ব্যাকগ্রাউন্ড

ফেইসবুকে!

“ বৃদ্ধ মা-বাবা কি সন্তানের জন্য বোঝা” শেষ বয়সে বৃদ্ধ বাবার ঠাই বৃদ্ধাশ্রমে

“ বৃদ্ধ মা-বাবা কি সন্তানের জন্য বোঝা” শেষ বয়সে বৃদ্ধ বাবার ঠাই বৃদ্ধাশ্রমে

বিজ্ঞান সভ্যতার যুগে পারিবারিক বন্ধনকে ক্রমান্বয়ে শিথিল করে ফেলছে।পরিত্যাক্ত হচ্ছে যৌথ পরিবারের ধ্যান ধারণা। মা‘ একটি শব্দ সমগ্র পৃথিবীর কল্যাণকর ,তাই কবি বলছেন মা‘ নেই গৃহে যার সংসার অরণ্য তার । যে মা- বাবা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খওয়ায়,  সন্তানের সামান্য অসুখ হলে মা‘ সারা রাত সন্তানের সীওরে বসে থাকে । অথচ সেই মা- বাবাকে কষ্ট দেওয়া সন্তানের জন্য অমঙ্গল ছাড়া আর কি আশা করা যায়।সন্তানের অবহেলা আর নিষ্টুরতায় বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার ঠাই হয় বৃদ্ধাশ্রমে। বৃদ্ধ বাবা-মাকে বোঝা মনে করে  এমন অকৃতঞ্জ সন্তান সন্তুতি আমাদের দেশে সংখ্যায়  খোব একটা কম নয়।সন্তানের অবহেলার শিকার হয়ে বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষাবৃত্তি কিংবা সংসারে চাকরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহকে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বলে মেনে নিতে বাধ্য হন অনেকে। বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর আরশ পযর্ন্ত কেঁপে উঠে।আল্লাহর আরশ কাঁপানোর মত ঘটনা আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটছে।গত ৩০ জানুয়ারী পএিকায় দেখলাম কমিল্লার এক বৃদ্ধ জননীকে তার দুই সন্তান বরিশালে ফেলে পালিয়েছে।তার সন্তারা হয়তো পরিবারের জন্য বোঝা মনে করে।৮৫ বছর বয়সী ঐ মহিলার নাম আরফাতুন নেছা ,মাঘের হাড় কাঁপানো শীতে গৌরনদী উপজেলা বাসস্ট্যান্ডের রাস্তার পাশে  তীব্র শীত ও ক্ষুধায় আক্রান্ত বৃদ্ধাকে স্থানীয় লোকজন বৃদ্ধাকে বাড়ীতে নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু ঐ বৃদ্ধ জননী কারও বোঝা হতে চাইল না। আমার ধারণা  আরফাতুন নেছা নামের ঐ বৃদ্ধা সন্তানদেও দ্বারা পরিত্যাক্ত হওয়ার পরও বিশ্বাসের বাধ ভাঙ্গতে পারেনি। কখন যেন তার সন্তানরা তার খোজ নিতে আসবে।এবং তাকে বাড়ীতে নিয়ে যাবে।অবশেষে এক সপ্তাহের বেশী রাস্তার পাশে অবস্থান করায় গুরুত্বও অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি ।এক পর্যায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দোগ্যে তাকে স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ যন্ত্রনায় ক্লিনিকের বেডে কাঁতরাচ্ছে ,কথা বলতে পারছেনা দু‘চোখ বেয়ে পানি পরছে।  সন্তানরা কি তাকে নিতে আসছে? তার পরও কি যেন বলতে চাচ্ছে!বার-বার সন্তানদের কথা বলছে তার সন্তারা ভাল ভাবে বাড়ীতে পৌছাতে  পারল কিনা?মহা মনষীদের জীবনী উপলদ্ধি করলে দেখা যায় মায়ের প্রতি ছিল তাদের গভীর শ্রদ্ধা,মাতৃভুক্তি,বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী(র:) বায়েজীদ বুস্তামী,ওয়াসকরণী,ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগার ,পানির গ্লাস হাতে নিয়ে সারা রাত মায়ের সীওরে দারিয়ে ছিলেন। জীবন বাজী রেখে ধম-ধম নদ সাতরে মায়ের সাথে দেখা করতে এসেছিল বিদ্যাসাগর। বৃদ্ধ মাকে ফেলে সন্তানদের পলিয়ে যওয়ার  ঘটনা বর্তমান সমাজের অবক্ষয়ের চিএ।প্রতিটি সন্তানের জম্মের সঙ্গে মায়ের অসামান্য আতœত্যাগ জড়িত।মা‘ সন্তানকে ১০ মাস গর্ভে ধারন করেন জম্মের পর সন্তানকে আগলে রাখে বুকে ।একটি মশার কাঁমড় পর্যন্ত সন্তানের গায়ে লাগতে দেয়নায় সন্তানের সুখ শান্তি কামনা করেন। আজ সেই মায়ের ভরণ পোষণ  অস্বীকার শুধু নিষ্ঠুরতা নয়,বর্বরতা নাফরমানীর শামিল।দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সমাজে এ নির্মমতা ক্রমেই বাড়ছে।বর্তমানে এ সকল ঘটনা সংক্রামিত রূপ ধারন করছে।এ অবক্ষয় ঠেকাতে সরকারী ভ’মিকার পাশা-পাশী স্থানীয় ও সচেতন মহলের এগিয়ে আসার প্রয়োজন,আমরা এমনটি আশা করছি।নিজের জম্ম দেওয়া সন্তান যদি আর্দশবান না হয় তাহলে যে কি ধরনের বিপদ ঘটতে পারে তার জলন্ত প্রমান পুলিশ পরিবারের,  মাদকসেবী মেয়ে ঐশী রহমান।গেল বছর মাদকাসক্ত অবস্থায় বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে রয়েছে।সন্তান হয়ে কি ভাবে নিজের বাবা-মাকে এভাবে হত্যা করতে পারল ঐশী? এই খুনের ঘটনাকে কেউই সহজভাবে নিতে পারেনি।খুন,গুমসহ বিভিন্ন অপরাধে ছেয়ে গেছে দেশ।স্বাধীন দেশেত এমন হওয়ার কথা না । তাহলে কেন হচ্ছে? সামাজিক আর ধর্মীয় মুল্যবোধগুলো কি ধ্বংশ হয়ে গেছে? স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর হাতে নেশার বোতল পৌছায় কিভাবে? ঐশী যদি সুস্থ্য থাকত তাহলে কি সে কোনদিন তার প্রিয়  বাবা-মাকে হত্যা করতে পারত? কেন এমন হচ্ছে? সামাজিক আর ধর্মীয় মুল্যবোধগুলো কি ধ্বংশ হয়ে গেছে? ধর্মীয় শিক্ষা তো বাধ্যতামুলক করা আছে স্কুল পর্যায়ে।পরিবারেও তো রয়েছে ধর্মীয় আচারের অনুশীলন। তাহলে সেখান থেকে শিশুরা কি কোনো শিক্ষা নিচ্ছেনা? নাকি আজকাল ছেলে-মেয়েরা ঝুকে পড়ছে ফেসবুক, ইন্টারনেট,মোবাইল আর টেলিভিশনের দিকে। টিভি খুললেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ  আর অদ্ভুত কারখানার ছবি দেখতে পাচ্ছে ছেলে মেয়েরা।এসব দেখে চ্যাট করে কন্টাক  নাম্বার সংগ্রহ করে মোবাইলে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধত্ব করে বিপদের দিকে পা বাড়ায় । শেষ সম্বলটুকু  সর্বসান্ত হয়ে আতœহত্যার পথ বেছে নেয়।আমি মনে করি এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যাবেনা।যে কোন মুল্যে বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে মরণ নেশা মাদক,আর যারা মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর হস্থে  দমন করতে হবে। আর বাবা-মা বৃদ্ধ হলে তারা সন্তানের বোঝা হবেনা। এটা প্রত্যেক সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে।যদি আমরা আমাদের সন্তানদের আদর্শবান করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের জীবনে যে এর চেয়ে খারাপ কিছু ঘটবেনা  তার গ্যারান্টি কোথায়?

ছবি
সেকশনঃ অনুবাদ গল্প
লিখেছেনঃ অনেক কিছু জানার আছে তারিখঃ 28/07/2016 10:38 AM
সর্বমোট 2737 বার পঠিত
ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুণ

সার্চ