ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

কোটা আন্দোলন ও ভাবনা

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যে কয়টি আন্দোলন হয়েছে এর মধ্যে এই আন্দোলনটা খাপছাড়া ভাবে খাপ খেয়ে গ্যাছে সামনে নির্বাচন ও রাজনিতীর বিশেষ করে ছাত্র রাজনিতীর দেউলেপনা থাকার কারণে। শিরোনাম যা দিয়েছি তার মুল কারণ এই আন্দোলনে নিজেদের প্রগতিশীল বলে যারা দাবী করে তাদের উচ্চকন্ঠ ও সক্রিয়তা। 

প্রগতিশীল মানে কি!!!? এই প্রশ্নের জবাব দেবার মতো লোক এখন এই বদ্বীপে নেই। স্বার্থপরতা ও হীন ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য বিভ্রান্ত করা হয়েছে ছাত্র সমাজকে এই প্রগতির নামেই, ন্যায় সঙ্গত দাবীর নামেই যা আসলে শুধু অন্যায়ই না, ঘোরতর অন্যায়। এই আন্দোলনে দেশের বড় বেশ কটি রাজনৈতিক শক্তি ও দল সমর্থন দিয়েছে। যারা আসলে মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক ও রাজনিতীতে অন্যায্য পেশী শক্তির ব্যবহারের আসল দৃর্বৃত্ত। 

আপনি ভালো মানুষ, প্রগতিশীল মানুষ! আপনার কথা আর ঐ মৌলবাদীদের ভাষা এক হয় কিভাবে! তাহলে কি বলতে হবে ওরাও প্রগতিশীল হয়ে গ্যাছে!! আসলেই কি হয়েছে ? মোটেও ওরা প্রগতিশীল হয়নি, তাহলে বলতেই হয় আপনারা যারা প্রগতিশীলতার নামে মৌলবাদের সাথে একই সুরে কথা বলছেন তারাই মৌলবাদের বাহক হয়ে পরেছেন। আমার এর আগের বিভিন্ন লিখাতে আমি রুঢ় ভাবেই বলেই এসব ভন্ডামী, আবার বলছি ভন্ডামী। 

কোটা কিভাবে কাজ করে তা জানেন! ? আসুন সহজ করে জানি। ধরি আমি একাটাধারী ও ফজল কোটা বিহীন, সুরুজও তাই। এখন আমরা তিনজন কোন পরীক্ষাতে বসলে সবার আগে ঐ পদের সাধারণ যোগ্যতা আমাদের তিন জনেরই থাকা লাগবে। এর পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাতে তিনজনেরই নুন্যতম পাশ নম্বর তুলতে হবে। এখানে কেউ কম বেশী নম্বর পাবে । এখন কোটার কারণে আমি তিনজনের ভিতরে সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েও চাকরীটা পেতে পারি। এতে করে আমার লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষাতে পাশ করা সহ চাকরীর সাধারণ যোগ্যতা নাই হয়ে যায় না। কারণ সাধারণ যোগ্যতা সহ বাকী পরীক্ষাতে আমাকে মেধার পরিচয় দিতেই হয়েছে, ওখানে কোটা ছিলো না। 

আন্দোলনের ফলে কোটা যদি বাতিল হয় তবে যা হবে তাতে করে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্থ হবে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী। মফস্বলের একটি ছেলে সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও চাকরীপাবেনা কারণ সে টপ করতে পারেনি। এতে সুবিধা হবে এগিয়ে থাকা গোষ্ঠির। আদীবাসী সহ মেয়েরা এর সবচেয়ে বড় শীকার হবে। বিভ্রান্ত আদীবাসী ও নারী যারা কোটা বাতিল বা সংস্কার করো বলে রাস্তায় ছিলেন তাদের প্রতি সমবেদনা। 

কোটা কমিটির কাছে আবেদন, কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে প্রয়োজনে কোটা বাড়ান। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারী থাকলে ও শিক্ষাজীবনে কোন চ্ছেদ থাকলে তাদের যোগ্যতা বাতিল করেন। সেই সাথে প্রথম শ্রেণী বা সমমান না থাকলে কেউ প্রথম শ্রেণীর চাকরীর জন্য উপযুক্ত না বলে প্রজ্ঞাপণ জারী করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর পর দু বছর দুই এর অধিক ক্যারী থাকলে ছাত্রত্ব বাতিল করেন। 

বিসিএসের জন্য, নারী ও আদিবাসীদের আলাদা করে পরীক্ষা নিয়ে চাকরী দিতে হবে। গুটিকয় লোভী ও স্বার্থপর ভন্ডের জন্য বাংলাদেশ পিছিয়ে যেতে পারে না। 

অনেকদিনপর কীবোর্ডে বসা - ভাবনা এলোমেলো ভাবে লিখাতে এসেছে তবে যা বলেছি সেটা সঠিকও মনে করি। মেধা ভিত্তিক হলে দ্বিতীয় শ্রেণীর ডিগ্রিধারী প্রথম শ্রেনীর চাকরী কেনো পাবে? 

ছবি
সেকশনঃ সাম্প্রতিক বিষয়
লিখেছেনঃ দুরন্ত.. তারিখঃ 18/09/2018 10:37 PM
সর্বমোট 352 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ