ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

ভেসে যায় বেনো জলে

 
“ভেসে যায় বেনো জলে”-কোথায় যেন শুনেছিলাম!হতে পারে কোন আবৃত্তিতে অথবা টিভির কোন অনু্ষ্ঠানে।সেই  পদ্য বন্ধ বাক্যটি গভীর উৎস স্থল থেকে আমাকে আমার  পরিস্থিতির  ব্যাখা দেয়।না,আমি পড়ুয়া নয় যে,” নিজের অনুভুতি গুলো কাব্যিক আখরে স্বপ্নজাল পড়িয়ে শিল্প –সুন্দরে মহিমান্বিত করে দিতে” ,”এই সত্য দেহজ  বাস্তব কে সর্ব গ্রহণীয় করে দিতে।“”আমার সত্য যত ভুল হোক এতো আমার সুন্দর।“’বেনো’শব্দটি কী বেনিয়া থেকে এসেছে-সাদিয়া মনে করে।শরৎ চন্দ্রের সমাজ নেই নয়তো তাকে উপজীব্য করে বেষ্ট সেলার নভেল নামিয়ে দিত।এখন পাঠকরা চেতন ভগত পড়ে নভেল পড়েনা।
“উড়ে যায় পরিযায়ী বৈলামের খোঁজে ,দুর দুর পথে ,কোন আরও গভীর সুখের অসুখে।“বিষয়টি এতটুকু আফসোস ,পরিতাপ কিংবা অনিশ্চিত এবং দৃষ্টিকটু মনে হয়নি সদিয়ার যখন সকাল সাতটায় বাকলিয়া বৈশাখী বিল্ডিং গলির বাসা থেকে বের হয়ে আসছিল।গতকালই সে ডিসিশান নিয়েছে যা হবার তাই হবে ।জীবন একটা এর কোন বিকল্প থাকতে পারেনা।দিগন্ত বিস্তৃত আকাশে ঐ ভুবনচিল যখন উড়ে সে কী অসীম আকাশের মুক্ত অসীমতায় কাতর প্রেমে অনবরত উড়নে থাকে কী!ডানার ভর আসে অথবা চোঁ দিয়ে নেমে আসে শহরের ভাগাড়ে ,সে পাখি ক্ষুধা তৃষ্ঞার স্বাদ মেটায় মানুষের উচ্ছিষ্টে ।
সাদিয়ার নাক ঘামে,সে পাড় হতে চায় এই বাস্তবতা-গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ফোঁটা ধুঁয়ে নিতে পারে না তার অস্থিতি। কলেজ রোডের পাগল টার মত তার মনটা বুঝি এক লাফে ট্রাফিক ছাতায় উঠে হাতের ইশারায় অস্থির ভাবে লাল-হলুদ-সবুজ বাতি জ্বালায়।সে বেড়িয়ে এসেছে রাস্তায় এবং রিকশাও নিয়েছে;সে তার সি্দ্ধান্তের চুড়ান্ত বিন্দুতে পৌঁছাতে যাচ্ছে।সফিকের কাছে যাচ্ছে সে;আলমের সাথে পাঁচ বছরের সংসার যাপনের ইতি ঘটাচ্ছে ।
মানুষ অভ্যস্থ জীবনে পরিবর্তন আনলে অনেক যোগ-বিয়োগের হিসাবের খেরো খাতায় উপসংহার টেনে আসতে হয় ,শেষ কথাটা কয়জনে বা জানতে পারে।পরিবর্তনকামী মানুষ যাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভুমিকায় দেখেনি সে পরিবর্তন আনলে বা এমন সিদ্ধান্ত যদি নেয়া হয় যা পুর্ববতী দিন গুলোয় অনেক নুন-ঘাম-স্বপ্ন তৈরি করেছিল ,তা যদি নিমেষে শেষ হয়ে যায় সবাই বলবে নষ্ট হয়ে গেছে।অথবা ডোবায় নামল,নর্দমায় ভেসে গেল:না !এক মৃত্যু ছাড়া কেউ বলে না ভাল হয়েছে ,মুক্তি ঘটেছে ।পৃথিবীর গর্ভ-গুহায় বুঝি কোন মঙ্গল নামের কল্যানকর বস্তু গুলো নেই? তাহলে সমস্ত প্রত্যাশা প্রথমে নচ্ঞর্থক বা নিরাশার সম্ভাবনা আনে কেন মানুষ!
শয়তানের লিডার ‘ইবলিশ’ অর্থ ‘নিরাশ ‘-মহান সৃ্ষ্টিকর্তা তাঁর কৃত কর্মে নিরাশ বা হতাশ হয়েছেন।এর পর যাবতীয় স্বপ্নে সুখ আসে অসুখ হয়ে ইবলিশের ছায়ায়।যে স্বপ্ন নিয়ে আকাঁ হচ্ছিল যে ছবি রঙ বিভ্রাট ,নিদ্রা ব্যঘাত সমস্ত কিছুতে অসমাপ্ত চিত্র টি হয়ে উঠতে যুগ উত্তর চিত্রের পথিকৃৎ।
এই বয়ান প্রাত্যহিকতার-মানুষের !তাই শুদ্ধাচারে পরিপুর্ণ থাকবে এমন নয়।এটা পাখির বাসা বদল নয়,মানুষের ডেরা বদল তারচেয়ে বড় বিষয় নারীর সঙ্গী বদল।জানা মানুষ জানে এর মধ্যে অপ্রাপ্তি থাকবে স্বপ্ন ভঙ্গ অতপর পুনঃবিশ্বাস এবং প্রাপ্তি কিংবা মৃত্যুর বয়ান।আমরা ঐ পথে হাটিঁনা আমরা হাঁটি সাদিয়ার সাথে- গল্প নয়,সাদিয়াকে দেখি।
বৈলাম দেশের বড় বৃক্ষ ,উঠবে যদি বৈলামে উঠো,শঙ্খচুড়ের সৌন্দর্য দৈর্ঘ্যত্বে।সাদিয়া- নারী,ধর্ম ইতিহাসের পুরাণ মতে সাদিয়াও পাঁচ ছুঁই-ছুঁই।শরীরে ডোরা কাটা নেই তবে শাড়ী পড়লে ঐ উজ্বল বর্ণের শরীরের সাথে ত্রিফলা অক্ষরের দাঁত আর চিবুক টানা মুখে গহন গভীর আখিঁ শহরে সম্ভ্রম এবং বাসনা দুটোয় আদায় করে।তবে মনে রেখো সব পুরুষ কিন্তু এদের ঘটে  জল দেয় না বা সাধারন পুরুষ নিজস্ব কাঙালিপনা প্রকাশ করেনা।অন্তরালে যে জেনেছে পুকুরের তল ডুবে ডুবে জেনে যেতে কী জমে ছিল তার মনের ভেতর।
আসলে বিষয়টা এমন নয়,রুপকথা এখানে চলে না !চলেনা গল্পও ।এখন শুধু প্রতিবেদন লেখা হয়। মৃত্যুর পর লাশের অটোপসি ,ভিসেরা এবং পোষ্টমর্টেম করণীয়। লাশ ঘরে কে শুয়ে ?বড় বিষয় লাশ। লাশের সৌন্দর্যে কান্না আসবে কল্পনাকে প্রসারিত করলে গতানুগতিক বেদনা  ।লক্ষণ চিহ্ন হত্যা –আত্মহত্যার সম্ভাব্যতার প্রাথমিক মতামত দেয়।
এখন ত্রিভুজের আরও দুটি বাহু।আলম যদি হয় এ্যরোগেন্ট বা উদ্বর্ত শফিক হবে ডিপ্লোমেটিক।আলমের ব্যাবসা সীমিত সুতরাং অর্থও অপর্যাপ্ত।শফিক অভিজাত এবং আইনজীবি। না সাদিয়া অর্থের কাঙাল নয়। সে জেনে বুঝে আলমের সাথে ঘর করেছিল এবং একটা ব্যাবসায়িক ফ্রড মামলায় আলমের জামিন আনতে গিয়ে শফিকের আইনের বইয়ে ভালবাসায় বন্দী হয়। দু’জনে পুরুষ ,একজনকে বুঝা সহজ আরেকজন দুর্বোধ্য আইনের মত কঠিন কিন্তু পরিশীলিত। আলমে অর্থাভাব আছে শফিকে বৈভব আছে ঝুকিঁও আছে।শেষ পর্যন্ত নারীর মহীয়ান হয়ে উঠা। সে জ্যাকপট হিসাবে বেছে নিচ্ছে শফিককে।হ্যাঁ,’ইলোপ’কেস অর্থাৎ নারীর ঘর বদলানোর গাথা।
ভাবনার শেষ নেই । আজ সাদিয়ার মনে পড়ছে তাদের যে ভু্রণ টি নষ্ট হয়েছিল তার কথা ,আপণ মামাতো ভাই আলমের ঋজু শরীর কিংবা শুটিং ক্লাবে উঠতি শুটার আলমের সাথে প্রেমের দিন গুলোর কথা ।আলম শুটার হতে পারেনি ,শহরের একটা ছোট গ্রুপের সাথে মাঝখানে সে অপরাধে জড়িয়েছিল।
সে জানে জীবন জীবনান্দ নয়।জীবন জ্যাকপটের ,শফিক ধুর্ত কিন্তু সফল।আলমরা শফিকদের সাথে পারেনা।সাদিয়ার চোখে সানগ্লাস শহরে ঝির ঝিরে বৃষ্টির পর রোদ উঠেছে। রিকশা সার্সন রোড পাড়ি দিয়ে রিকশা ঢুকে পড়বে মেহেদীবাগে।শফিকের সাথে কাগজের সম্পর্ক তৈরি ,শারীরিক সম্পর্ক তার আগে হয়েছে।
শফিক জানে সাদিয়া আসছে।সে ভাবছে সরকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হবার পথটা পাকাপোক্ত হলো শহরের বারের নির্বাচনে সভাপতি হবার পর।সাদিয়াকে নিজের জালে জড়িয়েছে ,আলম ছেলেটার সাথে ওকে মানায় না। তার আগের স্ত্রী হেনাকে যেভাবে ডিভোর্স দিয়েছিল মিলছেনা বলে।এভাবে ট্রায়াল এন্ড এরর ম্যাথডে সে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছে।এখানে গভীর মানবীয় আবেগের কিছু কী আছে?সে যখন কোটে দাড়ায় সে জানে এক পক্ষ জিতবে এক পক্ষ হারবে।মানবীয় আপোষে সব মামলা নিস্পত্তি হয়ে গেলে আইনজীবি প্রয়োজন ছিলনা, জাজ অথবা কোটের।তার মেয়েটা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ছে এখন ফিরবে।ফ্লাটের কলিংবেল বাজল ,সে বুঝতে চেষ্টা করল মেয়ে এসেছে না সাদিয়া এসেছে। সাদিয়া এলে তাকে নিয়ে দ্রুত বেরোবে ,তাকে খুলশীর বাসায় রাখবে।
সাদিয়া চট্টেশ্বরী রোডের কোণায় আর্ট কলেজের সামনে দেখল একটা স্কুল ড্রেস পরিহিতা মেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে পাশে দাড়াঁনো জিন্স টিশার্ট পড়া ছেলেটা কঠিন মুখে সিগারেট টানছে। মেয়েটি কী বেনো জলে ভেসে যাচ্ছে সে যে ভাবে ভাসছে। সে ও তো আলমের সামনে নীরবে এমন ভাবে কাঁদত।শফিক যদি তাকে কোনদিন ফেলে দেয় তাহলে আবার ভাসবে।সে স্থির করে শফিকে তার মন আছে ,সে আর বেনো জলে ভাসবেনা।এবার ভাসলেও সে সাঁতরাতে জানে।প্রথম জলে নামা কখনও কারো জন্য সুখের নয় যদি বেলা না থাকে।সে এখন মৎস্য গন্ধা আমিষ পাড়ার মসলা সে শিখেছে।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ Likhon Chowdhury তারিখঃ 19/06/2018 11:44 AM
সর্বমোট 619 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ