ব্যাকগ্রাউন্ড

মুক্তচিন্তার বিশ্ব

আপনার পছন্দের যে কোন কিছু সহব্লগারদের সাথে শেয়ার করতে ও শেয়ার কৃত বিষয় জানতে এখানে ক্লিক করুণ

ফেইসবুকে!

বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্বার্থে ‘হেফাজতে শয়তান’কে দমন করার কতিপয় কলাকৌশল



বাংলাদেশরাষ্ট্রের স্বার্থে ‘হেফাজতে শয়তান’কে দমন করার কতিপয় কলাকৌশল
সাইয়িদ রফিকুল হক
 
পাকিস্তানীনরপশুদের সহযোগীসংগঠন ‘হেফাজতে শয়তানে’র জন্মই হয়েছে বাংলাদেশবিরোধী-অপকাণ্ড সংঘটন করার প্রয়াসে। এরা দিনের-পর-দিন সেই শয়তানীউদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে। ২০১৩ সালের ৬ই এপ্রিল ও ৫ই মে তারা ভয়াবহ নারকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছিলো। রাষ্ট্র সেদিন তাদের ক্ষমা করে বিরাট ভুল করেছে। পাকিস্তানপন্থী এই নরপশুগুলো কখনও ভালো হবে না। এমনকি এদের চরিত্রের সামান্য অংশও কখনও পরিবর্তিত হবে না। স্বয়ং ইবলিশ শয়তানের চেয়ে ওরা নিকৃষ্ট, আর চিরঅধম-পশু।
 
ভিতরে-ভিতরে হেফাজতে শয়তানের লোকগুলো জুম্মার দিন ইসলামীশরীয়তের খুতবা বাদ দিয়ে এরা বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্ট-চত্বরে সংরক্ষিত ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে নানারকম শয়তানী-টালবাহানা করছে। এদের হাবভাব দেখে মনে হয় এরাই যেন এদেশের ইসলামের বাপ-মা! এরা আজকাল নিজেদের ধর্মের স্বঘোষিত মোড়ল মনে করে থাকে। আর এরা নিজেদের স্বার্থে যেকোনোসময় যোকোনো ফতোয়াবাজি করতে দ্বিধাবোধ করে না। বর্তমানে এরা নিজেদের নষ্ট-রাজনীতির স্বার্থে ইসলামের নামভাঙ্গিয়ে সুপ্রীমকোর্ট-চত্বরে স্থাপিত ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্য অপসারণের জন্য হন্যে হয়ে মাঠে নেমেছে। এরা এই দেশের ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’।
 
লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে হেফাজতে শয়তান বড় ধরনের নাশকতাসৃষ্টি করতে চায়:
 
এরা সুপ্রীমকোর্ট-চত্বরে অবস্থিত ‘লেডি অব জাস্টিস’-এর ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্নস্থানে নানারকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর দেশব্যাপীনাশকতাসৃষ্টির অভিপ্রায়ে দেশের নানাস্থানে ২০১৩ সালের ৫ই মে’র মতো মাদ্রাসার ছাত্রদের জড়ো করছে। এইব্যাপারে সর্বাপেক্ষা এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের ‘শয়তানের দুর্গ’ বলে খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগরের মাদ্রাসাগুলো। এখানকার সর্বস্তরের সাম্প্রদায়িক, হিন্দুনির্যাতনকারী, মানবতাবিরোধী পাতিহুজুরগুলো দেশের ভিতরে অস্থিতিশীল-পরিবেশসৃষ্টির জন্য নানারকম পাঁয়তারা করছে।
 
দেশের স্বার্থে হেফাজতে শয়তানকে এখনই দমন করা প্রয়োজন। আর এই দমনপ্রক্রিয়া হতে হবে অত্যন্ত কঠোর ও সুদূরপ্রসারী। এদের দমনের ভার রাষ্ট্রের উপর ন্যাস্ত। আর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এদের চিরতরে দমন করবে দেশের সরকার। এজন্য সরকারকে যে-সব পদক্ষেপ নিতে হবে তা হলো:
 
১. হেফাজতে শয়তানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তথা এর আমির-নরপিশাচ শাহ আহমেদ শফীসহ তার সকল অনুচরকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তারপর তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার শুরু করতে হবে। আর এই বিচার-কার্য খুব বেশি হলে একমাসের মধ্যে শেষ করে এদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড-কার্যকর করতে হবে। মনে রাখতে হবে: এরা রাষ্ট্রের আবর্জনা ও রাষ্ট্রদ্রোহী। আর রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো এই আবর্জনা-অপসারণ করা। এদের কোনোভাবেই আর ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। এরা বাংলাদেশের কেউ নয়। এরা পাকিস্তানীদের শেষ-বংশধর।
২. হেফাজতে শয়তান সরাসরি ইবলিশ শয়তানের দল। এদের কেউই মুসলমান কিংবা ধার্মিক নয়। এরা মহান আল্লাহর পৃথিবীতে অনর্থক ফিতনা-ফাসাদসৃষ্টিতে লিপ্ত। এরা মানুষ আর মানবতার শত্রু। আর এরা ইসলামেরও শত্রু। তাই, এদের প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করাটা রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। আর এদের মতো শয়তানের নিশ্চিহ্ন করাই রাষ্ট্রের ধর্ম।
৩. হেফাজতের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। আর এদের অপরাজনীতি চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।
৪. হেফাজতিদের পরিচালিত সকল মাদ্রাসা-মসজিদ বন্ধ করে দিতে হবে। এরা সদাসর্বদা ইসলামধর্মের অপব্যাখ্যায় নিয়োজিত।
৫. হেফাজতিদের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের সম্পদ হিসাবে গণ্য করতে হবে।
৬. হেফাজতিদের হেডকোয়ার্টার ও বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শয়তানের দুর্গ চট্টগ্রামের ‘দারুল উলুম হাটহাজারীমাদ্রাসা’ চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র এটি ধ্বংস করে ফেলবে। এটি বিষাক্ত কালকেউটের আস্তানা। এখান থেকে জন্ম নিচ্ছে বাংলাদেশরাষ্ট্রবিরোধী কালকেউটে, গোখরা, অজগর আর অ্যানাকোন্ডা। এরা মানুষখেকো, ধর্মখেকো, মানবতাখেকো আর রাষ্ট্রখেকো নরপশু। ১৯৭১ সালে, এই হাটহাজারীশয়তানগোষ্ঠী পাকিস্তানীদের সঙ্গে যোগদান করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিলো। এরা এখনও সেই অপকর্মটি করে যাচ্ছে। কিন্তু আর নয়। এদের চিরতরে এখানেই থামিয়ে দিতে হবে।
৭. হেফাজতে শয়তানের প্রচার-প্রচারণা, কথিত-সাংবাদিক-সম্মেলন, জনসভা, প্রাইভেট-টেলিভিশনে সংবাদ-প্রচার ইত্যাদি অবিলম্বে নিষিদ্ধ-ঘোষণা করতে হবে। কারণ, এরা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রবিরোধী-শয়তানীসংগঠন। রাষ্ট্র এদের সর্বপ্রকার অপপ্রচার নিষিদ্ধ করবে।
 
 
সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৯/০৩/২০১৭
 

ছবি
সেকশনঃ সাম্প্রতিক বিষয়
লিখেছেনঃ সাইয়িদ রফিকুল হক তারিখঃ 22/03/2017 02:06 PM
সর্বমোট 1923 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ