ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

তোমাদের এই মুজিবকোট





















তোমাদের এই মুজিবকোট

সাইয়িদ রফিকুল হক

 
তোমাদের গায়ে চাপানো এই মুজিবকোট
এখন দলীয় পদলাভের ভয়ানক প্রতারণা,
আর স্বার্থসিদ্ধির নতুন কোনো কৌশল মাত্র,
তোমরা আজ লোভের আগুনে পুড়ে-পুড়ে
আমাদের জাতির জনকের নামে ছাপিয়েছো রঙিন পোস্টার!
আর তোমাদের এই পোস্টারের দাপটে ভরে গেছে মাঠঘাট,
লোকের বাড়িঘর, রাস্তার পাশের ঘরবাড়ির দেওয়াল,
সরকারি অফিসের চুনকাম করা মসৃণ দেওয়ালসমূহ,
স্কুল-কলেজের নতুন কিংবা মরচেপড়া দেওয়ালগুলো,
এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তেলচকচকে দেওয়ালগুলো পর্যন্ত
তোমাদের এই শোকপালন থেকে বাদ যাচ্ছে না।
তবুও বলছি: এসবই তোমাদের ভণ্ডামি আর লোকদেখানো,
আর নিজেদের স্বার্থআদায়ের আর-এক কৌশল মাত্র।
 
তোমরা ভয়ানক ভণ্ড, তাই লোকদেখানো-প্রেমে
ছাপিয়েছো জাতির জনকের ছবিসহ নিজের নামে পোস্টার,
আর তোমাদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে মাঠঘাট, ফুটপাত!
তবুও তোমাদের মনে প্রেম জাগেনি জাতির জনকের প্রতি,
আর তোমরা কখনও মন থেকে ভালোবাসোনি বঙ্গবন্ধুকে,
শুধু পোস্টার ছাপিয়েছো নিজের বহুমুখী স্বার্থে!
এই পোস্টারগুলো তোমাদের রাজনীতি-ব্যবসার হাতিয়ার মাত্র।
জাতির জনকের নামে তোমরা আজ শুরু করেছো বালখিল্য,
তোমাদের পোস্টারে আজ শোক নাই, তোমাদের পোস্টারে আজ
জাতির জনকের প্রতি হৃদয়নিংড়ানো ভালোবাসা নাই।
তোমাদের পোস্টারে আছে শুধু নিজের হালফ্যাশনের ছবি,
আর লোকদেখানো রাজনৈতিক ভালোবাসার নাটক।
তোমাদের এই পোস্টারগুলো কায়েমীস্বার্থের জঞ্জাল,
আর তোমাদের এই ব্যবসায়িক পোস্টারগুলো
আজ আমাদের মন থেকে মুছে দিতে চাইছে জাতীয় শোক।
 
রাস্তায়-রাস্তায় আজ দেখি জাতির জনকের ছোট্ট ছবির পাশে
তোমাদের ক্লাউন-মার্কা বিশাল-বিশাল ছবির ফেস্টুন-ব্যানার!
তোমাদের মনে দেখতে পাচ্ছি শোকের বদলে ফুর্তির বিরাট আমেজ!
তোমরা কতবড় পাষণ্ড! আমাদের পিতার ছবি আজ ব্যবহার করছো
নিজেদের ষোলোআনা লাভ আর ধান্দাবাজির রাজনীতির অপকর্মে!
তোমরা আজ থেকে ভালো হয়ে যাও। আর পিতার শোকে মূ্হ্যমান হও।
আর জাতির পিতার আদর্শ জীবনে-মরণে, চিরতরে ধারণ করো।
তারপর দেখবো, তোমাদের ছবি এই বাংলার কোথাও টাঙ্গানো যায় কিনা।
আজ তোমরা খুলে ফেলো তোমাদের নিজের নামের সমস্ত ব্যানার-ফেস্টুন,
আজ তোমরা পিতার শোকে হয়ে ওঠো এক-একজন খাঁটি বাঙালি,
আগে বাঙালি হও, তারপর হতে পারবে জাতির জনকের আদর্শের সৈনিক।
 
স্বার্থআদায়ের প্রয়োজন হলেই তোমাদের গায়ে ওঠে বাহারি
পায়জামা-পাঞ্জাবির উপরে কালো মুজিবকোট!
তোমাদের ধান্দাবাজিতে আজ আমাদের জনকের ছবি শোভা পাচ্ছে।
তোমরা আমাদের জনকের আদর্শের কেউ না। তবুও তোমাদের পোস্টারে
দেখি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি!
কত আর ব্যবসা করবে? আর কত পিতার নাম ভাঙ্গিয়ে খাবে?
আর কত ব্যবসা করবে তোমরা—আমাদের জাতির জনকের নামে?
তোমাদের এই লোকদেখানো মুজিবকোট আর পোস্টারগুলো
আমাদের মন থেকে মুছে দিচ্ছে জাতির জনকের প্রতি শোক,
তোমাদের এই লোকদেখানো পোস্টারে ঢেকে যাচ্ছে আজ
জাতির জনকের প্রতি আমাদের ভালোবাসা আর শোক!
তোমাদের পোস্টারে আড়াল হচ্ছে আজ জাতীয় শোকদিবস,
মানুষের মনে তোমরা শুধুই নিজেদের স্বার্থ আর ধান্দাবাজির
এক নির্লজ্জের ইতিহাসসৃষ্টি করে আমাদের জনককে করছো অপমানিত।
তাই দেশপ্রেমিক বাঙালি-জাতির সঙ্গে বলছি উচ্চকণ্ঠে:
তোমাদেরও বিচার হওয়া উচিত দেশের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে।
 
তোমরা আজ টেন্ডারবাজি করছো, আর করছো চাঁদাবাজি!
তোমরা আজ নিজের স্বার্থে হত্যা করছো দলের ভিতরে-বাইরে,
তোমরা আজ লোভে-স্বার্থে একেবারে পাগল হয়েছো হায়েনার মতো,
তোমরা আজ এই মুজিবকোট গায়ে দেওয়ার একেবারে অযোগ্য,
তোমাদের গা থেকে এখনই খুলে ফেলো ওই পবিত্র মুজিবকোট,
এই মুজিবকোটধারী-মহাপুরুষ এনে দিয়েছেন বাংলার স্বাধীনতা,
যেদিন এই কোট গায়ে দিতে পারবে সেদিন দেখা যাবে,
আজ তোমরা একটানে খুলে ফেলো আমাদের পিতার মুজিবকোট,
ওটা আজ তোমাদের মতো লোভী আর শঠের গায়ে একেবারে বেমানান।
 
 



 
 
সাইয়িদ রফিকুল হক
পূর্বরাজাবাজার, ঢাকা,
বাংলাদেশ।
১৪/০৮/২০১৭

 

ছবি
সেকশনঃ কবিতা
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক তারিখঃ 15/08/2017 03:48 PM
সর্বমোট 149 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ