ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

যুবতীর গলা কাটা লাশ

‘দৈনিক প্রথম পাতা’ নিয়মিত রাখেন তার বাসায়।ইদানিং পত্রিকাটির ভিতর পাতার  এই নিউজটি তার মনে দাগ কাটছে;সে ভুলে যেতে চাইলেও হুবহু একই নিউজের পুনরাবৃত্তি হয়।শুধু স্থান-কাল-পাত্রীর ভিন্নতা ;শিরোনাম “ যুবতীর গলা কাটা লাশ।“লেখক তার ল্যপটপের ডালা খুলে,সাদা ওয়ার্ড শীটে তার মনে হয় সব গলা কাটা লাশের ধড়ের ছায়া ওয়ার্ক শীটের উপর কোরাসের মত নেচে বেড়াচ্ছে আর সমস্বরে চিৎকার করে কিছু বলতে চাচ্ছে!কিন্তু কোন আওয়াজ বের হয়না।ধড়ের ছায়া গুলোয় করুন আকুতি কিছু প্রকাশ করার।লেখকের ঘর অন্ধকার এবং বিল্ডিংয়ের ছাদ সংলগ্ন ফ্ল্যাটের এই রুমটি।রাত বেশী নয় সবে মাত্র দশটা তবু হাতিরঝিলের আবাসিকটি সুনসান ,বাইরে থেমে থেমে মেঘের গর্জন ,বাজপড়ার শব্দ,বৃষ্টির শব্দ।বৈশাখ এখনও আসেনি মার্চের শেষে রোদজ্বলা দিন ,রাত হলে এক পশলা-দোপশলা বৃষ্টি হয়।লেখক ল্যাপটপের অডিও মিটার বাড়ায় ,না-কোন আওয়াজ বেরোয় না বাইরের বজ্রপাত –বৃষ্টিপাতের আওয়াজ ছাড়া।
জসীম কাওলার তাদের দোতলা বাসায় আজ একা।তার স্ত্রী তার দুই সন্তানকে নিয়ে টঙ্গীর সফিউদ্দীন রোডের বাপের বাড়ি গেছে তার অসুস্থ বয়স্ক বাবাকে দেখতে।জসীমের বয়স মধ্য চল্লিশ ,কালো ছিপছিপে গঠন।এয়ারপোর্ট সংলগ্ন তাদের এলাকায় ভুমি দুস্যদের কে দালালি করে সে জমি দিত এর ও আগে পুর্বাচলের উত্তর পার্শের জলা গুলোয় দল নিয়ে মাছের প্রজেক্ট করত।জসীম করিৎকর্মা লোক অভিধানের ভাষায় স্মার্ট সোজাকথায় পরিস্থিতির সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেকে বদলিয়ে নিয়েছে এবং তার রুটি রুজিকে বদলিয়েছে।সে কী করেনি!বর্তমানে সে মহল্লায় রড-সিমেন্টের দোকান চালায়,ইদানিং ব্রড ব্যান্ড সংযোগের ব্যাবসা শুরু করেছে।সরকার দলীয় একটি অঙ্গ সংগঠনের থানা কমিটির গুরুত্বপুর্ণ পদেও আছে ;তাই বলে টে্ন্ডার সে ধরেনা,এটাতে ঝুকি বেশি।সে বরং যারা করে তাদের সাপ্লায়ার ।এই বাড়িটির পাশাপাশি তার আরও একটা পাঁচ তলা বাড়ি আছে ;যার পুরোটায় ভাড়া দেওয়া।পার্শ্ববতী বাড়িগুলো তাদের বংশের শরীকদের ,তিনটা বাড়ি পর তার পাঁচতলা বাড়িটা।জসীমের দিনগুলো সকাল এগারটায় রড-সিমেন্টের দোকান দিয়ে শুরু হয় ,সারদিন কাষ্টমার-কোম্পানির লোক,ফাঁকে ফাঁকে মহল্লার বন্ধু-বান্ধব ,পার্টির ছেলেপেলে,মহল্লার এর-ওর বিচার-সালিশ ,দেন-দরবারও সামলাতে হয়।তার ক্লাস নাইনে পড়ুয়া ভাতিজাকে বসিয়ে তার ইয়ামাহা ব্রান্ডের মোটর সাইকেলটা নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয়।যদিও সে সেকেন্ড প্রিমিও গাড়িটা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করেনা।
আজ সকালে আশকোণা থেকে বের হয়ে হাজী ক্যাম্প পার হয়ে ডাষ্টবিনটার সামনে মানুষ আর পুলিশের জটলা দেখে সে মোটর সাইকেল থামায়,জটলার মধ্যে উকিঁ দিয়ে দেখে ধবধবে সাদাটে একটি লাশ উপুড় করা,শরীর গঠনে বোঝা যায় নারী শরীর সম্ভবত যুবতী শরীর।উলঙ্গ শরীর বেয়ে তার চোখ যায় মাথার দিকে সে ধড় খুঁজে পায়না সেখানে কালসে রক্তের ধারা।তার শরীর গুলিয়ে উঠে সে দাড়াঁয়না।
উত্তরা সেক্টরে দেন-দরবার সেরে জসীম উদ্দীনে করিম ভাইয়ের সাথে দেখা।করিম ভাই চট্রগ্রামের বাঁশখালীর লোক,কাওলায় আশির দশক থেকে।কন্টাকটারির সুবাদে জসীমের সাথে সম্পর্ক ভাল।বিমান বন্দর ষ্টেশন লাগোয়া তৃপ্তি হোটেলে নাস্তা খেতে খেতে করিম ভাইকে সকালের লাশ দেখার ঘটনাটি বললে করিম ভাই তার গ্রামের নাপিতের পুলের খালের একই রকম লাশ পাওয়ার গল্প বলে চলে।জসীম থেকে বছর পাঁচেকের বড় করিম ভাইয়ের সেই গল্প সে শুনছিলনা ,সে মনোযোগী শ্রোতার মত সে হু-হু করছিল শুধু।তার চোখে নেচে বেড়াচ্ছিল সকালের সে রোদের রশ্মি যা যুবতী লাশের ফর্সা শরীরে জড়াজড়ি করেছিল।
জসীম নামায পড়ে তবে নিয়মিত না।তবে মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব তার খুব ভক্ত।কিছুদিন আগে মধ্য ত্রিশের ইমামের বিরুদ্ধে আরবী শিক্ষার্থী ছাত্রীকে গায়ে অশালীনতার অভিযোগ উঠলে সে ইমাম সাহেব কে রক্ষা করে।আজ বাসায় এসে অজু করে নামায পড়ল তারপর প্রতিজ্ঞা করল কাল বখতিয়ারকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে বলবে,বখতিয়ার ইয়াবার ডিলার আর কে না জানে মাদকের সাথে সকল অপরাধ জড়িয়ে থাকে।সে জানে কাজটা সোজানা তারপরও চেষ্টা করবে। এর পর অভ্যাস বশত ডিপ ফ্রিজটা খুলতে গিয়েও খুলল না।জসীম ঘুমের পিল খেল ঘুমানোর আগে।
এয়ারপোর্ট থানার কনষ্টেবল সাবিরুল মোল্লার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙায় অবশ্য সে পাঁচদোনায় তিন কাঠার একটি জমি কিনেছে।তার বউ নুরনাহারের গায়ের রঙ কালো বলে তার মধ্যে খেদ আছে।আজকে ফর্সা জোসনার মত ছেড়িটার বডিখান উদ্ধারের পর মিলির কথা মনে পড়ছে তার বারবার।নুরনাহারের ফুফাতো বোন মিলি ,এই রকম লম্বা গড়ন,ফর্সা তাকে পুলিশের চাকরি করে বলে অবহেলা করেছিল পরে প্রাইমারী মাষ্টার স্বামীর বাড়িতে ননদ-শাশুরীর জ্বালায় বিষ খেয়েছে।আসলে সুন্দর মেয়েলোকের সাথে শয়তান থাকে।তার কলিগ তপন বাবুর বউ ফর্সা,অবশ্য হিন্দুদের বউ ফ্সা হয় তাদের ঘরে কালো মেয়ের কপালে দুঃখ আছে।ছেড়িটা আসমার ডেরার কেউ হতে পারে,ওসি স্যার ভাল জানেন।সে মনে মনে সিদান্ত নেয় সে আর আসমার কাছে টাকা আনতে যাবেনা তপন বাবুরে পাঠাবে;তার বউ নুরনাহার পোয়াতি, সে খারাপ কাজ করবেনা।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ Likhon Chowdhury তারিখঃ 09/08/2018 07:55 PM
সর্বমোট 323 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ