ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সবেদ আলী

এস এম সবেদ আলী

পরিচিতি

নাম   এস এম সবেদ আলী
পিতার নাম   মৃত মমিন উদ্দিন শেখ
মাতার নাম   মৃত রয়মান বিবি
স্ত্রীর নাম   রাজিয়া খাতুন
মোবাইল   01775-822016
গ্রাম   সিংগা
ইউনিয়ন   সিংগা শোলপুর
উপজেলা   নড়াইল সদর
জেলা   নড়াইল
বিভাগ   খুলনা
 

অন্যান্য তথ্য

মুক্তিবার্তা নং : ০৪০৭০১০০৭৩
ভারতীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট নং : নাই
বাংলাদেশ গেজেট নং : ৬০
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রালয়ের সনদ নং : ম-৮১৭৪৭
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান কি না?   : yes
 

সন্তানদের নাম ও বয়স

নাম বয়স শিক্ষাগত যোগ্যতা
রাজু আহম্মেদ সুমন ৩২ বছর এস, এস, সি পাশ
রানু আহম্মেদ সুজন ২৩ বছর বি এস সি টেক্সটােইল ইন্জিনিয়ারিং
 

যুদ্ধের ইতিহাস

আমি তখন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের intermediate Science Group 2nd year এর ছাত্র। ১৯৭০ সালের ৬ দফার ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কে ভোট দেন। শেখ মুজিবর রহমান নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিস্ঠতা অর্জ্ন করা সত্বেও ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করিতে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ্ বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ঢাকার রেসকোর্স্ ময়দানে বজ্র কন্ঠে ভাষন দেন --- “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কথামত যুবক, ছাত্র , মেহনতি মানুষ গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় মোড়ে মোড়ে বাশের লাঠি, ধারালো অস্ত্রসস্ত্রে রাত্রিতে পাহারার বাবস্থা করে। মৃত অমর চন্দ্র বিশ্বাস সাকীনে লোনপুর রাত আনুমানিক ৮-৩০ মিঃ এর দিকে আমরা ১০-১৫ জন ছেলে মিটিং করি। মিটিং এর সিদ্ধান্ত হয় আগামী কাল রাত্রে আমরা সবাই ভারতে গিয়া মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং গ্রহন করে সব রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও পচ্শিমা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ কে স্বাধীন করবো। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় ঐ রাতে ই আমার সাথীরা ভারতে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। আমি উপায়ান্ত না পেয়ে অবসর প্রাপ্ত সৈনিক মৃত আঃ আলীম বিশ্বাস কে সঙ্গে নিয়ে ১০জন ছেলে কালিয়ায় পায়ে হেটে গিয়ে পাইলট স্কুলের মাঠে লাইনে দড়াই এবং মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম লিখাই। দুঃখের বিষয় তালিকা রাজাকার বাহিনীর অধীনায়কের হাতে পরেদিশেহারা হয়ে তখন সিদ্ধান্ত গ্রহন করি খড়রিয়ায় শামসুর রহমান দারোগা এর বাড়ী মুক্তিযোদ্ধার ক্যাম্প খোলা হইয়াছে। ঐ ক্যাম্পে অবসর প্রাপ্ত সেনা আমির হোসেন সাহেব ট্রেনিং দিচ্ছেন। বন্যার পানিতে তখন ছয়লাফ। রাস্তাঘাট বিল নদী জলমগ্ন। প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে পানি ভেঙ্গে ভড়রিয়া ফুটবল খেলার মাঠে রাইফেল ট্রেনিং, যুদ্ধের ট্রেনিং, এ্যামবুশ গেরিলা ট্রেনিং, ক্রোলিং পওভৃতি ট্রেনিং অত্র এলাকার ছেলেদের সাথে গ্রহন করি। ইতিমধ্যে মুজিব বাহিনীর কমান্ডার তার বাহিনী সহ ট্রেনিং গ্রহন করে চুনখোলা নিবাসী মৃত আঃ আলীম বিশ্বাসের বাড়ীতে ক্যাম্প স্থাপন করেন। আমি তখন ঐ মুজিব বাহিনীতে যোগদি। চুখোলা প্রাঃ বিদ্যালয়ের মাঠে রাতের বেলা পূনরায় ট্রেনিং শুরু হয়। আমি তখন চুনখোলার বাসিন্দা। আমি ও ট্রেনিং গ্রহন করি। এই ট্রেনিং এ তখন সাহায্য করে ভারতে ট্রেনিং প্রাপ্ত কাজী আলম আলী আকবর, হারুন আর রশীদ, আঃ রউফ এবং আরো অনেকে। যুদ্ধের ইতিহাসঃ- ট্রেনিং গ্রহনের পর টুকিটিাকি ছোট খাট অপারেশনে যাই। একদিন রাতের বেলা নৌকাযোগে মৃত আঃ আলীম বিশ্বাস, নজরুল ভাই, বজলার রহমান (রঘুনাথপুর নিবাসী) আরো তিনজন দাদনতলা রাজাপুর চাচর গাজীর বাড়ী ঘেরাও করি কিন্তু কোন সন্ধান মেলে নাই। ২য় অপারেশন – সন্ধার প্রাক্কালে গোবরার বিমল বিশ্বাসের বাড়ী সংলগ্ন এক রাজাকারের বাড়ী ঘেরাও করি কোন সন্ধান পাই নাই। ৩য় অপারেশন – ১০ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে নড়াইল আক্রমন। ৯ই ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকা। আমাদের স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৃত আঃ আলীম বিশ্বাস সাং চুনখোলার নেতৃত্বে আমরা ৫জন মুক্তিযোদ্ধা এসএম সবেদ আলী, আলম কাজী, আলী আকবর, হারুন অর রশীদ মতিয়ার রহমান নড়াইলকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে রওনা হেই। আমার নিকট ২ পেটি গুলি, ১টি গ্রেনেড ও ঘাড়ে একটি রাইফেল রঘুনাথপুর খেয়া ঘাট পার হইয়া আমবাড়ীর ভিতর দিয়া বনগ্রাম ব্রিজের ১০০গজ দুরে থাকতে একদল লোক উত্তর দিক থেকে পাকারাস্তা বরাবর আসিতেছে। আমরা এ্যামবুশে চলে গেলাম আমাদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধার সংকেত দিলেন তারাও সংকেতের উত্তর দিলেন । জানতে পারলাম এরা মুক্তি যোদ্ধা কালিয়া আক্রমনের জন্য রওনা হইয়াছে। আমাদের Troupe পায়ে হেটে ভবানীপুর মুজিব বাহিনী কমান্ডার শরীফ হুমায়ুন কবির বাড়ী এসে পৌছায়। শরীফ হুমায়ুন কবিরের বাড়ীতে পান্তা ভাত পিয়াজ ও মরিচ দিয়ে খাওযার পর আমরা দলবল সহ হাটতে শুরু করলাম। আউড়িয়ার খেয়া ঘাট পার হেয়ে মাছিমদিয়া সিদ্দিক প্রোফেসরের বাড়ীতে পৌছাই। তখন ফজরের আজান শুরু হইয়াছে। খড়রিয়ার মুক্তিযোদ্ধার বিরাট বহর তখন আক্রমন শুরু করেছে। প্রচন্ড গুলি বর্ষ্ন আমাদের দল নিশিনাথ তলার পূর্ব্ পার্শ্বে বরাবর কখনো ক্রলিং করে কখনো কুচি কুচি দৌড় মেরে সামনের দিকে এগিয়ে চলছি। এমন সময় সংবাদ পেলাম পুলিশ ফাড়ী ধংশ হইয়াছে। খড়রিয়ার বাহিনী মুচি পোলে পৌছাইয়া মেলেটারী ক্যাম্পে গুলি বর্ষ্ন করিতেছে । পালটা তারাও প্রচন্ড আকারে গুলি করিতেছে। আমাদের বাহিনী গুলি করতে করতে মুচির পোলে গেলে সংবাদ পেলাম বাগডাঙ্গার মতিয়ার নিহত হইয়াছে। তুমুল যুদ্ধ মাতার উপর দিয়ে শো শো শব্দে গুলি চলে যাচ্ছে। আমরাও মরিয়া হিয়ে যুদ্ধ করছি। ওদিকে রূপগঞ্জ জামে মসজিদের ছাদের উপর থেকে আমির হোসেন শায়িতাবস্থায় এস এল এর দিয়ে গুলি করে চলছে। আমাদের মুজিব বাহিনীর কমান্ডার শরীফ হুমায়ুন কবির তখন রূপগঞ্জ বাজারের নদীর পাড়ে একটি ঘরে আটক পরে গেছে। রাজাকাররা গুলি করছে । নদীর ওপার পংকবিলা ও সীমাখালী হতে মুক্তি যোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর মেঠজোয়ানরা এস এম জি এবং এস এল আর দিয়ে প্রচন্ড আকারে গুলি শুরু করলো। নড়াইলের রাজাকার ক্যাম্প, ম্যালেশিয়া ক্যাম্প, পুলিশ ফাড়ী ধ্বংশ হলো। রাজাকার ও মেলেটারীরা অনেক মারা গেল। যারা বেচেঁ ছিল তাদেরকে আটক করে রাখা হল । নড়াইল কে শত্রু মুক্ত করা হলো। জয়বাংলা স্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। রাত ১০ টার সময় ভওয়াখালীর আমীর হোসেনের বাড়ীতে ১৫০ জনের মত মুক্তিযোদ্ধা খাওয়া দাওয়া করলাম। খাওযা দাওয়া শেষে কমান্ডার সহ সবাই ভবানীপুর ফিরে এসে ঐদিন রাত যাপন করি। পরে অস্ত্র জমা দেওয়ার আগ পর্ন্তার নড়াইল পুরাতন কৃষি ব্যাংক বিল্ডিং ও গোবরা তহসীল অফিসে ক্যাম্প করে থাকি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার ববাহিনীর অধিনায়ক নেয়াজী তার সৈন্য সামন্ত সহ মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাদিনায়ক লেঃ কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানী ও তার মিক্রবাহিনী প্রধান অরোরার নিকট আত্মসর্ম্পন করে। সুর্দীঘ ৯মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, সএক সাগর রক্তের বিনিময় ৩০ লক্ষ শহীদ ও মাবেনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্র পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করিয়া লইল। বাংলার তরুন সমাজ আপামর জনসাধারন, ছাত্রদের সেইদিন গুলি স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হয়ে চিরকাল দেদীন্যমান থাকবে।

ছবি
সেকশনঃ ইতিহাস
লিখেছেনঃ MISC তারিখঃ 07/01/2018 03:18 AM
সর্বমোট 360 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ