ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

সহধর্মিণী

সদা-নিরালা কাঁদি যে একলা-একেলা
মোর এ হৃদয়খানা বড্ড লাগে ফাঁকা।
চৈতের খরাতেও চোখে আমার পানি,
হেতু নেই।তবু তোর সেই প্রেমেই বিভোর আমি।

বিশাল ঐ আকাঁশে মেঘ না জমলেও
মোর এই চোখে অশ্রু ঠিকি জমে যায়।
তমঃ দেশেতে তুই ঘুমিয়ে থাকলেও
মোর নেত্রপল্লব জোড়া ঠিকি রাত্রি জেগে রয়।

কালো কালু অবলা গোরু পথের প্রানে চেয়ে থাকে
অপেক্ষা তার।কোন সময়ে নেবে তারে চড়ার বাঁকে!
গোয়ালে তুলিতে আনিতে দেখিতো তোরে
কাঁক ডাকা ভোর সকালে,কাক কালো নিরংশু সাঁঝে।

নীড়ের ধুলোমাখা ক্ষান্ত পথ;তোরে খুঁজে
যাদের দূরে ঠেলিতিস তুই মধুমাখা ক্রোধে
এখনও তারা করে আশা, তোর স্পর্শ পাবে ভেবে
দুঃখ-কষ্ট ভাঁসায় ভেলাতে, দিন কাটায় হেলাতে।

তোকে কৃষ্ণকালো তমিস্রা গুহায় রেখে
আমি বাসায় ফিরি দেখি পোলায় কান্দে
উচ্চ স্বরে;আর মাইয়া কান্দে ফুকরি ফুকরি
মোর কান্দোন কি দিয়া ঢাকিবো বিধি?

মনে পড়ে সেসব দিনগুলো সময়ে-অসময়ে
হস্তে পেয়ে তৈলচিত্র দেখেছিনু উল্টায় পাল্টায়ে।
সে কি মায়াবী!প্রথম দর্শনে দিয়েছিনু প্রেম সাগরে ডুব
কায়ায় ছিল নকশাকৃত লাল টকটকে শাড়ী।

ঢেউ টিনের বন্ধুর ঢেউ আর কাষ্ঠের সামনে
কলমি লতার স্বরূপ দাড়িয়ে ছিলি।
তৈলচিত্রের সে দৃশ্যে হৃদয় ভিঁজেছিল বর্ষণে
প্রণয় বর্ষণে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছিল মন-ঝিলে।

আমি রাজি!বলেছিলাম লজ্জা,শরমের মাথা খেয়ে
ভাবি-দাদি আর দাদা মশারের অট্টহাসি এসেছিল ধেয়ে
এরপর বিদায় লগ্নে কেঁদে ভাঁসিয়েছিলি বুক
পিতা-মাতার ক্রোড়ে পড়ে পেয়েছিলি স্বর্গীয় সুখ।

মনে আছে সুবর্ণখচিত সেসব দিনের কথা?
প্রণয়ডোরের দুই সন পরে কথা
তোর ক্রোড়ে তনয়া এসেছিল যেদিন
আমি মহা সানন্দে ভেঁসেছিনু সেদিন।

স্বপ্নালু সংসারে অন্য অতিথির আগমন
হয়;তার এক সন পরে।বুকের মানিক-ধন
আমাদের পুত্র। তিলেতিলে সংসার গড়লে আমা সঙ্গ দিয়ে
সুখ-দুঃখ,আনন্দ-বেদনা সবকিছুতে তোরে পেতাম পাশে
তোর প্রস্থানে কুপোকাত হনু বেদনার ধর্ষনে।

বাক-বা-কুম সুখ পায়রা
আধো তমঃ সকালে ডাকা মোরগ জোড়া।
দিবস প্রারম্ভে প্যাক প্যাক শব্দে হাঁসের প্রস্থান
গোয়াল থেকে মাঠের দিগন্তে গোরুর তিরোধান।
জ্বলত চুলা থেকে বের হওয়া আগুনের জিহ্বা
সবকিছু!সবকিছুতে তোরই ছায়া দেখা যায়।
গগনে সফেদ অম্বুদ লাল অথবা কালো হলে
বিস্তর উঠানে ছিটানো ধানের স্মৃতি মেলে ধরে
সেকি চিন্তা তোর!এই বুঝি ধানগুলো গেলো জলে।
লোহা পোক্ত শরীর আর অশান্ত মনে
দুদণ্ড পাশে বসে মিষ্টি কথা বলে প্রান ভোরাতে
কি অবাক করা কাণ্ড!এতেই সব দুঃখেরা যেত অবসানে।

হঠাৎ করেই সেদিন রাতে করলে অগস্ত্য যাত্রা
আমি থামাতে পারলাম না
এ যাত্রা থামানোর হাত আমার নেই!
তোর সঙ্গ ফিরে পেতে করেছিনু অরন্যে রোদন
বুঝলো না খোদা মোর হৃদয়-বেদন!

পার হল এভাবেই মোর কষ্টময় কিছুকাল
তুইহীনে;অযত্নে সংগোপনে মোর রাত্রি-সকাল
তোকে ভুলিতে নিজেকে ভুলি
স্বরনে আসিস
তুই;ভুলিবার আমার এ বৃথা চেষ্টা যাক ভেঁসে।

প্রায়শই চোখের নরম ত্বকে পানি জমে যায়
হিসাব রাখিনি নিন্দ্রায় যাইনি কত শত রাত!
তবে আজ বেশ নিন্দ্রা পায়;তোর কাছে চলে যেতে
উপায় ছিল বহু।তবু পারিনি যেতে সন্তানাদি ফেলে রেখে।

(২২/৪/১৭)

ছবি
সেকশনঃ কবিতা
লিখেছেনঃ আমিনুল ইসলাম তারিখঃ 17/05/2017 04:51 PM
সর্বমোট 33 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ