ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!


""#মধ্যবিত্তের_মধ্যবিন্দু""





মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মনেওয়া ছেলেগুলো হয় সবথেকে বেশি ডেডিকেটেড। আর পরিবারের বড় ছেলে হলে তো কথা-ই নেই।তাদেরকে সারা জীবন কম্প্রোমাইজ করে চলতে হয়।

#তাদের নিজস্ব কোন ইচ্ছা বা স্বপ্ন থাকতে নেই।



না পাওয়া বা কম পাওয়ার সাথে তাদেরকে মানিয়ে চলতে হয়। কফিশপ্,পার্টি, লাঞ্চ, ডিনার এ শব্দগুলো তাদের অভিধানে নেই। তারা বন্ধুদের আড্ডায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকেনা। থাকে আলোচনার টপিক হিসেবে।



#এই_ছেলেগুলো সংগ্রামী হয়। তারা জীবন সম্পর্কে খুব দ্রুত বুঝতে শিখে। নিজের স্বপ্ন নয়, পরিবারের অন্যদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারলে এরা খুশি হয়।

তারা জানে তাদের বাবার লাখ লাখ টাকা নেই।

প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়া তাদের ভাগ্যে নেই।তাই তারা পাবলিক ভার্সিটিতে টিকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে।এবং কেউ কেউ সফলভাবে টিকেও যায়।



এরপর শুরু হয় তাদের আসল স্ট্রাগল।নিয়মিত পড়াশুনা,ক্লাস ঠিক রেখে, এরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে টিউশনি করে। এভাবে তারা জীবন যুদ্ধে নামে।নিজের পড়ালেখা এবং দরিদ্র পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।

অসুস্থ মা,বাবা এবং ছোট ভাই-বোনের কথা ভেবে এরা আরাম আয়েশের কথা ভুলে যায়।

তার সহপাঠীরা যখন বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে থাকে,তখন সে হয়তো কোন টিউশনিতে থাকে। বন্ধুরা যখন সিনেমা দেখে অবসর সময় কাটায়।

তখন সে মেলার স্টলে পার্টটাইম জব্ খুঁজে।

তাদের বন্ধুর সংখ্যা খুব কম থাকে। কারণ বন্ধুদের সময় দেওয়ার মত সময় তাদের থাকেনা।



তারা চিন্তা করে আরেকটা টিউশনি যদি বাড়াতে পারি, তাহলে বাবার চিকিৎসাটা হয়ে যায়। বোনের জন্য একটি নতুন জামা কেনা যাবে।মায়ের চোখের অপারেশনটা হয়ে যাবে।

# তারা দু'বেলা খেয়ে দিনপার করে দেয়। ভালো কিছু খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সেটাকে চাপা দিয়ে রাখে,কারণ বাড়িতে বাবা-মা,ভাই-বোনের মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে।

যেন,,,, একটা মুখের দিকে কয়েকটা নিষ্পাপ মুখ তাকিয়ে থাকে।



#মনপড়ে থাকে বাড়িতে। ফোনে জিজ্ঞেস করে, বাবা,মা তোমরা কেমন আছো ??ছোটরা কেমন আছে??

বাবা বলেন----আমরা ভালো আছি। আমাদের জন্য চিন্তা করোনা।

বাবা, ছেলের সীমাবদ্ধতার কথা জানে তাই সে অসুখের কথা লুকায়।মায়ের চোখের সমস্যার কথা লুকায়। ছেলে ঠিকি বুঝতে পারে বাবা মিথ্যে বলছে। এ মিথ্যে বলায় কি কোন পাপ হবে???????



ফোনের দু'প্রান্তে নীরব দুটি কন্ঠ, দু'জনেই কাঁদে।কিন্তুু কেউ কাউকে বুঝতে দেয়না।

নীরবে জল গড়িয়ে পড়ে কপোল বেয়ে।

এভাবে মধ্যবিত্তের মধ্যবিন্দুতে আঁটকে থাকে কিছু নিষ্পাপ মুখের সুখ- দুখের সমীকরণ।



#ছেলে ভাবে-- এ মাসে যদি কিছু টাকা বেশি দিতে পারতাম,তাহলে রমজানে বৃদ্ধ বাবা-মা একটু ভালো খেতে পারতো। তাই সে আরেকটা টিউশনি নে,আরো পরিশ্রম করে। শেষের টিউশনিটা করে সে রাত ১২ টায় মেচে ফেরে।ক্লান্ত পরিশ্রান্ত।



#মধ্যবিত্তের ছেলেরা একেকটা সংগ্রামী জীবনের অপঠিত জীবন্ত মহাকাব্য।

যা পড়ে দেখার সময় কারো নেই।

#এরা এক সময় সফলও হয়।।

#কিন্তুু দু:খ একটাই---- তখন হয়তো বৃদ্ধ বাবা-মা বেঁচে থাকেনা।।

বাস্তবতার নিরিখে লেখা---

কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ------

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ তুষার শুভ্র তারিখঃ 17/08/2018 12:58 PM
সর্বমোট 228 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ