ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক উপন্যাস: মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয় নাই (প্রথম খণ্ড—চতুর্থ পর্ব)



















মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক উপন্যাস:

মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয় নাই
(প্রথম খণ্ড—চতুর্থ পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

  
 ওদের চা-পান শেষ হয়েছে। আর ওরা আবার কিছু শোনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছে। সবার প্রস্তুতি শেষ হলে লিটু মিয়াও নিজেকে একটুখানি প্রস্তুত করে নিলেন। আর অধ্যাপকসাহেব এবার আরও গম্ভীর হয়ে বলতে লাগলেন:
 
“এই বাংলাদেশে এখনও যারা রাজনীতির নামে, আর অপরাজনীতির আড়ালে বিভিন্নরকমের শয়তানী করেই চলেছে—তারা আসলে সেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের খুনীচক্রের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। আর এরা কখনওই রাজনীতি বোঝে না, এবং রাজনীতি করেও না। আর এদের তা বোঝার যোগ্যতাও নাই। আসলে, এরা রাজনীতির নামে শুধু শয়তানী বোঝে। আর এরা রাজনীতির নামে শয়তানী ও ষড়যন্ত্র করতে ভালোবাসে। তবুও এরা নামকাওয়াস্তে কেন রাজনীতি করে—তা কি তোমরা জানো? থাক, তোমাদের এসব বলতে হবে না—আমিই তা বলে দিচ্ছি। এদের অপরাজনীতির কিংবা রাজনীতির নামে যাবতীয় শয়তানী ও মিথ্যাচারের মূলমন্ত্র হলো: যেন-তেন-প্রকারেণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করা। তাই, এই প্রসঙ্গটা ১৯৭৫ সালের কিছু-ঘটনা দিয়েই শুরু করি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গীয়-বাংলাদেশী-পাকিস্তানী-মার্কিন নামীয় শীর্ষস্থানীয় এজিদবংশীয় কাফেরদের ঘৃণ্য, জঘন্য ও শয়তানী ষড়যন্ত্র:
 
ষড়যন্ত্রকারীরা একদিনে কিংবা হঠাৎ করে আমাদের বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কুপরিকল্পনাগ্রহণ করেনি। এটি ছিল তাদের দীর্ঘদিনের একটি চক্রান্তের ফসল। আর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয়ের পরদিন থেকে। সেই সময় মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দেশী-বিদেশী সকলপ্রকার শয়তান ও চক্রান্তকারীগোষ্ঠী একপ্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়িয়েছিলো। আর এর নেতৃত্বে ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী-রাষ্ট্র আমেরিকা, চীন, সৌদিআরবসহ আরও কয়েকটি শয়তানরাষ্ট্র। আর সবার আগে ছিল আমাদের চিরশত্রু এবং একাত্তরে আমাদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত শয়তানের জারজরাষ্ট্র পাকিস্তান।
 
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে তাঁর ও তাঁর সরকারের জনপ্রিয়তা ধ্বংস করার জন্যই মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী-অপশক্তিসহ দেশের সকল ষড়যন্ত্রকারীগোষ্ঠী মিলেমিশে বঙ্গবন্ধু-সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে। আর এইসময় সিরাজুল আলম খান নামক এক প্রতিবিপ্লবীর উৎসাহে, পরামর্শে, ও পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনবাংলাদেশে ‘জাসদ’ বা ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হলো। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, সেই সময় এটি ছিল একটি দেশধ্বংসকারী অপরাজনৈতিক দল। এই সিরাজুল আলম খান ছিল জাসদের মাস্টার-মাইন্ড। আর এই নবগঠিত জাসদের নেতৃত্বে ছিল: মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯-নাম্বার সেক্টরের কমান্ডার, পরে মস্তিষ্কবিকৃত এবং এরও পরে পাকিস্তানের দালাল মেজর এমএ জলিল অব., আ.স.ম. আব্দুর রব, সাজাহান সিরাজ ইত্যাদি। ১৯৭২ সালে, এরা সবাই মিলেমিশে দেশী-বিদেশী সর্বস্তরের ষড়যন্ত্রকারীদের ইন্ধনে সদ্যোস্বাধীনদেশে সংগঠিত হলো জাসদ-নামে। আর মনে রাখবে: আওয়ামী-ছাত্রলীগের ভিতর থেকেই একটি বিশ্বাসঘাতকদল বেরিয়ে গিয়ে জাসদ-নামে আত্মপ্রকাশ করলো। আর তখন থেকেই বাংলাদেশে এই জাসদরা, আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধুর বিশাল ইমেজকে ধ্বংস করার জন্য উঠেপড়ে লাগলো। আর তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের ভিতরে চুরি, ডাকাতি, হত্যা, গণহত্যা, গুপ্তহত্যা, নানারকম অরাজকতা, রাহাজানি ইত্যাদি শুরু করে দেয়। আর এতে দিন-দিন একশ্রেণীর সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্ন হতে থাকে। কিন্তু তখনও দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় চিরমুকুটধারী-সম্রাট হয়ে রয়েছেন আমাদের বঙ্গবন্ধু।
 
জাসদরা, আমাদের বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সরকারের ইমেজকে ধ্বংস করার জন্য সেই সময় নিজেরা চুরি-ডাকাতি-রাহাজানিসহ নানারকম অরাজনৈতিক-কর্মকাণ্ড করে তা আওয়ামীলীগের নামে প্রচার করতো। তখন দেশের সাধারণ মানুষজন ছিল একেবারে অজ্ঞ। তারা জাসদদের এই চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও শয়তানী কোনোভাবেই বুঝতে পারেনি। তখনকার দিনে আওয়ামীলীগবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা জাসদদের সমর্থন করতে থাকলে স্বল্পসময়ের মধ্যে জাসদ স্বাধীন বাংলাদেশে একটা বড়সড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে সক্ষম হয়। কিন্তু জনগণের ভোট ও জনসমথর্নের রাজনীতিতে তারা আওয়ামীলীগের ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারেনি। ফলে ষড়যন্ত্রই হলো তাদের দলবাজির প্রধান হাতিয়ার। সেই সময় জাসদরা যেভাবে গুপ্তহত্যা করে তা ‘আওয়ামীলীগের সন্ত্রাস’ বলে প্রচার করছিলো তাতে আমাদের দেশের কিছুসংখ্যক সাধারণ ও অজ্ঞ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আর আমাদের বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এই সুযোগটাই কাজে লাগায় স্বাধীনতাবিরোধী-জারজচক্র। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ও ভয়ানক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করে তা অতিদ্রুত এগিয়ে নিতে থাকে। আর এই সময় এই জাসদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের ভিতরে খুন, হত্যা, গুপ্তহত্যা, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও নানারকম অরাজকতাসহ বিরাট নৈরাজ্যসৃষ্টি করে সিরাজ শিকদারের ‘সর্বহারা পার্টি’। আর তোমাদের কাছে ‘সর্বহারা পার্টি’ ও ‘জাসদে’র এইজাতীয় নানাবিধ অরাজনৈতিক-অপকাণ্ডসম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আরেকদিন বলবো। আজ জাসদ ও সর্বহারা পার্টি সম্পর্কে আলোচনা এই পর্যন্তই থাক।
এভাবে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা দিনের-পর-দিন আমাদের জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সরকারসম্পর্কে জনমনে নানারকম সন্দেহ, সংশয়, অবিশ্বাস, মিথ্যাতথ্য ইত্যাদি ছড়িয়ে দিয়ে দেশে ভয়ানক একটি অরাজকতাসৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধু-সরকারের মাত্র সাড়ে-তিন-বছরের শাসনামলে বাংলার সর্বস্তরের স্বাধীনতাবিরোধীচক্র আর জাসদরা মিলেমিশে তাঁকে একদিনের জন্যও একটু শান্তিতে থাকতে দেয়নি। অবশেষে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোররাতে, মুয়াজ্জিনের আজানের সময় পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটলো সেই মর্মান্তিক, ভয়াবহ, জঘন্য, হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা।
 
১৯৭৫ সালে, একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানের সর্বস্তরের সমর্থক-জারজপুত্ররা তথা বাংলার সর্বদলীয় কাফেরচক্র একদলীয়-একজোট হয়ে বাঙালি-জাতির জনকের বিরুদ্ধে যারপরনাই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করেছিলো। তাই, পাকিস্তানের জারজপুত্ররা আমেরিকা, পাকিস্তান, চীন ও সৌদিআরবের সমর্থনে বাঙালি-জাতি ও বাঙালি-মুসলমানের নেতা-ইমাম, বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্থপতি: আমাদের জাতির জনক হজরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শাহাদাতবরণ করার পর থেকে এই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা আবার চলে যায় পাকিস্তানী-এজিদবংশের হাতে। আর তখন থেকেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিচারাধীন একাত্তরের নরঘাতক, জল্লাদ ও সর্বপ্রকারের-সর্বশ্রেণীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া। আর তখন থেকেই এই স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশে সামরিক-সরকারদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় একাত্তরের পরাজিত ঘাতকগোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে পবিত্র ইসলামধর্মের নামে ‘রাজনীতির কথা’ বলে তারা একের-পর-এক শয়তানী, অপকর্ম ও দুষ্কর্মসাধন করতে থাকে। বর্তমানে পুনরায় এদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—আর আজ যেকোনোমূল্যে এদের বিচার করতেই হবে। আর শুধু এদের নয়, এদের সবরকমের সাহায্যকারী, সুবিধাবাদী ও চিহ্নিত সহযোগীদেরও প্রকাশ্যে বিচার করতে হবে—আর সে যেই হোক না কেন—একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সমর্থক উভয়েরই বিচার চাই।
স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশে সেই ১৯৭১ সালের বর্বর-পাষণ্ড পাকিস্তানী-হানাদারবাহিনী নামক কাফেরবাহিনীর মতো নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিলো ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের ভোটচুরির নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতা-দখলকারী বিএনপি-জামায়াত নামক চারদলীয় সর্বজন-স্বীকৃত রাজাকারগোষ্ঠী। এরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বারবার বাংলাদেশরাষ্ট্রের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি করেছে। এদের শক্তির উৎস—অর্থ, ক্ষমতা, নারী ও অস্ত্র। এরা মুখোশধারীশয়তান। এদের কেউই মানুষ নয়—আর এদের কেউই কখনও মানুষ ছিল না। আর কখনও মানুষ হবেও না। এরা মানুষ-নামের শয়তান।
একাত্তরের আদি-আসল প্রেতাত্মা ‘জামায়াত-বিএনপি’র সমন্বয়ে চারদলীয় জোটের শয়তানীসরকার গঠিত হয় ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবরের কারচুপির নির্বাচনের পর। পহেলা অক্টোবর থেকে তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতাদখল করে ১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চের কালরাতের মতো নিরীহ বাঙালি-জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা বেছে-বেছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তির মাথাগুলোকে একের-পর-এক সাবাড় করতে থাকে। বনের চির-হিংস্র হায়েনার মতো তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, এবং একসময় তারা শুধু বাংলাদেশআওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গোটা বাংলাদেশটাকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। ২০০১ সালের ১৫ই জুলাই—বাংলাদেশআওয়ামীলীগ তাদের মেয়াদশেষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা পরবর্তী নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক-সরকারের হাতে ন্যস্ত করলে তা ভুলবশতঃ অর্পিত হয় বাংলার এজিদবংশীয় জাতীয় কুলাঙ্গার অবিচারপতি-শয়তানপুত্র: লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াতগোষ্ঠীর হাতে। আর এই সুযোগে তারা ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবরের নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে কারচুপির মাধ্যমে হাইজ্যাক করে চারদলীয় জোট নামক রাজাকারজোটকে বিজয়ী ঘোষণা করে। আর এই সমস্ত শয়তানীর পিছনে ছিল রাজাকার-শয়তানপুত্র লতিফুর রহমান। আর সেই থেকে পাঁচটি-বছরের অধিককাল পর্যন্ত তারা দেশে শয়তানী-রাজতন্ত্র কায়েমের জন্য পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে বাংলাদেশআওয়ামীলীগের হাজার-হাজার নেতা-কর্মীকে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে হত্যা করেছে। আর এতেও তারা কোনোপ্রকার সুবিধা করতে না পেরে বাংলাদেশআওয়ামীলীগকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য—বিএনপি-জামায়াত একদলীয়-একজোট হয়ে বাংলাদেশবিরোধী অন্যান্য শয়তানদের যোগসাজশে ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু-অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামীলীগের একজনসভায় স্মরণকালের ভয়াবহ শয়তানী ও পৈশাচিক গ্রেনেড-হামলা করে। এই শয়তানী-গ্রেনেড-হামলার একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-কর্মসূচি ছিল: শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশআওয়ামীলীগের প্রধান-প্রধান নেতাদের হত্যা করে বাংলাদেশের মাটিতে বিএনপি-জামায়াতের চিরস্থায়ী রাজতন্ত্র ও কাফেরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাই, বিএনপি-জামায়াতের শাসন-আমলে ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ১০ই জানুআরি পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত-শিবিররা তথা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীরা পশ্চিমা ‘আউট-ল’-দের মতো মানুষহত্যায় মেতে ওঠে। আর এই দেশে এখনও পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নিজস্ব-দলীয় গঠনতন্ত্রে-সংবিধানে-অভিধানে মানুষহত্যা সম্পূর্ণভাবে জায়েজ। আর তারা মনে করে: রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য যতো খুশি ততো অন্যায়-অবিচার করা যাবে। আর যতো খুশি ততো মানুষহত্যা করা যাবে। এতে কোনো পাপ নাই। শুধু যারা এর সমালোচনা করবে তারা হবে ইসলামবিরোধী। এই হলো আমাদের দেশের বিএনপি-জামায়াতের আসল চরিত্র ও চেহারা। আর এরা মানুষহত্যা করতেই ভালোবাসে। কারণ, তারা সবসময় মুখে ‘বিসমিল্লাহ’ কিংবা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ বলে মানুষহত্যা করে থাকে। এই হচ্ছে আমাদের দেশের বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির মূল-আদর্শ। আর এরা নিজেরা যুদ্ধাপরাধী হওয়ার কারণে দেশে এতোদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংঘটিত হতে পারেনি। এবার দেশের মানুষ জেগেছে। এবার দেশ জেগেছে। এবার বাংলার মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের ঢেউ জেগেছে। বাংলার মাটিতে আবার মানুষের সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করেছে। তাই, এবার বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই-হবে, ইনশা আল্লাহ। আর এদের বিচারসম্পন্ন হলে বাংলাদেশের মানুষ আবার একাত্তরের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।
আজ আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা ফাঁসির দণ্ড মওকুফ-রহিত-বিলোপ-উচ্ছেদ করতে চায় একটি চিহ্নিত শয়তানগোষ্ঠী—আর এরা আত্মস্বীকৃত জারজগোষ্ঠী। তাই, সমাজ-রাষ্ট্র তথা পৃথিবী থেকে এদের মতো শয়তানদের উচ্ছেদসাধন করা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের প্রথম-প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। যারা খুনীদের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করতে চায় তারা খুনী-সন্ত্রাসীদের পরম-আত্মীয় ও মানবজাতির একমাত্র প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য শত্রু: ইবলিশ-শয়তানের বংশজাত। আর কথিত মানবাধিকারের নামে এই চিহ্নিত শয়তানবংশজাত ও কালশয়তানচক্র আমাদের রাষ্ট্রের সুখশান্তি ও আইনশৃঙ্খলাসহ সর্বস্ব লুণ্ঠন করতে চায়। এদের দেখামাত্র জুতা মারা দরকার। আর আমাদের সবাইকে সবসময় গলা-ফাটিয়ে তারস্বরে চিৎকার করে বলতে হবে:
 
‘হত্যাকারী-খুনীচক্র যেই হোক না কেন, সবসময় তাদের ফাঁসি চাই—দিতে হবে। আর ফাঁসিই দিতে হবে’। আর এই পৃথিবীতে মানুষখুনীদের শাস্তির জন্য মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির দণ্ডাদেশের কোনো বিকল্প নাই—আর এর কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। এর কোনো বিকল্প হতে পারে না। আর পৃথিবীতে ফাঁসির দণ্ড আছে, ফাঁসির দণ্ড থাকবে। আর পৃথিবীতে হত্যাকারী-খুনীচক্রের জন্য চিরদিন একমাত্র শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা ফাঁসির দণ্ড কায়েম রাখতে হবে। কারণ, খুনীরা মানবজাতির প্রধান শত্রু। আর এই খুনীদের পক্ষে যারা মানবতার কথা বলে তারা এই পৃথিবীতে মানুষ আর মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু।
আজ আমাদের দেশে নানান ছদ্মবেশে অনেক কালশয়তান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বিভিন্ন শয়তানী-অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আর এইজাতীয় শয়তানদেরই একটি চিহ্নিত অংশ হচ্ছে—মৃত্যুদণ্ডাদেশবিরোধী বা চিরায়ত ফাঁসির দণ্ডবিরোধী আন্দোলনকারীঘাতকচক্র—চিহ্নিত জারজশয়তানগোষ্ঠী। যারা এই পৃথিবীতে মানুষহত্যাকারীদের পক্ষে নেমে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে মানুষহত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির দণ্ড মওকুফ, রহিত, বিলোপ, বাতিল ইত্যাদি করতে চায় তারা স্বয়ং ইবলিশ-শয়তানের ঔরসজাত নাজায়েজ-সন্তান। আর এইসব শয়তান কখনও-কখনও ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ বা অন্য কোনো নামে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী শয়তানী-প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এরা নিজেদের সবসময় মানবাধিকারকর্মী বা নেতা ভাবতে খুব ভালোবাসে। এরা আত্মস্বীকৃত খুনীদের মতো আত্মস্বীকৃত ও তথাকথিত মানবাধিকারকর্মী। এই শয়তানগোষ্ঠী নিজেদের মানবাধিকারকর্মী মনে করে। অথচ, এরা সবসময় কাজ করে মানবতাবিরোধী। এরা মানবাধিকারকর্মী সেজে সবসময় শয়তানের পক্ষে অবস্থানগ্রহণ করে থাকে। এই দুইটি শয়তানীসংগঠন আমাদের দেশের একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের নিকট থেকে টাকা খেয়ে তাদের বিচার বানচাল করতে চেয়েছিলো। আর বর্তমান আওয়ামীলীগসরকারকে চাপে ফেলে, তাদের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ফাঁসির প্রথা বাতিল করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দড়ি থেকে বাঁচাতে এরা এদের সবরকমের চেষ্টা-তদবিরই করেছে। এরা এদের শয়তানীপ্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রেখেছে। এই শয়তানরা দেশে-দেশে ঘোরাফেরা করে কী চায়? এরা চায়—এই পৃথিবীটা সবসময় খুন, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, জুলুম ইত্যাদি পাপাচারে নিমজ্জিত থাকুক। তাহলে, সবসময় এদের ঘোলাপানিতে মাছশিকার করতে খুব সহজ হবে। এরা আত্মস্বীকৃত খুনীদের মতো সরাসরি মানবতাবিরোধী-অপকাণ্ড পরিচালনা করে আবার নিজেদের মানবাধিকার-নেতাকর্মী বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আজ সময় এসেছে, আমাদের এইজাতীয় শয়তানদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যারা এই পৃথিবীতে খুনীদের রক্ষা করার জন্য এইরকম সংগঠনের ব্যানারে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে জঘন্য ফাঁসিবিরোধী-আইন তৈরি করতে চায়—তারা শয়তানের জারজপুত্র। আর এই জারজপুত্ররা যেই হোক না কেন, তাকে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। আর তাকেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে উচিত-শিক্ষা দিতে হবে। আজ আমাদের দেশে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এইসব তথাকথিত মানবতাবাদীর ধ্বজাধারী অথচ ভিতরে-ভিতরে খুনীদের পক্ষাবলম্বী জারজপুত্ররা হীন-উদ্দেশ্য-চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে আজ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে সরাসরি ঘোষণা করছে: ‘কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না’। পৃথিবীর কিছু-কিছু জারজরাষ্ট্র আজ খুনীদের রক্ষা করার জন্য হয়তো মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির দণ্ড মওকুফের বিধিব্যবস্থা-সম্বলিত কোনো জারজ-আইন তৈরি করে থাকতে পারে। সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু, এই বাংলাদেশে কাউকে এই ‘জারজ-আইন’ তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তা-না-হলে যে দেশটা পাপাচারে ভরে যাবে। আর কোনো জারজগোষ্ঠীর কাছে এই দেশ-জাতি কখনও মাথানত করতে পারে না। কারণ, ১৯৭১ সালেই এই বাংলাদেশ, সকল জারজশক্তিকে পরাজিত করে দুনিয়ার বুকে সগৌরবে মাথা-উঁচু করে স্বাধীন-সার্বভৌম এক অনন্য রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতিলাভ করেছে। আর আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে: সবসময় পৃথিবীর একটিমাত্র জারজগোষ্ঠী এই পৃথিবীটাকে ধ্বংস করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা তাদেরই অংশ—তাদেরই বংশ। এরাই তথাকথিত মানবাধিকারকর্মী হয়ে ১৯৭১ সালে, গা-ঢাকা দিয়ে ছিল। আমাদের দেশে যখন পাকিস্তানী-কাফেরবাহিনী যারপরনাই মানবতাবিরোধী-অপরাধ সংঘটিত করলো তখন এদের কাউকে দেখা যায়নি। এখনও ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীরা এদের পকেটে মোটা অঙ্কের টাকা-ডলার-ইউরো-পাউন্ড-দিনার-রিয়াল ইত্যাদি দিয়েছে। তাই, এরা এইসব শয়তানী করতেই আজ মাঠে নেমেছে। এদের আজ সম্মিলিতভাবে শক্তহাতে প্রতিহত করতেই হবে। আর প্রয়োজনবোধে সবার আগে এদের ফাঁসি দিয়ে তারপর মানবতাবিরোধী-খুনীদের বিচার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের টাকা খেয়ে শয়তানের নাপাক-সন্তানরা এখন মরীয়া হয়ে নানারকম শয়তানী-চাল চালছে। তার একটি হচ্ছে: ‘দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করতে হবে’। তাই, আমরা আজ সম্মিলিতভাবে আমাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত সকল শ্রেণীর ছোট-বড় সকল শয়তানের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করছি যে, এই বাংলাদেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল হবে না, ইনশা আল্লাহ। বরং এই দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির দণ্ড মওকুফের দাবিতে আন্দোলনকারীদের চিরতরে স্তিমিত ও বাতিল করে দিতে হবে। কারণ, এরা সবসময়ের জন্য আর সব জাতির জন্য ভয়াবহ কালশয়তান। বাংলার মাটিতে এই শয়তানদেরও যেন ঠাঁই না হয়। একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে দেশী-বিদেশী কিছুসংখ্যক দালাল ও দালালচক্র এখন খুবই তৎপর। আমাদের মুখচেনা এই দালালদের কেউ-কেউ আবার তার নামের আগে ব্যবহার করে থাকে—আইনের কথিত ডক্টরেট ডিগ্রি ড., সংবিধান-প্রণেতা, সংবিধান-বিশেষজ্ঞ, ব্যারিস্টার, সাবেক বিচারপতি, তত্ত্বাবধায়ক-সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক আমলা, সাবেক অমুক-তমুক সচিব, অর্থনীতিবিদ, ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা, নোবেল-বিজয়ী, শিল্পপতি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাডভোকেট, অমুক কেন্দ্রের-তমুক কেন্দ্রের পরিচালক কিংবা সভাপতি, অমুক-তমুক এনজিও-এর পরিচালক-চেয়ারম্যান ইত্যাদি। আসলে, কাজেকর্মে এরা সবাই এক ও অভিন্ন। আর এরা সবাই এতো-এতো পরিশ্রম করে, এতো-এতো টাকা খেয়ে ওদের সবচেয়ে আপনজন—একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চাচ্ছে। তা এজাতীয় যেই হোক না কেন, আজ তাদের বিচার করে বাংলার মাটি পবিত্র করতে হবে। আর একটা কথা মনে রেখো: আমাদের দেশের ভিতরে এখনও সমস্ত শয়তানীর মূলে ওই পরাজিত পাকিস্তান-কাফেরস্থান-গোরস্থান আর তাদের এদেশীয় চিরদোসররা। কিন্তু, হত্যাকারী-খুনীকে রক্ষা করার কোনো বিধান ইসলামে নাই। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাষায় বলেছেন: ‘হত্যার বদলা হত্যা’। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে সবসময় ‘কাসাসরীতি’ পালন করতে হবে। আর যে-ব্যক্তি মানুষহত্যা করবে, রাষ্ট্র তাকেও হত্যা করবে। এটাই ইসলামের পবিত্র বিধান। আর এই হত্যাকারীদের যে বা যারা বা যে-গোষ্ঠী মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির দণ্ড বাতিল বা মওকুফ করতে চায়—তারা কাফের এবং কাফেরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। কারণ, তারা মহান আল্লাহর বিধান বা আইনকে অস্বীকার করছে। আমাদের দেশের সাধারণ কোনো মানুষ যদি বলে, ‘আমি ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের প্রথা পছন্দ করি না বা সমর্থন করি না’—সেক্ষেত্রে, আমি তাকে আক্রমণ করছি না। আর এসবক্ষেত্রে একটা মানুষের ভিন্নমত থাকতেই পারে। কিন্তু, কেউ যদি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বলে: দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রথা বাতিল করতে হবে—তাহলে, সে সরাসরি জারজসন্তান। আর এভাবে, যে বা যারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে সরাসরি কিংবা ইনিয়েবিনিয়ে সামান্যতম চেষ্টা করবে—তারাও জারজসন্তান। আর এদের ব্যাপারে আমি সবসময় একেবারে আপসহীন। আর তোমাদেরও তা-ই হতে হবে।
 
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ঘাতক-দালাল-শয়তানদের নির্দেশে কতিপয় শয়তানী পত্রিকামালিক ও পত্রিকাগোষ্ঠী দেশের ভিতরে গোলোযোগসৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এদের বিষদাঁত এখনই উপড়ে ফেলতে হবে। আর এদের কালোহাত এখনই ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এব্যাপারে কোনোভাবেই কারও সঙ্গে আপসরফা করা যাবে না। এই শয়তানী-পত্রিকাগোষ্ঠী ১৯৭১ সালেও তাদের পাকিস্তানী-পিতাদের পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দালালি করেছে। আর এরাই দেশস্বাধীনের পর ১৯৭২ সাল থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের পক্ষে দালালি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার শয়তানী-ষড়যন্ত্রে বারবার মাথা জাগিয়েছে। কিন্তু, এদের মাথা এবার কেটে ফেলতে হবে। এই দেশে বাস করে যারা বাংলাদেশ তথা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার বিরুদ্ধে একটিমাত্র কথাও লিখবে তারা নিশ্চিতভাবে শয়তানের ঔরসজাতসন্তান—আর খাঁটি বাংলায় যাকে বলে জারজসন্তান। এবার এদের নির্মূল করার মহাপরিকল্পনাগ্রহণ করতে হবে। এই পত্রিকা-ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। এখন অনেক শয়তানই যৌনব্যবসার মতো লাভজনক পত্রিকা-ব্যবসার আড়ালে মিথ্যা-সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সামাজিক-রাষ্ট্রিক অবক্ষয় বাড়িয়ে তোলার অপকাণ্ডে নিয়োজিত। এরা বাংলাদেশের শত্রু আর পাকিস্তানের সন্তান। এদের ক্ষমা করা যাবে না। এদের মতো শয়তানকে ক্ষমা করা জায়েজ নাই। এইসব অবৈধ ও নামপরিচয়জন্মহীন পত্রিকা আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধান-প্রধান আবর্জনার একটি—আর এদের এখনই আবর্জনাস্তূপে ফেলে দেওয়াই জাতির জন্য মঙ্গল। এদের শিকড় এখনই একটানে উপড়ে ফেলতে হবে। বাংলাদেশে যতো খুশি ততো পত্রিকা থাকতে পারবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী কোনো জারজপত্রিকা থাকতে পারবে না। আর এটাই ত্রিশলক্ষ শহীদের আত্মার আকুতি। আমরা, আমাদের শহীদভাইদের পক্ষে।
বাংলাদেশবিরোধী একটি শয়তানচক্র স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে পত্রিকা-ব্যবসার নাম করে পাকিস্তানীদের শয়তানতন্ত্রের শয়তানীপ্রতিষ্ঠার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এরা এখন এদেশের মানুষ হলেও এদের রক্ত, শিকড় ও বীজ সংগৃহীত হয়েছে পাকিস্তানের নষ্টবীজ থেকে। এরা দেশের ভিতরে পত্রিকা-চালানোর নামে নেপথ্যে বসে ন্যূনতম আদর্শও জলাঞ্জলি দিয়ে পত্রিকা-ব্যবসার আড়ালে একশ্রেণীর নামপরিচয়গোত্রহীন তথা শিরোনামবিহীন রাজনৈতিক দল গঠন করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এদের হিংস্র থাবা ও বিষাক্ত নখরাঘাতে আজ আমাদের পবিত্র ভূখণ্ড ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। আর বারবার রক্তাক্ত হচ্ছে আমাদের পবিত্র বাংলাদেশের পবিত্র মানচিত্র। কিন্তু আমরা বসে-বসে এভাবে আর কতদিন এদের এহেন শয়তানী দেখবো। এবার একটা বিহিত করতে হবে। আমি, বাংলাদেশে প্রচলিত ও প্রচারিত সমস্ত দৈনিক পত্রিকাগুলো বাছাই করে এর মধ্য থেকে দেশবিরোধী-শয়তানীপত্রিকার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছি। তোমরা তা এখনই জেনে নাও। আর আমার এই কথাগুলো সবসময় মনে রাখবে। এরপর এদের ভয়াবহ শয়তানীর কথা পরবর্তীতে তোমাদের জানাবো।
বর্তমানে বাংলাদেশে যে-সব শয়তানীপত্রিকা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করতে চায় তন্মধ্যে রয়েছে: দৈনিক প্রথম শয়তানের আলো; দৈনিক শয়তানের ক্লাব-ইনকিলাব; দৈনিক শয়তানের ‘আমার দেশ’ নামক ‘আমার দেশ পাকিস্তান’; দৈনিক শয়তানের নয়াদিগন্ত; দৈনিক শয়তানের যায়যায়দিন-হায়হায়দিন; দৈনিক শয়তানের দিনকাল-হালচাল; দৈনিক শয়তানের ‘ডেইলি স্টার’; দৈনিক শয়তানের ডেইলি নিউজ, ডেইলি সপ, ডেইলি অ্যাডভেঞ্চার, ডেইলি অয়েল; দৈনিক শয়তানের তৈলমর্দন; দৈনিক শয়তানের তৈলবিশারদ; দৈনিক শয়তানের আসল শয়তানী; দৈনিক শয়তানের আমাদের শয়তানী সময়; দৈনিক শয়তানের শয়তানী সঙ্গমসংগ্রাম; ইবলিশ-শয়তানের সাপ্তাহিক ‘সোনার বাংলা’; ইবলিশ-শয়তানের মাসিক ‘পৃথিবী’; দৈনিক শয়তানের নিউজ-ফিউজ টুডে; দৈনিক শয়তানের সমকাম; দৈনিক শয়তানের শয়তানী-আন্দোলন; দৈনিক শয়তানের যুগযুগান্তর; দৈনিক শয়তানের পাকিস্তান প্রতিদিন; দৈনিক শয়তানের তালের কণ্ঠ, জালেমের কণ্ঠ; দৈনিক শয়তানের মিল্লাত; দৈনিক শয়তানের গণকণ্ঠ; দৈনিক শয়তানের ইত্তেহাদ; দৈনিক শয়তানের আলোকিত পাকিস্তান; দৈনিক শয়তানের নিউ এজ; দৈনিক শয়তানের মানবজমিন; দৈনিক শয়তানের সংগ্রাম ইত্যাদি।
এখানে, মনে রাখবে: আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পত্রিকা হিসাবে এখন কাজ করছে মাত্র কয়েকটি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’, ‘দৈনিক আজকের কাগজ’ ও ‘দৈনিক ভোরের কাগজ’। পরে এসম্পর্কে তোমাদের কাছে আরও বিস্তারিতভাবে বলা হবে।
আর বিদেশী শয়তানী-পত্রিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দ্য ইকোনোমিস্ট; দি ডেইলি টেলিগ্রাফ; দি ডেইলি সপ; দি ডেইলি মেইল; দি ডেইলি সানডে মিরর; দি নিউইয়র্ক টাইমস; দি হেরাল্ড ট্রিবিউন; দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইত্যাদি। এর মধ্যে সর্বাপেক্ষা কুখ্যাত ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’, ‘দি টেলিগ্রাফ’, ‘দি ডেইলি মিরর’, ‘দি ডেইলি মেইল’ ইত্যাদি। এগুলো সম্পূর্ণ জারজপত্রিকা—এরা সবসময় বাংলাদেশবিরোধী। আর বিদেশী এই জারজপত্রিকাগুলো সবসময় আমাদের বাংলাদেশের পবিত্র মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা, মিথ্যা আর মিথ্যা সংবাদপ্রকাশ করে থাকে। আর বিদেশী শয়তানী-সংবাদসংস্থার মধ্যে রয়েছে: রয়টার্স, সিএনএন, ভয়েস অব আমেরিকা, এএফপি, জিনহুয়াসিনহুয়া ইত্যাদি।
দেশে সবসময় অবিরাম গতিতে ও নিয়মিত শয়তানী-বদমাইশী করার জন্য রয়েছে কতকগুলো সম্পূর্ণ ব্যবসানির্ভর শয়তানী-প্রাইভেট টিভিচ্যানেল। আর এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: শয়তানের এনটিভি-এফটিভি; শয়তানের আরটিভি; শয়তানের এসএটিভি; শয়তানের এসএনটিভি; ইবলিশ-শয়তানের বাংলাভিশন, ভণ্ডভিশন, পাকিস্তানভিশন; শয়তানের একুশেটিভি, ইটিভি; শয়তানের কথিত ইসলামিক টিভি; শয়তানের দিগন্তটিভি-আদিঅন্তটিভি; শয়তানের আইটিভি; শয়তানের খাইখাইটিভি, আওয়ারটিভি-আইনটিভি; শয়তানের পাকিস্তান-নিউজ; শয়তানের এসএমটিভি; শয়তানের চ্যানেল ওয়ান, চ্যানেল টু, চ্যানেল থ্রি, চ্যানেল ফোর, চ্যানেল ফাইভ, চ্যানেল সিক্স, চ্যানেল সেভেন, চ্যানেল এইট; শয়তানের চ্যানেল সেক্স; শয়তানের পীসটিভি, মাছরাঙ্গাটিভি; শয়তানের চ্যানেল চব্বিশ-পঁচিশ; শয়তানের চ্যানেল কনফিডেন্ট; শয়তানের পদ্মা-মেঘনা-যমুনাটিভি; শয়তানের হাজীটিভি-পাজীটিভি; শয়তানের বাহাত্তর-তিয়াত্তর-চুয়াত্তরটিভি ইত্যাদি। আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশে অব্যাহতভাবে শয়তানীপ্রক্রিয়া বৃদ্ধি-জারী-কায়েম করাসহ এগুলো বাস্তবায়নের জন্য এদের রয়েছে আরও কতকগুলো বাংলাদেশবিরোধী দেশী-বিদেশী শয়তানীসংস্থা বা শয়তানীসংগঠন বা শয়তানীএজেন্সী। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: বেলা, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন; বাপা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন; টিআইবি, ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, আসলে, এদের প্রকৃত নাম হবে: ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান; সিপিডি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, এরা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনাবিরোধী, আর সবসময় পাকিস্তানপন্থীদের দালাল; ফেমা, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স; সুজন-কুজন, সুশাসনের জন্য নাগরিক; দৈনিক প্রথম আলোগোষ্ঠী; দৈনিক পাকিস্তানপন্থী ইনকিলাবগোষ্ঠী; দৈনিক সঙ্গমসংগ্রামগোষ্ঠী; দৈনিক নয়াদিগন্তগোষ্ঠী; দৈনিক আমার দেশগোষ্ঠী; দি ডেইলি স্টারগোষ্ঠী; ব্রাক ঈস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী লিমিটেড; গ্রামীণব্যাংক ঈস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী লিমিটেড; আশা ঈস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী লিমিটেড; মুখচেনা পাকিস্তানপন্থীদের ‘সুশীলসমাজ’ ঈস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানী লিমিটেড; বুদ্ধিজীবীসমাজ, অর্থনীতিবিদসমাজ, নাগরিকসমাজ, বাংলাদেশ-নাগরিকসমাজ; কুবুদ্ধিজীবী-কোম্পানী লিমিটেড; পিএফভি, পিপলস ফর ফোরাম ভয়েস; পবা, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন; ড্যাব, ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ; হিউম্যান রাইটস ওয়াচ; ডেমোক্রেসি ওয়াচ; সাংবাদিক-ফোরাম; অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল; জাতীয়তাবাদী রিপোটার্স ফোরাম; জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী ফোরাম; নাগরিক ফোরাম; জাতীয়তাবাদী আইনজীবী-ফোরাম; অর্থনৈতিক ফোরাম; সচেতন ফোরাম; ঈমান আকিদাহ ফোরাম; বুদ্ধিজীবী ফোরাম; রাজাকারদের সমন্বয়ে কথিত মুক্তিযোদ্ধাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম’; শয়তানের কথিত ’৭৫-পরবর্তী ফোরাম; বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, বাংলাদেশ মানবাধিকারপরিষদ, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিটি ইত্যাদি; বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ইসলামবাদী, জাতীয়তাবাদী ও পাকিস্তানবাদী শিক্ষকসমিতি-শিক্ষকগ্রুপ; দেশের বিভিন্নস্থানের তথাকথিত ইসলামবাদী, ধর্মবাদী, জাতীয়তাবাদী ও পাকিস্তানবাদী আইনজীবীসমিতি; জাতীয় শয়তানদের ‘তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি’; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-শয়তানের জারজপুত্র রাজাকার আব্দুল মান্নানের ‘জমিয়েতুল মুদাররেছীন’; আর রাজাকারদের আদি-আসল প্ল্যাটফর্ম বিএনপি-জামায়াতের নামে-বেনামে-ছদ্মনামে অসংখ্য অঙ্গসংগঠন ইত্যাদি।
 
দেশের ভিতরে সবসময় শয়তানী করার জন্য রাজনৈতিক দলের আদলে ও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে আরও কতকগুলো বাংলাদেশবিরোধী-শয়তানীসংগঠন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল; নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা; জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ; জাগপা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি; গণতান্ত্রিক ফোরাম; ফারাক্কা প্রতিরোধ ও লংমার্চ কমিটি; বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানের বিভিন্ন নামসর্বস্ব ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-কর্মসূচি-আদর্শবিহীন—চরমপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি ও সোসালিস্ট পার্টি এবং তাদের মনোনীত ও পরিচালিত ছাত্র-যুবক-মহিলা-শ্রমিক-মজদুর-নামধারী বিভিন্ন আদর্শচ্যুত অঙ্গসংগঠন; বিভিন্ন শয়তানী ট্রেড-ইউনিয়ন; বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন; জাসদ-আসম আব্দুর রব ইত্যাদি। এর মধ্যে কুখ্যাত খুনী ও শয়তানের জারজপুত্র শফিউল আলম প্রধানের ‘জাগপা’ চিরদিন বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনাবিরোধী একটি জারজসংগঠন।
এছাড়াও, ধোঁকাবাজির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে বসে পাকিস্তানপন্থীদের ছদ্মবেশী, সাম্প্রদায়িক ও শয়তানী সংগঠনসমূহ হচ্ছে: পাকিস্তানপন্থীদের শয়তানী ‘স্বাধীনতা ফোরাম’; ‘নাগরিক ফোরাম’; ‘সৎচিন্তা ফোরাম’; ‘নবপ্রজন্ম ফোরাম’; ‘প্রকৌশলী ফোরাম’; ‘আইনজীবী ফোরাম’; ‘চিকিৎসক ফোরাম’; ‘বুদ্ধিজীবী ফোরাম’; ‘সুশীল নাগরিক ফোরাম’; ‘পরিবেশ ফোরাম’; ‘ধর্ম ফোরাম’; ‘ওলামা ফোরাম’; ‘যুব ফোরাম’; ‘ছাত্র ফোরাম’; ‘ইয়ুথ ফোরাম’; ‘কবি-লেখক ফোরাম’; ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম’; ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’, ‘ইউট্যাব’; ‘বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি-প্রোভিসি ফোরাম’; ‘বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ভিসি-প্রোভিসি ফোরাম’; ‘বুয়েট-চুয়েট-কুয়েট-ফুয়েট-পুয়েট-লুয়েট-ভুয়েট-ডুয়েট-রুয়েট’ ইত্যাদির শিক্ষক-ফোরাম; ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’; ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম; ‘প্রজন্ম ফোরাম’; ‘জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক ফোরাম’; ‘জাতীয়তাবাদী ওলামা-ফোরাম’; ‘গণমুক্তি ফোরাম’; ‘ইমাম ফোরাম’; ‘সচেতন নাগরিক ফোরাম’; ‘পতিতা ফোরাম’; ‘জাতীয় বেশ্যা ফোরাম’; ‘জনগণ ফোরাম’; ‘ভণ্ডফোরাম’; ‘গণ ফোরাম’; একাত্তরের রাজাকারদের কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধা ফোরাম’; ‘পাকিস্তানী ফোরাম’; ‘দেশবিরোধী আর আওয়ামীলীগবিরোধী ফোরাম’ ইত্যাদি। মনে রাখবে: এইসব শয়তানীসংগঠন সবসময় বাংলাদেশবিরোধী-অপশক্তি হিসাবে পাকিস্তানপন্থীদের সহায়কশক্তি হিসাবে কাজ করে থাকে। আর যে-সব সংগঠনের শেষে ‘ফোরাম’ শব্দটি থাকবে—তোমরা বুঝে নিবে: এগুলো পাকিস্তানপন্থী জামায়াত-শিবির-বিএনপি কিংবা তাদের সমমনা দলগুলোর অঙ্গসংগঠন। আর এইসব দেশবিরোধী-শয়তানী সংগঠনের কারণেই আমাদের বাংলাদেশ আজও বিপদমুক্ত নয়। এরা চিরদিন আমাদের, দেশ-জাতির চিরশত্রু। কিন্তু, দেশ-জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনোমূল্যে চিরতরে এদের নির্মূল করতেই হবে।
 
বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে সবসময় ষড়যন্ত্র ও শয়তানী করার জন্য দেশবিরোধী-পাকিস্তানপন্থীদের রয়েছে আরও বিবিধ শয়তানী ও নাজায়েজ সংগঠন। দীর্ঘকাল যাবৎ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানপন্থীদের বিবিধ শয়তানীর উদ্দেশ্যে সংগঠিত এই সংগঠনগুলোর নাম হচ্ছে:
জনদল-জাগদল; জাতীয় দল; ন্যাপ; শয়তানের নাজায়েজপুত্র: খন্দকার মোশতাকের ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ’; বিজেপি-বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি; ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি; লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি; বিকল্পধারা-শয়তানীধারা; মুক্তিযোদ্ধা-গণপরিষদ; জাতীয় গামছা পার্টি ওরফে কৃষক-শ্রমিক-জনতা-লীগ; শয়তানের জারজপুত্রদের ‘ফ্রিডম পার্টি’; গণসংহতি-আন্দোলন; কল্যাণ পার্টি; আলিম আল রাজী’র ‘পিপলস পার্টি; জি-৯; নাগরিক অধিকার কমিটি; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধাদানকারী শয়তানের জারজপুত্রদের ‘অধিকার’; বাংলার মীরজাফর কাজী জাফর আহমেদের ‘জাতীয় পার্টি’ ইত্যাদি। আর তোমরা চিরদিন একটা চিরসত্যকথা মনে রাখবে: এই বাংলাদেশে সবসময় স্বাধীনতাবিরোধী তথা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-চেতনাবিরোধীদের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হলো—জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান আর জামায়াতীদের অপআদর্শ থেকেই জন্ম নেওয়া বিএনপি। এরা কোনোদিনও বাংলাদেশকে সামান্য ভালোবাসেনি আর ভালোবাসবেও না কখনও। আর এই দুইটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়—বরং এরা চিরদিন সন্ত্রাসীসংগঠন। এরা সবসময় একদলীয়-একজাতীয়। শুধু এদের নামের ক্ষেত্রে ভিন্নতা। আর পাকিস্তানের চিরগোলাম জামায়াত-শিবির এদের নামের আগে-পরে যেখানে-যেভাবেই ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি জোরপূর্বক ব্যবহার করুক না কেন—ওরা সবসময় পাকিস্তানের জিনিস। এই দুইটি রাজনৈতিক দল-নামধারী জিনিসকে বিশ্বাস করা বোকামি ও মহাপাপ।  
 
এই দেশে শয়তান-এজিদীয় বংশধারার প্রতিনিধি বিএনপি-জামায়াত-শিবির তথা ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদীরা ছাড়াও রয়েছে এদের আরও অনেক শাখা-প্রশাখা। কিন্তু এদের সবার মূলশিকড় একই জায়গায়, একই বিষবৃক্ষ থেকে উৎপাদিত, আর সবসময় ওই এজিদবংশীয় অপআদর্শকেন্দ্রিক। এইসব নতুনধারার ভণ্ড ওহাবী-খারিজী-মওদুদীবাদীদের আরও কতকগুলো নামসর্বস্ব, ভুঁইফোঁড়, মুখসর্বস্ব ও আদর্শহীন এবং একেবারে পাকিস্তানকেন্দ্রিক বাংলাদেশবিরোধী-সংগঠন রয়েছে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে শয়তানীর উদ্দেশ্যে বিশ্বশয়তানের অংশীদার, সহকারী ও সহযোগী হিসাবে এইসব সংগঠনের জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশবিরোধী এইজাতীয় কতকগুলো শয়তানী ও আজেবাজে সংগঠন হলো:
‘ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি’; পাকিস্তানপন্থী ‘ইসলামী ঐক্যজোট’, ‘ঈমান আকিদাহ সংরক্ষণ কমিটি’; পাকিস্তানপন্থীদের ‘ইসলামী আন্দোলন’, ‘ইসলামিক পার্টি’; পাকিস্তানপ্রেমীদের ‘ইসলামী মোর্চা’, ‘ইসলামী ছাত্র মোর্চা’, ‘অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’; পাকিস্তানীদালালদের ‘অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ কমিটি’; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ‘নেজামে ইসলাম পার্টি’; রাজাকারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘খেলাফত মজলিশ’, ‘ইসলামী ছাত্র মজলিশ’, ‘ইসলামী সমাজ’, ‘ইসলামী ছাত্র সমাজ’; পাকিস্তানীঘাতকদের ‘খেলাফত আন্দোলন’, ‘ইসলামী ছাত্র আন্দোলন’, ‘আমরা ঢাকাবাসী’, ‘বিশ্বমুসলিম ভ্রাতৃত্ব পরিষদ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল’; পাকিস্তানবাদীদের ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম ফোরাম’, ‘জাতীয় তাফসীর পরিষদ’;  পাকিস্তানীগোলামদের ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’, ‘বাংলাদেশ-লিবিয়া ভ্রাতৃ সমিতি’, ‘কওমী মাদ্রাসা ছাত্র ঐক্য পরিষদ’, ‘নদী ও পানিসম্পদ রক্ষা কমিটি’; পাকিস্তানপ্রেমিকদের ‘বাংলাদেশ জন পরিষদ’, ‘আইডিয়াল ডক্টরস ফোরাম’, ‘প্রকৌশলী ফোরাম’; পাকিস্তানীজল্লাদদের ‘বাতিল প্রতিরোধ আন্দোলন’, ‘ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টি’; চোরমোনাইয়ের কুখ্যাত রাজাকারগোষ্ঠীর ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন’, ‘ইশা ছাত্র আন্দোলন’; শয়তানের ‘তাহফিজে হারামাইন পরিষদ’; একাত্তরের রাজাকারদের নেতৃত্বে সংগঠিত ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’, ‘সচেতন যুব ফোরাম’; একাত্তরের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ঘাতক-দালাল-জল্লাদসহ সর্বস্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সমন্বয়ে ২০১০ সালে নবগঠিত ‘হেফাজতে ইসলাম ওরফে হেফাজতে শয়তান’, ‘ইসলামী আইনজীবী পরিষদ’। আর তোমরা চিরদিন মনে রাখবে: বাংলাদেশবিরোধী-ইসলামবিরোধী এইসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানসন্ততি ও তাদের চিরদোসরদের দ্বারা পরিচালিত। আর এরা সবাই জাতে, বিশ্বাসে, মননে, চিন্তাভাবনায় ও স্বভাবচরিত্রে বাংলাদেশের এজিদবংশের প্রকৃত উত্তরাধিকারী।
বাংলাদেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে জন্ম নিয়েছে বিবিধ জারজসংগঠন, জারজ-রাজনৈতিক দল, জারজ দৈনিক পত্রিকা, জারজ-পত্রিকাপার্টি, জারজ-সামাজিক সংগঠন, জারজ-এনজিও। আর এর সঙ্গে আবার রয়েছে বিদেশী বিভিন্ন জারজসংগঠন। এরা সবাই মিলেমিশে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশরাষ্ট্রকে আজ ধ্বংস করতে চায়। বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে তদস্থলে জারজতন্ত্রের পাকিস্তানরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের বাংলাদেশের ভিতরে যে-সব দেশী-বিদেশী ভয়াবহ শয়তানীদল ও শয়তানীসংগঠন সবসময় প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বাংলাদেশবিরোধী-অপকাণ্ড করে চলেছে তারা হলো: ‘অধিকার’ নামক সংগঠন; দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ও দৈনিক ইনকিলাবগোষ্ঠী; দৈনিক দিনকালগোষ্ঠী; দৈনিক পাকিস্তানী সঙ্গমসংগ্রামগোষ্ঠী; সুজন-কুজন দালালগোষ্ঠী; দৈনিক পাকিস্তানপন্থী জারজ টকশোগোষ্ঠী; পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন জারজ এনজিওগোষ্ঠী; দৈনিক প্রথম আলোগোষ্ঠী; দি ডেইলি স্টারগোষ্ঠী; পাকিস্তানের চির পা-চাটা-কুকুর ও দালাল: ‘জমিয়েতুল মুদাররেছীন’গোষ্ঠী; ‘ফেমা’ নামক কথিত স্বেচ্ছাসেবীসংগঠন; জাতীয় গামছা পার্টি; রাজাকারদের সমন্বয়ে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য নবগঠিত: পাকিস্তানপন্থী ‘মুক্তিযোদ্ধা গণপরিষদ’; শয়তানের নেতৃত্বাধীন ‘নাগরিক ঐক্য’; জারজ-গ্রামীণব্যাংক; ব্রাক-এনজিও; আশা-এনজিও; সুবিধাবাদী ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’; হিউম্যান রাইটস ওয়াচ; ডেমোক্রেসি ওয়াচ; হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস; পাকিস্তানপন্থী ‘পলিসি ফোরাম’; সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি; বিকল্পধারা; এলডিপি; টিআইবি; বাংলাদেশের জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ইত্যাদি রক্ষার নামে ‘জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা ‘জাতীয় কমিটি’সহ পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন কমিটি; দেশবিরোধী বিভিন্ন জারজ ‘সড়ক-পরিবহণ-শ্রমিক ফেডারেশন; পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন শ্রমিকসংঘ, শ্রমিকইউনিয়ন, শ্রমিকসংগঠন; আইনের নামে, উন্নয়নকেন্দ্রের নামে বিভিন্ন শালিসকেন্দ্র-দালালকেন্দ্র-জারজকেন্দ্র; জানিপপ-গ্রুপ; পদ্মা-মেঘনা-যমুনা গ্রুপ; পাকিস্তানপন্থী সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ; সাংবাদিক-নামধারী পাকিস্তানপন্থী বিভিন্ন ফোরাম, গ্রুপ, সাংবাদিক-ইউনিয়ন ইত্যাদি দালাল-পরিষদ।
 
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বিভিন্ন এনজিও, প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-নামধারী পাণ্ডাসহ কতিপয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আত্মস্বীকৃত পণ্ডিতরা প্রাইভেট টিভিচ্যানেলে টকশো’র নামে বাংলাদেশবিরোধী-অপকর্মে নিয়োজিত ছিল আর এখনও আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: টিআইবি’ নামক সংগঠন ও এর কতিপয় মুখপাত্র; আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কিছুসংখ্যক দালাল-অ্যাডভোকেটবৃন্দ; সিপিডি’র দালাল-পেশাজীবীরা, জাতীয় গামছা পার্টির নব্যরাজাকারবৃন্দ; টকশো-চাপাবাজ, যুদ্ধাপরাধীদের দালাল-নামধারী শয়তানের কিছুসংখ্যক পালিতপুত্র; ব্যারিস্টার-নামধারী যুদ্ধাপরাধীদের কিছুসংখ্যক দালাল; বাংলাদেশের জাতীয় লম্পট ও পাকিস্তানের দালাল ড. আসিফ নজরুলগং; তথাকথিত সংবিধান-বিশেষজ্ঞ, অর্থলোভী দালাল ও পাকিপ্রেমী ব্যারিস্টারগং; কথিত আইনজ্ঞ, পাকিপ্রেমী ব্যারিস্টার-সমাজ; রাজাকারবংশজাত, পাকিস্তানের দালাল ও শয়তানের পালিতপুত্র ড. তুহিন মালিকগং; কথিত সংবিধান-বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ভণ্ড ও ১/১১-এর কুশীলব, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্রকারী ড. অমুক-তমুক; ইংল্যান্ডের নাগরিক, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল-লবিস্ট ও শয়তানের জারজপুত্র ডেভিড বার্গম্যান; পাকিস্তানের দালাল, সাবেক বিচারপতি-নামধারী অবিচারপতিগণ; শয়তানপুত্র, ভণ্ডশয়তান, যুদ্ধাপরাধীদের দালাল ও সাংবাদিক-নামধারী আরও একশ্রেণীর জানোয়ার; সুজন-কুজনের আত্মস্বীকৃত সুশীল নাগরিক তথা পাকিস্তানের দালালগণ; ১/১১-এর অন্যতম কুশীলব, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্রকারী, বাংলাদেশবিরোধী দুই কুখ্যাত শয়তানপুত্র: দৈনিক প্রথম শয়তানের আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান এবং দি ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম; স্বৈরাচার জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, জাতির ইতিহাসবিকৃতিকারী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী-নামধারী একশ্রেণীর ভণ্ডশয়তানগণ; ‘আমার দেশ’ নামক পত্রিকার সম্পাদক ও শয়তানের জারজপুত্র মাহমুদুর রহমান; ‘কল্যাণ পার্টি’র নেতা পাকিস্তানপ্রেমিক মেজর জেনারেল ইব্রাহিম অব.; সুদখোর, ষড়যন্ত্রকারী, পাকিস্তানের দালাল, ছদ্মবেশী, রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষক ও শয়তানের বশংবদ গ্রামীণব্যাংকের ড. মুহাম্মদ ইউনূস; গণসাহায্যসংস্থার মালিক ও জাতীয় ভণ্ডশয়তান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী; বাংলাদেশের চিরকালীন কুচক্রী ও পাকিস্তানের দালাল ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী; ইতিহাসবিকৃতিকারী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের দালাল ও চক্রান্তকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল, পাকিপ্রেমী, ভণ্ড ও ব্যারিস্টার-নামধারী কতিপয় শয়তানকন্যা; বাংলাদেশের আদি-আসল ঘাপটিমেরে থাকা ভণ্ডশয়তান, পাকিস্তানের দালাল ও ষড়যন্ত্রকারী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন; একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দালাল ও ‘অধিকার’ নামক একটি জারজসংগঠনের মুখপাত্র আদিলুর রহমান খান শুভ; লেখক ও সাংবাদিক-নামধারী পাকিস্তানের দালাল, যায়যায়দিন নামক একটি জারজপত্রিকার সম্পাদক ও শয়তানের পালিতপুত্র শফিক রেহমান; লেখক-সাংবাদিক নামধারী ভণ্ডশয়তান ও বাংলাদেশবিরোধী শয়তানের পালিতপুত্র ফরহাদ মজহার; ইত্যাদি। এরা পুরাপুরি পাকিস্তানের দালাল ও ছদ্মবেশীশয়তান। আর এরা সবসময় বাংলাদেশের চিরশত্রু। এদের কাজই হচ্ছে সবসময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের বিরুদ্ধে, আর বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে দালালি করে, নিজেদের আখের গুছিয়ে দেশটাকে আবার সেই ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের ১০ই জানুআরির মতো একটা ভয়াবহ অন্ধকারে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে আবার রাজাকারদের সেই জারজশাসন কায়েম করা। এরা একটি পরিকল্পিত-শয়তানগোষ্ঠী এবং একটি চিহ্নিত শয়তানগোষ্ঠীর পোষ্যপুত্র। এরা সবাই সবসময় পাকিস্তানপন্থী একজাতীয়-একদলীয়-একজোটের চিরস্থায়ীসদস্য। এইজাতীয় আর এদের মতো যতো শয়তান এই বাংলাদেশে আছে তাদের নির্মূল করা প্রতিটি বাঙালির দায়িত্ব ও কর্তব্য। এরা সবসময় আমাদের বিরুদ্ধে ছদ্মবেশী ও নীরব ঘাতক। এরা বাংলাদেশের এইডস ও ক্যান্সার।
 
বাংলাদেশের মাটি থেকে এদের সরাসরি উৎখাত করতে হবে। আর এই কাজটাকে আমাদের কখনও ছোট করে দেখলে হবে না। এগুলোকে, মানে এদের মতো শয়তানদের উৎখাতের প্রচেষ্টাকে ‘জাতীয় মঙ্গলে’র কর্মসূচি হিসাবেই আমাদের দেখতে হবে। আর এদের মতো চিহ্নিত দালালদের সমূলে উৎখাত করতে পারলেই আমাদের রক্তভেজা পবিত্র বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা তাহলে আর কেউ কোনোদিন ঠেকাতে পারবে না। তোমরা, সবসময় মনে আত্মবিশ্বাস ও সাহস রাখবে। ইনশা আল্লাহ, আমরাই বিজয়ী হবো। আর আমাদের বিজয়ী হতেই হবে।”
 
অধ্যাপক লিটু মিয়া এবার প্রসঙ্গটা একটুখানি ঘুরিয়ে বলতে লাগলেন:
 
“আমাদের এই স্বাধীন-সার্বভৌম-প্রাণপ্রিয় সোনার বাংলাদেশটাকে নিয়ে এখন শয়তানী-খেলায় মেতে উঠেছে এবং সবসময় এই শয়তানী-খেলায় মেতে রয়েছে একাত্তরের সেই পরাজিতগোষ্ঠী—পাকিস্তানী-গণদুশমনচক্র। এবার এদের আগের মতো পরাজিত করতে হবে। এদের শয়তানী-জালবিস্তারের সমস্ত শয়তানী-প্রচেষ্টাকে চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিতে হবে। এরা এদেশের জাতীয় কুলাঙ্গারদের সমন্বয়ে পাকিস্তানী-স্বার্থরক্ষাবিষয়ক জাতীয় শয়তানী-কমিটি গড়ে তুলেছে। আর এর নেতৃত্বে রয়েছে পাকিস্তানের অনুচর বিএনপি-জামায়াতগোষ্ঠী। এরা প্রকাশ্যে, মানে বাইরে আজকাল বিভিন্ন নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। কিন্তু এরাই ভিতরে-ভিতরে সংগঠিত করেছে ওই পাকিস্তান-রক্ষার বিবিধ জাতীয় শয়তানী-কমিটি। এরা সমাজের আত্মস্বীকৃত পাপী ও কথিত প্রভাবশালী—এলিটশ্রেণী। এদের অনেকের নামের আগে আবার রয়েছে ওই ব্যারিস্টার, ডক্টর, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাডভোকেট, সিএ, এফসিএ, ভিআইপি-সিআইপি, সংবিধান-প্রণেতা, সংবিধান-বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি জাতীয় বিবিধ উচ্চতর ডিগ্রি। কিন্তু এরা এমনই শয়তান যে—এরা নামের আগে এইসব ডিগ্রি লাগিয়ে আজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শয়তানী করছে—তাও পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষার জন্য। রাস্তার কুকুর এদের চেয়ে অনেক ভালো। আরে, রাস্তার কুকুরের গায়ে যেকোনো দামি পোশাক কিংবা উচ্চতর ডিগ্রি লাগালে কী হবে? এদের স্বভাবের কিংবা আকৃতির কোনো পরিবর্তন হবে না। এরা চিরদিন কুকুর আর কুকুরই হয়ে থাকবে। আরে, মানুষের পোশাক ও ডিগ্রি কুকুরের গায়ে চাপালে আর কুকুরের নামের আগে এসব ব্যবহার করলেই কি কুকুর কখনও মানুষ হয়? এই দেশে বাস করে যারা এখনও পাকিস্তান কায়েমের স্বপ্ন দ্যাখে কিংবা পাকিস্তান কায়েমের অপচেষ্টা চালায়—তারা আবার মানুষ নাকি? এরা তো বনের অধম পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট আর শয়তানের জারজপুত্র। আমাদের পবিত্র ইসলামধর্মে ও পবিত্র বাংলাদেশে কখনও-কোনোদিন এদের ঠাঁই হবে না। বাংলাদেশবিরোধী সর্বস্তরের এই শয়তানের জারজপুত্রদের নিয়ে আজ শয়তানের জারজরাষ্ট্র-পাকিস্তানের বাংলাদেশবিষয়ক অপরাজনীতি চলছে। অথচ, আমরা কখনও ওদের পিছনে লাগি না। আর ওদের কথা ভাবি না। কিন্তু ওরা এখনও আমাদের বিরুদ্ধে শয়তানী-ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ও ব্যস্ত রয়েছে। তাই, ওদের আবার পরাজিত করতে হবে। আর এবার পরাজিত করতে হবে কূটনৈতিক যুদ্ধে। ওদের সমস্ত অপকর্ম ও শয়তানীর বিরুদ্ধে এবার আমাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।”
 
লিটু মিয়ার কথা ওরা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো আর ভাবছিলো: এই দেশটাকে নিয়ে এখনও পরাজিত পাকিস্তানীগোষ্ঠী, তাদের চিরচেনা দোসর ও তাদের পা-চাটা কুকুরগুলো নানান অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যেকোনোমূল্যে এবার এদের শায়েস্তা করতেই হবে। এইজাতীয় কুকুরদের আর বাড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। তাই, সবাইকে সবসময় মনে রাখতে হবে: এই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো পাকিস্তানপন্থী কুকুরগুলো। আরে, যারা নিজদেশকে ভালোবাসে না, নিজদেশের মানুষকে ভালোবাসে না, ইসলামধর্মকে ভালোবাসে না, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসে না, সমগ্র মানুষ আর মানবতাকে ভালোবাসে না, শুধু ভালোবাসে পাকিস্তানকে—তারাতো মানুষও না, আর মুসলমানও না। এরা হলো শয়তানের বাচ্চা শয়তান। এরা চিরদিন আমাদের জাতশত্রু। আর এরা চিরদিন বিশ্বশয়তান আর সবসময় বিশ্বশয়তানের অংশীদার। এবার বাংলাদেশ থেকে এদের বের করে দিতে হবে। এরাই ১৯৭১ সালে, পবিত্র ইসলামধর্মের অপব্যাখ্যা করে বলেছিলো: ‘ইসলাম আর পাকিস্তান এক’!, ‘পাকিস্তান আল্লাহর ঘর’!, ‘পাকিস্তান আল্লাহর রাষ্ট্র’! ইত্যাদি। এরা কতবড় ভণ্ডশয়তান আর কতবড় জালেম! কতবড় জঘন্য কুফরী-কথা বলেছিলো ওরা! আর একমাত্র কাফেররাই এইজাতীয় শয়তানী-কথাবার্তা বলতে পারে।
 
ওদের ভাবনায় ছেদ পড়লো লিটুমিয়ার কথায়।
তিনি বললেন: “আজকের মতো আমাদের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা এখানেই শেষ করতে চাচ্ছি। তবে তার আগে তোমাদের সামনে কিছুদিনপূর্বে আমার লেখা একটা কবিতা পড়ে শোনাতে চাই। আশা করি, তোমাদের ভালো লাগবে। আর-একটা কথা তোমরা চিরদিন মনে রাখবে: মহান আল্লাহ-রাসুল-ইসলাম-কুরআন-সুন্নাহ আমাদের চিরআপন ও চিরশ্রদ্ধার বিষয়। কিন্তু শয়তানের পাকিস্তান আর পাকিস্তানীরা আমাদের কেউই না, আর কেউ নয়। আর পাকিস্তান এখনও আর চিরদিন আমাদের শত্রুরাষ্ট্র।”
 
অধ্যাপক লিটু মিয়ার এই কবিতার নাম: ‘আমি প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে’। তিনি পাকিস্তানকে তালাক দিয়েছেন। তার মতে, পাকিস্তান আমাদের কেউ নয়। আর আমাদের জীবনে পাকিস্তানের মতো একটা শয়তানরাষ্ট্রের কোনো প্রয়োজন নাই। আজ পর্যন্ত এই পাকিস্তান আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম-পবিত্র বাংলাদেশের কোনো উপকার করে নাই এবং করবেও না। বরং তারা তাদের দেশের শয়তানী-জঙ্গিদের আরও উন্নতমানের শয়তানী-ট্রেনিং প্রদান করে এদের দিয়ে বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এমনকি তাদের দেশের এই জঙ্গিদের আমাদের দেশেও পাচারের কাজে নিয়োজিত। মূলত পাকিস্তান নামক শয়তানরাষ্ট্রটি আজ সারাবিশ্বে জঙ্গি ও সন্ত্রাস রপ্তানিকারক দেশ। তাই, আমরা যদি বাঙালি হই আর আমরা যদি খাঁটি মুসলমান হই—তাহলে, এই বাংলাদেশ ও বাঙালি-জাতির স্বার্থে আমাদের অবশ্যই পাকিস্তানকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বজ্ঞানে-সজ্ঞানে তালাক দিতেই হবে।
 
লিটু মিয়ার স্বরচিত কবিতা তারই কণ্ঠে আবৃত্তির কথা শুনে ওরা ভিতরে-ভিতরে একেকজন একেবারে লাফিয়ে উঠলো। আর তারা মনে মনে খুব খুশি হলো যে, অনেকদিন পরে তার দরাজকণ্ঠের আবৃত্তি শোনা যাবে।
 
ওদের মনোভাব বুঝতে পেরে লিটু মিয়া আবৃত্তি করতে লাগলেন:
 
“আমি প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে। আমি প্রস্রাব করি পাকিস্তানের ভূখণ্ডে। আমার সুতীব্রগতির চমৎকার প্রস্রাবে ভেসে যাক পাকিস্তানের বিস্তৃতভূমি আর শয়তানের হাজার-হাজার বর্গমাইল!
আমি প্রস্রাব করি পাকিস্তানের হানাদারবাহিনী-পরিবেষ্টিত তিন লক্ষাধিক বর্গমাইলের বিশাল ভূখণ্ডে। আর আমরা নিয়মিত প্রস্রাব করি গণজমায়েতে গণদুশমন পাকিস্তানের মুখে। পাকিস্তান আমাদের চিরশত্রুরাষ্ট্র। তাই, আজও পাকিস্তানের কোনো ক্ষমা নাই।
আমি নিয়মিত পাঁচ-ওয়াক্ত নামাজের পর প্রস্রাব করি পাকিস্তানের দিকে
আমি অনবরত প্রস্রাব করি পাকিস্তানের বুকে। আমি প্রস্রাব করি পাকিস্তানের চোখেমুখে। আজও এরাই আমাদের প্রধান শত্রু। আজও ওরা আমাদের দেশটাকে নিয়ে খেলতে চায়। ওরা যে-সব দালালের জন্ম দিয়েছে ঊনিশশ’ একাত্তর সালে—তারা এবং তাদের নষ্টবীজ এখনও অপকাণ্ড ঘটাচ্ছে
পাকিস্তানের স্বার্থে এই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তাই, এদের কোনো ক্ষমা নাই।
 
এখনও আমাদের এই দেশটার পিছনে লেগে আছে সেই পাকিস্তানশয়তান! এখনও তাদের সামরিকতন্ত্রের-শয়তানতন্ত্রের চলছে বিরাট-বিরাট মহড়া।
পৃথিবীর সকল দেশে তাবৎ শয়তানী তারা রপ্তানি করছে নির্ভয়ে। হয়তো তাদের পিছনে এখনও আছে আরও কতো যোগ্য শয়তান। তাই, আমি নির্ভাবনায় প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে। আমি এখনও পাকিস্তানের মুখে প্রস্র্রাব করছি আর করবো চিরদিন।
আমার প্রস্রাবে হাঁটুপানি জমে গেছে—রাওয়ালপিণ্ডি-লাহোর-করাচী-পেশোয়ার শহরে। আরও কতো শহর ওদের যাবে ডুবে—আমার প্রস্রাবে। আর আমাদের সম্মিলিত প্রস্রাবে ডুবে যাবে ওদের ক্যান্টনমেন্ট, বড়-বড় জঙ্গিঘাঁটি আর মানুষ-মারার সামরিক-শয়তানী আস্তানা।
১৯৭১ সালের মতো ওরা যেন আমাদের উপর আর না চালাতে পারে নির্যাতন।
তাই, আগে থেকে আমাদের প্রস্রাবে ভিজিয়ে দেবো ওদের অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ আর যাবতীয় যুদ্ধরসদ! বাঙালির প্রস্রাবে ভেসে যাবে ওদের রকেট ল্যান্সার, ট্যাঙ্ক, কামান, মর্টারশেল, বোমা আর যাবতীয় ক্ষেপণাস্ত্র! আমাদের প্রস্রাবে ভেসে যাবে ওদের আর্মি-নেভি-বিমানবাহিনী—আর যতো বিমানঘাঁটি! আর হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ সৈনিকদের ব্যারাক শুধু প্রস্রাবে হবে তছনছ। আমাদের প্রস্রাবে ভেসে যাবে ওদের লাহোরের গাদ্দাফী-শয়তানের স্টেডিয়াম। আমাদের প্রস্রাবে ধ্বসে যাবে ওদের যেকোনো বড়-বড় সেনাছাউনিসহ পাঞ্জাব-রেজিমেন্ট, পাঠান-রেজিমেন্ট আর বেলুচ-ডিভিশন! আমরা ছাড়বো না কাউকে, আমরা নবপ্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা—বাঙালির ইতিহাস আছে আমাদের জানা। আমরা আমাদের জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাবো বিশ্বের বুকে। আমরা মানবো না আর কোনো পাকিস্তানী-ষড়যন্ত্র। আর সহ্য করবো না পাকিস্তানীদের জারজনীতির জারজ-জারজ চক্রান্ত—আর মানবো না পাকিস্তানের জারজ-আইএসআই-এর জারজ-ষড়যন্ত্র! এবার প্রস্রাব এদের বিরুদ্ধে, এবার প্রস্রাব পাকিস্তানবাদী সব শয়তানের বিরুদ্ধে।
আমরা পর্বতের মতো অটল—আমরা আমাদের ইতিহাস থেকে
সবচেয়ে কার্যকরী শিক্ষাগ্রহণ করে আজ দাঁড়িয়েছি জাতির পাশে।
ওরা আমাদের উপর যে-পাশবিকতা চালিয়েছিলো একাত্তর সালে
আজ এতোটা বছর পরও তার কোনো ক্ষমা নাই।
আমাদের উপর যে জুলমনির্যাতন হয়েছে তার কোনো তুলনা নাই,
এখনও ওরা লেগে আছে আমাদের বিভ্রান্ত করতে। ধর্মের নামে আজও থামেনি ওদের শয়তানী জিগির। ওরা এখনও অন্তরঙ্গে শয়তানের পূজারী সেজে বহির্রঙ্গে সেজেছে কল্কে-অবতার! পাকিস্তানীরা আজও নির্ভয়ে শয়তানীকে ভালোবাসে, আর তাকেই অন্তরে ঠাঁই দিয়ে মুখে বাজায় ধর্মের বাঁশি, আর শয়তানী-মোহন-বাঁশির সুরে কেড়ে নেয় পৃথিবীর সুখশান্তি!
এই পাকিস্তান আজও পৃথিবীর এক ভয়াবহ অভিশাপ!
আর তাই, পাকিস্তান মানে শয়তান!
আর পাকিস্তান শয়তানেরই সৃষ্টি!
পাকিস্তান কখনও-কোনোদিন মানুষের নয়!
পাকিস্তান শুধু পাপের—পাকিস্তান শুধু অভিশাপের।
আমরা মানি না পাকিস্তান—আমরা জানি না পাকিস্তান!
আমরা চিনি না পাকিস্তান—আমরা মানি না—আমরা মানবো না পাকিস্তান।
সবখানে তাদের ভণ্ডামি আর ভণ্ডামির রাজত্বে কাঁপছে পাকিস্তানের ভূমি! তাই, আজ তারা সারাবিশ্বে সন্ত্রাস-রপ্তানিকারক এক আজব দেশ! ভালোমানুষগুলো পড়ে আছে মরার মতো। শয়তানই তাদের ইমাম সেজে তাদের দাবড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে জাহান্নামের চৌরাস্তায়—আজ সময় এসেছে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। আর নয় কোনো শয়তানী-ভণ্ডামি। এবার তালাক দিলাম পাকিস্তান নামক শয়তানের ভূখণ্ডকে।
এবার তোমরা সরে যাও আমাদের স্বপ্নের পৃথিবী থেকে,
কে ডেকেছে তোমাদের, হে নরপিশাচের দল?
তোমরা কেন আমাদের এই চিরসুন্দর স্বপ্নের পৃথিবীতে?
আমাদের স্বপ্নের পৃথিবীতে থাকবে না কোনো পাকিস্তান,
আমাদের পৃথিবীতে চাই না আমরা এই পাপপুরী,
আমরা চাই না এই পাপের পাকিস্তান।
আমাদের পৃথিবী থেকে বেরিয়ে যাও পাকিস্তান।
পাকিস্তান ভেঙ্গে হোক আজই খান-খান,
আর বহু মানুষের সম্মিলিত শক্তিতে
কিংবা কোনো এক প্রচণ্ড গণবিপ্লবে
এখনই-এইমুহূর্তে স্বাধীন হোক সিন্ধু-বেলুচিস্তান,
কিন্তু আর নয় পাকিস্তান।
আমাদের চিরশত্রু শুধু পাকিস্তান,
আর আমাদের জাতশত্রু শুধু এই পাকিস্তান।
 
ঊনিশশ’ একাত্তরে একবার শিক্ষা দিয়েছিলাম তোমাদের, মনে পড়ে?
এবার তোমরা আমাদের পিছু ছাড়ো, আর কোরো না শয়তানী!
নইলে ঊনিশশ’ একাত্তরের মতো আবার যদি ধরি—এবার তোমাদের করে ফেলবো একেবারে ছিন্নভিন্ন। তাই বলছি: এখনও সময় আছে—বদলে ফেলো তোমাদের সহজাত-স্বভাব। তোমাদের নষ্টবীজে জন্মানো এদেশীয় দালালরা আজ আমাদের হাতে বন্দী। আর কতো করবে মানুষ-মারার শয়তানী-উৎসব?
এবার থামো, হে পৃথিবীর দুরাচারী-পাপাচারী-পথভ্রষ্ট! আর নয় পাকিস্তান-জিন্দাবাদ! এবার থেকে আগের মতো বলো সবাই পাকিস্তান-মুরদাবাদ। মুরদাবাদ। মুরদাবাদ। আর পাকিস্তান মানে পাপের ঠিকানা। পাকিস্তান মানে ধর্মের নামে মানুষ আর মানবতার বিরুদ্ধে সারাজীবন খুন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নগ্নহত্যা, গণহত্যা, অবিচার, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ আর মনুষ্যত্বের ধ্বংসসাধন। পাকিস্তানের কী আছে ভালো? আগের মতো পাকিস্তান আজও পৃথিবীর অভিশাপ! তাই, সবাই বলো সমস্বরে: পাকিস্তান মানে: পাপ-তাপ, অভিশাপ, স্রষ্টার শাপ, দহন, ক্ষরণ, দলনমলন, শোষণ-চোষণ আর সবসময় সেই একই শয়তানী-ধ্যানধারণা পোষণ! পাকিস্তান মানে মানবজাতির ইতিহাসে নরহত্যার নির্লজ্জ-ইতিহাস! পাকিস্তান মানে মানবজাতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত, আর পৃথিবীর ইতিহাসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী-অপকর্ম আর তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আর তাই, আমার সামনে যখন এসে দাঁড়ায় একাত্তরের শহীদরা, আর তখনই আমি নির্ভয়ে প্রস্রাব করি সেই পাকিস্তানের দিকে। আমি প্রতিদিন হাসতে-হাসতে স্বজ্ঞানে-সজ্ঞানে প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে। আর তীব্রগতির প্রস্রাবে ভাসিয়ে দিতে চাই ওদের শয়তানীর সব কলকাঠি। প্রতিদিন আমার মনে পড়ে: ১৯৭১ সালে ওরাই আমাদের ত্রিশ লক্ষ ভাইবোনকে শহীদ করেছে। আর দুই লক্ষ মাবোনকে করেছে সম্ভ্রমহারা! আমাদের আরও পাঁচ লক্ষ মা-বোন হয়েছে ওদের সহিংসতার শিকার।
আমরা পাকিস্তানকে তালাক দিয়েছিলাম সেই ঊনিশ’শ একাত্তরে। তবু আজও ওরা আমাদের সঙ্গ ছাড়েনি। আমরা ওদের চিনি না। আমরা ওদের জানি না। আমরা ওদের মানি না। তাই, আজ থেকে এই বাংলায় আর নয় পাকিস্তানের নাম। আজ থেকে ওদের তালাক দিলাম সজ্ঞানে:
এক তালাক! দুই তালাক! তিন তালাক!
এবার তালাক আস্ত শয়তানরাষ্ট্র পাকিস্তান।
 
এসো তোমরা দলে-দলে—আর যদি হও বাঙালি,
এসো ছুটে দুরন্তবেগে—উল্কার মতো ধেয়ে,
আর বানের জলের মতো সবকিছু ভাসায়ে,
এসো তোমরা ছুটে বল্গা-হরিণের মতো
একেবারে দিশেহারা হয়ে,
আর এসো তোমরা একাত্তরের রণাঙ্গনের
দেশপাগল মুক্তিসেনাদের মতো
ঝাঁপিয়ে পড়ে আর সবকিছু কাঁপিয়ে,
এসো সবাই আজ একসঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে,
এসো সবাই আজ এক-অভিন্ন পবিত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে,
এসো সবাই ছুটে চলি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী-উদ্যানে,
আর একসঙ্গে প্রস্রাব করি শয়তানের পাকিস্তানের মুখে,
এসো, এসো, এসো, একসঙ্গে প্রস্রাব করে ভাসিয়ে দেই
শয়তানের আদি-আসল পাকিস্তান।
আমাদের প্রস্রাবে ভেসে যাক শয়তানের পাকিস্তান!
এসো, প্রবল ঘৃণায় থুথু নিক্ষেপ করি পাকিস্তানের চোখেমুখে,
এসো আজ সজ্ঞানে-ঈমানের সঙ্গে প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে।
পৃথিবীতে পাকিস্তানের নাই কোনো প্রয়োজন। আমরা মানি না
পাকিস্তান-ফাঁকিস্তান-গোরস্থান। আমরা মানি না পাকিস্তানের কোনোকিছু।
এই বিশ্বে পাকিস্তান মানে: সকলের সুখের বাগানে বিষধর কালসাপ!
পাকিস্তান মানে নতুন-পুরাতন শকুন-হায়েনার উৎপাত। ১৯৭১ সালে আমরা এই শকুনদের এই হায়েনাদের সামান্য যুদ্ধাস্ত্র হাতে করেছিলাম কুপোকাত। আমরা এদের মানি না—আমরা এদের চিনি না—আমরা এদের জানি না। তবুও এরা লেগে থাকে আমাদের পিছনে। আমরা এই শয়তানদের আবার পরাজিত করতে চাই এই বিশ্বের বুকে।
আর সারাবিশ্বে একে-একে ভেঙ্গে দিতে হবে এদের সমস্ত শয়তানীঘাঁটি।
আর আমরা সমস্বরে এবার এদের দিয়ে দিলাম চিরতরে তালাক:
তালাক পাকিস্তান তালাক!
আমি সজ্ঞানে বলি আর বলি সমস্বরে: এবার তালাক পাকিস্তান।
 
আমি প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে, আমি প্রস্রাবে ভাসিয়ে দিলাম শয়তানের পাকিস্তান! আমি চিরদিন প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে। এসো তোমরা, আর আমার সঙ্গে প্রস্রাব করো পাকিস্তানের চোখেমুখে। এসো, আমি পাকিস্তানের চোখেমুখে অনবরত প্রস্রাব করতে-করতে এখনও রয়েছি তোমাদের অপেক্ষায়। এবার আমরা দলবেঁধে গণজমায়েতে প্রস্রাব করবো পাকিস্তানের মুখে। আমি বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ভালোবাসি। তাই প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে।
আর আমি সবসময় প্রস্রাব করি পাকিস্তানের মুখে।”
 
 
দীর্ঘবক্তৃতা ও কবিতা-আবৃত্তির পর এবার অধ্যাপক লিটু মিয়া তার চেয়ারে বসলেন। এবার তার একটুখানি বিশ্রাম-প্রয়োজন। তিনি ওদের সামনে কবিতাটা পড়তে-পড়তে ক্রমশ বিদ্রোহী হয়ে উঠছিলেন। তিনি এই জীবনে পাকিস্তানের নামগন্ধও শুনতে পারেন না। তার মতে, বাংলাদেশে এতোসব-যত্তোসব সন্ত্রাসী ও শয়তানী ঘটনার জন্য দায়ী একমাত্র পাকিস্তান। তাই, তিনি শয়তান-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দরদভরা মনে কবিতাটি পাঠ করেছেন।
 
আর ওরা লিটু মিয়ার কথা শুনতে-শুনতে একেবারে মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলো। সেইসঙ্গে বাড়তি পাওনা কবিতাপাঠ শুনে ওরা একেবারে বিমুগ্ধ। ওদের এই মোহাচ্ছন্নভাব কাটতে একটু সময় লাগছে।
একসময় ওরা স্বাভাবিক হলো। এবার যেন ওরা কিছুটা সম্বিৎ ফিরে পেলো। তাই, ওরা হাততালি দিয়ে লিটু মিয়াকে স্বাগত জানালো। তার বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিমনস্ক চমৎকার আলোচনার পাশাপাশি এই কবিতাপাঠ শুনে সবাই যারপরনাই আনন্দিত ও আহ্লাদিত হয়েছে। আর তাদের কাছে মনে হলো: এটি একটি গবেষণামূলক কবিতা। এরমধ্যে ইতিহাসের তথ্যকণিকাও রয়েছে।
বিশুদ্ধ ইতিহাসের জ্ঞানলাভের সঙ্গে এই কবিতাখানি সত্যি-সত্যি তাদের মনে দারুণ আনন্দ দিয়েছে।
 
আজকের মতো ওদের আলোচনা এখানেই শেষ হলো। রাত অনেক হয়েছে। আজ আলোচনা করতে-করতে লিটু মিয়া এতোটা সময় পার করেছেন যে, এখন তার আর কোনোদিকে যেতে ইচ্ছে করছে না—তাছাড়া, রাতও গভীর হয়েছে।
 
আগামীকাল আবার ওদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা শুরু হবে। ওরা ঠিক করেছে, বিজয়দিবসের মাসে ওরা প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা করবে। আর সবাই সাধ্যমতো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনেও শামিল হবে। এখন প্রায় প্রতিদিন ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজপথে একাত্তরের চিহ্নিত ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে। লিটু মিয়া সবসময় এই মহতী-আন্দোলনে শরীক ও শামিল হয়ে থাকেন। তার মনে হয়: যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ এই দেশের মানুষের জন্য আর এই দেশের জন্য রাজপথে থাকতে হবে। আর কোনো চিহ্নিত শয়তান বা শয়তানগোষ্ঠীকে বিশৃঙ্খলাসৃষ্টির জন্য রাজপথে নামতে দেওয়া ঠিক হবে না। এখন আমাদের কাঁধে অনেক দায়দায়িত্ব। জাতির স্বার্থে এগুলো পালন করতেই হবে।
 
তিনি তার শিষ্যদের সঙ্গে নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বৈঠকের পাশাপাশি তাদের নিয়ে মাঝে-মাঝে ছোটোখাটো সভা-সমাবেশ করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না। আর তিনি সবসময় ভাবেন: এবার দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আর কোনো শকুন বা শকুনগোষ্ঠীকে এই দেশের মানুষকে খুবলে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া চলবে না। ভুল যা হওয়ার তা-তো আগে অনেক হয়ে গেছে। এখন নতুনভাবে আর কোনো ভুল করা চলবে না। ভুলের দিন শেষ। আর যাতে কোনো ভুলটুল না হয় তজ্জন্য সবাইকে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। জয় আমাদের সুনিশ্চিত। ইনশা আল্লাহ, আমরা আমাদের ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ সফল করতে পারবো। আর মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ আমাদের এবার সমাপ্ত করতেই হবে।
 
 
(চলবে)
 
 
সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
রচনাকাল: ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
৩১/১০/২০১৭
 
 

ছবি
সেকশনঃ মুক্তিযুদ্ধ
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক তারিখঃ 16/11/2017 04:10 PM
সর্বমোট 223 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ