ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

মাংসের স্বাদ!

সুজন কাঠ ফাটা ভাদ্রের রোদ থেকে  অবসর নিচ্ছে মন্দিরের পেছন দিকের ঝাকালোঁ মধ্য বয়সের আম গাছ টার মোটা শিকড়টায় বসে আর সাহানার কথা ভাবছে। সুজন এবার এস এস সি পরীহ্মা দিবে। সাহানাও!সুজন এর চিন্তায় সাহানার দুধ সাদা শরীর আর নীল স্কুল ড্রেস  কে উচুঁ করে দৃষ্টি টানা উর্ধদেশ সুজনকে কাতর করে এই মুর্হুতে।
 
ঈদ -উল-আযহার ছুটি। অবশ্য সাহানা  লেখাপড়ায় অত ভাল নয়। ওর বাবা মধ্য প্রাচ্যে থাকে ,আর্থিক অবস্থা সুজনদের চাইতে অনেকাংশে ভাল। সাহানা ইংলিশ মডেলের সাইকেল চালিয়ে স্কুল আসে। টিচাররা ওকে আদর করে কারণ বোধ হয় ওদের বাড়ি টিউশনি করলে ভাল বেতন মেলে সাথে ভাল নাস্তা। আবার যখন মধ্য প্রাচ্য থেকে ওর বাবা আসবে তখন টিচারদের ভাল গিফ্ট দেয় ,যেমন শার্ট পিচ,প্যান্ট পিচ,সেন্ট,শেভিং ইনস্টুমেন্ট ইত্যাদি।
 
সুজনরা হিন্দু। আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। লেখা পড়ায় ভাল। রোল নম্বর একের নিচে নামেনা। স্কুলের সবাই তাকে কম্পিউটার নামে ডাকে কারণ সে  যে কোন বিষয় একবার পড়লে বলতে পারে এমনকি মোবাইল নাম্বার পর্যন্ত। তাছাড়া সে স্কুলের ইতিহাসে অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পাওয়া একমাত্র ছাত্র। স্কুলের ল্যাবটরীতে স্বপন স্যারের কাছে যখন ম্যাথ পড়ে ব্যাচের মধ্যে সাহানাও পড়ে। আর সাহানার পুরুষ্ট শরীর আর ঘামের জামার বগল ভিজে যাওয়া সুজন আড়াল আবডালে খেয়াল করে।
 
 সেদিন সাহানা তার পাশের সিটে বসেছিল,বেচ্ঞের নিচে কলম তুলতে গিয়ে সুজনের নাসা রন্ধ্রে সাহানার ঘাম মিশ্রিত কোমল শরীরের ঘ্রাণ সুজনকে অনন্য উপভোগের চুড়ায় উঠিয়ে নেয়।সে জানে সে কখনও সাহানার এই সৌন্দর্য পাবেনা। ধর্ম কোন ফ্যক্ট নয় অন্তত খোরশেদের মত একটা পালচার থাকলে চেষ্টা করত।সুজনের উঠতি হাত কখন তার শিশ্নে একটা হতাশার পরশ বুলায়!
 
কোরবানী মাংস নিয়ে জাহেদ যাচ্ছিল  তার বোনের বাড়ি। সুজনকে দেখে গল্প করতে থাকে ,জাহেদও একই ক্লাসের। সুজনের নাকে গরুর মাংসের সুগন্ধ লাগে।সে জাহেদকে গরুর মাংস খাওয়ানোর আবদার করে,জাহেদ ও খুনসুঁটি করতে করতে গোশতের হাড়িটা  কাপড়ের প্যঁচ থেকে বের করে। লাল ঝোলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করতে থাকে সুজনের চোখ।সুজন দু আঙ্গুলে একটা গো মাংস মুখে পুরে দেয়। গো মাংসের স্বাদ আর সাহানার পুষ্ট স্তন তাকে স্বর্গীয় তৃপ্তি এনে দেয়।
 
সুজন জাহেদ কে বিদায় দেয়। আম গাছটার শিকড় থেকে উঠে এসে মন্দির চত্বরে দাড়াঁয় । সোজা চোখ যায় মন্দিরের কালীর প্রতিমার দিকে লাল শাড়ি পরিহিতার অসুর মুন্ডুর মালা আর জবা ফুল। এই ফুল গুলি সে প্রতিদিন ভোরে  পুজার জন্য উঠায়। দেবীর রক্তাক্ত জিভ আর দুদিকে ছড়ানো খড়গ আর বিবিধ অস্ত্র। পদতলে বাঘ্র চামড়ার দেবাদিদেব মহাদেব বা শিব শংকর। মধ্য যামিনীর রক্ত লীলায় মহাদেবের বহ্মে পা দেন দেবী আর তখন মহাদেব তাঁর রাত অভিসারে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। দেবী স্বামীর নিকট ধরা পড়ে জিভ্ কাটলেন, যে জিভে রক্ত পানের চিহ্ন।
 
সুজনও লজ্বিত হল, দেবীর চোখের দিকে তাকিয়ে! সে তবু আগামীকাল ভোরে দেবীর জন্য ফুল তুলবে অভ্যস্ত নিয়মে সকল মঙ্গল আকাঙ্খায় এমনকি সাহানার আরেকটু গভীর তুলতুলে নরম মাংসের স্পর্শ পাওয়ার জন্য এবং তা  দোষের হলেও!
 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ Likhon Chowdhury তারিখঃ 20/08/2018 03:51 PM
সর্বমোট 134 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ