিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ত্ব পালন করেন। তিনি ৫৫ ও ৫৬ নং ধারা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের শীর্ষে থাকবেন এবং মন্ত্রিপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিনি মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। তিনি একইসাথে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভাপতি/চেয়ারপার্সন। প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান নির্বাহী। মূলতঃ তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই সরকারী দল, সরকার এবং জাতীয় সংসদের নিয়ন্ত্রক। তিনি সংবিধানের আলোকে সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন। রাষ্ট্রের নির্বাহী সংক্রান্ত, কুটনৈতিক  প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত,  আইন সংক্রান্ত, বিচার সংক্রান্ত,আর্থিক ও উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি ও সম্পন্ন করেন। এভাবে নির্বাহী বিভাগ শাসন সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও আরও অনেক কাজ করে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের দ্বিতীয় নির্বাহী কর্মকর্তা হলেও ক্ষমতার নিক থেকে সর্বময়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আইনপ্রণেতাদের স্বাধীনতা এবং মুক্ত মতামতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যা নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের অন্তরায়। কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে। সংবিধানেই একজন আইন প্রণেতার নিরপেক্ষতার সুযোগ নাই। তিনি জনপ্রতিনিধি। জনস্বার্থ বিরোধী যে কোন আইন প্রণয়নের ব্যাপারে তার মতপার্থক্য থাকতেই পারে। সাংসদদের মধ্যে ভোটাভুটি হলে তার বিপক্ষে যেতেই পারেন। এটা তার মত প্রকাশের অধিকার। কিন্তু আইনকরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আর তা পাশ করেছেনে দলীয় সাংসদরা।
জনপ্রতিনিধি বা আইনপ্রণেতাদের যদি এই দুরাবস্তা হয় তবে প্রচলিত আইনে এবং নির্বাহী ব্যবস্থায় রাষ্ট্র ও প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরপেক্ষ আচরণ আশা করা বোকামি বৈ কিছু নয়। সুতরাং নিরপেক্ষতা অভিধান থেকে উঠিয়ে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বা সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা চলতি সরকারের মানসিকতার প্রতিফলন ঘটাবে এটাই বাস্তবতা।
চার/
এবার আসি জনপদ প্রসঙ্গে। জনপদের রাজনীতি বিভাজিত হয়েছে ধন্ধ ও দ্বন্দ্ব থেকে। পারিবারিক গোষ্ঠী ও সামাজিক ধন্ধের প্রতিফলন ঘটেছে রাজনীতিতে। এখানে আদর্শগত দ্বন্দ্ব খুবই কম। খান পাঠান মোগল সৈয়দ মিয়া সাহেবরা অগ্রসর, তারা যদি অমুক দল করে আমরা ঐ দল করব না। বিকল্প খুঁজতে হবে। আবার মিয়া বাড়ী অমুক দল করে  খান সাব বলে আমরা অন্য দল করব। সৈয়দ পাড়ার লোকজন বিএনপি করলে আমরা আওয়ামী লীগ করব। ঐ গামের সুরুজ মিয়া বিএনপি করে আমরা আমাদের গ্রামের সবুর সাবকে মাঠে নামাব। চলমান রাজনীতির বিভাজনটা এভাবেই।
৫৭ সালে আওয়ামী লীগের বিভাজন পরিষ্কার দুটি শিবিরে বিভক্ত করেছে বাংলাদেশকে, তারই ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। অপেক্ষাকৃত অগ্রসরমান ও প্রগতিশীল বাম ঘরাণার লোকবল ছিল মুসলিম লীগ ন্যাপ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সাথে আর কৃষি নির্ভর মধ্যবিত্ত, কৃষক শ্রমিক ছিল আওয়ামী লীগের সাথে। ৫২ থেকে ৭১,  স্বাধীনতা সংগ্রামে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীবাদে বাকি সবাই যুগপদভাবে আন্দোলন করেছে দেশকে পাকিস্তানী শাষন মুক্ত করতে। মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু সমানতালে স্বাধীনতা আন্দোলনে পথ হেটেছেন। স্বাধীনতার পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ভাসানীসহ সমাজতন্ত্রের ঝান্ডা উড়ানোরা তাদের জায়গায় চলে যায়। সরকার বিরোধীতা চরম আকার ধারণ করে । সাথে যুক্ত হয় স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্তি। সামরিক ছত্র ছায়ায় অপশক্তিগুলো গুটি গুটি পায়ে এগুতে থাকে। সিপিবি ন্যাপ মুজাফ্ফর ছাড়া বাকি প্রগতিশীলরা আস্তে আস্তে ডানে মোর নিতে থাকে এবং ৭৫ এর মত এক জঘন্যতম ঘটনা সংগঠিত হয় এবং সশস্ত্র রূপ নেয়। সামরিক শাষকরা গোষ্ঠীগত স্বার্থে এন্টি আওয়ামী লীগারদের এক ছাতার নিচে সমবেত করতে থাকে এবং সফলতাও পায়। সেই থেকে জনপদ দু’ভাগে বিভক্ত। সর্বসাকুল্যে ২০% মানুষ দলের বাইরে। বাকি অংশ প্রায় অর্ধাঅর্ধি। রাজনীতিতে এবং ভোটের হিসাবে ঐ ২০% মূলত নিয়ামক শক্তি। রাষ্ট্রকে ধর্মীয় মোড়কে আচ্ছাদিত করায় ধর্মান্ধ ও ধর্ম ব্যবসায়িরা একটা জায়গা দখল করে নিয়েছে। যারা রাজনৈতিক দলগুলোর সমীহ আদায় করতে সক্ষম। ভোটের বাজারে তাদের চাহিদাও কম নয়।
দলগত সংখ্যায় এন্টি আওয়ামী সমমনা দলের সংখ্যাই বেশী। বামজোটে একমাত্র সিপিবি বাদে সবাই এন্টি আওয়ামী লীগার। ন্যাপ পতিত জাসদ উগ্র বাম বিতারিত আওয়ামী লীগার স্বৈরাশাসনামলে বেড়ে উঠা সামরিক বেসামরিক অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং ৭১ পূর্ববর্তী বেশীরভাগ অগ্রসরমান জনগোষ্ঠী যারা সুশীল নামে খ্যাত সবাই বিএনপির ছাতার নিচে এবং এন্টি আওয়ামী লীগার। স্বৈরশাসনামলে বেড়ে উঠা প্রজন্মে জিয়া পরিবারের ক্রেজ আছে। ধর্মীয় দলগুলো ব্যঙের ছাতার মত গজিয়েছে। তারা বেশীর ভাগই আদর্শগতভাবে এন্টি আওয়ামী লীগার। ভোটের বিচারে এবং নির্বাচনী আবহাওয়া নূন্যতম নিরপেক্ষ আচরণ করলে ভোটযুদ্ধ হবে জমজমাট। এখানে ইস্যু দাঁড়াবে টিকে থাকা এবং যাওয়া।
১৯৯০ সালে সামরিক স্বৈরাচার নির্বাসনের পর ভোটের ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব খাটিয়েছে সরকারী, বেসরকারী ও সামরিক বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের কর্ণধাররা। যে কারণে তাদের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ লক্ষণীয় এবং চাহিদাও ব্যাপক। রাজনীতি অনেকটাই দুর্বৃত্ত কবরে এবং দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে যত্রতত্র। যে কারণে ভোটের রাজনীতিতে নিরপেক্ষতা কখনও ছিল না এখনও সম্ভব নয়। নিরপেক্ষ ভোটাভোটি হলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। কারণ জনপদের ভোট সরকার ও সরকার বিরোধীদের প্রায় সমান সমান। উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি সবই সামগ্রিক। কিন্তু জনপদের একটা ভোটার যখন দেখবে, সলিমের পোলা সরকারী দল করে এখন স্বাবলম্বি স্বচ্ছল কোটি টাকার মালিক আবার রাজনীতি না করা দবিরের মেধাবি ছেলের চাকরী নাই অর্থকষ্টে আছে সেখানেই ভোটের হিসেবটা মেলাতে চায়। যা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। যেকারণে কোন দল একনাগারে ক্ষমতায় থাকার নজির এই ভূখণ্ডে নাই।
বেসামরিক সামরিক আমলারাও তাদের প্রভূ পরিবর্তনে আগ্রহী। রাজনীতিতে জানাশুনা বুঝদার লোকের খুবই অভাব। আমলারাও চায় খুব বেশী কিছু বুঝার আগেই আরেকদলকে আহবান করা। যাকে বলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। দেশী বিদেশী বুঝদার লোক মিলে সরকারের পালাবদল ঘটাতে থাকে।
পাঁচ/
প্রশ্ন হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভোটে ফলাফল কি হবে। আগেই বলেছি, উন্নয়নটা সাগগ্রিক। সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতির কারণে উন্নয়ন অতিরিক্ত মাত্রা পায়। তারমানে সরকারের ইচ্ছে থাকলে দেশীয় প্রযুক্তি ও জনবল কাজে লাগিয়ে একটা জনপদের উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমান সরকার সেটাই করেছেন। যা আগের সরকারগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিক থেকে বর্তমান সরকার আগের সরকারগুলো থেকে অনেক এগিয়ে। কিন্তু ভোটের ক্ষেত্রে শুধু উন্নয়ন নিয়ামক শক্তি নয়। সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, ন্যায় বিচার, সম্পদের সুষম বন্টন , দূর্ণীতির অবসান আরও অনেক কিছু আছে ভোটের রাজনীতিতে।
বাংলাদেশে একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে, সরকার ক্ষমতায় থাকলে দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়ে। সবাই সরকারে কেউ দলের না ভাবটা এমন হয়ে য়ায়। দলে কোন গণতন্ত্র থাকে না। থাকে না নেতা সৃষ্টির কোন প্রক্রিয়া। একই নেতা সকল ক্ষমতার অধিকারী। দলের প্রধান, সরকারের প্রধান একজনই। সেটা কেন্দ্র থেকে শুরু করে তূণমূল একই তরিকায় চলে। সরকারের লাখ সফলতার মধ্যে ব্যর্থতা শত শত হলেও সেখানে অবহেলিত এবং প্রতারণার শিকার হয়েছে অনগ্রসর জনগোষ্ঠী। শেয়ার বাজার কেলেংকারী অন্যতম। ব্যাংকে দূর্ণীতি, নিয়োগ বানিজ্য, আদম পাচার এসবের ভুক্তভোগী জনপদের সাধারণ মানুষ। এছাড়া পেশীশক্তি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। দলের নিরিহ ও কর্মঠ কর্মীরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সরকার ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে অবহেলীত ও প্রতারিত হয়। তারও প্রভাব পড়ে ভোটের রাজনীতিতে।
উপসংহারে এটুকুই বলতে চাই, চলমান রাষ্ট্র সরকার ও সমাজ ব্যবস্থায় নির্বাচনকালীন সময়ে সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ আচরণ প্রায় অসম্ভব। আর আচরণ নিরপেক্ষ হলে ভোটাভুটির ফলাফল পৌছে যাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর্যায়ে।
 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ নিরব তারিখঃ 07/11/2018 02:15 PM
সর্বমোট 96 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ