ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

হাতুড়ী: ছাত্রলীগের সহিংসতার লিজেন্ড!

কিছুদিন ধরেই ভাবছি সাম্প্রতিককালে ছাত্রলীগের হাতুড়ী সন্ত্রাস নিয়ে দু’কথা লিখব। পেশাগত ব্যস্ততা এতোটাই বেশি যে, সে সময় আর হয়ে ওঠে না। ইদানীং সময়ের অভাবে তাড়াহুড়ো করে লিখতে গিয়ে লেখার মান ও প্রমিত রূপের সাথে কম্প্রোমাইজ করতে হচ্ছে। বয়স হবার কারণে স্মৃতিও মাঝেমধ্যে খুব বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। লিখতে বসে অনেককিছুই ভুলে যাই। এখন লিখতে বসে স্মৃতির পাতায় কতগুলি লিজেন্ডারি ঘটনা ভেসে উঠছে।

এক।

চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের সময় কুড়িগ্রামের বাক প্রতিবন্ধী বাসন্তী ও তার চাচাতো বোন দুর্গতির একটা জাল পরিহিত ছবি সারা দেশে ও পৃথিবীতে খুব আলোড়ন তুলেছিল। সেই ছবিটি ছবিটি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু সরকারকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছিল এবং আওয়ামী লীগকে জনবিচ্ছিন্ন করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডকে তরান্বিত করেছিল।

বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত সেই ছবির ফটোগ্রাফার ছিলেন ইত্তেফাকেরই নিজস্ব আলোকচিত্রি আফতাব আহমেদ যা দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সেই ছবি প্রকাশিত হওয়ার কিছুকালের মধ্যেই বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। পরিষ্কার হয়ে যায় ছবিটি ছিল সাজানো। পরবর্তীতে পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয় ।

সেই ছবি তোলার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, রাজো বালা ও বাসন্তীর কাকা বুদুরাম দাস। তাদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, ৭৪-এ যখন বাসন্তী-দুর্গাতিদের ছবি তোলা হয়, তখন ছিল বর্ষাকাল। চারদিকে পানি আর পানি। একদিন বাসন্তী ও তাঁর চাচাতো বোন দুর্গাতিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন মিলে ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধের ওপর বসেছিলেন। এমন সময় ইউপি চেয়ারম্যান আনসার আলি বেপারি (এক সময়ের মুসলিম লীগ ও পরে আওয়ামীলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতা) কয়েকজন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ একজন সাংবাদিককে নিয়ে আসেন মাঝি পাড়ায়। তারা বাসন্তী ও দুর্গাতির ছবি তুলতে চান। এ সময় তারা বাঁধের ওপর মাঝিদের রোদে শুকোতে দেয়া জাল তুলে এনে তা বাসন্তীর ছেঁড়া শাড়ির ওপর পরিয়ে ছবি তোলেন। ছবি তোলার আগে আগন্তুকরা বাসন্তীদের মুখে কাঁচা পাটের ডগা দিয়ে বলে এগুলো খেতে থাকো। বুদুরাম এভাবে ছবি তুলতে আপত্তি জানিয়ে নিষেধ করেছিলেন কিন্তু তারা শোনেননি।

দুই।

হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রানী শীল ছিল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন তরুণ কিশোরী। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারা হায়েনার মতো প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে। প্রতিপক্ষের ভোটার বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের উপরে চরম হিংস্র আক্রমণ চালায়।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা যারা তাদের কথা না মেনে নৌকায় ভোট দিতে গিয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বাড়ি কোন কিছুই তাদের রোষানল থেকে বাদ যায়নি। যাকে সামনে পেয়েছে তাকে আহত/নিহত করেছে। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ঘর-বাড়ি, ফসলের মাঠ। বিষ ঢেলে দেয়া হয়েছে মাছের খামারে। লুট করা হয়েছে অর্থ সম্পদ, গবাদি পশু-পাখি। গর্ভবতী মাকে ধর্ষণ, কোলের শিশুকে ছিনে নিয়ে আগুনে নিক্ষেপ সবই তারা করেছে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিশোরী, যুবতী, কিংবা মায়ের বয়সী নারীদের উপর নির্মম পৈশাচিক নির্যাতন করেছে। ধরে ধরে মায়ের সামনে, পিতার সামনে, স্বামীর সামনে করেছে এ ধর্ষণযজ্ঞ। এ দেশ আরও একবার দেখতে পেয়েছে ১৯৭১।

এমনি এক কালরাতে হায়েনার দল উপস্থিত হয় সদ্য কৈশোরে পা পড়া পূর্ণিমা রানী শীলের বাড়ি। যার বাবা, মা নৌকায় ভোট দিয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। ১০/১২ জনের জামাত-বিএনপি'র পাষণ্ডদল পূর্ণিমার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পূর্ণিমার অসহায় বাবা-মাকে সে পশুশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হতে হয়।
পূর্ণিমার মা হায়েনার দলের এমন পাশবিকতা দেখে ছোট মেয়েটার জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি পাষণ্ডগুলিকে 'বাবা' বলে সম্বোধন করেন এবং বিনীত অনুরোধ করে বলেন- বাবা, আমার মেয়েটা ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো; নইলে মরে যাবে!

তিন।

আশির দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির তাদের জাল বিস্তার করতে শুরু করে। ওই সময় ক্যাম্পাস প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠন ছাত্রমৈত্রীর দখলে থাকলেও গোপনে মসজিদভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা শুরু করে শিবির। ধীরে ধীরে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছাত্রাবাসগুলো ঘিরে নিজেদের জাল জোরদার করতে শুরু করে শিবির। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেয়েদের বিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নিয়ে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে।

পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়েই অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের উপর হামলা চালাতে শুরু করে তারা। হামলায় কাজ না হলে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার কৌশল নেয়। উপরের নির্দেশে এভাবেই রগ কাটার রাজনীতি শুরু করে শিবির। শুধু রাজশাহীই নয়, শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসেই শিবিরের এমন রগ কাটার ইতিহাস অসংখ্য।

এ সরকারের সময়ই নৃশংসভাবে খুন করা হয় রাবি ছাত্রলীগ কর্মী ফারুককে। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে রাবির এসএম হলে খুন করে ম্যানহোলে ফেলে রাখা হয় তার লাশ। এ সময় চার ছাত্রলীগ কর্মীরও হাত-পায়ের রগ কাটে শিবির। তারা এখনও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেননি।

২০০৬ সালে রাবি ক্যাম্পাসে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহেরকে খুন করে দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডাররা। বাসার পেছনের সেফটি ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খুনের মামলারও প্রধান আসামি ছিলেন তৎকালীন রাবি শিবির সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী। কিন্তু পরবর্তীতে আদালত থেকে বেকসুর খালাস পান তিনি।

২০০৪ সালে ২৪ ডিসেম্বর একই বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস হত্যাকাণ্ডেও শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

এভাবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর কারমাইকেল কলেজ, বরিশালে বিএম কলেজসহ দেশের প্রধান উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোতে রগ কাটার সংস্কৃতি শুরু করে শিবির।

২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগরীতে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর সফর শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ জন ছাত্রলীগ কর্মীর রগ কাটে শিবির।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই দশকে শিবিরের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ৯০ দশকের পর চবিতে শিবির প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করে। এ সময় যারাই শিবিরের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতো প্রকাশ্যেই তাদের হাত পা রগ কেটে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করে শিবির।

চার।

২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী ১৫ মাসে সহিংস ঘটনা ঘটেছিল ১৮ হাজারেরও বেশি। তবে কমিশনে অভিযোগ দাখিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৭১টি। এর মধ্যে মধ্যে রাজনৈতিক হত্যা রয়েছে ৩৫৫টি। ধর্ষণ, লুটপাট, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ অন্য অপরাধ ৩ হাজার ২৭০টি। বিএনপি জামাত জোটের সন্ত্রাসীদের নামে ৫ হাজার ৮৯০ টি মামলা সরকারিভাবে প্রত্যাহার করে নিয়ে ৭০ হাজার দলীয় নেতাকর্মীকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শুরা কমিটির প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আধ্যাত্মিক নেতা শায়খ আবদুর রহমান, অপারেশন কমান্ডার আতাউর রহমান সানিসহ এই সংগঠনের সন্ত্রাসীরা মানুষ মেরে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল তবু কেউ নামানোর সাহস পর্যন্ত পায়নি।

কুমিল্লার সাবেক যুবলীগ নেতা হেদায়েত উল্লাহকে মেরে তার মৃতদেহের হাতে পায়ে পেরেক পুতে জিশু বানিয়ে গাছের সাথে টাঙিয়ে রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল জামাতিরা। এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন জামাতের তৎকালীন এমপি আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহের।

ছয়।

তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয় এবং সে হামলায় মানবব্যুহ্য সৃষ্টি করে নেত্রীকে বাঁচানো গেলেও আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। আহত হয় অসংখ্য যারা আজও পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছে। এ ঘটনা নিয়ে বহু গুজব রটানো হয়। শেখ হাসিনার ভ্যানিটি ব্যাগে বোমা ছিল এমন হাস্যকর কথাও প্রচার করা হয়। তৈরি করা হয় জজমিয়া নাটক।

সাত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রগ কাটার মচ্ছব শুরু করার আগে ছাত্র শিবির রগ কাটার ট্রায়াল দেয় বরিশাল মেডিকেল কলেজে। আশির দশকে বরিশাল মেডিকেল কলেজের দুই নম্বর হোস্টেলের তিনতলার মসজিদের ভিতরে তারা চন্দন শীলের রগ কাটে। চন্দন দা এখন ভারতের খুব নাম করা ডাক্তার এবং অনেক বড় হাসপাতালের মালিক। এ ঘটনাটি কখনও সেভাবে প্রচার হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন চন্দন দা’র রাজনৈতিক সাহচর্য পেয়েছিলাম।

নব্বইয়ের দশকে বরিশাল মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বিবাদের সুযোগে ছাত্রদল দখল করে নেয় ছাত্রলীগের এক নম্বর হোস্টেলের বেশ কয়েকটি রুম। বেশ কয়েকটি রুম পুড়িয়ে অঙ্গার করা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমি ছিলাম সেই গোলমালের প্রধান ভিক্টিম। আমার রুম পোড়ানো হয়। কয়েকমাস ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরে আমি দুই টার্ম পরে সার্জারি ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিলাম। সেই গোলমালে আমাদের ব্যাচের ফিরোজকে হাতুড়ি আক্রমণ করে আমাদের জুনিয়র ব্যাচের ছাত্রদল নেতা কাকন ও তার গ্যাং। ডাক্তার ফিরোজ এখন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ডাক্তার। সেই হাতুড়ী কাহিনীও মানুষের অজানা রয়ে গেছে, কারণ সেগুলি প্রচার করা হয়নি।

আট।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার যে ঘৃণ্য কৌশল জামাত-বামাত-বিএনপি গ্রহণ করেছে সে আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। এই ঘটনাটাকে লিজেন্ড করা হয়েছে। ছাত্রলীগকে বলা হচ্ছে হাতুড়ী লীগ।

আমি নিজে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এই ধরনের মারামারি-কাটাকাটি-হানাহানির খুবই বিরোধী। যারা এর হাতুড়ী পেটার বিরোধিতা করছেন, সমালোচনা করছেন আমি তাদের সকলকে সম্মান জানাই। আমরা যদি এরকম জঘন্য ঘটনার বিরোধিতা না করি তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেটুকু শিক্ষার পরিবেশ আছে তাও গোল্লায় যাবে।

আমি যে বিষয়টির ব্যাপারে বিরোধিতাকারীদেরকে সতর্ক থাকতে বলি তা হলো- ঘৃণা করলে সকল ঘৃণ্য কাজকেই ঘৃণা করেন। নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল ঘৃণ্য কাজ করলে সেটা নিয়ে তুমুল হৈ চৈ ফেলানোর উদ্দেশ্য যদি হয় আরেক দল বা গোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে দেওয়া, তাদের অপকর্মকে লঘু বলে প্রমাণ করা অথবা লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা তবে সেটা আসলে ঘৃণা করা না, সেটা ঐ অপরাধের চেয়েও বড় অপরাধ। কথাগুলো বলতাম না, যদি আমি দেখতাম এই বিরোধিতাকারীরা একবারও তাদের সমালোচনায় জামাত, বিএনপি’র অপকর্মগুলিকে টেনে এনেছে।

এই দেশ, এই ভূখণ্ডের জন্য, এই ভূখণ্ডের মধ্যে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছে, যে পরিমাণ অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছে, যে পরিমাণ রক্ত দিয়েছে, যে পরিমাণ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তা আর কোনও দল করেনি। ২০০১ এর নির্বাচন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের উপরে যে সহিংসতা চালানো হয়েছিল তার হুবহু প্রতিশোধ যদি আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ সত্য সত্যই নিতো তবে এ দেশের রাজপথে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এখনও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ গুজব ছড়ানো হচ্ছে তারও প্রতিশোধ যদি আওয়ামী লীগ জামাতি স্টাইলে নেয় তাহলেও কসাইখানা হবার কথা এই দেশ। তা হচ্ছে না কারণ আওয়ামী লীগ জামাত-বিএনপির মতো অতোটা উচ্ছৃঙ্খল না। তারমানে এটা নয় যে, আওয়ামী লীগ খুব ভাল। আওয়ামী লীগ অনেক জঘন্য কাজ করছে তাতে কোনো সন্দেহই নাই।

প্রতিটি ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। আওয়ামী লীগকে কী দিয়েছিলেন সেটা একবার স্মরণ করুন, তাহলে এখন কী পাওয়া উচিত সেটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ এই দেশ চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এটা ঠিক, অনুগ্রহ করে সার্থক দলটির নাম বলবেন কী?
*
লেখাটি ফেসবুকে এবং অনেকগুলি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 21/10/2018 01:13 PM
সর্বমোট 214 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ