ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

তেতুল গাছ এবং সাদা রুমাল

তেতুঁল তলার জমিটা নরম, গাছের ঝাকালো সবুজ পাতার ছায়ায়- উর্বরতায় লম্বা বাঁকানো তেতুঁলে বালুসার স্বাদ। পোঁয়াতি নারীদের লকলকে জিহ্বে সেই বালুচ ধুসর আধপাকা তেতুঁল লোল সমেত পলটি খায়।এভাবে পয়দা হতে থাকে মানব সন্তান,নারীরা কৃতজ্ঞতায় নতজানু হয় তেতুঁল তলায়।তারা ভাবে এই আকালে তেতুঁল গাছটি না থাকলে কী ভাবে মেটাত তাদের পুরুষের ক্ষুধা।প্রতিবার কর্তব্য নিয়ে উদরে আসে ছা,তারপর যত অরুচি,বিতৃষ্মা শুষে নেয় সেই সবুজ পাতার ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে নধর কৌমার্য নিয়ে ধুসর সুঠাম তেতুঁল। নারীরা ভ্রমে মাতে ,তারা বুঝে উঠতে পারেনা কাদের সাথে শুয়। তারা ভাবে এক –একটা নধর-কান্তি তেতুঁল তাদের নিজস্ব পুরুষ ।এই অনুভব তাদের বমন ভুলিয়ে দেয়।
উদর খালি হলে তারা তাদের খালি পেটে শো-শো আওয়াজ টের পাই। মাটি বিদারী সেই ক্ষুধা তাদের পাগল করে দেয়। নারীদল ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে তাদের পুরুষের কাছে যায়। পুরুষের শরীর তেতুঁল গাছের মুখোমুখি মাটির দাওয়ায় বসে বসে ঝিমোয়।তারা কর্মহীন বালু মাটিতে তেতুঁল ছাড়া অন্য ফসল ফলাতে পারেনা। তারা তাদের নারীদের ভাত দিতে পারেনা।নারীরা বিষন্নতায় জোসনা উঠলে সার বেঁধে উদোম ভাবে তেঁতুল তলায় সুঠাম তেতুঁলের দিকে লোলুপ দৃষ্টির ছোবল হানে।আর তখনি খরতাপ উড়িয়ে অগ্নিকোণে আগুন হাওয়া তাদের গর্ভবতী করে। নারীদল আবার তেতুঁল ভ্রমে পড়ে-তাদের কাছে পুরুষের চেয়ে তেতুঁল আপন মনে হয়।তেতুঁল দোষে দেশ উজাড় হয়।খাদ্যাভাব-শিক্ষাভাব-বাক্যাভাব চরমে উঠে।
পুরুষ রাজত্ব হারায় –মানুষের সংসারে তেতুঁল রাজা হয়।স্বপ্ন-দুঃস্বপ্নে পুরুষ উঠে দাড়াঁয় ,বুঝে উঠতে চায় তাদের ব্যর্থতা। খাবলে উঠায় আঠালো মাটি কিন্তু জুতঁসই বীজের আকাল।চিরন্তন বেদনাবোধ থেকে জন্ম নেয় শৈল্পিক মহিমা,গড়তে থাকে মূর্তি।অদ্ভুত ভাবে সেই সব মূর্তি তাদের সত্তার মত পুং নয় বরং স্ত্রী সত্তার। এই সময়টা আত্ম নিগ্রহের,উদ্ভাবনশীল মানুষ আপন সৃষ্টিকে ভয় পেতে থাকে।প্রাণের ফল্গু তোলা মানবকুল জড়দের প্রতিপক্ষ ভাবতে থাকে।মুর্তিদের-তেতুঁলদের,হাসি-আনন্দকে কিংবা উৎসব-পুস্তকে,এক পরস্পর অবিশ্বাসের দেশে খরতাপে ধোঁয়াশা আসে।মানুষ দানাদার খাবার ভুলে যায় কিংবা বালুচ মাটিতে দানা আর গজায়না। নদী গুলো দিয়ে বইতে থাকে তরল,কামের-ভোগের-শোকের।দানা বাধেঁনা বলে অনুমান নির্ভর গল্প ছড়ায়-আতঙ্ক বিভীষিকার রুপ নিতে থাকে।
রমন বিভাগী পুরুষ মুর্তি ভাঙে ,ধাতু দৌর্বল্যে মাটি খায়। দেয়াল চিত্রে পোড়া মোবিল ছুঁড়ে নষ্ট করে রমনীয় বৈচিত্র্যতা। কেননা নারীর বৈচিত্র্যতা মানে সৃষ্টির বৈচিত্র্যতা কিংবা মানুষের বিভন্নতা।এই সব বিপন্ন তত্ব আবহমান ছন্দত্ব নষ্ট করতে থাকে।উৎসবে শর্ত আসে ,জ্ঞানে শঙ্কা আসে এবং সৃষ্টিতে ভয় আসে।এক দীর্ঘকায় মাছ সফেদ আমিষ নিয়ে গোত্তা খেতে থাকে প্রায় জল শুকিয়ে হাঁটু পানির নদীতে।সেই অল্প পানিতে একা মাছের কম্পনকে মাছের ঝাঁক ভেবে মানুষ ভুল ভাবতে থাকে। তারা এই বুঝি সুদিন আসছে,আমিষের অভাব কেটে যাবে।তারা সব শস্য ভান্ডার আগাম সু দিনের ভরসায় বিলিয়ে দিতে থাকে।কেউ বুঝতে পারেনা পানি নেই,সবাই পুকুর কে নদী ভেবে ভুল করে যেভাবে নারীরা তেতুঁল কে পুরুষ ভাবছে!
অক্ষমের দেশে কোন কিছুর নির্মুল নেই!মুর্তি ভাঙ্গা যায়না,করাতে গাছ কাটা যায়না।সবার অংশ অংশ নিয়ে দেশ চলে।তাই আপাত সন্ধি উত্তম বিবেচিত হয়।তেতুঁলের সাথে পুরুষের,পুরুষের সাথে নারীর,মুর্তির সাথে মাটির কিংবা ধর্মের সাথে রাজনীতির।আধিকারিকগণ গননা করে সৌর বৎসের কিন্তু সন্ধির পর ক্ষণ গনিত হয় চন্দ্র-সুর্যের যুগ পৎ।নিলির্প্ত উৎসবে কেউ কারো আপন হয়না,সুযোগ কামীর জমিতে লাউ হয় নধর শরীর নিয়ে কিন্তু বিস্বাদ খড় গ্রীষ্মে। এক ঘ্রাণ ভুর ভুর সাদা রুমাল সন্ধির বাতাসে উড়ে এসে ঢেকে দেয় তেতুঁল গাছ,মুর্তির নারী শরীর. এবংউৎসব –আনন্দ।মানুষ বাঁচে ইদুঁর নিয়ে নিরুপদ্রবে।
 

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ Likhon Chowdhury তারিখঃ 03/06/2018 12:18 AM
সর্বমোট 183 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ