ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

মুক্তচিন্তাব্লগের বটবৃক্ষ

উৎসর্গ: কবি শামুক, মুক্তচিন্তাব্লগের বটবৃক্ষ

                               

মুক্তচিন্তা ব্লগের শুরু থেকেই আজ অবধি এরসাথে নিরলসভাবে লেগে আছেন বিশিষ্ট কবি ও ব্লগার শামুক। শুরু থেকে ব্লগেরসাথে থাকা কয়েকজনের মধ্যে আমিও একজন, ছিল আরও অনেকেই। যদিও আমার থাকাটা সম্ভবত একেবারে প্রথম দিন থেকে নয়, তবে শুরুর দিকেই। মনে পড়ে, সে সময়ে সর্বোচ্চ পোস্টের তালিকায় কখনও আমি, কখনও অনিমেষ রহমান, কখনও শামুক চলে আসত। যে যার মতো লিখতাম, তালিকা দেখার বিষয়টা ছিল খুবই গৌণ।

ব্লগের উঠোন থাকত জমজমাট। নিভৃত স্বপ্নচারী, স্বপনের কারিগর, অনিমেষ রহমান, সত্যজিৎ দাশ, দুরন্ত, জটিল বাক্য, লজিক্যাল বাঙ্গালী, শওকত আলী বেনু, সাকিয়া রিপা, চুপকথা এবং আরও কয়েকজন ব্লগারের ব্লগপোস্টে ব্লগ থাকত সদা জাগ্রত ও আলোচনামূখর। লেখার মানও ছিল সেইরকম। আলোচনা, সমালোচনা, সহযোগিতা, পরামর্শ, ভুল শুধরে দেওয়া ইত্যাদি মিথষ্ক্রিয়াগুলি ছিল প্রাণবন্ত। এ মিথস্ক্রিয়াই একটা ব্লগের প্রাণ। সে বিবেচনায় মুক্তচিন্তা ব্লগের শিষ্টাচার সমৃদ্ধ মিথস্ক্রিয়া ছিল সত্যিই উপভোগ্য। কোন ব্লগেই এতটা পরিশীলিত মিথস্ক্রিয়ার চর্চা ছিল না। ফলে ব্লগটা ছিল নির্ভরতার প্রতীক। জীবনের অনেক ভারকে শুষে নিয়ে তা লাঘব করার প্লাটফর্ম। জীবনের অনেক অনুদ্দীপনাকে উদ্দীপনায় পরিণত করার উদ্দীপনী শক্তি।
 
জীবনের তরে নানা কারণে আমরা অনিয়মিত হয়ে গেছি। কেউ কেউ একেবারেই ব্লগ ছেড়ে গেছি। অথচ আমি যতদিন ব্লগে নিয়মিত ছিলাম ততদিন পর্যন্ত এই ব্লগের প্রতিটি লেখা পড়েছি এবং কমেন্ট করেছি, বানান শুধরে দেবার চেষ্টা করেছি। সেই আমিই জীবনের তরে কখন থেকে যেন নিজের অজান্তে হারিয়ে গেলাম। এমনই হয়। যদিও আমি এখানে লিখতাম না, কিন্তু এ সময়ে ব্লগটাকে কখনও ভুলিনি। অনেক ভালবাসা কখনও মরে না, ব্লগের প্রতি সেটা আমার ছিল- সে জন্যই বোধ হয় হরহামেশাই ব্লগকে মনে পড়ত। মাঝে একবার বেগার দেবার মতো ব্লগে ফিরেও এসেছিলাম কিন্তু নিয়মিত থাকতে পারিনি। এক সময়ের সেই জমজমাট অবস্থা না পেয়ে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
 
মাঝে এসে দেখেছিলাম ব্লগে অনেক নতুন লেখক এসেছে, তারা নিয়মিত লিখছে। এটাই জগতের নিয়ম, শূন্যস্থান শূন্য থাকে না, তা পূরণ হয়ে যায়। কিন্তু মনটা খারাপ হয়েছিল এটা দেখে যে, আমরা থাকাকালে ব্লগারদের মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া হতো তেমন মিথস্ক্রিয়া নতুন ব্লগারদের পরস্পরের মধ্যে নেই। তারা সবাই নিজের মতো করে লিখছে কিন্তু সহব্লগারদের লেখা পড়ছে না, সেখানে কমেন্ট করছে না। তার নিজের লেখায় সহব্লগাররা কমেন্ট করলেও প্রতিকমেন্ট করছে না। করলেও তা প্রমিত নয়। সবাই কেমন যেন সীমাবদ্ধ। নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার মানসিকতা ব্লগিংয়ের সাথে মোটেও যায় না, যদিও সেটাই ব্লগে চলতে দেখেছিলাম। অনেকের লেখা দেখেছিলাম দু/চার লাইনের, তাও অর্থহীন। অনেকটা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মতো অর্থহীন পোস্ট। অনেকের লেখা মানহীন, বানান ভুলের মচ্ছব। প্রথম প্রথম এতে হয়ত দোষের কিছু নেই কিন্তু শুদ্ধ হবার প্রচেষ্টা না থাকাটা দোষের। কেউ সে পরামর্শ দিলে সেটা না নিতে পারাটা দোষের। শুদ্ধ হবার প্রচেষ্টা না করে অবিরত ভুল এবং মানহীন লেখা লিখে যাওয়াটা দোষের।  
 
আগের অভ্যাসবশত কয়েকজনের লেখা পড়ে খুব ইতিবাচক কমেন্ট করে, বানানগুলি শুধরে দিয়েছিলাম। ফল হলো উল্টো। তারা এমন রিঅ্যাক্ট করলো যে আমার আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। খেতে দিলে মারতে আসার মতো অবস্থা হয়ে গেল। কোন লেখক তার লেখার গঠনমূলক সমালোচনা পাবার জন্য সাধনা করে সমালোচক খুঁজে বের করে, আর এদের মধ্যে দেখলাম সবজান্তা ভাব, দুনিয়ার সব জেনে বসে আছে। লক্ষ করলাম, ওদের মধ্যে সবজান্তা হিসেবে নিজেকে উপরে তুলে ধরার প্রবণতা প্রবল। এ জন্য খুব অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে যার মধ্যে কোন গভীর বোধ নেই, খুবই সস্তা ও অগভীর সেন্টিমেন্ট। রাজনীতিবিদদের মধ্যে যেটা লক্ষ্য করি তার চেয়ে বাজে অবস্থা। লেখকরা এমন হতে পারে তা আমার জানা ছিল না। লেখাও একটা সংগ্রাম, পরিবর্তনের জন্য লেখার ভূমিকা অপরিসীম। যে নিজেই পরিবর্তিত হতে জানে না, চায় না, সেই মানসিকতা ধারণ করে না- তার পক্ষে এই পরিবর্তনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা প্রশ্নসাপেক্ষ। বিশেষ করে লেখার মান যেখানে দুর্বল এবং তা উন্নয়নের দিকেও কোন নজর নেই। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তা গ্রহণ না করে উল্টো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানোটা তো কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। 
 
একজন লেখককে পরামর্শ দিয়েছিলাম, লেখার উপরে নিজের নাম ও শিরোনাম এবং নিচেয় নিজের নাম উল্লেখ করার দরকার নেই। অনেকদিন পরে ব্লগে ঢুকে দেখলাম সে লেখকের আরও উন্নতি হয়েছে। সে এখন লেখার উপরে নিজের নাম ও শিরোনাম প্রচ্ছদ বানিয়ে পোস্ট দিচ্ছে। এগুলি অর্থহীন, একটা জিদ থেকে এগুলি করা। এরকম বহু ধরনের জিদি লেখক আছেন যাদের সাপের ফণার মতো প্রেস্টিজ নামক একটা ফণা আছে, কেউ কিছু বললেই ছোবল মারে। একটা বানান শুধরে দেবার পিছনে যে কি পরিমাণ সাধনা দরকার সে সম্পর্কে কোন বোধ ওদের নাই, যদি থাকত তবে এমনটা হতো না। 
 
যা নিয়ে লেখা শুরু করেছি তা থেকে দূরে চলে এসেছি। আবার ফিরে যাই। অনেক চড়াই উৎরাইয়ের মধ্যেও যে মানুষটি এই ব্লগে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন তিনি হলেন কবি ও ব্লগার শামুক। কখনও মশাল, কখনও প্রদীপ হয়ে তিনি ব্লগে নিরবচ্ছিন্ন আলো ছড়িয়ে চলেছেন। তিনি আছেন বলেই হয়ত আমার ফিরে আসার বিষয়টি অনুপ্রাণিত হয়েছে, এভাবে অনুপ্রাণিত হবেন আরও অনেকে। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। আমি সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানাই সবাই আসুন, আবার জমাই মুক্তচিন্তা ব্লগ। মুক্তচিন্তার উঠোন আবারও হয়ে উঠুক কোলাহলপূর্ণ ও উৎসবমুখর। আর সে জন্য আমি কবি শামুককে ‘বটবৃক্ষ’ উপাধি দিতে চাই। আমার পক্ষ থেকে দিয়েও দিলাম, কবি শামুক মুক্তচিন্তাব্লগের বটবৃক্ষ।
 
নতুনদেরকে বলি- তোমরা অন্যের লেখা পড় এবং কমেন্ট করো, নিজের লেখায় কেউ কমেন্ট করলে তার উত্তর দাও। এখানে অনেক সিনিয়র ব্লগার ও ভাল লেখক আছেন, তাদের কাছ থেকে তোমাদের অনেককিছু শেখার আছে, সে সুযোগ নাও। তোমাদেরই ভাল হবে। নিজের ভাল সবাই বোঝে তোমরাও বোঝার চেষ্টা করো। তোমাদের ভালর জন্যই তাদের প্রচেষ্টা। আমরা সহ-ব্লগাররা কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নই- সবাই সবার সহযোগী। এটাই আমাদের প্রত্যয়। আমরা কেউ নতুনও নই, পুরাতনও নই, আমরা মুক্তচিন্তাব্লগের একঝাঁক ব্লগার, এটাই আমাদের ব্লগ পরিচয়।
 
সবাই আসুন আবার জমবে মেলা মুক্তচিন্তার উঠোনে।

ছবি
সেকশনঃ সাধারণ পোস্ট
লিখেছেনঃ যুক্তিযুক্ত তারিখঃ 27/07/2017 03:25 PM
সর্বমোট 2583 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ