ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

উপোষ বনাম রমজান

খোশ আমদিদ মাহে রমজান, পবিত্র রমজানের অগ্রিম শুভেচ্ছা, রমজানের সুখবর, ইফতার আর সহরীর নানা রকম টাইম চার্ট এ মেসেঞ্জার, হোয়াসএপ, ইমো এর ইনবক্স ভরে গেছে। ফেসবুক টাইম লাইনে এখন রমজান সংক্রান্ত পোষ্টে ভরা। এর নানাহ উপকারী দিক নিয়ে চলছে সরশ আলোচনা। সিয়াম সাধনাতে ইসলাম আর আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তর মিল খুঁজেও পাচ্ছেন অনেকে। কিছু বিজ্ঞানমনস্ক মর্ডারেট মুসলিমেরা আবার এই মাসের নতুন নাম দিতে চাইছেন "মান্থ অফ্ ডায়েটিং" বলে। রমজান মাস কাল থেকে শুরু হলেও বাজারে এর প্রভাব পড়েছে অনেক আগে থেকেই। আমাদের অতি ধর্মপ্রাণ নামাজী ব্যবসায়ীরা ভাইয়েরা, আল্লাহর নাম নিয়ে অনেক আগে থেকেই সব রকম নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সারা বছরে যতটুকুই লাভ করেছেন তা ঠিক আছে কিন্তু এই কোরআন নাযিলের মাসে লাভ করা চাই অনেক বেশী! এই মাসের লাভ হওয়া চাই অন্য মাসের তুলনায় ৭০ গুণ! তাদের এই ৭০ গুণের হিসাবের সমর্থন চৌদ্দশত বছর আগেই তৈরী হয়ে আছে বলে মনে করেন কপালে মোটা দাগ পড়া ব্যবসায়ীরা। এই মাসের সব হালাল আমল যদি ৭০ গুণে বৃদ্ধি পায় তাহলে ব্যবসায়ের লাভ ৭০ গুণ নয় কেন? আমাদের ধর্মগ্রন্থে ব্যবসাকে হালাল আর সুদকে হারাম ঘোষণা করা আছে সেই কবে থেকেই! কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো গিন্নির হুংকারে! আজ রাতেই সাহরী, তাই সক্কালবেলাই বাজারে যেতে হবে, নইলে ভাল সব জিনিষ পত্র "আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে" বিক্রি হয়ে যাবে! শান্তিনগর বাজারে গিয়ে তার প্রমাণও মিললো। আমার মত বাজারে আরো অনেকেই সংযম সাধনার জন্য অসংযমী বাজার করতে ভীড় করে আছে। বাজার শেষে লিফটেও দেখলাম এপার্টমেন্টের আরো অনেকেই সাহরীর জন্য দুহাত ভরে ভালমন্দ বাজার করে এনেছেন। রমজান মাসে দুপুরবেলার খাবার না খেলেও সন্ধায় ইফতারির নামে যা খাওয়া, তা যদি ক্যালোরির হিসাবে গুণা হয় তাহলে দুপুরের খাবারের চেয়ে অন্তত পাঁচগুণ বেশী তো হবেই। সাহরীতেও তো সারাদিন খেতে পাবে না ভেবে, খাওয়া হয় একেবারে গলা অবধি। খাবার এর সংযমের বারোটা বাঁজিয়ে তেরটায় নিয়েও ক্ষান্ত হইনা আমরা। হুজুরেরা আবার রমজান মাসের খাবার সম্পর্কে ফতোয়া জারী করেছেন যে, আল্লাহ এই মাসে খাবারের কোন হিসাব নেবেন না, যত খুশী খাও। এই ফতোয়া শুনে সবাই তো সবাই, ইনসুলিন নেয়া ডায়াবেটিক রোগীরাও মাগ্রিবের আযানের পর খাবারের উপর হা... রে....রে করে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ফলাফল: তিনিসহ পরিবারের আর সব সুস্থ্য সদস্যেরদের কে নিয়ে ঈদের দিনে ঈদ করা লাগে হাসপাতালের আই সি ইউ তে শুয়ে বসে। অফিসে গিয়ে সরকারী কর্মচারীরা হাজিরা খাতায় সাক্ষর দিয়েই তাদের ডিউটি সারেন। বাকিরা কর্মে ঘন্টার হিসাবে ছাড় পান এই মাসের বদৌলতে কিন্তু ঘুষ নেয়া দেয়া চলে ঠিক আগের মতই। এ মাসে ঘুষ নেয়ায় কোন সংযম নাই। বলা হয়ে থাকে এ মাসে নাকি শয়তানকে বন্দি করে রাখা হয়। কিন্তু মানুষের শয়তানীতে বন্দিনী শয়তানও লজ্জা পায়। রোজার মাসে বিকালের দিকে রাস্তায় বের হয়ে ২০০ মিটার হেটে দেখবেন, এই ২০০ মিটারে অন্তত ১০ টা বেহুদা ঝগড়া খুঁজে পাবেন। কারণ একটাই সারাদিন না খেতে পেয়ে, ক্ষিদা তৃষনায় মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি! কারো ভাল কথাও আর এখন ভাল লাগেনা। তাই ঝগড়া না লেগে আর যায় কই? সংযমের মাসে কোথায় আমাদের সংযম? না খাদ্যে না চরিত্রে, না কথা বলার ধরনে, না আমাদের চলনে। সত্যিকারের সিয়াম সাধনা না করতে পারলে, লোক দেখানো উপোষ করে কি লাভ? আপনি যে ভেকধারী আর বকধার্মিক পাবলিক কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারে। তাই এই রমজানে আমাদের পাড়ার রমজান আলীর মত ডুবে ডুবে পানি না খেয়ে সামনাসামনি খান। সবাইকে রমজানীয় শুভেচ্ছা।

ছবি
সেকশনঃ সাম্প্রতিক বিষয়
লিখেছেনঃ সহজ কথা রিটার্ন তারিখঃ 18/05/2018 12:16 AM
সর্বমোট 799 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ