ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

শেখ হাসিনা “জাতির মাতা” বা ”কওমি জননী” ।আলেম ওলামা মাশায়েকরা পেরেছে, আমরা আধুনিকরা সাহস পাইনি!

এক/
বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ভাষা। মাতৃভাষা দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সর্বস্তরে সকল স্থাপনায় মাতৃভাষার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে জনগণ লীগ বা জনতা লীগ বা জাতীয় লীগ। কারণ ''আওয়ামী'' একটি উর্দু শব্দ। এই শব্দটি এসেছে উর্দু ''আওয়াম'' শব্দটি হতে। আওয়াম শব্দের অর্থ  জনগন। এর আরো দুইটি প্রতিশব্দ আছে। তা’ হলো  জনতা ও জাতীয়। এদিক থেকে  আওয়ামী লীগের নামকরণ জাতীয় লীগ করা  সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য । এব্যাপারে বর্তমান আওয়ামী লীগ ইতিবাচক উদ্দোগ গ্রহন করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমস্ত নথিপত্রে সংশোধন করে প্যাটেন্ট ও ট্রেড মার্কেও তালিকাভুক্ত হতে পারে। যাতে দেশে এই নামে ব্রেকেট সর্বস্য আর কোন সংগঠন না থাকে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ঘোষণাপত্র সাংগঠনিক লগো, দলীয় পতাকা, প্রতীক সবই ঠিক থাকবে শুধু নাম পরিবর্তন হবে। যেমনটি হয়েছে মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ, তেমনি হবে আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় লীগ। এব্যাপারে আওয়ামী লীগ তথা সরকারের পক্ষ থেকে বাৎসরিক সংস্কার ও সংশোধনের কর্মসূচী গ্রহন করতে পারে। যেমন “ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা’২০২০” (তথ্য সহায়তায়ঃ উইকিপিডিয়া)
দুই/
উপরিউক্ত কথাগুলোর অবতারণা করেছি এ কারণেই যে,গত ৪ নভেম্বর,২০১৮ তারিখে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত এই শোকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করেছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলে  এ উপাধি দেন।
মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা আপনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, সব কিছু উপেক্ষা করে। অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন। ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর জননীর ভূমিকা আপনি (শেখ হাসিনা) পালন করেছেন। আজকে কওমি মহাসমুদ্রে আমি ঘোষণা করতে চাই, আপনি কওমি  জননী। আজ থেকে আপনাকে এ উপাধি দিলাম।  আপানার মাতৃত্বের ভূমিকা না থাকলে, এদেশ বিরোধী, সাহাবাদের দুশমন, জামাত-মওদুদীবাদীরা এ দেশে (স্বীকৃতি) হতে দিতো না।’ (তথ্য সহায়তাঃ বাংলা ট্রিবিউন)
“ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা’২০২০” এর আওতায় আওয়ামী লীগসহ সমস্ত সংগঠন, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগলোর নাম বাংলায় রূপান্তরিত করলে “কওমি জননী” হয়ে যাবে”জাতীর জননী” এবং কওমি মাদ্রাসা হয়ে যাবে “ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান”। কওম’ আরবি শব্দ। এর অর্থ গোষ্ঠী, গোত্র, জাতি, সম্প্রদায় ও জনগণ। ‘কওমি’ শব্দের অর্থ জাতীয়। (বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃ. ২০৫, ‘কওম’)। ‘মাদ্রাসা’ শব্দটিও আরবি। এর অর্থ হলো অধ্যয়নের স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যাপীঠ। বাংলা একাডেমির অভিধান মতে, মুসলমান ধর্ম ও সংস্কৃতিসংক্রান্ত উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রকে মাদ্রাসা বলা হয়। (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃ. ৯৭৫, ‘মাদ্রাসা’)। সুতরাং কওমি মাদ্রাসা মানে জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ যাবত কাল কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদানের পরিবর্তে মুসলিম জাতির অর্থানুকূল্যে মুসলিমদের কল্যাণে পরিচালিত হয়, তাই এই ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কওমি মাদ্রাসা বলা হয়। যেহেতেু এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় চলবে এবং আধুনিক শিক্ষার সাথে একীভূতকরণের প্রক্রিয়া চলছে তাই একে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে নামকরণ করা যেতেই পারে। (তথ্য সহায়তায়ঃ বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমী)
তিন/
যা বলছিলাম, আমরা যা পারিনি এবং সাহস করিনি আলেম ওলামা মাশায়েকবৃন্দ সেটা করে দেখিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের স্বীকৃতি হিসাবে কওমিরা “কওমি জননী” উপাধিতে ভূষিত করেছেন। দেশের জন্য অবদান রাখলে, দেশের স্বাধীনতা জন্য যুদ্ধ করলে ও রক্তদিলে আমরা ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সন্মান প্রদর্শণ করে থাকি। যেমন মাষ্টার দা সূর্য্যসেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিপ্লবী বলে সন্মাননা দেখাই। ভাষার জন্যে আত্মদানকারী ও  আন্দোলনকারীদের আমরা ভাষা শহীদ এবং ভাষা সৈনিক বলে সন্বোধন করি। দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তির জন্য যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদেরকে আমরা শহীদ বলে সন্মান জানাই। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারীদের আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে সন্মান করি। রণাঙ্গণে সাহসী ভূমিকার জন্য রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে বীরশ্রেষ্ট, বীরউত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক হিসাবে। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে একটা স্বাধীন ভূখণ্ড উপহারের জন্য শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু, জাতিরজনক সন্মানে ভূষিত করেছি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন জুলিও কুরি। বিবিসি দিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামেএগিয়ে নেয়া এবং স্বাধীন করার জন্যে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে জাতীয় নেতার স্বীকৃতি দেয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রমে এবং বঙ্গবন্ধুর পথ চলায় সহযোগীতা করার জন্যে বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবকে বঙ্গমাতা বা দেশের মাতা বলে সন্মান জানাই। বর্তমান অবস্থায়ও দেশের উন্নয়নে অবদানের জন্য প্রতিবছর একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে সন্মানিত করা হয় বিশিষ্টজনদের।
আমরা মুজিব তনয়া শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সন্মান জানানোর চেষ্ঠা করি। সম্বোধন করি  এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গরত্ন, বঙ্গকন্যা, দেশরত্ন, সফল রাষ্ট্র নায়ক, গণতন্ত্রের মানস কন্যা, উন্নয়নের রূপকার, মানবতার মাতা ইত্যাদি। কিন্তু কোনটাই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়। মনের মাধুরী মিশিয়ে যখন যা ভাল লাগে অবস্থা বিবেচনায় এবং দর্শক বিবেচনায় সেটাই বলে থাকি। কিন্তু কওমি জননী বা জাতির জননী কথাটা আওয়ামী পরিবারের কেই উচ্চারণ করতে সাহস পায়নি।
তিনবারে শেখ হাসিনার পনের বছরের শাসনামলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় মুজিব তনয়া শেখ হাসিনাকে একটা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র উপহার দেয়ার জন্যে এবং উন্নয়নশীল ও উন্নত রাষ্ট্রের সিড়িতে পা রাখতে ভূমিকা রাখার জন্যে “জাতির জননী” বা কওমি জননী” স্বীকৃতিটা তার প্রাপ্য। যা দলীয় নেতা কর্মী ও সংগঠন এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা সাহসতো দুরের কথা কল্পনায়ও অনতে পারেনি অথচ সমাজের পিছিয়ে থাকা অবহেলিত জনগোষ্ঠী আলেম ওলামা মাশায়েকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ”কওমি মাদ্রাসা” বা ”জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সেটা করিয়ে দেখিয়েছে। ৪ নভেম্বর,২০১৮ থেকে পিছিয়ে পড়া আলেম ওলামা মাশায়েকদের কাছে শেখ হাসিনা “কওমি জননী বা মাতা” / “ জাতির মাতা।
 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ নিরব তারিখঃ 06/11/2018 02:09 PM
সর্বমোট 50 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ