ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

মেয়েরা এখন দেহফ্রেন্ডের শিকার



মেয়েরা এখন দেহফ্রেন্ডের শিকার
সাইয়িদ রফিকুল হক
 
আমাদের দেশে একটা সময় ‘বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড’-এর কোনো প্রচলন ছিল না। আর তখনকার দিনে সাধারণভাবে শিক্ষার্থীরা একে-অপরকে ‘বন্ধু’ ভাবতো। আর এই বন্ধুত্ব ছিল নির্মল ও পবিত্রসম্পর্কের ভিত্তিতে। কিন্তু আধুনিকযুগের ‘বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড’ এগুলো ইউরোপ-আমেরিকার প্রভাবে আমাদের দেশে প্রচলন ঘটেছে। বাঙালি-সংস্কৃতির সঙ্গে এসব সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও বৈশ্বিক অনেককিছুর মতোই আমরা এখন এগুলো মেনে নিয়েছি। এর ফলে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা এখন স্কুলজীবন থেকেই ‘গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড’ বেছে নিচ্ছে। আবার কেউ-কেউ স্কুলজীবন পর্যন্ত নিরামিষ থাকলেও কলেজ ও ভার্সিটি-জীবনে একজন-না-একজন গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড’ বেছে নিচ্ছেই। অনেকে আবার একাধিক ‘বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড’ রাখছে। আর এটিই চরম আপত্তিকর। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডই একজন মানুষকে চরম দেহবাদী করে তুলছে।
 
বাংলাদেশের সহশিক্ষা-কার্যক্রমে বয়ফেন্ড-গার্লফ্রেন্ড এখন সহনীয় পর্যায়ে। পূর্বেই বলেছি, আমাদের দেশে আগে এগুলোর প্রচলন ছিল না। তখন স্কুল-কলেজে-ভার্সিটিতে ছাত্র-ছাত্রীরা ‘ক্লাসমেট’ নামে পরিচিত হতো। তখন এই ক্লাসমেটকে মানুষ সম্মান করতো—আর শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। আর এখন অনেকে সাধারণ ক্লাসমেটকে পর্যন্ত বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড ভাবছে! রুচির অধঃপতন আরকি! এরা  ‘ক্লাসমেট’ বা ‘বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডে’র মানেই বোঝে না।
 
একজন ছেলে বা মেয়ের একটা গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড থাকতেই পারে। কিন্তু একাধিক নয়। আবার গার্লফ্রেন্ডকে বা বয়ফ্রেন্ডকে শুধু বন্ধুই ভাবতে হবে। পাশ্চাত্যের অনেক দেশের মতো তাদের ‘দেহফ্রেন্ড’ ভাবলে চলবে না। এটি আমাদের সমাজব্যবস্থায় অনৈতিক। আমাদের দেশে এখন এটিই শুরু হয়েছে। আর এটির প্রচলন শুরু করেছে একশ্রেণীর লম্পট আর নারীখেকো। এরা বন্ধুবেশে সাধারণ মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের চূড়ান্ত সর্বনাশ করছে। দেশের একশ্রেণীর মেয়ে এই ইতরশ্রেণীকে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ভেবে আজ ‘নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছে’। এই দেহলোভীকুকুরগুলো বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অমর্যাদা করছে। আর বন্ধুত্বের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ-বপন করছে। আজ এইসব নাম-পরিচয়-জন্মহীন-পশুদের কারণে নির্ভেজাল বন্ধুত্বও এখন হুমকির সম্মুখীন।
 
সাম্প্রতিককালের একটি ঘটনা আমাদের খুব ভাবিয়ে তুলেছে। আর এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি ভয়াবহ পৈশাচিক ঘটনা। বনানীর ‘দি রেইন ট্রি’ হোটেলে আমাদের দেশের দুটি তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর এই গণধর্ষণে নেতৃত্ব দিয়েছে সাফাত আহমেদ নামক কুখ্যাত এক লম্পট ও তার চার-বন্ধু। দেশের ইতিহাসে এটি আরেকটি নির্লজ্জ ঘটনা। ভাবতে অবাক লাগে, এই ধর্ষিত মেয়ে দুটি ওই ধর্ষক-কুকুরদের বন্ধু হতো! এই ধর্ষক-কুকুরগুলো কতটা নির্লজ্জ আর পশু! এরা বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সর্বনাশ করেছে। এরা মানবজাতির সর্বাপেক্ষা আস্থাশীল-সঙ্গলাভের জায়গা বন্ধুত্বের বুকে-পিঠে ছুরিকাঘাত করেছে—আর বন্ধুত্বকে করেছে সীমাহীন অপমান। তাই, এই পশুদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না। এরা মানুষের সমাজে বসবাসের অযোগ্য। এমনকি এরা মানুষের বিষ্ঠার চেয়েও নিকৃষ্ট। অথচ, এই পশুগুলো আজ প্রভাবশালীর ‘তকমা’ গায়ে চাপিয়ে মানুষ আর মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এবার এদের নির্মূল করতেই হবে।
 
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মেয়ে দুটি সাফাত আহমেদ নামক কুকুরদের জন্মদিনের দাওয়াতে গিয়েছিলো। আর এই সুযোগে মেয়ে দুটিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে পাঁচ-পাঁচটি-কুকুর দুটি মেয়েকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করেছে। এখন এটি প্রমাণিতও হয়েছে। যার মধ্যে সামান্যতম মনুষ্যত্ব আছে, আর যে মানুষের সন্তান—সে কখনও এমনটি করতে পারে না।
 
বাংলাদেশে সাফাত আহমেদরা কারও বা কোনো মেয়ের ‘বয়ফ্রেন্ড’ হতে পারে না। এরা নরপশু, এরা নরপিশাচ, এরা ধর্ষক, এরা জারজ-কামজ-ক্ষেত্রজ, আর শয়তানের জারজপুত্র। আর তাই,  এরা জীবনে-মরণে শুধু দেহলোভী—নারীদেহলোভী। এরা সীমাহীন পাশবিক, লোভী, ইতর, শঠ, বিবেকহীন, রাষ্ট্রবিরোধী আবর্জনা মাত্র। এজন্য এরা কাউকে সত্যিকারের গার্লফ্রেন্ড বা বন্ধু ভাবতেও পারে না। এরা শুধু মেয়েদের দেহ ভালোবাসে—বন্ধুত্ব নয়। এরা প্রেম-ভালোবাসা বোঝে না। এরা বন্ধুত্বের মূল্য দিতে জানে না। এই আদিমশূয়রগুলো শুধুই দেহলোভী। আর তাই, আমাদের দেশের একশ্রেণীর তরুণী-যুবতী এখন এই দেহলোভীদের শিকারে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু এই নারীখাদকদের শিকার করবে কে? দেশের সরকার আর রাষ্ট্র আর-কতকাল হাত-পা-গুটিয়ে বসে থাকবে?
 
মেয়েদের সাবধান হতে হবে—এই দেহলোভী-জানোয়ারদের হিংস্র-থাবা থেকে বাঁচার জন্য। যারা মানুষ নয়, যারা বন্ধুত্ব বোঝে না, কারও প্রেম-ভালোবাসা বোঝে না, মানুষকে সম্মান করতে জানে না, নারীকে শ্রদ্ধা করতে শেখেনি—তাদের ভালোবাসাও অপরাধ। আজ এই বোধশক্তি-জাগ্রত করতে হবে সবার মধ্যে।
 
 
 
সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১১/০৫/২০১৭
 

ছবি
সেকশনঃ সাম্প্রতিক বিষয়
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক তারিখঃ 12/05/2017 08:00 AM
সর্বমোট 340 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ

সর্বোচ্চ মন্তব্যকৃত

এই তালিকায় একজন লেখকের সর্বোচ্চ ২ টি ও গত ৩ মাসের লেখা দেখানো হয়েছে। সব সময়ের সেরাগুলো দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন