ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

জাতির পিতা - ০২

বঙ্গবন্ধুর বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন: ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাল্যকাল কেটেছিলো প্রাকৃতিক লীলা সৌন্দর্যের সেই টুঙ্গিপাড়া গ্রামে। বাইগার নদীর তীরঘেঁষে ছবির মতো সাজানো সুন্দর একটি গ্রাম টুঙ্গিপাড়া। বাইগার নদী মধুমতী নদীর একটি শাখা। বঙ্গবন্ধুর শৈশব কেটেছিল সেই নদীর পানিতে ঝাঁপ দিয়ে, মেঠো পথের ধুলোবালি মেখে, বর্ষার কাদাপানিতে ভিজে। দোয়েল পাখির সুমধুর সুর বঙ্গবন্ধুকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করতো। তিনি ছোট্ট শালিক ও ময়না পাখির ছানা ধরে তাদের কথা বলা শেখাতেন। বানর ও কুকুর পুষতেন। এগুলো দেখাশোনার ভার দিতেন ছোট বোন হেলেনের ওপর। এই পোষা পাখি, জীবজন্তুর প্রতি এতটুকু অবহেলা তিনি সইতে পারতেন না। গ্রামের হিন্দু-মুসলমানদের সম্মিলিত সামাজিক আবহে তিনি দীক্ষা পান অসাম্প্রদায়িকতার। স্কুল থেকে ফেরার পথে শীতে কাঁপতে থাকা বন্ধুকে তিনি গায়ের জামা খুলে পড়তে দিয়েছিলেন। বর্ষাকালে গরীব বন্ধুটি স্কুলে ভিজে এসেছিলো দেখে তিনি তাঁর নতুন ছাতাটি বন্ধুকে দিয়েছিলেন। শৈশব থেকেই সবার প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাঁর বাল্যশিক্ষা শুরু হয় বাড়িতে। গৃহশিক্ষকদের কাছে তিনি বাংলা,আরবি,ইংরেজি ও অঙ্ক শিখতেন। ১৯২৭ সালে টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী সোয়া কিলোমিটার দূরে গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হন। এই স্কুল তাঁর ছোট দাদা শেখ আবদুর রশিদ প্রতিষ্ঠা করেন। বাইগার নদীর একটি শাখা ছিলো কাটাগাঙ। শেখবাড়ির একেবারে কোলঘেঁষে। এই খাল ধরেই বঙ্গবন্ধু স্কুলে যেতেন। একবার বর্ষাকালে নৌকা করে স্কুল থেকে ফেরার সময় নৌকাডুবি হয়ে যায়। এরপর বঙ্গবন্ধুর মা সাহেরা খাতুন তাঁকে আর ঐ স্কুলে যেতে দেন নি। তাঁর বাবা শেখ লুত্ফর রহমানের কর্মস্হল তখন গোপালগঞ্জ। তাই তাঁকে বাবার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। ১৯৩১ সালের সময় শেখ লুত্ফর রহমান সরকারি চাকুরিজীবী। মাদারিপুরে বদলি হওয়ায় বঙ্গবন্ধুকেও তিনি সঙ্গে করে নিয়ে আসেন এবং ভর্তি করিয়ে দেন মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে। বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বেশ রোগা। তাই তাঁর মায়ের আফসোসের সীমা ছিলো না যে কেন তাঁর খোকা একটু হৃষ্টপুষ্ট নাদুসনুদুস হয়না। তাঁর মা সবসময়ই ব্যস্ত থাকতেন তাঁর খোকার শরীর কিভাবে ভালো করা যায়। খাবার বেলায় ভাত, মাছের ঝোল, সবজিই ছিলো বঙ্গবন্ধুর পছন্দ। খাবার শেষে দুধ-ভাত- কলা ও গুড় খুব পছন্দ করতেন। আদর করে বাসার সবাই তাকে 'খোকা' বলেই ডাকতো। আর ভাই-বোন, গ্রামবাসীরা ডাকতো 'মিয়া ভাই' বলে। ১৯৩৪ সালে তিনি যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, তখন বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর হৃদপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। চিকিত্সার জন্য তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে আবার তাঁর চোখে সমস্যা হয়। গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর চোখ খারাপ হয়ে যায়। পরে আবার তাকে কলকাতায় নিয়ে এসে সুস্থ্য করে তোলা হয়। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু চশমা পড়েন। অসুস্থতার কারণে চার বছর তাঁর লেখাপড়া বন্ধ থাকে। ১৯৩৭ সালে তাকে ভর্তি করানো হয় গোপালগঞ্জ মথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে। খেলাধুলার প্রতি বঙ্গবন্ধুর দারুণ ঝোঁক ছিলো। ১৯৩৮ সালে তিনি একজন উন্নতমানের স্পোর্টসম্যান হিসেবে পরিণত হন। তাঁর প্রিয় খেলা ছিলো ফুটবল ও ভলিবল। ১৯৩৮ সালে চাচাতো বোন বেগম ফজিলাতুন্নেসা রেনুর সাথে তাঁর বিবাহ হয়। গোপালগঞ্জের স্কুল থেকে ১৯৪২ সালে তিনি মেট্রিক পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৬ সালে তিনি বিএ পাস করেন। ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে নেতৃত্বদানের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল ২৬ মার্চ,১৯৪৯ সালে তাঁর এবং আরো চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তত্কালীন আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র (রোল-১৬৬,এস.এম.হল) । কাউন্সিলের সভায় ১৭ এপ্রিলের মধ্যে ভবিষ্যতে ভালো আচরণ করার শর্ত দেওয়া হয়। এই শর্ত মেনে চারজন ছাত্রত্ব ফিরে পেলেও বঙ্গবন্ধু শর্ত মেনে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে নেন নি। ফলে ১৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন ভিসি ড.সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন তাঁকে স্হায়ীভাবে বহিষ্কার করেন। * সূত্র : (১) বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ,দুটি নাম একটি ইতিহাস; (২) বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী, মুজিব দ্য গ্রেট; এবং (৩) স্বাধীনতার মহানায়ক।

ছবি
সেকশনঃ ইতিহাস
লিখেছেনঃ কুহকীনি তারিখঃ 05/08/2017 10:38 AM
সর্বমোট 318 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ