ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

বিবাহ লইয়া এক বা দুই স্নিপ।

ছেলে বালেগ হইয়াছে! বাবা-মা'র চিন্তার শেষ নাই! এতদিন শুনিয়া আসিয়াছি কন্যা দায়গ্রস্থ বাবা-মায়ের কথা! আমার বাবা-মা'র অবস্থা দেখিলে যে কেউই ঠাঁহর করিবে যে উনারা নিশ্চিত পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা-মাতায় পরিণত হইয়াছেন! যাকে, যেখানে, যে অবস্থাতেই পায় না কেন, কুশলাদির আগে জিজ্ঞেস করে পরিচিত, অপরিচিত কোন বিবাহযোগ্যা কন্যা বা উহার পরিবারের সাথে পরিচয় রহিয়াছে কীনা! নিজের বড় দুই বোনের বিবাহ দেয়ার সময়েও উনাদের এতটা উতলা হইতে দেখি নাই, বিলক্ষণ! আমার তো সন্দেহ আছে, ইদানিং আত্মীয়-স্বজনেরা আব্বা-আম্মাকে দেখলেই এঁড়িয়ে যায় কীনা- এই বুঝি পুত্রের বিয়েপাগলা বাপ্-মা শুরু করে দেয়...। মাঝে মাঝে আম্মা স্বগতোক্তির মতো করে বলে, কি ছেলে জন্ম দিলাম, একটা মেয়ে পঁটাতে পারে না, বিদেশ বাড়িতে থেকে একটা বিদেশী ধরে আনলেও তো মনকে স্বান্তনা দিতাম, না ছেলে আমার লাইনে আছে! অবস্থা অনেকটা এমন হয়েছে, যার বিয়ে তার খবর নাই, বাপ-মা’র ঘুম নাই! গত বছর পর্যন্ত বিয়ে করার কোন ইচ্ছে, নামগন্ধও আমার ছিল না! আর এনিয়ে বাসায় বহু কোথাও শুনতে হয়েছে, একদিন তো আন্তঃমহাদেশীয় মিটিংয়ের সম্মুখীনও হলাম দুই বোনের খপ্পরে পরে (সে কথা বলছি পরে, সে আরেক লজ্জার ইতিহাস!)। মাত্র তো জীবনের শুরু, এই নবজাতককে জন্মের সাথে সাথেই গলা টিপে মেরে ফেলতে কে চায় হে, বলো, কে চায়! অবশ্য তাদের বেচেইন হবার কারণও আছে! আমার এখন যে বয়েস, সেই বয়সে আব্বার তৃতীয় সন্তান আমি হয়ে গেছি! ওহ! আব্বা বিয়ে করেছিল আম্মাকে ভাগায়ে নিয়ে ১৮ বছর বয়েসে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রথম বর্ষে! তো তাদের উঁচাটন হওয়াটাই স্বাভাবিক! আমি সেই বাপের ছেলে হয়ে কি করলাম! তবে, আমার ইনবক্সে যে পরিমান মেয়েদের সিভি জমা হয়েছে, তাহা সম্বল করিয়া অবলীলায় একটা ম্যারেজ মিডিয়া চালু করা সম্ভব (সব পক্ষের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, কোন মেয়ের ড্রয়ারেও নিশ্চয়ই এমন পরিমান সিভিই জমা পরে!)।

 

তো পিতা-মাতার পিঁড়াপীড়িতে কিছু সিভিতে চোখ বুলাতেই হয়! তো সেরকম চোখ বুলাতে যেয়েই হঠাৎ এক সিভিতে চোখ আঁটকে গেল, সিভি পড়ে যা ধারণা হলো, এই মেয়ে দেশের বাইরে সেটেল হওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করবে না, দেশেই আইন প্র্যাকটিস করে, আর যেহেতু আমারও দেশে ফিরে আসার ইচ্ছে, দেশেই প্র্যাকটিস করার ইচ্ছে আছে! তো এক ছোটবোনকে ফোন দিলাম, সেই মেয়ে আমাদের জুনিয়র ঐ ছোট বোনের আগের চেম্বারেই প্র্যাকটিস করে। ছোটবোন খোঁজ নিয়ে বললো, ঠিক আছে, বিএনপি-জামাতমনা না, হিজাব টিজাব পড়েন না, মোটামুটি প্রগতিশীল আছে, পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করেন, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস পালন করেন; একটাই সমস্যা পলিটিকালি খুব বেশি নিউট্রাল- প্রথম আলো’র প্রোডাক্ট আর কি! মাথা চুলকে বললাম, আচ্ছা দেখি! তো মেয়ের সিভি আবার বের করলাম! এর আগে মেয়ের বড় বোন/ বোনের জামাই কি করে, বাপ্ কি করে তা দেখা হয় নাই তেমন খেয়াল করে! ভাবলাম এর বেশি আগানোর আগে একটু গোয়েন্দাগিরি করে নেই! তো মেয়ের বড় বোনের জামাইয়ের নাম দেখি- কি সামথিং আমান আজমী। আমার তো পিঁলে চমকে যাওয়ার অবস্থা! বাংলাদেশে তো এই টাইটেলে শুধু এক ফ্যামিলির ছেলেদের নামই শেষ হয়! এক ছোট ভাইকে খোঁজ নিতে বললাম! খোঁজ নিয়ে বললো, ভাই কাহিনী কি আপনি তারে খুঁজেন কেন, তারা তো এমনিতেই দৌঁড়ের উপরে আছে! জানলাম, ঐ মেয়ের বড় বোনের বিয়ে হয়েছে গোলামের গোলাম, ধাঁড়ি রাজাকার, একাত্তরের ঘৃণিত খুনি গোলাম আজমের এক পোলার সাথে! মানে ধরেন, আরেকটু হলেই হারামি গোলাম আজম আমার তালই হয়ে যেত আর কি! অবস্থাটা চিন্তা করেন, অনিমেষদা, দুরা ভাই, বাংগাল ভাইয়েরা আমার বিয়েতে এসে গোলামের পুতেদের সাথে একসাথে বসেছে বিয়ের দাওয়াত খেতে! পরের দিন যে এই সিভি এনেছে ওরে ছোট ভাইকে দিয়ে একটা রামঝাড়ি খাইয়েছি! আব্বা-আম্মার গণহারে মেয়ে খোঁজার কুফল হাতে নাতে পাওয়া গেল।

 

তবে এই পাত্রী খোঁজার চক্করে সবচেয়ে বেশি যেটা অবাক করেছে, সেটা হচ্ছে আজকালকার মেয়েদের বা মেয়ের পরিবারের লোভ! ঘটনাটা না বললে আসলে বুঝবেন না! আমার এক ছোট খালা (আম্মার ফুঁফাতো বোন), এক বিশাল বড়লোকের মেয়ের সিভি এনেছে, ছবি টবি সহ! সেরকম কাঁপাকাঁপি বড়লোক ফ্যামিলি! মেয়ের ফ্যামিলি আমাকে সামনাসামনি না দেখে, শুধু খালামনির কথাতেই রাজি! কবে আমি দেশে যাব, আর তারা তাদের মেয়ের দায়ভার আমার উপর দিয়ে মুক্তি পান, সেই অপেক্ষা শুধু! তো আমার কিছু ঘাউড়ামি শর্ত ছিল ও আছে এখনো! আমার শর্ত একটাই- কোনমতেই মেয়েকে নিয়ে আমি দেশের বাইরে সেটেল হবো না, আমি দেশে ফিরে  আসবই, ছেলে-পেলেরা আমার সৌজন্যে পরে পড়তে যাবে দেশের বাইরে, কিন্তু সেটেল হওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব এবং দুনিয়ার আর সব বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হলেও এই বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ! তো খালামনি তখন বললেন, আসল কথা! বাপ্! ওরা তো তুই মেয়েকে নিয়ে দেশের বাইরে সেটেল হবি, এমনটা ভেবেই তোকে না দেখেই রাজি হয়েছে! ওদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই, শুধু মেয়েকে নিয়ে তুই বাইরে থাকবি এটাই ওরা চায়! আমি খালামনির কথা শুনে অবাক হয়ে গেলাম! এই ব্যাপারটা যদি নিম্ন বা মধ্যবিত্ত ঘরের কোন মেয়ে বা তার পরিবারের মধ্যে দেখতাম, তাহলে অবাক হতাম না! সবাই ভাল জীবন চায়, সেই চাওয়াটা খারাপ না! কিন্তু যাদের সবকিছু থেকেও আরো আরো ভালোর জন্য শুধু বিয়ে করার রাস্তাটা সহজ রাস্তা হিসেবে বেছে নেয়, তাহলে তো মুশকিল! মানে আমার পড়াশুনো, কোয়ালিফিকেশন এগুলোর কোনোই দাম নাই, দাম আছে আমার বিদেশ থাকার! প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। খালামণিকে বললাম, এরচেয়ে একটা ঘুঁটেকুঁড়ানির মেয়ে আমার কাছে অনেক প্রেফারেবল! এত্ত লোভ হয় কিভাবে মানুষজনের!

(অন্নেকদিন সবার কোন খোঁজ নেয়া হয় নাই! আছেন কেমন সবাই?)
(পরের পর্ব এখানে- http://www.muktochintablog.com/blogpost/details/25939)

ছবি
সেকশনঃ কৌতুক
লিখেছেনঃ বটতলার উকিল তারিখঃ 19/10/2017 10:04 PM
সর্বমোট 558 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ